Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Sahitya O Sanskriti Ed. 1st"

See other formats


স্নাক্র্িত্ড্য ও ভলহুজ্ঞ্ঞত্ভি 


মুহম্মদ আবুল হাই 


অধ্যাপক, বাংলাবিভাগ, 
ঢাক। বিশ্ববিদ্যালয়! 


বি-এফ -এইচ. পাবজিশিং হাউন 
তেজগ!। ইত্ানন্বাল এরিরা, 
ঢাকা | 


বি-এফ -এইচ. পাবলিশিং হাউস-এব পক্ষ থেকে 
মোহাম্ম শাম হক কর্তৃক 
মুদ্রিত ও প্রকাশিত । 


প্রথম সংস্কবণ, ১৯৫৪ । 
মুল)--৩|০ 


সবস্বত্ব সংরক্ষিত 


আঅবক্ছ্ম ওষ়াত্লেল 


জনাব আবছল গ্লানি__০ক 


ভূমিকা 

বাউলা ভাষ! ও সচিত্যের অধ্যাপনা ব্যপদেশে বিগত বারে! বংসরের 
চিন্তা ও সাধনা বিভিন্ন সমবে প্রবন্ধাকারে নান পত্র পত্রিকায় গুকাশ করি। 
সেগুলোকে বিশ্মতির হাত থেকে উদ্ধার ক'রে এ গ্রন্থে একত্রিত ক'রে 
দিলাম | প্রবন্ধগুলে। আপাত-বিষ্চি্ কলে মনে হলেও বিশেষ সামাজিক 
ও রাজটনতিক পরিবেশে বিভিন্ন সময়ে ভাব! সংস্কৃতি ও সাহিত্যের যে 
বিকাশ হয়েছে মূলত তারই আলোচন ব'লে প্রবন্ধগুলোর মধ্যে চিন্তাধারার 
একটা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য কর৷ যাবে । দেশের সুধা ও চাত্র সমাজে এ বইটি 
গৃহাত হ'লে আমার শ্রম সার্থজ হবে। 

পাঠ্যপুস্তক ছাড। আমাদের দেশের পাব.লিশাররা এ ধরণের বই আদৌ 
প্রকাশ করতে চাননা, তবু বি-এফ-এইচ. পাবলিশিং হাউসের পক্ষ থেকে 
বন্ধুবর শামসুল হক এ বই প্রকাশের জন্ত। যে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, 


তার জন্ত তাকে জানাই অকুঠ মোবারকবাদ | 
মু আ, হাই 


বাংলাবিভাগ, 
ঢাকা বিশ্ববিচ্থা লয়, 


অগা, ১৯৫৪ | 


স্রচীপত্র 


ভাষা ও সমাজ-জ'বন 

আমাদের ভ!ষা ও সাহিত্য 

ভিন্দু বাঙলার ধর্ধান্দোলন ও উনবিংশ শতাবী 
বাঙলাদেশে মুসপম মধিক'রের যুগ ও বাঙলা সাহিত্য 
কি ১সয়দ সুলতান রঃ 
কবিগুরু আলাওল 

মান্তযের প্রেম ও কবি আলাওল 

রবীন্দ্র কাব্যে মানবতা 

নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট্য 

বাঙলা। কাব্যের নতুন ধারা ও নজরুল 

কব শাহাদ!ং হোসেন 

বাউল! সনেটের পটভূয়ি 

এঁতিস্াসিক উপন্যাস 

ইসলামের বৈধ্ববিক ভূমিকা 

ইসলামের শাসন-সংহতি 

মুসলিম ভারতে শিক্ষাব্যবস্থ' 

মুসলিম ভারতে স্ত্রীশিক্ষ' 


ভাষা ও সমাজ-জীবন 


ধিংশ শতাবী-পুর্ব যুগের ভাবা তাকিকেরা 77676211560 ১৯গ্নকে 
কেন্দ্র ক'রে ভাষার পঠন পাঠন কতেন। এ-দশনের মূল কথ! হচ্ছে 
যে, ভ|ষ' মানষের চিন্তা দ্বন্দ আশ! আকাংখা আবেগ উদ্বেগের আকর। 
কিন্তু এশতান্দ'র বিগত করেক দশকের ভাষাতাত্বিকদের দশনের ভিন্ম্ল 
01৩01)21015810. এদের দশনের বিশেষ বক্তব্য এই যে, জ্ঞান ও চক্ষু 
গোচর (০7791008। ) না হ'লে কোনো জিনিষেরই প্রমাণ দেওয়া যায় 
মা। ভাষ|কে চিন্তা ও ছন্বাবেগের বাহন ক'রে মনের কুক্ষিগত করলে ভাষা 
জ্ঞান ও চক্ষ গোচর বৈজ্ঞানিক বিঠ্ষেণের ব।ইরে চলে যার | মাগষের মন 
ছজ্ঞেয় রহস্তাতত। ভাষ!কে সেই রহুস্তের পর্যারতুক্ত করলে বৈজ্ঞানিক 
পদ্ধতিতে ভাষা বিঞ্রেষণ সহন্গ সাধ) হুর না. অনেকট। ধোরাটে হোল।টে 
হয়ে ওঠে । সাহিত্যে এ ধৃষ্টিভংগীর স্থান আচে ; কিন্তু বিজ্ঞানে নেই | অথচ 
বিশেষ সমাজ পরিপ্রেক্ষিতে বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার 
ছন্দে য ভাষা বিনিময় হবু, 786011215010 বা! ০61)9৮100115610 শর্শনের 
ভিক্তে ত।র বৈজ্ঞনিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত সহজ এবং স্বাভাবিক ভাবেই হয় 
বৃদ্ধিগ্রাহ্থা। এরা বলেন, সমাজের যে-পরিপ্রেক্ষিতে মানবের মুখ থেকে 
কথ। ঝরে পড়ে, এ দ্শনকে ভিতি করলে ভ।বাতাত্বিক দৃষ্টিভংগীতে উক্ত 
পরিপ্রেক্ষিত থেকে শুরু ক'রে মানুষের বিশেষ বচন ভংগীতে উচ্চারিত 
শব কিংবা শব্দ মণ্ডলঈর সাহায্যে গঠিত বাক্য, সেই বাক্যের একটি শব্দের 
সঙ্গে অন্ত শব্দের সমন্বয়, তার ধ্বনি ও ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্য এবং পুংখা ক্ুপুংখ 
বিশ্লেষণ এবং সর্বোপরি বাক্যটির বিশেষ একটি অর্থ অত্যন্ত সহজ ভাবেই 
নুম্পষ্ট হয়ে ওঠে | বাক্যটি উচ্চ।রিত হবার সমন্ধে কিংব। তার পূর্বে কথকের 
মনে কি চিন্ত। ব| কোনো চিন্তা আদৌ উদ্রিক্ত হয়েছিল কিন' তা' অঃসন্ধান 


২ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


করার কে।নো প্রয়েজনই আর থাকে না। পরবতাঁ দার্শনক গে।ঠির মতে 
'ভাষা সমাঞ্গ বিজ্ঞানেরই এক বৃহত্তম অংশ । ভাষার বৈজ্ঞানিক পঠন 
পাঠন ব্যতিরেকে সমাজ বিজ্ঞানের যযার্থ তথ্যোদ্ধার সম্ভব নয় । এ-কথা- 
গুল স্মরণ রেখে এ প্রবন্ধট পড়লে ভাবা সবান্ধ অধুনিক ইউরোপীধ 
মন য'দের অভিমত এবং অমর বন্তবা অনেকটা স্বচ্ছ হরে আসবে । 

মানুষের জ।বনে সহজলভ্য জিনিষের প্রতি মান্বষ তেমন শ্রদ্ধ।ণল নয় | 
এ হেন শ্রদ্ধ'হানতা যে অবজ্ঞার লক্ষণ আমি তা" বলছি না। ক্ষেত্রবিশেষে 
হলেও হ'তে পারে, কিন্তু অধিকাংশের জ।বনেই ত। উদাসীনতার সাক্ষ্য 
বহন করে। 

মান্থয সম|জবন্ধ জীব | সমাজ-উঈ,বনে মানুষ যখন খুনী. থেমন খুশী ও 
য।” খুশী ভাষ.কে তেমন ক'রে আপন কাজে লাগতে পারে বলে ভাষ' 
সম্বন্ধে সাধারণ মন্ুযেব কে!নো ভাবন।র দনক'র হর ন|। সেক্স2ই মাগ্ুষ 
ভাষা সন্ধে ভাবেও না। মাগ্ষের সামাজিকতার হুষ্টি, ল.লন-পাঁলন ৪ 
নদ্ধি সম্ভব হয় একমাত্র ভাষার সাহাযেয এ কথ! কি অংমর, ভাবি? 
আমদের গুণ কলেজ ও বিশ্ববিগ্ভালরে সাহিত্যর অধায়ন ও অধ্যাপনার 
বেল!ধ অ|মরা গতানুগতিক যে কথ। শিখে এসেছি ও শেখ।চ্ছি তার সারমন 
হলো! যে, ভাষা সাহিত্যের বাহন । ভাষ| মানুষের জ.বনের আশা, আক।ংখা, 
চিন্তঃ ছন্দ, অ বেগ, উদ্বেগ, ম।নসিক চঞ্চলত। ও অন্তরজ।বনের সুখ দুঃখের 
সংগত, মৃছ1 ও মৃছবনার প'রক ও বাহক। ভাষাই মানুষের জ।বনের বন্ধন 
ও মুক্তির সন্ধান দিতে পারে, তার জীবন চেতনার রসাভাস ঘটাতে পারে 
ইত্যাদি ইত্যাদি । সাহিত্য-বিভাগের ছাল্র ও শিক্ষকদের মধ্যে ভাষা ও 
সাহিত্যের অপরূপ মিলনজনিত একটি বিশ্বাস সাধারণ ভাবে প্রচলিত 
আছে। সাহিত্য-স্ষ্টর পথে ভাষার প্রভাব অনন্বকার্য এবং ভাষার ভালো- 
মন্দের তারতম্যে সাহিত্যেরও মান নিক্ূপিত হয়, এও অবধারিত। তবু 
আমার বলার কথ! এই ধে, ভাষায় সাহিত্যের একচেটিয়া! অধিকার নেই। 


ভাষা ও সমাজ-জীবন শু 


ভাষার মাধ্যমে এবং ভাষাকে কেন্দ্র ব'রেই মানুষর সভ্যতার বিকাশ 
পথে বহুবিধ জ্ঞান বিজ্ঞ।নের সাধন। সপ্তব হয়েছে | বিভিন্ন জ্ঞ।ন, বিজ্ঞন, 
দশন ও সাহিত্য শিক্সের জন্ত মান্ুষ বিভিন্ন রকমের ভাব,'র গ্রয়োগ করেছে। 
ভাষার মাধ্যমে সমস্ত শল্প সাধনার প্রকাশ সম্ভব হলেও এবং সমষ্টিগত 
ভাবে এদে? ধারণক্ষম আধারকে ভাষা নামে অভিহিত করলেও দেখা 
যাখ যে, বিষধ বিশেষের জন্তে বিশেষ রকমের ভাখার রোগ হয়ে থাকে । 

সহিত্যে মানুষের জাবনের ছবিত্বাকা হর। নানা সমাগ সথন্ধের 
ভি্িতে ম শ্ষের জীবন ; লু, জটিল ও দূরবগ,হ। সম।জের এই লবু 
স্বাচ্ছন্য ও গহন জটিলতা ই মানুষে জঈ।বনকে মহনায়তা দান করেছে। 
মান্্ষের এই জাবনের আলেখ্য নিঞাণে যে-ভাবার গুয়োগ হর তার নির্দিষ্ট 
একটি ধাঁচ আছে। সাহিত্য ভাষার সেই বিশে ছণচের উপর ঈ।ড়ার। 
ঠিক তেমনি বিজ্ঞ!ন ও শিল্প-কলার এক একটি শাখার জন্তে এক এক 
রকমের ভাষা। যদি ভূগোলে এক রকম ভাষার প্রয়োগ হর তবে ইত্তিহাসে 
অন্তরকম ; যে-ভাষা দিরে গ!ণিতিক হিসাব নিকাশ করা হয়, দর্শন শাস্ত্রে 
সে-ভাষার হুট প্রয়োগ করা যাবে না। ভাষার যে-রাসায়নিক গুক্রিয়ার 
খারা রসায়ন শাস্ত্রের বিচার-বিশ্লেষণ কব হর__ভঁতত, জ্যোতিবিদ্ধা, পদার্থ- 
বিজ্ঞান, প্রত্রতত্ব, মনোবিজ্ঞান, রাজন.তি কি সমাজ বিজ্ঞানের বিচারে 
সে-ভাষার স্থান নেই। এক এক বিজ্ঞানের জন্তে ভাষা ব্যবহারের এক 
একটি £501/0130€ আছে । আমরা স্বকার করি বা না করি ভাষা 
ব্যবহারের বেলায় আমাদের জ্ঞাত কি অজ্ঞাতসারে এই বিশেষ পরিভাব!র 
শাসন ও দৌরাত্ম্য আমাদেরকে মেনে চলতে হর । 

এ-কথা সত্য, মান্থুষের সভ্যতার ইতিহাসে কালে কালে দেশে দেশে 
মানুষ তার গবেষণার, আশা আকাংখার, কামনা ও বাসনার নানা চিহ্ন 
রেখে গেছে । সভ্যতার নিদশন হিসেবে মানুষ গড়েছে শহর, নগর, গ্রাম 
স্টাপত্য ও ভাস্কর্য, চানের প্রাচীর, পাক-ভারত উপমহাদেশের অজন্তা, 


6 সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


মহেস্জদ্বরো, হারাপ্লা, কণার্ক ও ভূবনেশ্বরের মন্দির ; আগ্র।র তাজ, মিশরের 
পিরামিড ইত্যাদি এমনি কত কি! এ-সবেরই ভেতর দ্দিয়ে এক এক 
যুগের মান্ষ তাদের আশা আকাংখা যেমন £প্রকাশ করেছে, তেমনি 
নিজেদের কৃষ্টি সম্ভারের ভেতর দিয়ে অমরত্বের লোভও তাদেরকে কম 
মোহিত করেনি । কত দশন ও বিজ্ঞানের, কত মত ও পথের কত আবিভাব 
হয়েছে, বিশ্বাতির অতলে গেছে কত মত ও পথ সর্বজরী কালের বৃক্ষিতে 
তলিয়ে | ভাষাকে কেন্দ্র করে ভাষারই মাধ্যমে বিকাশ পেরেছে কাল- 
শোতে এ মত ও পথগুলে। এবং মানুষের শ্রে্ঠহ ও অমরত্বের নিদান বিভিন্ন 
জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিল্পের সাধন! | 

অতএব সাধারণের বিশ্বাস মতে মানুষের ভাষা যে মঠষের আশ! 
আকাংধ! তার চিন্তা, তর জন্ম-মৃত্যু হতিহাস ; হুপ-ছুঃখের মিলন বিরহের 
হাসি ক'ন্নার আনন্দ ও বেদনার রহন্ত উম্মোচন ক'রে দেয় 
রচনা ক'রে দেয় তার জীবন ও জগতের সকল কাহিনী তা” মানতে আমার 
কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু নিরবধিকাল ও বিপুল! পৃথিবীতে অগণিত 
মানুষের ইতিহাসে সঙ্যতার এই নিদশনগুলোর ঠাঁই কতটুকু? শিল্প- 
সাহিত্য, বিজ্ঞান দর্শন, সংগীত, স্থপতি ভাঙ্কর্য মান্ষষেরই দিস্তা ও কল্পনার 
নিদর্শন | যুগে যুগে এগুলে।ই মাহ্ষের ইতিহাসে ম।ছষের জাতি বিশেষকে 
অমর ক'রে রাখে । মানুষের অমরত্বের নিদ|ন সঙ্গেও এগুলোর শ্ষ্টার 
যেমন দেশ ও জাঁ,ত বিশেষের ইতিহাসে সংখ্যার দিক থেকে নগণ্য, তেমনি 
মান্ষের মুখের ভাষাকে মানুষের চিন্তা, হদরের ছন্ব।বেগ, প্রেম। 
মেহ, ভক্তি ও মাধুর্ষের আকর হিসেবে কগ্গনা করলে ভাষার শক্তি ও 
গণ্ডীকে সীমাবদ্ধ ক'রে দেওয়া হর | এতে দুনিরার সকস মানুষের ম্বাভাবিক 
সম্পঙ্গ 9 অধিক।বের ক্ষেত্র সংকার্ণ হযে আসে। 


এবারে আমার শ্রোত। কিংবা পাঠকেরা আমাকে প্রশ্গ করবেন এত 
হুমিকা না ক'রে ভাষ! সম্বন্ধে তোমার বক্তব্যটা কি নিতান্ত সুবোধ বালকের 


ভাষা! ও সমাজ-জীবন 


মতে| চটপট বলে ফেন্লেই | হর বাপু! অ!মিও ভাবছি ওপথে এগুলো 
গ।মার শ্রোতার| এতন্গণ অ।মাত় স্বরযন্ত্র (18:17) ) থেকে নির্গত ধ্বনি 
তাদের কশ-পটানে ( ৪417-৫71 ) যে বারংবার আঘাত হানতে তা থেকে 
নিঞকা ত পেতেন, কান উ£ ক'রে এবং প্রধকাতর মন নিপে আমার দিকে 
চেপে থাকতেন না| এবং আমার পাঠকেরা আম।র প্রবন্ধ পঙতে গিয়ে 
শজেদের সংগে আমার (কংব। নিজের ন'গে নিজের বাক বিনিমৰ করতেন 
না| কিগুনা করেই ব। উপাধ ।ক? আমাদের সাহিত্য সমিতির মিলিত 
নম'জ মন শর্বসন্মতক্রমে স্থির করলেন যে, একদিন আমি মামার স্বরযন্ত 
'খকে কতক্ষণের জন্তে অনবরত ধ্যান করবে! আর তাপের কর্ণ-পটাহ আহত 
হতে থাকলে ও কিহ্কালে জন্ে নিবিবাদে তার! স্থির থাকবেন এবং আমি 
আমার বিণা'বনিন্দিত কধবান (আঅপ্রশংসা করহি, তা এবং পাঠকেরা 
মাফ করবেন) শেষ করলে প্রতিক্রিয়া ধরনে সাড়া দিতে গিরে কে বা মুগ্ধ 
হবেন, কেহ বা বিরক্তি বে'ধ করবেন আর কেহ বা কৌতুহল বশত প্রশ্থ- 
ব।ণে আমাকে বিদ্ধ করবেন। 

আজকের দিনে অ'মাদের দেশের কতকগুলে। মান্ুধ মিলে আমর৷ একটি 
বিশেষ মঞ্ড রনী করেছি এবং সেই মঞ্চে আমাদের সমাঁজ জীবনের একটি 
অঙ্ক অভিন।ত হচ্ছে। আমাদের মঞ্চের নাম সাহিত্য-সমিতি এবং অঙ্কটির 
নাম ভাষা ও সাহিত্য আলে।5ন। | যুগে যুগে বিশেষ বিশেষ সমাজ মন 
সমাজের বহুজন স্বকৃত কতকগুলো অর্থবোধক ধ্বনির বা! ধ্বনিগত অর্থ- 
বোধক সঙ্কেতের সাহায্যে সেই সমাজ ক্ববন চালু রাখে । এই অর্থবোধক 
প্বনি সমষ্টির নামই ভৌগোলিক সীমারেখার আবদ্ধ বিশেষ সমাজ জীবনের 
জন্য বিশেষ ভাষা । বাঙালার কাছে যেমন বাংলা তেমনি ভূখণ্ডের অন্তান্ট 
অধিবাসীদের কাছে তার্দের আপনাপন ভ]যা । 

ঢনিয়াতে যত রকমের পুর্ঞে রহন্ত আছেঃ মানবশিশ্ুর ভাষা আয়ুৰকরণ 
তাদের অন্ততম | তুলনামূলক ও এুতিহাসিক ভাষ। বিজ্ঞানে ভাষা বিশে- 


রি সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


ষের কিংবা ভাষ! গোষ্ঠীর অনেকগুলোর মুল যা-ই হোক ন। কেন, আধুনিক 
বর্ণনাত্বক ভাষ! বিজ্ঞান মতে প্রত্যেক ভাষ।র জ্ঞান গোচর ও চক্ষুগ্রাহ মূল 
হচ্ছে মনুঘ্/ শিশুর দুখ বাজন। বা 82117 -. দুনিয়ার কোন শিশুই 
কেনো বিশেষ ভাবা নিবে জন্ম গহণ করে ন!। জন্মের পরমুহূর্ত থেকেই 
সে মাতৃজঠরগত-শিক্ষা স্বরযন্ধের বা 12717 5-জাত গল! বাজিতে অভ্যস্ত 
হয় ; অর্থ/ৎ কান্নার অভ্যাস নিরেই যেন ধরার ধূলার পা” দেয়। তারপর ম'স 
ঢায়ক থেকে যতই পে বড়ে। হ'তে থাকে, ততই মুখ ও ঠোটের ব্যায়াম 
জাত ধ্বনির মহাজ্থ্য সে অনুভব করতে থকে । সে দেখে, ক'দলেই তার 
পরিচারিকা ছুটে আসে, অগ্ঠ কে।নো ধ্বনি করলে মা বাবা নানি দ|দি, ভাই 
বোন তার হাসির ও খেলাব শর,ক হয়| এমনি ক'রে নবীন মানব শিশু 
আত্মপ্রতিঠার স্বাদ পায় আর হাব বাঙতির সঙ্গে সঙ্গে তার পারিপার্থিক 
জগৎ থেকে, খেলার স।ধী, আদর অ'বদারের পোষক ম। বাবা, ভাই বেন 
এবং ঘর পরের অন্ঠান্তার্দের কাছ থেকে কান ও চোথ খুলে রেখে অন্থুকরণ 
ক'রে নান। ভূল ভ্রান্তি, ত্রুটি বিচাতি গ্রহণ, বর্জন ও পরিশে ধনের ভেতর 
দিরে ভাব|র ব্যবহ।র (শেখে এবং ধারে ধবে বয়োবদ্ধির সংগে তার অজ্ঞ।ত- 
সারে সমাজ জ।বনে প্রতিহত হবে ওঠে | একটি মানুষের জীবনে ভাষার 
ইতিহাস এমনি ঢজ্জেয় গ্রহণ-বর্জনের ইতিহাস । সারা জবনেই প|রি- 
পা্িক জগৎ ও পরিবেশ থেকে ভাষার এমনি আহরণ চলে । 

এবারে যদি "দ1লন| (থকে খাটিরা পর্যন্ত একটি মান্থষের বিস্তৃত জীব- 
নেতিহাস আলোচনা কর! যায় তা হ'লে জ।বন রঙ্গমঞ্চের বিভিন্ন অঙ্কে 
তাকে নান৷ ভাবে অভিনর করতে দেখা যাবে । কোনো অঙ্কে সে শিশুর 
সরদার, কোনে! অন্থে অন্ত শিশু সরদারের সাগরেদ সে, কোনে। অঙ্কে সে 
ক্রীড়া জগতের সের! খেলারাড়, কোনো অঙ্কে পরিদর্শক মাত্র; কোনো 
অঙ্কে সে ছাত্র, কোথাও শিক্ষক, কোথ।ও যাত্রী, কোথাও চালক, কোথাও 
স্থনাগরিক, কোথাও “এজিটেটর', কোথাও বিবাহের আসরে বরযার্বী, 


ভাষা ও সমাজ-জী।বন ৭ 


কোথাও ঘটক আবার কোথাও নিজেই বর; কোথাও সন্তান, কোথাও 
নাগর, কোথাও পতি, কোথাও কোথাও মহল্লা! সর্দার আবার কোথাও 
তাবেদার। একটি মানের জীবনে কত অগণিতভাবে যে তাকে চলতে হয়, 
তার সংক্ষিপ্ততম তালিক! এটুকু । জ।বনের বিভিন্ন খাতে চলার পথে তার 
প্রধান পাথেয়ই হলে! বাগধ্বনি | সমাজ-জীবনের এক এক পর্যায়ের 
অভিনয় কালে তাকে এক এক রকম ভাষা প্রয়োগ করতে হয় । একে 
অন্টের সঙ্গে সমাজ-জীবনে যে অঙ্কের অভিনয় করে, সেই অভিনয় 
বিশেষের জন্ঠে পরম্পরের একই রকমের বিশেষ ভাষার দরকার হয় । 

একে অপরকে লক্ষ্য ক'রে যে-কথা বলে, শ্রোতাকে সেই কথারই 
প্রত্যুতর দিতে হয়| প্রতিক্রিয়ার নিয়মান্ুস|রে ভাষা ব্যবহারে বক্তা 
ও শ্রোতার যথেচ্ছ ক্ষমত, সমাজ-জী।বনের এক এক অঙ্কের অভিনয় কালে 
এমনি ভাবে সন্থুচিত হয়ে যায়। গ্রাম্য প্রবাদের কথ! মনে পড়ছে £ 
এচোরের মন বোচকার দিকে । অন্ত সময়ে অন্ত দিকে যেতে পরে, কিন্ত 
বোচকা সামনে পড়লে আর অন্ত্দিকে কাহাতক যায়? তেমনি “ঠাকুর 
ঘরেকে রে? এ প্রশ্নের উরে ভয় ভত কোনো বালক (বালিকাও 
হ'তে পারে) যদি বলে, “আম কল। খাইনি তে। ৮ তা হ'লে পারিপাশ্বিক 
অন্থ লোকের হ।সির উদ্রেক হয় না কি? | 

ভাষা শুধু চিন্তাই কাশ করে না, চিন্ত। গোপনও করে। কূটনৈতিক 
জাতি হিসেবে ইংরেজ জাতির জগংজোড়া খ্যাতি আছে ।  জাত্রাজ্যবাদী 
ভুমিকায় অভিনয় করতে গিষে কত জাতির সংগে কত ভাবে তা'কে ভাষার 
ব্যবহ।র করতে হয়েছে। শুধু যুখের ভাষাই নয়, হত ও চোখের ভ।ষাও | 
সে-ভাষ।র অন্তনিহিত গোপন তত্বটুকুর উদ্ধারে কত আইন বিশারদ নানা 
ভাবে হিম্সিম্‌ খেয়ে যায়নি কি? ছেলে বেলা স্কুল ও পাঠশালা থেকে 
পাল|নে।র ওছুহাতে হুবোধ মাষই্টারকে “সার, পেট কামডাচ্ছে' বলে ফাকি 
দেয়নি বাংল! দেশে এমন স্বে|ধ ছেলে থুব কম পাওয়া যাবে নাকি? 


৮ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


তরুণ বয়সে কোনো তরুণী হন্দর.র মন পাবার এবং আরও কিছু বেশ 
সময় তার সঙ্গ £ুখ ল৷ভ করার জন্তে নিতাস্থ গরগ্গের কথ" পরম্পরের ম। 
বাবার কথা পাড়ে না, পড়াশুনোর ছুতো৷ ক'রে বই পুস্তকের হদিস নেয় 
না. এমন নেকবখত্‌ আজ্মভোল! ছেলে শতকর। কণ্টা পাওয়া যাৰ? 

অতএব দেখা যাচ্ছে চিন্ত/খাল ৪ জ্ঞ!ন। গুণী লোকের অধ্যাপক, 
দাশনিক, টবজ্ঞানক, ক'ব দহিত্যিক 'ও বক্র বাহন হিসেবে ভ।ষ। 
যও ন' চিন্তার প্রক।শ করে, তার চেয়ে বেনী একটি সম।জ ও জাতির 
সকলের জ,বনে সকাল সম্বঙ্গয়, দিনে-রাত্রে। আহারে বিহারে, আপিস 
আদ!লতে, গুল কলেজে, হাটে ও মাঠে নান! ভাবে তাদের কাছ ক'রে 
দেয় । ভাষা সমাজ-মান্ষের হাতে আল|দ,নের প্রারঃপের মতো । যি 
শক্তি থাকে তাকে দিয়ে য। খুনী, যেমন থুণা কাজ করিয়ে নেও, সে 
“তামার তাবেদ'র | “কোনো কলে কোনো দেশে চিন্ঠ/র সচলের অধিকার 
দেখা যাবনি! কিন্তু কথা বলাধ এবং ভাষ। ব্যবহারে সকলেরই সমান 
অধিক।র। এ অধিক্া।ব থেকে কেউ বঞ্চিত হ'লে স্বভ।বতই সমাজ জীবন 
থেকে তাকে খ.রিজ হ'তে হবে ; জান্তব-জীবন চললেও সমাজ-জীবনের 
পথ স্বভাবতই রুদ্ধ হবে যাবে | 

ভাষা মর-জীবনে খোদ।|র অপরিস।ম শক্তিসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ দ|ন। অসম্ভব 
সম্ভব হচ্ছে এই ভাষারই সহাধ্যে। ভষা ব্যবহ।রে খোদার উপর 
খে।দকারী করছে খোদার সন্তানেরা । ছি, স্থিতি ও প্রলয় এ-ভাষাই 
সম্ভব ক'রে তুলছে। ক্ষেত্র বুঝে উপযুক্ত ভাষার প্রর়ে।গ করো--জ।বনের 
যেকে।নো অগ্গে সার্থকত! অবপ্তস্তাব, | অপাত্রে ভাষার আরোপ করো 
উলুবনে মুক্ত। ছঙনোরই সামিল হবে। 

সম।জ-বদ্ধ মাহ্ধকে দল-বদ্ধ পশুর কিংবা ৪০228601-«র স]মিল 
ক'রে ফেললাম দেখে ভাষা সম্বন্ধে এমন কথা শুনতে অনভ্যন্ত সাহিত্যিক 
বন্ধুরা স্বভাবতই আমার উপরে ক্ষুব্ধ হবেন | লগ্ন বিশ্ববি্ভালয়ে ধ্বনি ও 


ভাষা ও সমাজ-জীবন ৯ 


ভাষাতব্বের সবক নেবার সময় আমিও এসব কথা শুনে বিচলিত হয়ে উঠি | 
তখন মনে হয়েছিল এতকাল সাহিত্যের অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করতে গিকে 
যা” শিখেছি ও শিখিয়েছি ত| কি সব ভুল? ভাষা সম্বন্ধে এ চিন্তা পদ্ধতির 
পক্ষে প্রথম বছরখানিক আমার মন কিছুতেই সাড়া দেয়নি। তারপর 
যতই পড়েছি ও ভেবেছি ততই দেখি এ চিন্ত; পদ্ধতিও একটি শক্ত ভিডির 
উপরে দাড়িয়ে আছে। ভাষাকে সমাজ-জ'বনের ভিতি রচনার মুল সহায় 
হিসেবে ধরলে এ চিন্ত! পদ্ধতির একটা সহজ মীমাংসা পাওয়া যায়| 

মানুষ জীবেরই সামিল। জমাজ-জীবনের বিশেষ পরিস্থিতিতে কথক 
ও শ্রোত!র ক্রিরা প্রতিক্রিয়ার ফলে ষে অর্থপূর্ণ ধ্বনি তাদের মুখ দিয়ে 
নির্গত হয়, দার্শনিকদের 77501:2015£ চিন্ত। পদ্ধতির দিক থেকে তা-ই 
ভাষা । এ দশনের সার কথা চিন্তা ও অ|বেগের বাহক হিসেবে ভা! 
পঠিতব্য হওয়া উচিত নয়। ভাষা ক্ষেত্র বিশেষে নির্গত অর্থপূর্ণ ধ্বনি 
মাত্র। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের বাকযন্ত্র ও মুখ বিবর নির্গত ধ্বনির রূপ, 
রকম ও ভংগী অসংখ্য; পশুর মুখনি হত ধ্বনির এবং তার প্রকার ভেদের 
সংখ্যা অল্প। মানুষ ও পশুর ধ্বনির মধ্যে তফাং তথা ভাষাগত দিক 
থেকে মানুষে ও জন্ততে তফাত সেখানেই । এক একটি পরিবেশে মানুষ 
শুধু স্বর-যন্ত্র ও মুখবিবর দিয়ে কথাই বলে না, তার দেহের সারা অঙ্গ- 
প্রত্যঙ্গই পরিবেশের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় মিয়াজিত করে। ধ্বনি-সংক্রমনে 
শুধু ভাষারই হষ্টি হয় না, তার সমস্ত শরীরই তরঙ্গায়িত হয়ে ওঠে। 

সমাজ সম্বন্ধ নিরপণে ভাষা কি ভাবে ব্যবহৃত হয় এবং অধুনাতন চৃষট- 
ভংগীতে কি ভাবে ভাষাঁর বিশ্লেষণ হয়, এবারে তার কিছু উদাহরণ দিই। 
কোনো! শবই এক অর্থে একের অধিক প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয় না; সুতরাং 
কোনে শব্দের নির্দিষ্ট কোনো অর্থ নেই। আমি অবশ্ত আভিধানিক 
অর্থের কথ! বলছিনা; কেননা অভিধানে প্রত্যেক শবেরই অর্থ আছে। 
আধুনিক ভাষাতাত্বিকের কাছেও অভিধানের মূল্য অপরিসীম । আাধারণের 


১০ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


কাছে যে অর্থে অপরিসীম সে অর্থে অবগত নর । 0০7155 বা 
বৈপরীতোর জন্ত ধবনিগত দিক থেকে শের বিচারে ভাঁষাতাত্িকের কাছে 
অভিধানের মূল্য আছে, অর্থগত দিক থেকে নয়। 

এ-ফুগের ভাখা বৈজ্ঞানিকেরা বলেন, ধননিগত বৈপর।ত্য ভে! দুরের 
কথা, ধ্বনিগত সাম্য থাকলেও ক্ষেত্র ও পরিবেশ বিশেষে শদ্দব অর্থ 
আলাদা হয়ে যার | যেমন ধরুন হাত" ও “নাক শব দুইটি | অরিধান- 
গত অর্থ হত, -হাত'ই--নাক' নয় | ক্ষেত বিশেষে এক ভাতের 
কত অর্থ হয় দেখুন? “আমার হাত নেই'_এই বাকাটিতে অংশ- 
এহণকার। &টো মান্ধষের কতকগুলো সমাজ পরিবেশ কল্পনা করুন | এতে 
অংশ গ্রহণ কধতে পারে (১) সম বয়সের ই বন্ধু (১) দম্পতি যুগল 
(৩) গুরু-শিষ্য (8) মুনিব-্বত্য ইত্যাদি। এই তিনটি শবের একটি 
বাক্যে কোনে শক ওপরে শ্বাসমম্নের চাপ বৃদ্ধি করায় কিংবা কোনো 
শবের স্বরম্ধনি দাত করায় ছন্দস্পক বা 7)10721107-এর 
রদবদলে আলে|৮) হত শব্টির অর্থ প্রতিবারেই কি ভাবে বদলে যেতে 
পারে তাই দেখচি | বাকা শেখের সাধারণ পড়ন্ স্বর-ভংগী দিরে পড় ন £ 

“তোমার ভাত নেই”. ২ 
এখানে ভাত শব্দের অর্থ তামার কোনো ক্ষমতা নেই । জিজ্ঞ।সা হুচক 
বাক-ভংগীর নাক্য শেষের উঠন্ধ স্বর-ভংগী দিয়ে পড়নঃ তোমার হাত 

নেই? এখানে কোন কারণে হাত কাটা পার 
জন্চেই হোক কিংবা! কে।নে। কাজে তার ক্ষমতা ন| থ|কার জন্টেই হোক, 
প্রকর্তার দিক থেকে প্রকৃত ব্যক্তিটির হত না থাকার জন্তে একটা 
আশ্চ্যজনকত। প্রকাশ পাচ্ছে। সুতরাং এখনে হাত শব্দটির অর্থ 'ভাত' 
এবং ক্ষমতা চই-ই | আবার স্বর-ভংগীর যে পর্যায়ে “তে!মার' শুরু হয়েছে, 
ত! থেকে জামানত কিছু উঠ থেকে হাত" শুরু ক'রে স্বর-ভংগী নীচুতে 
আন্তুন এবং “নেই' উচ্চারণে স্বর-ভংগী আর ও নীচুতে ফেলুন “তোমার হাত 





ভাষা ও সমাজ-জীবন ১১ 


নেই! _7-7৩ এই বাচনভংগীতে 'হাত' শবের অর্থ হাত 
এবং ক্ষমা ঢুই-ই হতে পারে, কিন্তু বিশেষ সমাজ পবিবেশের ঘে 
৩০০০৯৮-এ কথক গ্রোতাকে লক্ষ্য ক'রে এই বাচন ভংগী এনেহে তার 
'অর্থ 'হ।ত” এবং ক্ষমতা যেমনই হোক না কেন, শ্রোতার অসহায্নতাকে 
লক্ষ্য ক'রে কথকের অন্তলান একটা বেদনার সুরই যেন ধ্বনিত হচ্চে | 
এই বাক্টির বিভিন্ন বাচন ভংগীতে 'হাত'-এর ধবনিগত নানা পরিবত্ন 
হলেও এক হাতের সঙ্গে অন্ত ভ।তের অনেকটা সাম্যই লক্ষ্য করা যাবে । 
তবু একথা সত্য যে, প্রত্যেকটি ৯৩০1] ০০৮৮ হাত" যে ভাবে 
উচ্চারিত ভবে. তা-ই হাতের অর্থ নং হাত" শব্দের নুতনত্ব ধার্য ক'রে 
দেবে । “ভার নাক নেই।” এই বাকাটিকে নিয়েও সমাঞ্-পরিবেশ 
এবং সেই পরিবেশে কথা বপা॥ অংশ এহণকা বদের বাচনভংগী থেকে 
'নাক” শব্দটির নানা অর্থ এবং ন।ক তন্ব উদ্ধার কর যেতে পারে। 

সম।ঞ্জ সশন্ধ চালু রাখতে গিয়ে পাঁরবেশ বিশেষে মান্রষ “য ভাষার 
প্রয়োগ করে, তার ৪0 ভচ্ছে বাক্য, শব নয়। সুতরাং একটি মাত্র শব 
উচ্চারণ করলেও তার আভিধানিক অর্থ সেখানে থাকে না| সমাজ-জ,বনের 
কোনো একটি ক্ষুদ্র একটফ্িকা অভিনয় কলে তাতে অংশগ্রহণকারদের 
ঘটন] সম্গিধান ও পরিবেশের পূর্বাপর সাম-স্ত বিধান করে এ একটি মার 
শব্দ| স্থতরাং এএকটি শবই একটি পুর্ণ বাক্য । মনে করুন, কোনো এক 
থরে দুটা ঞাণী কথোপকথনে লিপ্ত আছে । আপন ভার পাশ দিয়ে যেতে 
লেগে তাদের কারুর ক£-নি *ত “বটে !-_এই একটা শব শুনে ফেল্লেন | 
তাতে যে বাচনভংগী জড়িত ছিল, তা থেকে বিশেষ তথ্য উদ্ধার কর! যেতে 
প|রে। “বটে' একটা মাত্র শব হ'লেও এবং ব্যাকরণ মতে তার “পন্‌” 
বিশেষ এক নাম থাকলেও ছুটী মানবের সমাজ জাবনাভিনয়ের একটী অংশ 
&ঁ একটী মাত্র কথা থেকে টেনে তোলা যাবে | 

প্রাচীন বৈয়াকরণদের মতে, বাক্য নিধ্ণরণের ব্যাপারে উদ্দেশ ও 


১২ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


বিধেয়ের সত্শবলীর আর প্রয়োজন নেই | জীবন্ত মানুষের সুক্রিয় সমাজ 
জবনের পটভূমিতে একটা শবও যে বাক্য হ'য়ে উঠতে পারে, আধুনিক 
ভাষা-বিজ্ঞান ভাষার মুল্য নিরূপণে মানুষের, সেই জীবনালেখ) চিত্রিত 
করতে চায়। 

ভাষাই মন্তষের সমাজ-জীবন স্থির করছে; সম্বন্ধ পাতানো, সন্বন্ধের 
লালন ও বৃদ্ধি এবং সমাজ-জ।বানের দৈনন্দিন নানা কায়কারবার সম্ভব হচ্ছে 
ভাষার মাধ্যমে । কোনো এক সমাজের পরিবেশ বিশেষ থেকে ভাষাকে 
এমনভাবে 21)9080০ বা আলগা করতে পারলে দেখা যাবে ভাষা যত | 
চিন্তার বাহন তারও চেরে বেশা মান্তষের সমাজ-জ।বন রচন!র একমা 4 
সহায়ক | 


ম!হে নও, 
আগষ্ট ১৯৫৩ | 


আমাদের ভাষা ও সাহিত্য 


সারা পাকিস্তানে কেন, পুর্ব পাকিস্তানেও উদইি হবে এখানকার 
প্রাদেশিক সরকারের ভাষা এ প্রচেষ্ট পুর্ব বাংলার মাটাতে সফল হয়নি । 
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরে উঠ ই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা-_-এ ধারণা 
অনেকেরই ছিল এবং এখনও আছে | (স যা হোক- বহু রক্ঞাক্ত সংগ্রামের 
পর সম্প্রতি পাকিস্তানের কেন্দ্রয় আইন সভায় পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক 
ও|ষা এবং সংখ্যাগরি& জনসাধারণের ভাষা বাংলাকে উর সংগে রাষ্ 
ভাষার মর্ধাদা দেবার কথা ঘেধিত হয়েছে । বিশ বছর পর ইংরেজ'র 
বদলে বাংলা ও উঠ সমভাবেই রা ্রভাষারূপে গৃই'ত হবে । আর এ বিশ 
বছর ধরে বাংলা সহ আঞ্চলিক ভাধাগুলোকে সমৃদ্ধ ক'রে তুলবার জাধনা 
চলবে । 

সময়ের দিক থেকে রিশ বছর কম নয়। এর মধ্যে (দশের চেহারা 
এবং মানুষের মনে নানা পরিবর্তন হ'তে পারে। পশ্চিম-পাকিস্তানীদের 
বিশেষ ক'রে পাশাবীরা বাংলাকে রাষ্রভাষা করার যে তার বিরোধিতা 
ক'রে এসেছেন এবং এখনও করছেন তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে আমাদেরই 
দ্বেশের মধ্যে ভাষা ও সাহিত্য সম্বন্ধে নানা মতামত । 

বাঙালী মুসলমানের ভাষা বাংলা হওয়া উচিত কিনা এবং হলে তার 
রূপ কিহবে? আরবী পারসী মেশানো, সংস্কৃত প্রভাবাঘিত না এ 
কালের পরিবতিত পরিপ্রেক্ষিতে উ্ছ বাংলা মেশানো খিচুড়ি ভাষা? আর 
তার সাহিত্যই বাকি হবে? ইন্‌লাম।? না পশ্চিম-বাংলা ঘেষা? ন! 
বাংলার “মাটীতে বাঙাল.-ইসলামী” না অন্ত কিছু? এ নিয়ে পাকিস্তান 
হবার পর থেকেই তর্ক চলে আসছে। এ তর্তকে কেন্দ্র ক'রে সাহিত্যিকদের 
'মুধেয যেমন কাদা! ছড়াছড়ি হয়েছে তেমন পানিও কম ঘোলা হয়নি । 


১৪ সাহিত) ও সংস্কৃতি 


এ রাজস্নতিক প্রয়োজনেই এ সমস্তার উদ্ভব নয়, মুসলিম 
বাংলার এ পায় সুদীর্ঘ সাতশ বছরের সমস্তা ; বর্তমান র।জনৈতিক তাগিদে 
নতুন করে মাগা চাড়া দিয়ে উঠেছে । 

তরাং আমাদের মধ্যে একদল ভাবছেন বাংল। ভাষাকে একেবারে 
বাদ দরে উ্'কে বরণ করা যখন সম্ভব হলোনা তখন প্রচুর আরবী ফারসী 
তথা উর্দ, শব্দ আমদানি করে, বাংলার বর্ণমালা পর্যন্ত পাল্টে দিয়ে বাংলাকে 
দীরে ধীরে উর্দ,র সমপর্যারে টেনে ভুলতে হবে । এঁরা হলেন চরম পন্থী । 
নরমপন্ঠীরা মনে করেন বড় রক্ষমের রাজঈনতিক বিবতনন প্রতি দেশেরই 
াত,য় জীবনে একট| পরিবর্তন এনে দেয় । তাই আমরা যখন পাকিস্তান 
অঞ্জনে সফলকাম হবেছি তখন পুর্ব পাকিস্তানের ভবিঘাং বাংলাভাষা ও 
স|ভিত্যে পরিবর্তন অবপ্ঠন্তান | "তার জন আন্ফালনের প্ররোজন নেই, 
ভাখাকে ভাজই ঢেলে সাজাবার তাগিদ নেই আর ল!ংলা বর্ণমালাকে গ্গ। 
পার কৰে পশ্চিম বাংল'র 'কুফরস্তানে ঠেলে দিষে হুরুদল কোরাণের 
ভ1ওতায় উর্দ, অক্ষব গ্রহন করারও 'জকরাত” নেই । পাকিস্তান রাষ্ট্রের 
উন্নতির জঙ্গে পূর্ন পাকিস্তানের বাংলা সাহিত্য পরে দরে পাকিস্তান (পূর্ব 
পাকিস্তানী অনপ্য। ছাপ বৃহন করবে। 
নরমপণ্থীরা উগ্রপন্ঠ।দের মত এহণ করতে পারছেন ন!; তবে পাকি- 
স্তানের দৃষ্টিভঙ্গ(তে তাদের উদ্দেগ্ত যে সাধু সেজগ্ তাদের বুদ্ধির তারিফ 
করছেন | তাদের মত গুভণ করলে অনতিদূর ভবিমাতে মামাদদের কি বাহাল 
হনে £স কথা৷ ভেবে তারা বলছেন এতবড় একটা! 45812671009 করতে 
গিয়ে কমপক্ষে বিশ কি পচিশ বছর কাটবে ; তাতে বাংলার বুলপর্ও ঠিক 
থাকবেনা আমাদের ভাষাও উর্দ, হবেনা । 'এক কিন্তৃংকিমাক!র মিশ্রনোংপন্ন 
ভাষাৰ ন| গঠিত হনে আমাদের সত্যিকার সাহিত্য না পাবো আমরা পশ্চিম 
প।কিস্ত!নের সহানুভূতি ও শ্রদ্ধ। | এই প্রয়োগ পরীক্ষার বিফলতায় আমাদের 
জাতির (বাঙাল ঘুসলিম) মনে গভী'র নৈরাগ্ত দেখ! দেবে | আর রাজঈনতিক 


আমাদের ভ!ষা ও সাহিত্য ১৫ 


অবস্থার জন্যই ভেতরে ভেতরে উ্ট(ও আমাদের গা সওয়া হয়ে উঠবে 
'ভখন একদিন আইনের জোরেই হোক কিংবা মানসিক বিকারের ফলেই 
হোক উর্দ,কে শুধু জীবিকা অর্জনের ভাষা রূপে নর, আমাদের কথ্য লেখা, 
শিক্ষার মাধ্যম ও সাহিত্যের ভাষাবপে উত্সব ক'রে বরণ করে নেওয়া হবে । 
তারপর পূর্ববাংলায় চলবে উর্ঘ,র সাধনা | এখানকার মুসলমানের মাতৃভাষা 
কি তামা্*নিক ভ!যা উর্দ, নয় বলেই সেখানেও সুফল ফলবেনা ; অথচ 
এত বছরে পশ্চিম পাকিস্তান যাবে শিক্ষা-দীক্ষা ও সাংস্তিক ক্ষেত্রে বহুদূরে 

এগিরে | আমরা হবো তখন ওদের বে।ঝা স্বরূপ, হবো অশ্রদ্ধার পাত্র । 

দ্নৌকয় পা দিয়ে সে অবস্থায় আমাদের শচ। তো দূরের কথা, শান্তিতে 
মরবারও আর ফুরসং থাকবে না| 

প্রথমে যা বলছিলাম । (আজকের পাকিস্তান ও তার পরিপ্রেক্ষিতে 

পুর্বপাকিস্তান আর মধ্য যুগের মুসলমান আমলের সারা ভারতবর্ষের বাদশা ই 

আর সেই পটভূমিতে অখণ্ড বঙ্গদেশ 1 সেদিনও বাঙালী মুসলমানের সামনে 

সমস্ত৷ ছিল-_তার ভাষাই বা কি আর (কান্‌ ভাষাতেই বা সে সাহিত্য 
রচনা করবে ! (সেদিনও এদেশবাস। অথচ বাংলাভাষী, মুসলমানদের মধ্যে 
এমনি ই দল ছিল । এক দল নাংলা বন ক'রে কি জানি কোন্‌ মুসলমান; 

ভাষা সাহিত্য রচন৷ করতে চেয়েছিল । তারাও আজকের দিনের উগ্র- 
পল্টাদের মতো! বংলা ভাষা ও সাহিত্য সেব। নরমপন্টীর্দের বিজ্রপ করতে 
ছাড়েনি আর বাংলাভ।ষা ও সাহিত্যকেও আপনার ব'লে গ্রহণ করেনি । 
মনে হয় এ ধরনের এক অশান্ত পরিবেশের মধ্যে পড়েই আজকের নরমপন্ট।- 
দের মতো ষোড়শ শতকের বাঙল। মুসলমান কবি সৈয়দ সুলতান তার 


'রস্থুল বিজয় কাব্যের ভূমিকায় অতি ছঃখের সংগে লিখতে বাধ 
হয়েছিলেন__ £ 


কত (দশে কত ভাসে কোরানের কতা | 
দিন মোহম্দী বুক্তি দেয়স্ত বেবস্তা ॥ 


১৬ সাহিত্য ও সংস্কাতি 


. কর্দদোষে বঙ্গেতে বঙালী উৎপন 1 
না বুজে বাঙাল. সবে আরবী বশ । 
স সং ন্‌. 


4 


বঙ্গদেদি সকলেরে কিূপে বুক্তাইব | 

বাঙালী আরব ভাষার বুজাইতে নারিব ॥ 

জরে জেই ভাসে গুহ করিতে কজন । 

সেই ভাস তাহার অমূল্য (সই ধন ॥ 

কতক।ল অ।গেক|র কবির এই উক্তি) অথচ শেষের ঢুই পংঞ্চির মম 

আজই যেন বিশেষভাবে আমাদের উপলব্ধি করতে হচ্ছে । এরই সংগে 
বিচার্য অসংখ/ মোল্লা মৌলবী। অধ্যুষিত নোয়াখাল। জেলার সন্দীপ নামক 
সাধুর পল্লীনিবাস। সপ্তদশ- শতাবীর মুসলমান কবি জ্দাবুল হাকিমেব 
ক্ষমাতীন গাতক উক্তি | ক্ষোভে ও ৫£খে তিনি লিখেটিলেন-- 

যে সবে বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী | 

সে সবর কিবা রতি নির্ণর না জানি ॥ 

মাতা-পিভামহ-ক্রমে বঙ্গেতে বসতি | 

দেনাভাষা উপদেশ মনে হিত অতি ॥ 

দেশীভাষ' বগ্ঘ। যার মনে না যুড।র। 

নিজ দেশ তেয়াগি কেন বিদেশে না যার ॥ 

€তিন শ' বছর আগেকার মুসলমান-যুগের নামে মাত্র দির্লীর অধীন 

একরকম স্বাধ'ন বাঙলার মুসলমান আর আজকের আমাদের বনু-বাঞ্িত 
পাকিস্তানের করাট'র বাধনপুষ্ট পূর্ববঙ্গের মুসলমান 1) বহুশত বংসরের 
ব্যবধাঁনেও বাংলাভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপারে বাঙাল মুসলমানের 
মানসিকতার কোন পরিবর্তন হয়েছে কি? আমাদের পুর্বা পুরুযদের অনুর- 
দরশিতার জন্ত এ যুগের মুসলম।ন আমরা কৃপা ছাড়া তাদের আর কি করতে 
পারি? এখনও যদি আমর! এ অনাবস্তক কলহকোন্দল বন্ধ করে 


আশমাদের ভাষা ও সাহিত্য ১৭ 


অ।মাদ্দের আপন সাহিত্য সষ্টি করতে মন ন: দিই তাহ'লে আম।দেরই ভবিষা 
বংশধরেরা কি ঠিক একালের উর্ঘ, বাংলার ঝগড়া 9 তদজনিত কষ্টির বিফল- 
তর কথা স্মরণ ক'রে মামাদের দিক থেকে দ্বুশায় মুখ ফিরিরে নেবে না 
€বাংল! সাহিত্যের মণ্যযুগের ইতিহাস আলোচন! করলে দেখি 
মুসলমানের পক্ষে নাংলা সাহিত্য সেবা করার বাধা ছিল য'খষ্ট; সে বাধ! 
তার আপন রাজশক্তির দিক থেকে অসেনি_ এসেছে তার সমাজের 
উগ্রপঙ্টা অদুরদর্শখদের কাহ থেছে | তবু দেখ। যায় সমগ্র মধ্যবুগ থেকে 
এ পর্যন্ত প্রার সাতশ" নহর ধরে বাঙালী মুসলমান বাংল! ভাষাতেই 
সাহিত। স্থষ্টি করেছে । ভাল হোক, মন্দ হে'ক তার “সই সাহিত্যের মবে।ই 
মুসলমানের চিরন্তন বৈশিষ্ট্যের ছাপ সে পরে রাখতে পেরেছে । দুসলমানের 
'জঙ্গন/মঃ; তার “কালাসোল .আঘিধা' 'মারফতি গান” এবং 
পম্মাবতা” কি “লোরচন্দ্রানী”. এবং. জর্পশেষ ৪ শ্রেষ্ট 
সম্পদ পুঁথি সাহিত্য মুসলমানী ভাবধারা ৪ জীবনাদর্শ 
আজও বহন করছে। সত্য কথ৷ বলতে কি প.থি সাহিত্যকে আমবা 
আজ যে দুষ্টিতেই দেখনা কেন বাঙলার মধ্যযুগের মঙ্গশকান্যগুলো যেমন 
বাঙাল। হিন্দুর জীবন পিপাসা মিটিয়েছিল তেমনি নুসসমানের পুথি 
সাহিত্যও মুসলিম জ।বনের আশা আকাঙ্গার পরিতৃপ্তি সাধন করে মহা- 
কাব্যোচিত গৌরব নির়েই তার পাশে দীড়িয়ে আছে। এযুগের দৃষ্টি ভক্কতে 
বিচার করলে মানুষের জীবনের উপরে ভিন্টি লাভ করে দীড়া়নি ব'লে 
যেমন পুঁথি সাহিত্যের তেমনি মঙ্গল কাব্যের মূল্য অবন্ত কমে আসবে কিন্ত 
একথা সত্য যে হিন্দুর যেমন পদাবলা সাহিত্য মুসলমানের মারফতী গান 
তেমনি হিন্দুর মঙ্গলকাব্যের পাশে একমাত্র এই বিরাট পুথি সাহিত্যের 
ভাগারই সেকালের বাঙালী মুসলমানকে সম্মান ও গৌরবের আসনে 
প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে। সেকালের বাঙালী মুসলমান সৃষ্টি প্রাতিভায় 
বাঙালী হিন্দুর তুলনায় কিছু কম ছিল না পুঁথি সাহিত্যই তার পপ্রমাণ।) 


৯৮ সাহিত্য ও সংস্কতি 


বাধা বিপত্তি সত্বেও বাঙল। দেশে ইংরেজ আগমনের পৃর্বপর্যস্ত মুসপ- 
মানের! যে ধারায় বাঙলা সাহিত্য সৃষ্টি ক'রেছে দেশের রাজশক্তি মুসল- 
মানদের ছাতে থাকার জগ তার সবট। না হলেও অনেকট। বাঙালা হিন্দুও 
তার সাহিত্য হৃষ্টির জন্য গ্রহণ করেছে । মোটামুটি মুসলমানধুগে হিন্দু ও 
মুসলমানের মিলিত বাংলা সাহিতে) যে মুসলমান প্রভ:ব দেখি এঁতি- 
হাসিকের বিচারে এদেশ ও জাতির অত।ত নিরূপণ করতে ত।র মূল্য কিন্তু 
কম নয়। 4 

সামাজিক ও ব্যবহারিক জাবনে অত্যন্ত সুস্থ ও সহজ রাছ্”্নতিক চেতনা 
এনং সাম্য মৈত্রী ও প্রীতি জনিত ভাব ছড়িয়ে ইসলাম যেমন ভারতবর্ষের 
জাততভেদ পীড়িত ও অত্যাচার জর্জরিত অগণিত মানুষকে আপন স্নেহ" 
চ্গয়ায় আশ্রয় দিয়েছে তেমনি এ দেশ তার জা'তধ্নকে বাচাতে গিয়ে 
রামানন্দ কবীর নানক এবং চৈতন্ত প্রমুখ সাধক ও উদার মতাবলম্বী ও 
মধ্যপন্থীর জন্ম হিন্দুর জ'বনে এও যেমন ইসলামের পরোক্ষ প্রভাব তেমনি 
বাঙালী জীবনে ও বাঙলার হিন্দুমুসলিমের মিলিত সাহিত্যে চিন্তাধারার 
দিক দিরে ফা প্রভাবও ইসলাম তথা মুসলমানের দান 1) এ দান পরো।ক্ষ- 
ভাবে হলেও হিন্দুর বৈষ্ণব সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে ছাডেনি। এ ছাড়া 


বাংলায় উপাখ্যান কাব্যর্ঃুনা হিন্দুমুসলমানের ফারসী চর্চার সমহ্ত্রেই 
এদেশে এসেছে | 


চিন্তাধারা! বা ভাব জীবনের দিক “থকে সমগ্র বাংলা স|হিত্যে মুলমান 
প্রভাব বুট, আশা! করা গেছিল অবপ্ত ততটা হয়নি, কিন্তু হিন্দুমুসলমান 
নিবিশেষে বাঙাঁলার ব্যবহারিক জীবনে মুসলমান প্রভাব যথেষ্টই বলতে 
হবে। বাঙালীর ঘরের আসবাব, তার পোষাক পরিচ্ছদ, তার বিলাসিতার 
উপকরণ, তার অস্গুখের এলাজ, তার বড়মান্গযি খেলার সরঞাম, মাসান্তের 
মাহিনা, গাড়ীঘোড়ায় চড়ার রেওয়াজ, তার তেজারতঃ জমি জমার 
বন্দোবস্ত, তার আদীলতের মামলা মোকদম!, তার পরিচায়ক পদ ও পদবী, 


আমাদের ভষা ও সাহিত্য ১৯ 


এমনকি তার দৈনন্দিন জঈ।বনের জবানও বহুদিকে মুসলমান প্রভাব দ্বারা 
শাসিত। বাঙলার সাহিত্য তার এ নজীর আজও বহন করে চলেছে। 
বুটিশশূর্ব যুগের বাঙালী জীবন ও সাহিত্যে তো বটেই, ইংরেজী 
আমলের সাহিত্যেও ম.সলমান প্রভাব কম নেই। সেকালের ভারতচন্দ্রের 
বনী মিশাল' ভাষা না হয় বাদই দিলাম, উনবিংশ শতাবীর গঠন 
বুগের লেখক প্যারিচাদ মিত্র ওরফে টেকাদ ঠাকুরের আলালের ঘরের 
স্লাল এবং হুতো মপ্যাচার নক্স! পড়তে গিয়ে আরবী। ফারসী শবের যথেষ্ট 
ছড়াছড়ি দেখা যায়। আলালের প্রায় প্রতি পংক্তিতেই আরবী ফারসী 
শবের এত অধিক ভিড় রয়েছে যে আজকালকার ভাল আরব. ফারসী জানা 
(লোকেরও পিলে চমকে ওঠে । অতদৃরে কি, এহেন যে বঙ্ধিম তার মতো 
লেখকের রচনাতেও ফ!রসি ও তার সমস্ৃত্রে আরবী শব বহুল পরিমাণে 
ব্যবহৃত হয়েছে । হিন্দু অবপ্ত তার নিজের দৃষ্টি দিয়েই এ যুগে মুসলমানের 
জন্যও সাতিত্য কষ্টি কারে গেছে। (হিন্দু গিরীশচন্দ্র কোরান শরফের 
হাদিস শর.ফের প্রথম অন্গবাদক, হযরত (মাহম্মদের প্রথম জ।বনী লেখক ; 
মুলম।ন সাধকগণের প্রথম জীবন প্রচারক । অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় সিরাক্ত 
ও ম'রক!সিমের প্রথম কলঙ্ক মোচক | অধ্যাপক ষছনাথ সরকার রামপ্রাণ 
গুপ্ত ইসলামের ইতিহাস লেখক ; সত্যেন দত ও মোহিতলাল বাংলার 
মুসলিম কৃষ্টির রূপকার ও কবি। এ যুগ্গের নামক্র' মুসলমান লেখকদের 
মধ্যে ম'র মোশাররফ হে|সেন, মোজাম্মেল হক, লুংফর রহমান” ইমদাঢুল 
হক, কায়কোবাদ ও নজরুল বাংলা সাহিত্যে মুসলিম জীবন ও তমন্,নের 
উদ্দগাতা। এঁদের হৃষ্টি শুধু মাত্র মুসলমানদের জন্ত হয়নি ; মুসলিম কৃষ্টি 
ও জীবন থেকে রস সংগ্রহ ক'রে বাংলার মাটী ও সাহিত্যকে উর্বর 
করেছে। তা হয়েছে বাংলার ও বাঙাল।র | 
বুটিশ শাসনের মধ্যকালই বাংলা সাহিত্যের পরিণত কাল | সে সময়েও 
মুসলমান আমলের জের একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি ; তার শেষ রশ্বিটুকু 


২৩ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


ক্ষীণ দীপালোকের মতো! নিবু নিবু করঙ্গে । একথা সত্য যে পলাসীর যুদ্ধে 
বাংলাদেশে মুসলিম রাজশক্তির ভাগ্য বিপর্যয় না ঘটলে প.থি সাহিত্যের ভাষা 
ব| অন্ব্প আরবী ফারসী প্রভানা্থিত বাংলা ভাষাই হিন্দ ও মুসলমান 
বাঙাল র বাংলা সাহিত্যের ভাষা হতে! এবং নবযুগের বাংলা সাহিত্যের এ 
হেন সমুন্নতন্নপও অনুপ ভাষার উপর ভিক্ করেই দাঁড়াতে পারত। কিন্ত 
সে কথাখ।ক। অত্তফিরে আসেন! ; অভতকে তআকডে ধর! কিংবা 
তাকেই যথাযথ ভাবে ঝচিয়ে তোলার চেষ্টাও ফলবর্ত: হয়না । তার জন্য 
দুঃখ ক'রে লাভ নেই ; কেবল চঃখ হয় তাদের জন) যর! ইতিহাসের পাঠ 
গ্রহণ না করে বর্তম'নকে সেই কঙ্গালসার অত.তেরই সেকেলে বোরকা 
পরাতে চাইছেন | " 

রাজটনতিক কারণেই ইংর্জে শাসনে মুসলমান দেশর সকল বিধি 
ব্যবস্থ' থেকে দূরে সরে গেল । আধিক অস্বচ্ছলতার মধ্যে পড়ে শিক্ষা কষা 
থেকেও বঞ্চিত হল । শ্রুতরাং এ মহা নরাগ্ঠের মধ্যে সেআর উল্লেখযোগ্য 
সাহিত্য *ষ্টি করবে কি করে? উনবিংশ শতাব্ঈ,র দ্বিতয়ার্ধ থেকে বিংশ 
শতবার তৃতীয় দশক পর্বন্ত এ যুগ বাংলা সাহিত্যের শ্রেট ও সুবর্ণ ধুগ। 
এ যুগের বাংলা সাহিত্য মূলত বাঙালী হিন্দুর স্থষ্টি। তার পাশে মুসলমান 
রচিত সাহিত্য একটা ক্ষীণ দপালোকের মতোই মিট, মিট, করছে। সুতরাং 
হিন্দুর রচিত শ্রেষ্ঠ সাহিত্য হিন্দু কৃষ্টিরই যে ছাপ বহন করবে তাতে বিস্মিত 
হবার কিছু নেই। হিন্দু কৃষ্টি বাদ দিয়ে যে পরিমাণে ত! মান্তষের অন্ত- 
জীবনের গাথা রচনা করেছে সে পরিমাণে তা বাঙালীর সুতরাং মুসলমানেরও 
এ কথা অবপ্ত স্বীকার্য। সে' দিক থেকে উন্রাধিকার স্তরে বাঙালী 
ম,সলমানও সে সাহিত্যের একটা বিরাট অংশের দাবীদার একথা অস্বীকার 
করলে চলবে কেমন করে ? 

তাই ব'লে তার নিজের সাহিত্য তাকে হৃষ্টি করতে হবে না এবং 
বাংল! সংভিত্যের বিশ্ববমোহনরপে মোহ গিয়ে ম.সলমান সাত্না পাবে এও 


আমাদের ভাষ! ও সাহিত্য ২৯১৮ 


তার পক্ষে এক মন্ত বড়ো বিঘম্বনা | যেমন ক'রে সে হিন্দুর সঙ্গে প্রতি- 
দ্ন্দিতায় মধ্য খুগের সাহিত্য সৃষ্টি করেছে হিন্দুর তুলনায় নগন্ত হলেও 
বাংলা সাহিত্যর গৌরবোজ্জলযুগে তার কৃষ্টির ছাপ যেমন ক'রে মে তার 
নিজের রিত সাহিত্যে স্থল বিশেষে ফুটিয়ে তুলেছে অ:জকের রাষ্ট 
ব্যবগ্ঠার এ মহাপরিবর্তনের যুগেও সে তেমনি 'তার সাহিত্য রচনা করবে। 
সে সাভিত্য হ'ব বাংলা, তার ভাষাও বাংলা এবং লিপিও বাংলা । 

(পশ্চিম বাউল! ও পুর্ববঙ্িল! এ৫টো কথা নৃতন নয় 3 নৃতন শুধু হিন্দুস্তান 
ও প'কিন্তান | রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এ পরিবতন আসার বন্ুপূর্বথেকেই অর্থাং 
দেশ ও স!হিত্ের শৈশবাবস্থ। থেকেই বাউলা দেশের এই ছুই অঞ্চলের 
আবচ্াওয়াতে তফাং ছ্ষিল। উক্ত ভৌগলিক পার্থক্য এমনি যে তা 
অ!পনাপন অঞ্চলের মানুষের জীবনের সকল দিকেই বৈশিষ্টা '3 শ্বতক্কের 
অজন্স ছাপ রেখে গেছে । আবহমান কালের “বাঙ্গাল” এ ঘটার লাই 
ও ব্যঙ্গ বিজ্রপের কথা ন' হয় বাদই দিল/ম-_দই বাঙলার সাভিত্যে যদিও 
বা এর প্রকাশ কম হয়নি । কিন্ত নদ'যাতৃক পূর্ববাঙলার অপেক্ষাকৃত সিক্ত 
মাটীতে এ অঞ্চলের মানুষ ভাটিয়াল', মারফতী, জারি মাসিয়া, লোক 
সঙ্গত ও পন্লগীতিকা ইত্যাদির যেভাবে জন্ম দিয়েছে তা নিছক পূর্ব 
বাঙলারই। আশ্চর্যের কথা এই যে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ম.দলিম জ.বনের 
অস্থর্গাথা এবং দরিদ্র ও নিরক্ষর ম.সলিম জীবনকে কেন্দ্র করেই প্রাণ 
পেয়েছে । আবার শুকনো! মাটীর দেশ পশ্চিম বাঙলায় যে সাহিত্য ফলেছে 
উক্ত অঞ্চলের গুাকৃতিক শুক্ষতার জন্যই বোধ হয় (অবন্ঠ বৈষ্ণব কবিতা বাদ 
দিয়ে) তার মধ্যে জলীয় ভাবের অংশ অপেক্ষাকৃত অল্প। এর -ৃঙ্গ 
উদাহরণ পশ্চিমের বাউল সঙ্গত আর পূর্ব বাঙলার ভাটিয়ালী।) প্রাণের 
আবেগ ঢুটোতেই সমান তবু বাউলে চড়াই, ভাটিয়ালি তে উতরাই। শু 
ও রক্ষতার জন্ঠ বাউলে উ্ধশ্বাস আর প্রচুর জলয় বাচ্পের জন্ট ভাটি- 
যালীতে শ্বাস নিয়গাম:; একটা পশ্চিম বাঙলার আর একটা পূর্বের । 


হ্খ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


একটা হিন্দুর, একটা মুসলমানের । একি আজকের তফাৎ? এতে! 
চিরকালের ! 

পাকিস্তানের নবতন অ'লোকে আমদের সাহিত্যকে শুধু এ দৃষ্টিভঙ্গী 
থেকে বিচার করলেই যথেষ্ট হবে না। কথ। উঠেছে সাহিত্যকেও দন 
ইসল!মের কালেম৷ পড়াতে হবে । কথাট বিচার ক'রে দেখা যাকু। 
প|কিস্তান ইসলামিক রাষ্ট্র হোক বা না হোক পাকিস্তানের অধিকাংশ অধি- 
বাস'ই যখন মুসলমান তখন তার জীবনে এবং সাহিত্যেও ইসলামের সুস্পষ্ট 
চাপ খ।কতে বাধ্য | ইসলাম শুধু ধর্ন নর 3 ছনিধাতে মানুষের সুস্থ, সবল, 
স্বভাবিক ও সহজভাবে তেঁচে থাকবার ব্যবহার বিধি । উক্ত নীতির সঙ্গে 
অঙ্গঙ্গি জড়িত থেকে যে জাত বাচতে চায় তার উপযোগী সাহিত্য তাকে 
তৈরী করতে হবে। কেনন। সাহিত্যই জাতির সংস্কৃতি গড়ে তোলে এবং 
সেই সংস্কৃতির ছগ্ধধারে সুস্পষ্ট ক'রে সে জাতিকেও সাচার । পৃথিবীতে 
এ1র।রিক শক্তির আক্ষালনের ছ!রা কোন জাতি হীচেনি ; কুণ্তে ইসলাম 
গ্াহির ক'রে আমরাও তেমন ধাচতে পারবো না। জাত,য় জীবনের 
উত্থান ও পতন আছে স্বক|র করি কিন্তু এও মানতে হবে যে পতন থেকে 
অভ্যুদয়ের পথে এগুতে তার সাহিত্যই তাকে প্রেরণা দেয়; সাহিত্য 
জাতীয় জীবনের আরসি ; স্ৃতরাং ষে জাতির সাহিত্য নাই তার আর 
রয়েছে কি? / |] 

প্রশ্ন হ'তে পারে মুসলমানের রচিত হ'লেই কি তা ম.সলিম সাহিত্য 
হবে? তা যখন হয়নি এবং হবেও না তখন পুর্ববঙ্গের সাড়ে তিন কোটি 
মুসলমানের সাহিত্য আমাদেরই রচনা করতে হবে। কোরান হাস 
ফেকা উন্ল, শরাহ শরীয়ত মাফিক মুসলিম জীবন যে ভাবে নিয়ঙ্তিত তার 
সাহিত্যকেও তদন্বিদ্ধ প্রাণধর্ণে উজ্জ।বিত হ'তে ' হবে । হিন্দুর রামায়ণ 
মহাভ/রতাদি পুরাণ ও গীত৷ উপনিষদ যেমন তার সাহিত্যের অফুরস্ত উৎসব 
হয়ে রয়েছে এবং হিগ্দু যেমন অকাতরে সেখান থেকে ভাব সম্পদ আহরণ 


আমাদের ভাষা ও সাহিত্য ২৩ 


ক'রে তার নব যুগের সাহিত্যকে একট! বিরাট মহুনীয়তা দান করেছে 
আমাদের সাহিত্য সৌধও তেমনি কোরাণ ও মুসলমানী উপকথার বিরাট 
চত্বরের উপরেই প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত বলা যায় মুসলমান সমাজের 
কোন নায়িকাকে যদি ফজর থেকে এশ! পর্য্যন্ত শুধু নামাজই পড়তে দেখি 
তাতে বিস্মিত হবে! না, কিন্তু সে যদি এবাদং বন্দেগী করতে করতে তার 
নারীত্ব বর্জন ক'রে ফেরেস্তা হয়ে ঈাড়ায়” তখন শুধু বিস্মিত নই, ব্াথিত 
হবো । অতএব আমাদের সাহিত্যের দেহ ও মন হবে মুসলমানের কিস্ত 
আত্মা হবে সকল কালেব সকল দেশের মান্গষের ; এক কথায় সার্বজনীন, 
সুতরাং বিশ্বের | 

এখানে একটা কথা আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে স্মরণ রাখতে 
হবে । আমাদের দেশ সেই পুর্ববঙ্গ আজকের পুর্ব পাকিস্ত!ন ; মুক্ত, মুসল- 
মানের স্বাধীন আবাস ভূমি ; কিন্তু দেশের মাটা সেই পূর্বেরই, প্রকৃতি তাও 
সেই পুরাতন; এখানকার মুসলমানের চেহারায় এদেশের প্রকৃতিগত ছাপ 
মামৃত্যু সংরক্ষিত | নুতরাং আমাদের অন্তর ও বহিজীঁবনের উপর রাষ্ট্রগত 
প্রভাব আনতে হ'লে এদেশের মানুষগুলোর দিকে চেয়েই তা আনতে হবে 
নইলে শেষটায় আমরা মুসলমান তথা মানুষ গড়তে গিয়ে বানর না৷ গড়ে 
ফেলি সে আশঙ্কাও আছে। বিপদ আমাদের কম নয় | 

এ বিপদ থেকে একমাত্র আমাদের পুর্ব পাকিস্তানের সাহিত্যই আমা- 
দেরকে রক্ষা করতে পারে । আমর! পাকিস্তানবাসা অথচ পুর্ব পাকিস্তানের 3 
এই বৈশিষ্ট্যের উপরে ষদি আমাদের সাহিত্য গড়ে ওঠে তবে আশা হর 
আমর! মরবে না) এবং কারুর দাসেও পরিণত হব না বরং নিখিল 
পাকিস্তান রাষ্ট্রের পর্ণ সমৃদ্ধিতে আমাদের যথোপধু্ দান নিয়েই বিশ্বের 
ধরবারে হাজির হ'তে পারবো | এপথে এগুতে হ'লে আমাদের সাহিত্যের 
ভাষা বাংলাই রাখতে হবে ; (খানে প্ররোজনাতি।রক্ত আমূল পরিবত'নের 
জন্ঠ বাহির কি ভেতর থেকে কোন জবরদস্তি চলবেনা । একথা অবগ্ত 


১৪ সাহিত) ও সংস্কাতি 


এঁতিহাসিক সত্য যে প্রত্যেক জাতির ভাষা ও সাহিত্য মানা কারণে যুগে 
যুগে নানা পরিবর্তন দেখা গেছে কিন্ত সে পরিবর্তন দশ পাচ বছরে সগ্তন 
হয়নি; এঁতিহা!সিক প্রয়োজনেই যে পরিবর্তন উদ্ভব হয়েছে এব কম করে 
হলেও শতাববী কলের কম সমরে জাতীয় জীবন ও সাহিত্যে সে পরিবত'ন 
হাড়ে মাংসে সঞ্চারিত হয়নি । 

পুর্ব পাকিস্তানের নব্য মুসলিম বাংল সাহিত্য স্থষ্টি করতে গিয়ে আম.” 
দের মনে রাখতে হবে উনবিংশ শতাব।র বাঙালী হিন্দুদের কথা | পা*৮াত্য 
শিক্ষ। ও মানবতার অ।দর্শে দক্ষিত হ'য়ে অফুরম্ত সৃষ্টি প্রেরণ! নিয়ে বাঙালী 
হিন্দু সেদিন যে বাংল! সাহিত্যের সৃষ্টি করেছে, হিন্দু পটভূমিক।য় রচিত 
হলেও তা! হয়েছে বাংলার ও বাঙালী স্াহত্য । পাকিস্তান মুসলমানের আশা 
ও ভরসার ঠাই, তার জীবনের বিচরণ ভূমি, মরনের বিশ্রামহ্থল। যে বুক্ত 
জীবন কল্পন। মুসলমানকে পাকিস্তান রচনায় দরন্ত উন্মত ক'রে তুলেছিণ 
প্রতিচ'র নবতন অ[লোকে সৃষ্টি পাগল উনবিংশ শতার্বীর ব।ঙালা হিন্দুর 
মতোই মুক্তি পাগল আজকের এই বাউল মুসলমান জাভিও তেমনি তার 
বাংলা সাহিত্য ৃষ্টি করবে 1) পাকিস্তান আন্দোলনের সমসাময়িক কাল 
থেকেই তার শুভ সু"্ন। হয়েছে । এ প্রয়োগ পরীক্ষার পথ ধরে আশ। 
আছে আমাদের সাহিত্যে ও ইসল।মি ভাবধার।র সঙ্গে যথারীতি ও গভীর 
পরিচত্ব-সম্পন্ন বাঙালী ইকৃব;ল কি দুগ্রলমান রবন্ত্রনাথ, শরং ও তারাশঙ্করের 
শুভ।গমন হবে। এ দিক দিখজে পশ্চিম পাকিস্তানের কোন সম্ন্া নেই। 
সমন্তা য, ত। আমাদেরই । ভাষায় ও বর্ণমালায় বাংল! বর্জন করে উর 
গ্রহণ করলে সে সমস্তার সমাধান হবেনা ।€& রাজভাষা ইংরেজি বরণ ও 
চচ্চা করে উনবিংশ শতাব্দীর বাঁঙালী। হিন্দু যেমন বাংলা সাহিত্যে তার 
সৃষ্টির আনন্দ ধ'রে রেখেছে, ইসলাম। ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত [ও আমাধের 
নব সাহিত্য স্থির জন্ত আজকের রা্রভাষা) উুকেও আমাদের সেই "ভাবে 
গ্রহ্ণ করতে হবে ছুগার এক চুল বেশী হ'লেই, প্রতিযোগিতায় : ক্ষেত্রে 


আমাদের ভাষা ও সাহিত্য ২৫ 


অনুকরণ করেও আমর! ঈ1ড়াতে পারবোনা, স্বীয় স্বাতন্ত্রের মহিম।যতো। 
নধই। ইতিহাস তার প্রমাণ | এ বাস্তব সত্যকে যে অবহেলা বা অস্বীকার 
করে অপঘাতে সে জ!তির মৃত্যু হয়। অতি আগ্রহ ও উগ্রতাও তখন 
তাকে বাচার না। 

যেমন করেই ছোক জীবনের আঘাতে জীবন জেগে ওঠে । হর! 
মালিনীর ভাঙা মালঞ্চে একদিন যমন সুন্দরের অতকিত আগমনে তা ফুলে 
ফলে ও সমৃদ্ধিসৌরভে ভরে উঠেছিল তেমনি পাকিস্তানের সোনার কাঠির 
স্পর্শে বাঙালী মুসলম।নের দুমস্ত অন্তরপুরী।(তে দোল! লেগেছে; সৃষ্টি 
প্রেক্পায় সে আজ মশগুল । আজ তার ভূল করলে চলবে না। সেষে 
বাঙলার মান্ুষ। নু'ভরাং তার ম.সলমানত্ব 'ও বাঙালাত্ব, তার পাকিস্তান 
ও পূর্ব বাঙলা--এই বৈশিষ্ট্যের উপরেই তার সাহিত্য তাকে রচনা করতে 
হবে। 


দিলরুবা । 


হিন্দ, বাঙলার ধর্মান্দোলন ও উনবিংশ শতাব্দী 


ভারতবর্ষ প্যানধারণ', যজ্ঞ সাধনা 'ও ধপ্মর “দশ । জমগ্র ভারম্তবর্ষ 
কেবল এই ধর্মী হ্লক্যই অখণ্ড । ভারতের 'প্রতি প্রদেশে বহুকাল ধরিয়া 
সলঙ্দিক সাধনার 'প্রাণরস 'প্রীবাহিত ভইতে্ড) যৃগে যুণ্গ এবং প্রাদ্শ বিশেষে 
ইচ্ুর বাহা রূপ বিভিন্ন হইলেও তাহার আত্মার পাবাটি 'এক এবং সনাতন । 
যুগবগী রাক্ষস, নির্শ্ম দন্তপীঙনে জর্জরিত হই! সনাতনই এই ভারতবর্ষে 
আপনাকে বারংবার চ্ভীবিত করিয়াছে, ইতিহাসে তাহার নজীর মিলে। 
বিন' আঘাতে বীনাব তার পবনত হয় না, আঘাত পাউযা বিভিন্ন সুরে 
অন্থরণিত হইল ৭ ব ণার আরুতিস্ত /কান পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না| 
'তমনি *বদিক হিন্দ ধন নাভির হই ক যখন, কোন আঘাতের সম্মুখীন 
হইয়াঙ্গে তগনাই (সই জাত য় সঙ্গাটির দিল্ন বিভিয় রূপে ও ভাবে আপনার 
চিরকান্লর দেই আপদ পাবাকে স্মপ্রকাশ করিয়ে | হিন্দ ধর্প একদিন 
এমনই এক মঙ্গাসক্কটের সপ্ন হইরা্চিল ধগন ইসলাম তাশ্াব গণতাশ্থিক 
নাতৃত্বের উদার আদর্শ লইয়! এদেশে 'প্রবেশ করে । উক্ত প্রসঙ্গে অপরের 
হইলেও একটি কথা উপ্লেখযোগ্য-_-শঙ্করবেদান্গে যে বাইরের কোন প্রভাব 
রায়ছে, একথা অনেকেই য় স্বীকার কলতে চাইবন ন।, অথচ সহজ 
একটি 'শ্তিহ্গাসিক সত্যের বিলব করলে "স পুভাব অক্দী কার করবারও 
উপায় নেই | প্রা গন্তিাসিক কাল থেকে প্রায় অঠম শতক পর্বন্থ হিন্দু 
ধর্মমতে যে সমস্ত পরিবর্তন, নতুন নতুন মতবাদের আবির্ভাব ও দিবতর্ন, 
তার পরিচয় উতর ভারতের মধ্যেই আবদ্ধ । সংষ্কৃতি ও সভ্যতা, প্রাচীন 
রতি ও নতুন বিদ্বোচ সব কিছুরই পরাকাষ্ঠা৷ উত্তর ভারতের জীবনে । 
কিন্তু অষ্টম শতাবঈী'তে অকন্মাধ ত! বদলে গিয়ে ভারতীয় চিন্তাধারার [নতৃত্ব 
দক্ষণ ভারতে চলে গেল। শঙ্কর, রামানজ, নিশ্বাদিত্য, বল্লভাচাধ্য, মাধব 


হিন্দু বাঙাল।র ধর্যান্দোলন ২৭ 
সবাই দাক্ষিণতেঃর সে।ক- বৈষ্ণব এবং শৈব মতেস উৎপত্তি ছন্দ এবং 
পরিণতি সেখ।নে | জাতির জী।বন।বেগের এ পরিব তন অনেক এঁতিহ।সিকের 
ক।ছেই বিস্মকর মনে হরেছে, অথচ ভারতে ইসলামের অ।বিভাবের কথ। 
মনে রাখলেই সহজেই তার রহন্ত পরিঞ্কার হখে উঠে। [বনক|সমের্র 
সগ্ু-বিজয়েরও পূর্বে সপ্তম শতবার মাঝাম।কঝি থেকেই দাক্ষিণ ভারতে 
ম.সলমানদের অ[নাগোন। শুরু হে।ঝেছিল, তার ফলে মালাবারের চেরামন 
পেক্চমল বংশের শেষ রাজা নিজে ইসলাম গ্রহণ করে আরব দেশে চলে 
যান। রাজ।র এ ধর্ান্তর সে যুগে দক্ষিণ ভারতে ইসল|মেঞর প্রভ।বের একটি 
লক্ষণ | বিপরীতধমী ই সংস্কৃতির সংঘষে হিন্দর সম।জমনে তার ধমবিশ্বাস 
ও জ।বনাশনে যে স।ড়া জাগলে, তারহ ফলে বৈষ্ণব এবং শাক্ত মতব।দের 
উদ্ভব ও পরিণতি । উত্তর ভারতীয় প্রান ধর্মবশ্ব।স এবং ঈীবনধৃষ্ট মধ্যপন্থী, 
শান্ত এবং ভাবগন্ত।র | দক্ষিণ ভারতে ভঞ্জিবাদে যে মনোবুত্ির 1বকাশ, 
আবেগের প্রাচ্ধ্য এবং তাব্রতাই তার প্রধান লক্ষণ | উত্তর ভারতের শাস্ত 
সম।হিত পরমত-সহিষ্ণু খুদ্ধ-প্রধ।ন শিথিল মতব।দ অকস্ম।€ দক্ষিণ ভারতে 
আত্মকেন্্র্ঠত আবেগের প্রাবলে] বিপ্লব। হোকে উঠলো! কেন, সে প্রশ্ন 
তুললে ইসলামের প্রঙাবকে অস্বাক।র ক্নব।র উপার নেই। তাই শঙ্করের 
মাযাবাদ এবং বর্গের এক্যস্থাপনের এস্ষ্টোর তব্রতার মধ্যেও ইসল|মের 
উন্মু(দনা কার্য্যকরী_ শঙ্করের জ।বনের হতিহাসেও' তার আভাস খুজে 
পাওয়া যায় । দ|ক্ষিণাত্যের ভক্তিবাদ এবং নব্যদশখনের স্থৃত্রগুলির প্রত্যেক- 
টিই হয়ত উপন্ষদের মধ্যে মিলবে কিন্তু তাদের সামন্শ্তের যে ভঙ্গ তা 
প্রতিপদে ইসলামের কথা স্মরণ করিয়ে দের (হুমায়ুন কবির, বাঙলার 
ক।ব/ পৃঃ-২৫।২৬)। 

বৌদ্ধ ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়ত সেদিন শঙ্করাচাধ্যঞমুখ দাঁশনিকেরা 
ভারতীয় দশনের প্রয়োজনানুরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছিজ্লন, কিন্তু তাহ।দের 
বেদ।ন্তভায্যে বৌদ্ধ ধর্মের অগ্ুরূপ ও ব্যবহারিক জ।বনে তদপেক্গা সুপুষট 


৯৮ সাঠিত্য ও সংস্কৃতি 


ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব যে সেদিন কোন ক্রিয়া করে নাই এমন কথা 
৬।বিতে দ্বিধা হয়| কারএ, উপরি উক্ত ইতিস্থাসবপিত সত্যের দিকে লক্ষ্য 
করিলে ভারত।র় জীবন্দশনে ইসলামের ভাব। প্রভাব সন্ধে শঙ্করাচার্য্ের 
মত বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি যে অবহিত হইয়াই বেদান্ত-ভায্যের নবতব 
1প দান করির। থ।কিবেন, ইহা বিস্ময়কর হইলেও অসম্ভব নহে। 
তাই দেখি, সোদনও ইসলামের মত নবোজ্জল 9 আদশপুষ্ট সংস্কৃতির 
সংখাতে ভারতে সেই বৈদিক সনাতন ধন্নেরই শঙ্কারাচার্ধ্যপ্রম.খ ভাষ্যকার- 
দের দ্বারা নবতর ব্যাখ্য। হইর1প্িল এবং তাহাদের বুদ্ধিদীপ্তির চকিত ঝলক- 
শেষে হৃদয়ের প্রেমধারা রামান্ন। প্রবতিত যুগে নানা শাখ। পল্লবে সমগ্র 
ভারতবর্ষে ব্যাপ্ত হইর়: পড়িয়া ছিল 1৬ 

দ্বিত,য় বারের জন্ত ভারতীয় হিন্দু ধম সঙ্বটের সম্মুখীন হয় ইংরাজ- 
আগমনে | ইহার প্রতিক্রিয়া কি ভবে ভ।গতেতিহাসের পৃষ্ঠাকে গৌরবো- 
জ্বল করিয়া রাখিয়াছে, তাহ। দেখাইবার পুর্বে ভারতবাস। ও বিশেষত 
ব!ঙালীর ভাগ্যাকাশে যে অন্ধকার অমানিশা ও ঘোর ঢান্দিন ঘনাইয়া 
উঠিয়াছিল, অঞ্ট।দশ ও উনবিংশ শতাবীর ইতিহাস হইতে তাহার কিছু 
রেখা নির্দেশের এখ|নে প্রয়োজন আছে । 

পলাশীর যুদ্ধে বাঙালীর ভাগ্য বিপধ্যয় হওয়ার পর জাতির রাষ্ট্র ও সামা- 
জিক জাবনে একটা ঘন দ্ধধ্যোগ নামিয়া আসিয়াছিল | দেশীয় রাষ্ট্রের অবসান 
ও বিদেধ। শক্তির পুণ প্রতিষ্ঠার মাঝখানে যে অরাজকতা বিরাজ করিবে 
তাহা সহজেই অনুমেয় | ১৭৬৫ খ্রীষ্টাৰ হইতে ১৮৫৭ খ্রীষ্টাৰের সিপাহী" 
বিদ্রোছ পর্যস্থ ইষ্ট-ইপ্ডিয়৷ কোম্পানির আমলে বাংলাদেশে ও ভারতবর্ষের 
অন্যান্ত প্রদেশে পাশ্চাত্য প্রভাব বহুদিক দিয়া অনভুত হয়। ব|ংলাদেশ 
হইতে যেমন ইংরাঞ্জ রাজ্যের আরম্ভ বাংলাদেশেই তেমন পাশ্চাক্তা প্রভাবের 
স্থচনা। এই প্রভ।ব 'প্রপানতঃ হ্রীষ্টান পাত্রিদের ধ্মপ্রচারের ভিতর দিয়া 
উদ্জেবিত হর এবং রাজ জবকারের বছবিধ সংক্ক।র, শিক্ষব্যবন্থ! ও দেশ- 


হিন্দু বাঙ্গল|র ধ্ন্দেলন ২৯ 


শ1সন নিমিত সদগু&।নের হটিতয়ণার মধে) বিকাশ লাভ করে। 

শেষ পধন্ত দেখা যায় ফল কিন্তু ভালই ফলিফ়াছিল | « যুগ্রে হুতিহাসে 
তাহার প্রত্যক্ষ পরি-র প1ওয়া যায়। অষ্ট।দশ শতার্বার অন্ধকার শেষে 
যখন ভ।গতে এবং বিশেষ করিধা বাংলাদেশে ইংরাজ রাজ সরকারের 
সুপ্রভাত হইতেছিল তখন বাহগলার শারামপুর হইতে মিশন।রিদের খ্রীষ্টধ্ন 
প্রচার ও রাজকমাঁদের দেশীয় ভাষা শিক্ষার নিমিত ফোট উইলিয়াম কলেজ 
প্রতিষ্ঠার পশ্চাতে যে উদ্দেপ্তই থাবুক না কেন, বাংলা ভাষার পথ সেই 
কের। মাশমান প্রমুখ পার্রিদের ছ'রা প্রশস্ত হইয়াছিল এবং স।ধারণের মধ্যে 
বাইবেলের অনুবাদ প্রচার ও কলেজের বিবিধ শিক্ষা-বিষয়ক পুস্তকপ্রণয়নের 
ব্যপদেশে বাংলা গগ্ভের পথ যতই সুগম হউক না কেন; সেদিনই বিপুল 
অজ্ঞ জনসাধারণের মধ্যে শ্রীষ্টধর্ণের ঈীজও অন্নপ্রাবিষ্ট হইখাঁছিল | 

মিশনার।রা (বদনাপিষ্ট জনসাধারণের মধ্যে বাংল! বাইবেল পর৮ার 
করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, তাহাদের আথিক জ'বখনের উচ্চতির আশাসঞ্চার 
এবং অভাব-অনটন ও দৈব-ঢবিপাক সহায়) প্রদানও করিয়াছিলেন | 
হিন্দুসমাজের নিয়স্তরের লোকের! এমন বিরাট প্রনেভন হইতে তাই 
সেদিন আপনাদ্িগকে রক্ষা করিতে পারে নাই। একাদকে সমাজের নিম্ন" 
ওরের লোকদের এই অবস্থা এবং অন্তরকে মধ্যবিত্ত এ্রেণ্র মধ্যে রাষ্ট্রের 
পরিবত'ন ও তহার পুণ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যান্ত শিক্ষার অভাবজনিত অজ্ঞতা । 
এই জঙ্কট।পন্ধ অবস্থায় পড়িয়া সেদিনের বাঙালী তাহার ধরন ও সস্কতির 
প্রকৃষ্ট রূপ খুঁজিয়। না পাইয়া দিশাহার! হইয়া ফিরিয়াহে | সেদিনের সঙ্প- 
সংখ্যক সংস্কতজ্ঞ বাঙাল। পণ্ডিত পার্গবস্থীঁ মুসলিম সমাজের মৌলব দের মত 
ধ শাস্ত্রের খোলস লইয়া! তোলপাড় করিয়া ফিরিয়াছেন কিন্তু যুগ ও ভ্ঞাতির 
প্রয়োজন অনুযায়ী ধন ও শান্্রার্দি ব্যাখ্যা করিয়। যুগামৃত পরিবেশন করিতে 
পারেন নাই। 

এমন দিনে সন্্রান্ত র/মমে ভন বেদ, বেদান্ত, কোরআন ও বাইবেল 


৩০ সাহিত্য ও সংস্কাতি 


ছানি", বিভিন্ন ধের অমুতসার সংগ্রহ করিয়া, অপূর্ব বোধবুদ্ধি, মেধা "ও 
শক্তি সাভাষা যুগ ও গতির চেতনা জন্মাইবার জন্ চিরপরিচিত ধম-অঙ্গে 
অন্ত্রোপগার করিলেন | মধ্যবিহু সমাজের ধণান্বীতা ও নিয়শ্রেণীর বিদেশীয় 
ধর্মা$সরণের সুখে সহজ সরল, অনুষ্ঠান ও আংম্বরবজ্িত, অন্ুভূতিস।পেক্ষ 
ব্ঙ্গধমের একম্ববোছিতয়ম্‌ মাদ*! ভুলিফা ধরিলেন ) (যোডশ শতাবীতে 
বাঙলা দেশে এ॥ চতগ্সের ধথান্দোলনের পরে এতাবত কাল পর্য্যন্ত হিন্দধর্ম- 
স্বার্থ-সংরক্ষক আর কে'ন দ্বিত য় ন্যক্তির পরিচয় অবগ্ঠ পাওয়া যায় না! 
সেকাল হইতে এক।ল পধ্যন্ত দেশ ও জাতি যে অন্পুগ্ততা, কঠোর জাতি, 
কণ্টাহত্যা, বাল্যবিবাহ ও সত'দাঁহ প্রতি অনাচরমূলক বিপর্যয়ের সন্ুখীন 
হইয়াছিল তাহারই ফলে এ দেণায় হিন্দু ধ ও সমাজদাত ধমের নামে 
যত তাত!র আন্ট।ানিক পের মধ্যে বনথদিধ আবজ্জনার কৃষ্টি তইয়া- 
ছিল; র'মমোহনের সাধনায় তাহার সমাপন না হইলেও তিনিই যে এত- 
কাল পরে এবিষয়ে মগাননিদ্ধ হইখাচেন, বাডাল। তাহা বুঝিতে পারিল। 
র"মমোহুন ছ্রিলেন তর্কবাগীশ, সুগম চিস্থাশাল, বিচারবুদ্ধি ও বিবেকসম্পন্ন | 
তাহ। হইলে কি হয়? ভারউয় হিন্দু ধর্মে গভীর ভাব ও ভাবুকতা, তত, 
বুদ্ধিমত: ও চিন্তানালতার সমাবেশ থ।কিলেও তাহার নাহ আচার-অন্ুষ্ঠান 
মূলতঃ আবেগমূলক ! সেই আবেগ মন্তিদের নভে, জদয়ের প্রাধান্ত। তাই 
যুগে যুগে হিন্দু ধন অঙ্গে বদ্ধিদীপ্ত অংক্ক।রচিঙ্গ পরিষ্ষ'ট হইলেও শষ পত্য্ত 
তাহ। সাম এব শ্রোত-তরহের মত বিশাল বিশাল ভারত য় আচারমহাসমুদ্রের 
প্রভাবের অতলে মিলাইগা গিয়াছে | রমমোহনের বেলাতেই বা কেন 
তাহ।র ন্যন্চিক্রম হইবে? (বামমোভন ভিন্ন পর্ন সংস্কার করিয়া তাহার যে 
রূপ দান করিলেন, মূলতঃ বৃদ্ধিশাসিত এবং সাধারণ অন্য্গেয় ধর্ধ হইতে 
স্বতগ্নু বলিয়াই তাহা অধিকাংশ স্থলে অভিজাত ধন। ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের 
মণ্যেই আপদ্ধ রহিল | তীতার-_কি তাহার অন্ুচরদের- কাহ!রএ দেশের 
জননগাণর মধ্যে সে ধর্মপ্রচারের ব্যাপক প্রয়াস দেখা গেল না। সেই 


নন 


হিন্দ বাঙ্গলার ধর্মান্দো লন ৩১ 


জন্যই আনেগবঞ্জিত রামমোহন কর্তক প্রবহিত ধর্ধের বনু সংখ্যক অন্ু- 
করণকারী সংগৃহীত হওয়া! সন্বেও ধ£-অঙ্গে এই সংস্কার সফল হইল ন!। 
মহষি দেবেন্দ্রনাথের জদ্গত একান্ত অনুভূতি, ডেমমুলক জক্রিয় 'প্রচার এবং 
কেশবচন্দ্রের নববিধানের প্রবত'ন সব্তেও, দেখিতে পাই আঙ্ষি প্রচারকের 
মৃত্যুর পরে শতবর্ষ যাইতে না যাইতেই রাজ নতিক এবং ভন্যান্ত কারণে 
্রাহ্গধণ্ণ হিন্দ ধের বহু প্রচলিত রূপের মধে; কুলায়-প্রতাশী পাখীর মতই 
প্রতাবত'ন করিবার উপক্রম করিততছে ! কিন্ত কেশবচন্দ্রের নববিধানের 
আদর্শ, অর্থাৎ সর্বধ্মসমন্যয়ের প্রচেষ্টা, কখনও বিফল হইতে পারে না। 
বাঙাল! দেশে রামমে!হনের পরেও পাশ্চাত্য ধন '9 শিক্ষাস-দ্কৃতির বিপুল 
সমারোহ দেখা যার | বাউলার হিন্দ কলেজে শিক্ষাপ্রাঞ্থ ডিরোজিওর 
শিষ্যরা তাহাদের পিতৃ-পিতামহ্ব চির প্রচলিত ধর্ম ও শিক্ষা সংস্কৃতির বীধ 
ভাঙ্গিয়] উচ্ছৃঙ্খল ভইয়া উঠে 1) উনবিংশ শতাবীর গোড়ার দিকে ওধানতঃ 
নিস শ্রেণীর হিন্দুরাই খ্রীষটধর্্ম গ্রহণ করিরাছিল্ট অনেকটা না বুঝিয়া এবং 
অনেকটা! আধিক স্ুখসৌকর্য্যার্থে, কিন্ত উক্ত শতাবীর মধ্যভ।গে পাশ্চাত্য 
শিক্ষা ও সাহিত/পু্ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ইয়ং বেঙ্গল দলের অনেকে এবং 
তাহাদের আদর্শ অনুসরণ করিষা আবও অনেকে শ্রীষ্টঘম গ্রহণ করে। 
উল্ত শতাবীর হু-নাতে খ্রীষ্টান প!দ্রির' এবং রাজসরকার যে প্রচ্ছন্ন আশা 
লইয়া বাঙল! দেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ধর্মের ব'জ বপন করেন অনতিকাল 
মধ্) সেই বীজ বিরাট মহ।রুহে পরিণত হয় এবং বাঙালীর ধন ও সংস্ক- 
তিকে জয় করিবার জন্ত উন্ম,থ হইয়া উঠে] ইহাকেই কেহ কেহ বাঙালীর 
+০এ10015] ৫6৪, সংজ্ঞা দ্বিয়েছেন | জ।তীয় জ'বনে ইহার চেষে বড় 
পরাজয় যে আর কিছু হইতে পারে তাহা কখনও শোনা যায় নাই। সে 
কালের বাংলা সাহিত্যে বিশেষতঃ _মাইকেলের প্রহসনগুলিতে-__ইয়ং 
বেঙ্গল দলের উচ্ছঙ্ছলতার, বাঙাল,র খ্রীষ্টধ্ণ গ্হণ হইতে আরম্ভ করিয়! 
যাবতীয় পাশ্চাত্য শ্্রীতি ও পশ্চিমের অন্ধ অন্ুকরণের ব্যর্থ ও হাস্তকর 


৩২ সাহিত) ও সংস্কাতি 


প্রয়াসের পরিচয় যথাধথ ভাবে অহ্কিত রহিয়াছে । 

১৭৫৭ -সালেব পল।শীর যুদ্্ধর পরে হিন্দু সুসপমান নিবিশেষে স্বাধীন 
রাষ্ট্রহারা হয় এবং উভয় সম্প্রদায়ের জাতীয় জ'বনে ঘোর দুর্দিন ঘনাইয়া 
আমে । অতঃপর বিভিন্ন কারণে পাশ্চাত্য ধর্ম, শিক্ষা ও সভ্যতার অমুত্ত ও 
গরল একই সঙ্গে বাউল! দেশে বাঙাল। হিন্দদেরই সমগ্র উনবিংশ শতাব্দী 
ধরি! ভোগ করিতে হয়| বাঙাল, মুসলমান রাষ্রধিকার হইতে বঞ্চিত 
তইয়া-_িরস্তায়ী বন্দোবস্ত, নিক্ধর বাজেয়ান্ছি এবং ভন্ান্ত অনেক কারণে 
ইংরাজ বিরোধী গাবী আন্দোলন ঢ'লাইয়া, বিংশ শতবীর প্রথম 
দশকের পূর্ব পর্যন্থ ইংরাক্ত রাজত্ব ও তপ্রভাবের গরলই ভক্ষণ করিয়াছে । 
তাহাদের জ বনে সে গরল অমৃত হইয়া! দেখা! দয় নাই] তাই তাহারা 
'এদেশবাস। হইলেও জর্বস্ব ভারাইয়া শতাব,ব্যাপী বিভিন্ন আন্দোলনে 
অজ্ঞাতই রষিয়া গিয়াছে। (অষ্টাদশ শতাব্ধীর মধাভাগ হইতে উনবিংশ 
শতাঁকী।র মধ্যভাগ পর্যন্ত এই একশত বংদসরবাপী আবেগপ্রবণ বাঙালীর 
জাত,য় জীবনে যে ভর্গেগ, বিপদ ও বিপর্যায় ঘনাইয় উঠিয়াছিল তাহা কি 
কম? আদশত্রষ্ট বাঙালী! জাতি ইংরাজের এশ্বর্যোজ্জল সমারোহ ও প্রতি- 
পতির দাপটে, তাহার গৌরবদীপ্ত জীবনের আঘাত, অন্ধ অন্ুকরণের মোতে 
আপনিই যে ভাসিয়া যাইবে ইহা স্বতঃসিত্ধ | বাঙাল; জীবনের ইহা যে 
কত বড ভ্ভ|বননীয় লঙ্গাকর ব্যাপার. ভাবিলে স্তপ্তিত হইতে হৃদ | ইচা 
শুধু তাহাদের আগানিক না আচারঘটিত ধর্মঅঙ্গে গ্লানিই নহে, ধর্ন 
সংস্কৃতিতে ও জীবনে একাধা?র গনি ও দু্কৃতির পুষ্ধীভূত আবর্নারাশি | 

ছিতীয়বারের জন ইচাই বাংলার তথ' ভারতের হিন্দু ধর্মের সঙ্কটের 
সম্মুখীন হওয়া । প্রথমবারে বিপদ চিল তাহাদের ব্যাবহারিক জীবনে-ইস- 
লামের গণতাঙিক উন্নত আদর্শের, কিন্ত ্িতীয়বারের বিপদ জী।বনের বিভির় 
পর্যায়ে । ইসলামের প্রতিক্রিয়ার শঙ্কর চার্ধ] ও অন্তান্ত আচার্ধদের বেদান্ত 
দর্পনের ব্যাধ্যার বুদ্ধিীপ্ত পাণিত দিক ক্রমে ভায়ের টানে মধ্যযুগের রামা- 


হিন্দ বাঙলার ধর্মান্নালন ৩৩ 


নন্দ, কলর, নানক, জায়স। এবং দাছুপ্রম বহু সাধকের সাধনায় স্ব 
হইয়! উঠিয়ান্থিল। বাউলাদেশে যোডশ শতার্ধীতে শ্রীশ্তন্রের জ।বনে 
তাহা আরও শান্ত এবং সমাঙ্িত ভাবে দেখা দিয়াছিল | এবারের চিন্তা এবং 
বৃদ্ধির দিক রামমে'হনেই শেষ হইরাছিল। তাহার ধর্মসংস্কার ও অপূর্ব 
ব্যক্তিত্ব বাডাল,র সুপ্ত চেতনাকে নাড়া দিলে৪ আবেগ-প্রবস ও অশিক্ষিত 
জনগণের জন্চ তত! যুগোপযোগী হর ন!ই |  অধিকন্থ ত্ানত|র পরও পশ্চিমের 
নান|বিধ প্রভাবের জন্ত যগস২কট ক্রমেই ঘনীভূত হইয়|হে | (জীবন ও 
ধর্মে এত বড বিপদের অপাতে জজরিত ভইরা গীত -উপনিষদশাসিত 
সনাতন ভারতবধষের পণ্যাত্' ঈতন করিয়া! সচকিত হইয়া উঠয়াছে। এক 
র।মকৃষ্ণ পরম্তংস:*বের মধ্যে ভারতবর্ষের ব্ভিন্নযুগের বহু সাধকের বহু 
সাধনার ধার! পূর্ণ দেহ ও আত্ম লইয়া উচ্ছিত ইয়া উঠিরাচ্ছে | রামকৃষ্ণ 
লেখ।পচা জানতেন না। শ্রধুমাত্র যোগসাধনা ও গভ র অনুভূতির দ্বারা 
ভারতবধষের চিরকালের ষখার্থরূপকে আপনার জীবনে পরিশ্কট করিয়া- 
ছিলেন । ইহা যেন অনেকট। ব্যক্তি'নশ্ষর প্রতীক-রূপ অবলম্বন করিয়া 
ভারতের গীত-উপনিষধদ, বেদবেদাস্ত, যাগযজ্ঞ, ধর্ট ও সাধন”, কণ্ধ ও যজ্ঞের 
যুগের প্রয়োজনে পুর্ণবি গ্রতগ্রহণ | (তাই দেখি এক রামকৃষের আবিাবে 
ভারতের সকল কালের সকল সাধনা সনবিত হইয়া উঠিগাছে) রামুক্চের 
মধ্যে জ্ঞান ও প্রেম এই ছুই শক্তি মিলিত হইয়া যুগেব প্রয়োজনে ধুগামৃত 
বর্ষণ করিয়াছে | রামকৃষ্ণ তাই সেই যুগেব ব!ঙ!ল,দের মধ্যে বিভিন্ন মত 
দেখিয়া! চমকিত ও বিদ্বেষদুষ্ট হন নাই, অধিকন্ধ শ্নেহমধা জননীর মত তিনি 
সকলকে হৃদয়ে ট[নিয়া লইবার জন্ত প্রত্যেক মতের মধ্যেই সত্য সন্দশন 
করিয়াছেন। তিনি জানিতেন সত্য চিরদিনই এক কিন্তু সেই সত্যে 
পৌঁডিবার পথ বিভিন্ন হইতে পারে ।] এই উদার মনোরদিই সে যুগের 
সকলের কাছে তাহাকে প্রিরতর ও নিকটতর করিয়াছে এবং যে যাহার মত 
ভুলিয়া অন্তত ক্ষণেকের জন্যও সতোর মূর্ত বিগ্হ এই অনাড়গুর সন্মাসীর 


এ সাত) ও সুতি 


পতি সসন্থাম দুষ্ট তুলিষ! ধরিয়াছে । 

সে সৃগের আশ্রলষ্ট বিপথগামী। বিপুল বাঙালী: জনসাধারণের সঙ্গুখে 
(বদ উপন্নষদ্রে মৃতিমান বিগ্রহপে দণ্ডাধমান হইয়াছিলেন রামকু্চ | 
তাহার সাধন! ছিল অন্বসূর্গী এব" তিনি ছিলেন নিষ্কিধ্ | তীভার জীবনের 
গভির অন্রভূ্তি ত জার দ্বারা সাধ|রণের মন্ধা প্রশরিত হয় নই । দৈব- 
নির্দেশক্রমে সে অভাব প্রণ করিয়ানিলেন বিবেকানন্দ । সে যুগের 
পাশ্চাড্;শিক্ষ-পুষ্ট, আত্ম/ভিম'ন। বিল্পক|নন, ভাববি প্রত বামকু্চ চুম্ঘব 
আকুষ্ট হইয়! গতিশীল হইখা উঠিলেন | গুরু অপেক্ষা শিষোর প্রাধা 
ধঘটিল। 'গুরু ঈউলেন গ্ভিতি শিষ্া বিনেকানক গইলেন গতি_যেন একই 
সাধনার এপিঠ ? পিঠ 1 রামরুঞ্চজ,বনের অন্ভুর্তি বিবেকাননেশ 
সংক্রমিত হইয়া প্রান্যে £ প্রছচ্যে সমর ঝছার তুলিল | বৃহুশত বস” 
পরে ভাবন'য় সংপনার পার ভরত, ইউরোপ ও আমেরিকায় নুন করিয়! 
প্রচারিত হইল | রামকুষ্দের নিকট ভই/ত ণ্য গুরুভার বিবেকানন 
গ্রহণ করিয়াক্ছেন, নিভিয় দেশে বিবেকানন্দ তাভা নিঃশেষে বিলাইয়া দিয় 
ভারতনর্ষে প্রত্যাবত্ণ করিলেন। কিন্তু তখনও ত্াভীর মধ্যে (সেই 
গুরুভার-জনিত এক পুকার অন্যন্ত 9 অলৌকিক বেদন|র অনন্ুভূতপূর্ 
জাগরণ অগ্নিশিখারূপেই অহ্োরাত তার প্রাণকে দ ক্বিতৈছিল | তা 
তিনি ভারতের বাহিরে যান। শুধু বাণীকপেই উৎস|রিত করিয়া আসিলেন 
নাঙলাদেশে ত'হারই ধ্ননপ দিলেন শিনজ্ঞানে জীবসেনারা মন্ধ্য | তাহার 
অ!দশে ব্রা্ষণ, বৈগ্, শূদ্রে এবং হিন্টুমুসলমানে কোন ভেঙ্বাভেদ রহিল 
না; নিপীছিত জনগণের মধ্যে তিনি সেবাধর্ের মাহাজ্ম্য প্রচার করিলেন । 

জীবমাত্রই ভগবানের হষ্টি। প্রতিজঈবের মদপ্যেই যখন ভগব|ন 
বিরাঙ্ করিতেছেন তখন দেই জী'বকেই স্থার্থশৃন্ নিঙ্াম ভাবে ভালবাসিয় 
তার সেবা করিলে সেই সেবা শেষ পর্যন্ত ভগবানেই (পীছিবে। এই 
আদশে সার ছদয় ও মন উজ্জীবিত হইল। ঙ্ন্যাসী হইলেন (প্রমিক | 


হিন্টু বাঙলার পথ্ান্পোলন ৩৫ 


তাহার প্রেমে সমগ্র দেশ অবগাহন করিল | উচ্চন!চ ভেগাঁভেদ ন| করিয়' 
অস্পূঞ্ত|র ভুচ্ছতা! দূর করিরা, এ যুগে রামকৃষ্ণ-বিবকানন ধুগোপমোগী 
করিয| সেই বৈদিক আদর প্রচার করিলেন । [বিবেগনন্দের তান্থরিক প্রেম 
ও আাদণান্গভূতিতে যগ, জাতি ও দেশ এক|কাব হইয়া গেল । মানুষ" 
মাবুকেই বিবেকানন্দ এমন করিরা 'ভালবাসিতে পাপিয়ছিলেন বূলিখহি জে 
যগের বাঙালার সগ্ুখে গীতার অনাশক্ত, নিক্ষগীম প্রেম ও কম জীবগ্রীতিতে 
ও জী।(বসেবায় বপান্থরিত হইখাচিল। . নিবেকাধনদ ইভারই আখ্য। 
পএ||ছলেন--১6৫8768, 0110406106, 

হিন্দুণর্ধের পুনজীবনসংগ্তাপনে সে যুগে বফিমচন্দরের দান কম ছিল 
ন।। ভ'রহের সত্যদষ্ট! খষি, ধমপ্রবরর্কি ও লে।কশিগ্গক মহাপুরুষগণ 
সাধনার দ্ব'পা শ.গে যুগে শাখগত শত) উপপক্কি করিয়া যে বাণী ঘোষণা 
করিয়া গির/ছেন, বস্ধিমচজ্্রও মমরেপিযোগী করিরা সে যুগে হিন্মুধর্ণ, 
সাপন। ও সংসতির প্রতিনিধি হে উভার সাহিত্যের ভিতর দিধা গীত!র 
সেই অমোঘ বাণাই__ 

'সর্বভূতঙ্থমাস্্ান সর্বভূতানি চাত্মনি | 
ঈক্ষত্তে (যাগ্য,ক্তাঞ্জা সর্বত্র সমদশনঃ ॥' 

দেশবাস।র নিকট আচার করিয়াফ্কিলেন এব- য,্গের প্রয়োজনেই 
ব্রকষ্চের ব্যক্তত্ব ও বিত্রমাহাত্ম অঠ৬ব করিব!র ও করাইবার জগ্ঠ ধৃত 
ব্যাখ্যা ও ঞরুষ্ণ১রিত্র আলে]১ন। করিয়াছিলেন | তিনি ছিলেন আদর্শবাদী 
এবং রক্ষণশীল সমাজের প্রতিনিধিস্তানীয়। তর ধণ্নাম্পোশনের এভাব 
সেইদিন ££স ও নিয়শ্রেণী লোকদের অপেক্ষ। মধাবিত, শিক্ষিত « বশশীল 
সমাজের উপর এধিক পরিম!ণে পড়িযাহিল। 

হিন্দুধম স-্ক/রক ও ব্যাখ্যাতাপূপে ইহাদের সকলের শেষে আবিগরব 
হইয়াছিল রবীন্দ্রনাথের | তিনি এ্রা্দ হইলেও হিন্দু ধমে+ সংশতি-শক্তির 
উপর বিশ্বাস (ছল তাহার অপারসাম | 1116 15/56111210107 01 117018 


৩৬ স।হিত্য ও সংস্কৃতি 


₹1]] 0010)6 0177009]) (0500181 0002৮510010 006 099 ০01 
11000001519 16561117540 00১01) [0 06778015010 01 2009 01৭- 
০৩0 5001669 1,75 107717105১3] 0ত61510এ5 10056200170, 
॥) [07019, 8101081১38৭) এমন কথা বলিতে ও তাহাকে শে।ন। 
গিয়া্ছে। | তাই দেখা বার আব।ল্য উপ/নষধের ভাবপরিপুষ্ট রবীন্্রন।থের 
মধ্যে হিন্দুধর্মের আচ।রথটিত ব্যবহারক পপ অপেক্ষ। আধ্যাগ্থিক অনুভূতির 
প্রত গ্রীতি ও পুবণতার আধিক্য | মাঞুষের ব]ক্তিত্ববেধ ও জ।মাজিক 
জীবন সম্বন্ধে চেতনা জ।গাইবার এবং আহষ&মিক ধমের সংক্ক।র কারবার 
জন্ত ট্তিনি যতই কেন প্রয্ঝাস করুন না, আপ্যখিক ভারতের ৭ হিন্দুপদের 
পরাতকের ব।ণী তাহার সাধনায় ও অন্ভভূতিতে পুন ও গৃত হইয়া উঠিয়াছে। 
ত।হার নৈ'বেছ্ভ, গীতাঞ্জলি, গতালি, উৎস. খে এডতি ক।ব্যই এই 
উ।ক্তর যাথার্থ্য নিদ্ধীরণ করিবে | | 

উন।ব.। শতাব্দীতে ই্টরৈঞ ও পাশ্চাক্য প্রভাবের ঢজ্জর গ্রাতিখ।তে 
এদেশের জাতীয় জীবন “যে বে বিপর ও মোভমুদ্ধ হইয়।ছিল তাহ।রই 
গপ্রতিজিয়্ায় রামমোহন, র।মরুষ্ণ, কিবেকানন, বখিম ও রব শ্রনাথ প্রমুখ 
কয়েক জন ভবিষ্যদ্রষ্টা, মনাপ্রাণ বাঙাল।র সাধনায় শুধু হিপ্দুধণের আনু- 
ঠানিক পের নয়, অধিকন্তু তহ।র আধ্য।খ্িক ও আদি বৈদিক ভ।বের 
নবতর প্রচারের ভিতরে এদেশের লেক আম্মসম্িৎ ফিরিয়া পাইয়াছিল। 
ইহাকেই যুগসম্কটে সন'তন হিন্দুধের পুঝরুক্ষীবন বলা হইয়াছে ॥ উপরি 
উক্ত মনাধীদের আপ্রাণ চেষ্টায় ইহা সন্ভব হইয়াছিল বলিয়াই পশ্চিমের 
আলোকমুগ্ধ হওয়া সক্চেও শেষ পর্বন্থ বাঙাল।রা আপন ঘরে প্রত্যাবত্ন 
করিয়। দেশের অশেষ কল্যাণ সাধন করিয়াছিল । উনবিংশ শতাবীর 
দ্বিতীয়াদ্ধের এবং বিংশ এতাবী'র প্রথম পাদের বাংলা সাহিত্য ও ধর্ম 
সাধনার ইতিহাস তাহ।র সাক্ষ্য বহন করিতেছে । (৫রংশ শতকের প্রথম 
দ্বশকে রাষ্ত্রবিপ্রব ও স্বদেশী আন্দোলন উপলক্ষ্য করিয়া সমগ্র ভ।রতবর্ষব্যাপী 


হিন্দু বাঙলার ধর্মান্দোলন ৩৭ 


জাত।ষ জীবন্যজ্ঞে যে অনল লোল জিহ্ব৷ মেলিয়! উদ্চোতক্ষিপ্ত হইয়। 
উঠিয়াছিল, বাঙালীর সাধন।লন্ধ ধমণনুক্থ্যত জাত,য়তাই তাহাকে (সে যজ্ঞের 
মন্ত্রদাতা পুরোহিতের আসন দান করিয়াছিল |) পশ্চিমের প্রভ।ব তাহ।কে 
পূর্ব শতান্ঈ;তে যে ভাবে বিম্ময়াভিভূত করিয়াছিল তাহ।রই প্রতিক্রিয়ায় 
শতাবঁ ব্াাগী সাধনায় এদেশ শেষ পর্যস্ত ব।জ'নতিক ও অর্থ নৃতিক 
অ'ন্দোলনে, সমজসংক্ক'রে ও জাতারতাবোধে, শিল্নকল!র ও সাহিতে) 
দ্রুত উন্নতি লাভ করিয়াছিল | এই উন্নতির প্রত্যেকটির মূলে ছিল 
বাঙাল'র চেতনালন্ধ ধর্মবে'ধ এবং সেই ধমে'রই সমর্থন 1) র।মমোহন, 
রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, বহিম 'ও রবশ্রনাথ ছিলেন সেই সদ-বুদ্ধির ব্যাখ্যা- 
কার, ধারক ও বাহক ; কিন্তু আবেগপ্রবণ বাঙাল, চিরকাল হদকের যে 
দিকটায় অংকৃষ্ট হইয়া আসিরাঁছে বিবেকানন্দের আদর্শ ছিলেন দেই দিকের 
ভাববিগ্হ, যোগীবর রামকৃঞ্চ | বিবেকানন্দ তাহাকে সম্মুখে রাখিয়াই 
কম“ক্ষেত্রে অগ্রসর হইমাছ্ছিলেন ; সেইজন্/ জাতির সর্ব সাধারনের ঈ'বনে 
রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের পুভাবই হইয়াছিল সমধিক কার্যকর, |) 


কৃষ্ণনগর শতবাধিকি কলেজ ম্য!গজিন, 
১৯৪৮ | 


বাঙলা দেশে মুসলিম অধিকারের ঘুগ ও বাঙল! সাহিত্য 


ুষটায় বুয়োদশ শতাব্দ র (গাঁড়াতে বাউলা '*শে মুসলিম বিজয় হয়। 
হিন্দু সেন র।জাদেরই বাঙল|র মসনদ ।থকে বিই!ডিত করে মুসলমানেরা 
এ দেশের বাজা হয়ে বসে । নুসপিম রাষ্্রশক্তি এদেশে ওুবেশ করার দন 
পূর্ব থেকেই মুসলম।ন গুলি আল্লার এখ|নে ইসল|ম পর প্রচার করেছেন 9) 
বৌদ্ধ বিঃবের পর হিন্দু রাজ।রা ব1ঙগ (দশেও তখন এাশণ্য পমের পুনক- 
থান ও পুনঃ সংস্তাপনের স্ব দেখছিলেন । (বন্দু সমাজ ব্যবস্থা প্রাঙ্গণ, 
ক্ষত্রিয় বৈশ্য এদ্র প্রতি র্ণাশ্রম ধের ভদ্ভিপ উপর প্র।তঠিত থাকায় 
এদেশে মানে মাচযে অশেষ ভেদ নচিত হয়েছিল । সাংহ্বতিক জীবন 
রচনার ভার ছিপ ভ্রাগণদের হাতে, শপ জবনে প্রবেশ করার অধিকার এক 
ব্রাহ্মণ চাড়া ক'রুরই ছিলন। | (দশের জর্বসাধারণের সাংসৃতিক জীবন 
বলতে ত্টমন কিছুই দিলনা । বুহছর মানবতা এমনি ভাবে অবহেগিত 
হচ্ছিল। রাজভাষা ছিল সাস্কুত । রাজ।দের আম্মসছোষের জল) রাজভাষা 
সংস্গতেই ও তখনক।র দিনে সাঙ্ত) রচিত ভোত | জরদেবের গীত গোবিনই 
তার প্রমাণ | 

এদেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের ধন থেকে অপ্পুর্ণ বিপর'ত হওয়া 
সক্কেও ইসলামের গ'তিই আকৃষ্ট হয়েছিল | কারণ দেখেছিল মুসলমান 
হলেই মাষের সমান অপিকার ইসশ!ম স্বীকার করে নিচ্ছে । যে মন্দিরে 
সাধারণের প্রবেশ অধিক|র ছল ন। তারই পাশে মুসলমানের মণ্জিদে যে 
(কান অবন্তার মুসলম।নই সমান ভাবে দাড়িয়ে যাচ্ছে | রাজা, এপ্রজা, দাস 
ও প্রভুতে সেখানে কোন [বঙেদ নই | * বাদশ|হও ধস বিয়ে করছে, 
দ|সও বাদশাহ হচ্ছে | উপ।মনার পদ্ধতিতে ও সমাজ ব্যবস্টায় এদেশের 
মঠ সবটেয়ে ছিল অনহেণিত, ইসলাম গ্রচারকদের ও ধর্খাবলর্থীদের 


বাউলা (দেশে ম.সলিম অধিকারের য্‌গ ও বাউল! সাহিত্য ৩৯ 


সংস।র জ'বনে তাই মানবতার স্বীকুত্তির এ মনোমুগ্ধকর দপ দেখে এদেশের 
অগণিত জনসাধ।বণ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করছিল । /বৌদর1ও উপ- 
সনার পদ্ধতিতে এ*আশ্রম ধর্গে কিছুটা সমান অধিক স্বকার করেছে, সে 
জন্ট 'রান্মণা ধুর পনর” !নের যুপ্গ ভ'রত্তের নানা স্ত'ন থেকে উতপীছিত 
হার বাঙলা “দশে বভ স্খাক বে্ধ ধর্মানলত্ী আশ্রয় গহণ কদর 1 বাঙলার 
হিন্দ সেন রাজাদের আমদ্ল যখন রাঙ্গণ্য ধার্গব পনঃ ওুতিগা হত্তে যায় 
গন এদেশন বিপুল সংখাক (বীদ্ধ নানা! ভাবি নিহাতিত হয়| এমনি 
সমস্য মুসলমান সফি, দবনেশ ও আওলিধাব। এখানে ইসলাম প্রচার 
কলেন | 'গরই ফাল এদেশে তখনও ইসলামের অপ্িক সংখ্যক গুণগাউ' 
দেখা মাষ | ক্ষেন পর্বেই চির ভয়েছিল : ন্তাই মুসলিম রাশক্তি এদেশে 
শ'সকের বপ নিষে প্রবেশ করালে এপান থেকে তেমন বাধা পায়নি | সেন 
রাজারা মভজেই তাদের শাসন চেডে গেছে । আব দেশেব মুক্তিকামী 
জনস!পাবণ মুসলিম রাজশক্তিকে সাদরে বরণ ক্ব নিন্যচ্ছে | 

গুসলমান কর্তব বাঙলা দশ বিজঘই বাঙল। দেশের সংগ্কতি সাহিত্যের 
ক্ষিদ আশষ কলাণেৰ ভর | লৌদ্ধ আমাল এদেশের জন-সাধারণেব 
বাউলাতে কিছু দোভা বা গান রচিত্ত ভল্যন্িল | হিন্দ 'আমন্ল জনসাধারণ 
চিল অলভেণিত, তাদের ভাষাও গল অপাক্তেয় ৷ সাংস্কৃতিক ভা! তিসাবে 
তাব! সংস্ক,তেরই চর্চা করছিল | জাঁধাবণ মানুষের মুখের ভাষার কোন 
মর্ধাদাই ভিলনা | মুসলমানেরা এ”্দাশে রাজার রেশ ধার আসাব কিছুদিনের 
মধ্যেই এ”দশেব সাধ!রণ মান্তষের ভাষার দিপ্ক তারের নব পডলো' | 
মুসলমান শাসনকত'ণরা ইরাণ তুরাণ যেখানকারই (লাক [হ'কনা কেন 
এদেশে আসার পর, এদেশন্ক ভালবেসেছিলেন । এদেশের মান্তষকে “য 
শুধু শাসন কর'তি হবে তা নয় এদের মধ্যেই জীবন কাটাতে হবে এ বৃদ্ধিণ 
তাদের (সেদিন হরেছিল | তাই দেখে এদেশের সর্বসাধারণের চিতজয় করবার 
ঈশ্ত তাদেরই মুখের ভাষায় সািত্য গডে তুলবার প্রেরণ তারাই ফোগা- 


8০ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


লেন। মুসলম।ন শাসকদের অধিকার বিস্তৃতির যুগে খৃ টার ব্রযোদশ শতাব'র 
শেষের দিকে গৌড়ের স্বলত!ন নাসিরদীন মাহমুদ শাহের প্রেরণ! ও পৃষ্ঠ- 
পোবকতায় সর্বপ্রথম মহাভারতের বাউল। অন্ুব!দ হয়| ব্রাহ্ণ তথা উচ্চ 
বর্ণের হিন্কুর আচরণীয় দেব ভাষা থেকে মহ।ভারতের বিষয়বস্ত এমনি ভাবে 
সেদিন দেশের সর্বসাধারণের নাগালের মধ্যে এসে পড়ে | রক্ষণণাল ব্রান্ধণ- 
দের দিক থেকে এযে কতবর অভাবন য় ব্যপার আমরা আজ ত। হয়তে। 
তেমন ভাবে বুঝতে পারবোন। | কিন্তু ম.্‌সলিম শাসক পৃষ্ঠশৈষকতার- 
সেদিন বাঙলা ভাষাও সাহিত্যের পক্ষে এমনি এক মহাবিস্মঘকর বিপ্লব ই 
সংঘটিত হয়েছিল | তাই সেদিন রক্ষনগ্রাল ব্রাঙ্গণ সমাজ মহাভারতের অন্থু- 
বাদকারীদের “সর্বনেশে” নামে অভাঠত করেছিল। (রৌরব নরকেও 
তাদের স্থান হবেন! এমন ভাবেই তাদের অভিশাপ দিরেছিল। মুসলিম 
নরপতিদের কল্যাণে একদিকে “যমন বাঙলার সাধারণ অপিবাস দের ভাষার 
মুক্তি সংঘটিত হল, সে ভাষায় সাহিত্য রচনা করারও অধিক।র প্রতিষ্ঠিত 
হলঃ অন্যদিকে তেমনি সাহিতে)র বিষয়বস্ততেও এলে: পদ্বিতন | ১ এর 
পূর্বের বৌদ্ধ যুগের বাঙলা সাহিত্য ধর্নান্বইঁতি বিষয়ক সংগীতেরাই সমষ্টি 
আর হিন্দু যুগের সাহিত্য দেবশ্দেবীর মাভাত্ঘ্য র্পনার আত্তিশয্য,. মুসলমান 
আমলের গোড়াতে এ ছিসিধ বিপদঘুক্ত হণে সাধারণ মানুষের ভাষায় যে 
বাঙলা সাহিত্য হৃষ্টি হলো, তাতেই দেখি ম।মুষেরই চরিত্র-চিত্রন জনিত 
মহাকাব্যের স্ত্রপাত। মহা-ভারতে দেবত! আছে, আধা দেবতাও বহু 
আছে কিন্থ যুপিষ্ঠির, ভঃ্ম, অঞ্জন, কর্ণ, দ্রোণ, শকুনি, নকুল, সহদেব 
দ্রোপদী এরা সকলেই মানুষ । এ চরিত্রপ্তলোর ভিতরে চিরন্তন সুখ দুঃখ 
অভাব অভিযে।গ, কর্মনিষ্ঠা, জ।গ্রত বুদ্ধি, আর কুট নতিক চাল ইত্যাদি সব 
কিছুরই জন্ধ/ন পাওয়া যার সুতরাং অনুবাদ হলেও মুসলমান শাসকের পুষ্ট 
পোষক্তায় বাঙলা ভাষায় মহাভারতের প্রকাশ সাহিত্যেরই অনেকটা ধুগ 
পরিবতনের ইংগিত সুষ্পষ্ট করে তোলে । ৬ 


বাঙলা দেশে ম.সালম অধিকারের যুগ ও বাঙল! সাহিত্য ৪১ 


নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের প্রেরণায় সর্বপ্রথম মহাভারত ব্মহুদিত হয়| 
হোসেন শ/হের য.গের কবজ পরমেশ্বরের মহাভারত পাচাল।তে তার উল্লেখ 
আছে! কিন্তু তা ছাড়। এ সম্বন্ধে বিশেষ তথ্য আজও উদথাটিত হয়নি । 
তা ন| হোক, বাঙল! ভাবাদরদ। এ মহান্ুভব বাদশাহ ব|ংল] ভাষ: ও সাহি- 
তের মুজি,দিযেছিলেন। অ!জকের পরিবাতিত রা ব্যবস্থায় দেশ, জাতি 
ও ৬।যার ইতিহাস নতুন করে রচন| করার সময়ে তার এ অমর কাঁতি 
আমরা শ্রদ্ধ।র সংগে স্মরণ করি। 


এর পর গোঁড়ের নুপলম!ন স্থপতানেরা নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের 
প্রবাহিত পথে দেশা ভ!ষঃ ও আাহিতেঃর পৃষ্পোষকতা করলেও ব্যাপক 
ভাবে বাঙল: সাহিতত/র চি আরম্ত হয, আলাউদ্দিন হোসেন শাহের 
শামলে। হোসেন শাহ বাঙলার মসনদে অধিষ্ঠিত ছিলেন ১৪৯৩ থেকে 
১৫১৯ খৃষ্টাব্দ পর্বন্ত। পরাগল খা নামীয় তা”র এক সেনাপতির অধীনে 
খন চট্টগ্রাম শাসিত ভোত ! হোসেন শাহের মত তিনিও বাঙলা সাহি- 
ত্র ভক্ত ছিলেন ৷ কবীন্দ্র উপাধিধারী পরমেশ্বর দাস পরাগল থার 
আত্দপশ বাঙলায় আর্দ থেকে সী পর্ব পর্যন্ত মহ[ভারতের অন্রবাদ করেন । 
দেশের র।জা করন দেণয় সাহিত্যের পৃষ্ঠ পোষকত। আর চিরকালের 
অবতেংলত কব সমাজ রাজদরবারে পাচ্ছেন সমাদর, তখনকার দিনের 
বাঙল! কবিদের পক্ষে এ যে কত বড়ো সৌভাগ্যের ব্যাপার তা ভেবে 
কৰীন্দ্র পরমেশ্বর হোসেন শাহকে কলিকাপে কৃষ্চের অবতার বলে অভিহিত 
করেছেন । তাঁর কথাতেই আমরা পাই +__ 
ন্পতি হোসেন শাহ হয় মহামতি । 
পঞ্চম গৌড়েতে যার পরম সুখ্যাতি ॥ 
অন্ত্রেশস্থ্ে সুপ্ত মহিম! অপার । 
কলিকালে হবুসেন কৃষ্ণ অবতার ॥ 
হোসেন শাহ দেশী সাহিত্যের ভক্ত ও রীতিমত গুণগ্রাহী ছিলেন। 


৯২ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


মালাধর বন্থ তার গৌড়ের সিংহাসনারোহনের কিছুদিন পূর্বেই ভাগবতের 
অনুবাদ করেছিলেন | কিন্তু তিনি তার যথাযোগ্য সমাদর করে তকে 
গুণরাজ উপাধিতে ভূষিত করেন। শুধু অন্থবাদ সাহিত্য নয়, তখনকার 
দিনে মঙ্গলকাব্য রচনা! করারও রীতিমত রেওয়াজ ছিল, যিনি যে কোন 
সাহিত্য রচনা করুন না কেন, হোসেন শাহের বদান্তার ও পুটপোষকতার 
জন্ত তার নাম আপনাপন সাহিত্যে সমম্মানে উল্লেখ করতে ভুলতেন না। 

হোসেন শাহের কর্মচার। ৪ যশে'রাজ খানের রচিত একটি বৈষ্ণব 
কবিতায় এই ভাবে হোসেন শ|হের নম পাই £ পা 

শ্রীযুক্ত হসন, জগতভূষন সেহত্র হিরন জান। 
.. পঞ্চগৌড়েশ্বর, ভোগ পুরন্দর ভনে যশোরাজ খান | 

রাজশক্তির পুষ্ঠপোষকত: কোন সাহিত্যের ইতিভাঙে কতখানি তা যার 
গ্রামের পেরির্িসের ধুগ আর ইংলগ্ডের এলিজা বেখের ষ.গের সংগে পরিচিত 
অ:চ্ছেন তাদের কাছে নতুন করে বলতে হবেনা | (বাঙলা দেশে মুসলমান 
শাসনের প্রতিষ্ঠার ও বিস্তরের য.গে মুসলমান নবাব বাদশ!হদের সুস্থ রাজ- 
নতিক ও ধর্বুদ্ধি এদেশের জনস|ধারণের জন্ যেমন প্রতভৃত কল্যাণের 
রেছিল তেমনি জনসাখ|রণের ভাষায় রচিত বাঙল' সাহিত্যের নানাফিকে 
বৈপ্লবিক বিকাশ সম্ভবপর করে তুলেঠিল। ইংরেজ বিজয়ের কালেই যেমন 
উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দ র, একালের বাঙলা সাহিত্যের বিভিন্নমুখী বিকাশ 
দেখি, তেমনি মুসলমানদের দ্বারা এদেশ জয়ও মধ্য য্‌গে বাঙলা সাভিত্যেণ 
উন্মেষ ও অস্যুদনয়ের জন্য অশেষ কল্যাণের হয়ে আছে। তাদের যধ্যে 
বাঙলা সাহিত্যদরদী হোসেন শাহের স্থান সকলের উপবে। এই নরপতি 
বাঙুল' সাহিত্যের অগ্রগতির জন্য রাজপথ নির্ধান করে দিয়ে গেছেন । 
স্তরাং আয়াদের সাহিত্যের ইতিহাসে তাকে ইংলগ্ডের এলিজাবেথ কি 
গ্রাসের পেরি সের সংগে তুলনা করলেও কোন অন্তায় হয় না। 

আক্তকের ছিনে পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙল! সাহিত্যের ইতিহাস রচনা 


বাঙলা দেশে ম.সলিম অধিকারের ষ.গ ও বাঙল' সাহিত্য ৪৩ 


কর।র সমরে আল্ুন আমরা (সেই গুণগ্রাহ। নরপতি হোসেন শাহের কথা 
কৃতজ্ঞতার সংগে স্মরণ করি | * 


'সংহতি' ম.সলিম হল ম্যাগাজিন, 
১৯৫১ | 


পর | শপ আল সত জিনিস পপ শী শপ শপ 


* ১২-১-৫০ তারিখে ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এবং তাদের 
'অন্ুমতিক্রমে মুদ্রিত। 


কবি সৈরদ সুলতান 


বাঙলাদেশে যে সব মুসলমান কৰি বাঙলা সাহিত্যের সাধনা করেছেন 
ধতদূর জানা যায়, 1সয়দ মুলতত!নই তদের মধ্যে সর্বপ্রথম । বাঙলা 
সাহিত্যের মধ্যযুগে আমরা! বহু খ্যা'তনামা মুসলিম কবির সঙ্গে পরিচিত হই : 
ক|জী দৌলত, আলাওল, কোরেখা মাগন ঠ!কুর ও হায়াত মামুদ প্রমুখ 
কাঠিনীকার কবিরা সকলেই তার পরে এ সাহিতেঃর আসরে ওবেশ 
করেন। সৈয়দ সুলতানের সময় জ্ঞাপক একটি চরণ পাওয়া যায়-__“গ্রহ 
সত রসযোগে অব গোঙ্গাইলা”, এ থেকে তার কৰি কাত্বির কাল পঞ্চদশ 
শতাবঈ র শেবাদ্ধ কিংবা ষোড়শ শতাকীর প্রথমা ধরা হর | তি:ন বতগমান 
পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ।মের অন্তর্বতী পর|গলপুরের অধিব:সী৷ ছিলেন | 

সৈঃদ সুলতানের অনেকগুলি গ্রন্থ আবিষ্কত হারছে। নবীব-শ, 
শবে মেরেরাজ, হজরত মোহাম্মদ চরিত. ওফ,তে রন্থুল, ইব্রিছের কিচ্ডা, 
জ্ঞান চৌতিশা ও জ্ঞান প্রদপ এ কয়টির নাম উল্লেখযোগ্য | তার রচিত 
মূল কাবা সংখ্যা! ছিল তিনটি জ্ঞ'ন প্রদীপ, নবীবংশ ও শবে মেয়েবাজ, 
উদ্ধত ক।ব্যগুলো৷ এই কাব্যব্রয়েরই অংশ বিশেষ | 

নব/বংশ সংস্কত হরিবংশের "ও মহাভ'রতের মতই বিরাট গ্রগ্চ। মুসল- 
মানদের মধ্যে সাধারণ বিশ্ব ও ধারণামতে এক লাখ চবিবশ হাজার 
পয়গণ্ধরের কথা শোন যার! সংখ্যা গনণ!| ক'রে অতজন পর়গন্ধবের হাদিস 
অবপ্ত পাওয়া যাবে না) তখু নবাবংশ নামক গস্থে বু নবর কাহিনী 
বণিত হয়েছে । আরবী ও ফারস। থেকে সার সংগ হু করেই তিনি নবীবংশ 
রচনা করেছিলেন । বটতলারকলা|ণে নবীবংশ বা 'কাসাসে।ল আতিয়া 
বলে যে কেতাবটি পাওরা যায় পড়,ক বা না পড়ুক বছ মুসলমান তা 
আজও সযতে রক্ষা করে আসছে | এ গন্ছট অতীতে কি বতগ্নানেও যদি 


কৰি সৈরদ সুলতান ৪৫ 


কোন প্রতিষ্ঠান সুসম্পাদিত আকারে বের করতে। তা হলে ব'ঙাল। হিন্দু 
সমাজের মহাভারতের মতোই যে তা আমাদের সমাঞ্জে সমাগত ও পঠিত 
হয়ে আসতো তাতে কোন সন্দেহ নাই। কারণ প্রচলিত 'ক!সাসৌল 
আবদ্িয়া,তে কবির ভাষার স্বচ্ছতা, স্বাভ।[বক্ত্ব ও মনোহারিন; কবিত্ব সর্বত্র 
রক্ষিত হয়নি। তিনি স্থলেখক ছিলেন; ভাষা, অলঙ্বার জ্ঞান এবং 
পাণ্ডিত্য তার কম ছিল না| ইসলাম ধের বিষয়বন্ত ও নবী কাহিন। 
সম্বল ক'রে সাহিত্য রচনা করতে গেলে কল্পনার সাহায্যে কবিত্ব হৃষ্টির 
অবসর মিলে অল্প; তবু সেই স্বল্প পরিসর বিষ বস্তুর মধ্যে সৈয়দ সুলতান 
পৃর্ণমাত্রার কবিত্বের হুযোগ গহণ করেছেন | উদাহরণ স্ববপ এ পংক্তি- 
গুলো লক্ষ্যযোগা_ 
তপন পিরিতি মনে ভাবে অতি 
নলিনি বিকাশ ভেল। 
বিধির ঘটন না হেল দশন 
কালো মেঘে আচ্ছাদিল ॥ 
শবে মেয়েরাজ। 
'কংবা 
স্থমের গিরির আড়ে গেল দিবাকর 
দিশি বাই নিশি আইল অতি ঘোরতর ॥ 
আবার ' 
উুনহ পবন তুমি আমার বচন 
কহিও সোয়ামির পদে মোর নিবেদন ॥ 
সৈয়দ দুলতানের ভাষায় প্রাীনত্বের স্বাদ গন্ধ ও ছাপ পরিষ্ফউট অথচ 
সাবর্ললতা ও প্রাঞ্লতা আছে। | 
সেকালের শক্তিশালী কবিদের সকলেই কিছু না কিছু পদ রচনা 
করতেন। স্থতরাং তিনিও যুগ প্রভাব মুক্ত ছিলেন না। পদাবলা তার 


৪৬ সাহিত্য ও সংদ্তি 


কবি-_ প্রতিভার 'প্রধান কি একমাত্র বাহন নয় অথচ এই পরমার্থ বিষয়ক 
পদাবল।তেই তার আধ্যাত্তিক আকুলতা ও ভাষায় সঙ্গীতের সুর লালিত্য 
দেখি। 

তার সমসাময়িক কালে ত।র প্রতি মুসণমান সম।জের কিছু অবজ্ঞা 
থাকলেও পরবর্তীকালে তিনি সমাদর লাভ করেছিলেন । কবিকে ভবিষৎ 
বাণী করতে শুনি-_ 

“বঙ্গদেশে যথেক আছএ খুসলমান 
মোহে।র বচন সবে কর অবধান।”” 

তার ভবিষুৎ স্বধ্মীর৷ তর কাব্য র।তিমতে৷ প্রচার করেছিল; তার 
বৃহৎ কাব্যসমূহের বিশিষ্ট অংশগুলি পুর্ব বাংলার বিভিন্ন স্তান থেকে আজও 
পাওয়া যাচ্ছে। 

বঙলা-সাহিত্যের পৃষ্টপোষক-নরপতি হোসেন শাহের সেনাপতি পরাগল 
খা এবং তর পুত্র ছুটা খারের অগ্নপ্রেরণায় কৰান্দ্র পরমেশ্বর ও শ্রীকর নন্দী 
প্রমুখ কবিরা মহাভারতের বাঙল। অনুবাদ করেন। ষোড়শ শতকের 
প্রথমান্ধেই তাদের অগ্রবদ সম্পন্ন হয়। সৈরদ সুলতান এদেরই সম- 
সাময়িক। [ মুললমান নরপতির কিছুটা তাঁদের ধরনের শিক্ষায় এবং কতকটা। 
শাসনব্যবস্থায় রাজ”্নতিক চাল হিসাবে উদার নতিক মনোবৃত্তি থেকে হিন্দু 
কবিদের সাহায্যে সর্বসাধারণের ভাধ: বাঙলার এদেশেরই পুরাণেতিতাস 
রামায়ন মহাভারতের অন্তব,দ করিয়েছিলেন । মুসলীম আমীর ওমর!হ দের 
এবং তদানিস্তনকালের সন্ত্রান্ত মুসলিম পরিবারগুলোর চর্চার ভাষা ছিল 
ফারর্সী। সে যুগের আলেমওলামারাও আরব। ফারসীর সাহায্যে তার 
কাজ চালাতেন । দরবেশ ও অলি আল্লাদের চরিত্রগুণে ও অলৌকিকতায় 
মুদ্ধ হয়ে জাতিভেদ পীড়িত বাঙলা দেশের অসংখ্য লোক ইসলাম ধর 
গ্রহণ করে। তার! ম.সলমান হলেও তাদের মধ্যে অনেক অস্নসলা মিক 
আচার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। তাদের (বাধগম্য দেশীভাষায় ইসলামী 


কবি সৈয়দ স,.লতান ৪৭ 


স।মাজিক বিধান ও শরাহ শরী।য়তের বিধি নিষেধ তাদের সামনে তখনও 
কেউ তুলে ধরেনি | (বাঙল: তথা সেকালের ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য 
রামায়ণ মহাভ!রত ও ভাগনত ইত্যাদি গ্রস্ত সংক্ক ত থেকে বাঙলার অনুবাদ 
করতে (প্রেরণা ফুগিয়েছেন ম.সলমান নবাব বাদশার! | সেই হরে এদেশের 
হিন্দ জনসাধারণের আশা, আকাঙ্খা, তাদের আদর্শচরিত্র ও সমাজের 
আচরণীয় বিণ বিধান জনসাধারণের ভাষায় ব্যাপক ও বহুল প্রচলিত 
হলে! | 'প্রজ্তাস|ধারণের চিত্ব অমনিভাবে তারা! জয়লাভ করলেন। যে 
জনসাধারণ এতকাল হিন্দ সমাদজর উচ্চ বর্শের লোকদের জন্য শিক্ষা-ী।ক্ষায় 
ও আপন স্কুতি সদর যধ যথ ধারণা থেকে বঞ্চিত ছিল, ম্পলিম নর- 
পতিদের দুরহৃষ্টির জগ্তই £স সম্বন্ধে তাদের সম্যকজ্ঞান হলো ) এতে মনে 
মনে তারা ত'দের শাসকদের ঢহাত তুলে আশা করলা এবং তাদের 
আজ্ঞ।বহ ও অনবর্তীও হয়ে উঠল! | কিন্তু ধর্ধান্তর 'গুভণকারী বিপুল 
সংখ্যক ম.সলমানের কণ্ঠ দেশী ভাষায় ইসলাম কাহিনী রচন!র রাষ্ট্রগত কোন 
(প্ররণা তখনও দেখ' যায়নি । সৈয়দ স্থলতান একক প্রয়াসে সেই দিনে 
ইসল।মের আশ, পীর পয়গম্ধরদের মাজেজা ও অলৌকিকত্ব এবং ম.সল- 
নদের জীবন কাহিনী দেশী ভাষায় রচনা করে ক্বসাধ) সাধন করে 
গিয়েছিলেন । 


সয়দ সুলতানের দুরদু্ি ছিল। “স্তনি পীর ছিলেন-__ইসলাছের 
যথাযথ খাদেম ছিলেন । হাদিস আলোচনা করলে দেখা যায় আলেমরাই 
আগে বেহেস্তে যাবেন কিন্ত এলমের সদ্ধবহার না করলে কিংবা অপ- 
ব্যবহার করলে তাদেরই দ্োজখে (যতে হবে সকলের আগে। আলেয় 
যেখানে বসবাজ করছেন সেখানকার মানুষের কোন কল্যাণেই যদি তিনি 
শা আসেন তবে তার এলমের সার্থকতা রইলো কোথায়? ববি সুলতানের 
(স জ্ঞান ছিলঃ তাঁকে বলতে শুনি-_ 


৪৮ সাহিত্য ও সংস্কতি 


দেশেত আলিম থাকি যদি না জানাএ। 

সে আলিম নরকেত যাইব সর্বথাএ ॥ 

নর সবে পাপ কৈলে আলিমেরে ধরি | 

আল্লার সাক্ষাতে মরিবেস্ত দণ্ড বাড়ি ॥ 

তোম্যারা সবের মেলে মোর উতপন | 

তে কারণে কহি আন্গি শাস্ত্রের বচন ॥ 

আল্লায় বুলিব তোরা অ'লিম আচিলা। 

মন্ষো করিতে পাপ নিষেধ না কৈল! ॥ 

আছুক আপনা পাপ আলিমে খণ্ডাইন | 

_ পরের পাপের লাগি লাথব পাইব ॥ 

এক পিকে ইসলামের প্রতি আন্তরিকত৷ ৪ মমত: অজ্ঞ মুসালম জ্ঞন- 

সাধারণকে দ'ন ইসলামী শিক্ষা দিবার ও ম.সলিম তমন্দ,নের সঙ্গে পরিচিত 
কর।র জন্য আস্তর প্রেরণ' অ'র অন্তদিকে নিজের কতব) এ দায়িত্ব 
পালনে একাগ্রতা-_এই ঢই মহ প্রেরণার বশবর্তাঁ হয়ে বাউল' ভাষার 
ইসলামের সেবায় তিনি অগীভন। তখনকার দিনে তকে নিরৎসাহ 
কর।র মতা লোকের অভাব হয়নি । (কদ্বাস ও ক।শ'দ্াসকে বাঙলাম্ব 
রামাঞঝন মহাভারত অদ্দবদ্ছ করার জন্ত ব্রাঙ্গণেরা “সর্বনেশে আখ্য 
দিয়েছিল; রৌরব নরকে ও তাদের ঠাই হবেনা ব'লে তদের উপর বর্ষণ 
করেছিল অভিসম্পাত; তেমনি তথাকথিত আলেমর। এবং শারাপতি- 
দাব।দার গৌড় ম.সলমানরা বাংলায় ঈ.ন-ইসলামী। কথা রচনা করার জন্ 
সৈয়দ হ্বলতনকে “মোনাফেক' আখ্যা দিতেও কুঠিত হয়নি || কবি তাদের 
রুপা করেছেন, পৃথিবীতে যত অধিক ভাষায় নবী-চরিত রচিত হবে, 
(কোরান হ।দিসের মণ্নকথা ব্যাধ্য।ত হবে, ম.সলমানের সংখ্যা তত বাড়বে 
সে সম্বন্ধে য.ক্তি দিয়েছেন; সেই সঙ্গে বাঙলা দেশে জন্মগ্রহণ করে« 
ধার বাঙল! ভাষাকে সন্মান ও শ্রদ্ধ! করতে শেখেনি তাদের প্রতি ক্ষমাহীন 


কবি সৈয়দ স.লঘভান ৪৯ 


নিম উক্তি করেছেন । বাঙুল! ভাষার জন্য তার অপরিস ম প্রীতি ও প্রগাঢ় 
শ্নেহ উপচে পড়ছে । তার কাব্য থেকে যথেচ্ছভাবে আহত নিয়ের দৃষ্টান্ত 
গুলো আমাদের এ উক্তির সত্যতা প্রমাণ করবে_- 
কর্মদোষে বঙতে বাঙালী উৎপন | 
না বৃঝে বাঙালী সবে আরবী বচন ॥ 
আপনা দীনের বোল এক না বুঝিলা । 
পরস্তাব পাইয়৷ সব ভুলিয়া রহিলা ॥ 
(শবেমেয়েরাজ) 
সং সং সং 
যে সবে আপনা বোল না পারে বুঝিতে । 
পঞ্চালী রচিলুম করি আছএ দোষিতে ॥ 
মোনাফেক বলে মোরে কিতাবেতু পড়ি । 
কিতাবের কথা দিলুম হিন্দুয়ানী করি ॥ 
সং সং সং 
এতভাবি নবী বংশ পাচালী রচিলুম । 
আল্লা এক মনে ভাবি প্রচার করিলুম ॥ 
তে কারণে কত কথা পণ্ড বুদ্ধি নরে। 
কিতাব ভাঙ্গিলুম করি দোষএ আন্ারে ॥ 
(শবেমেয়েরাজ) 
সঃ সং সং 
আল্লায় কহিছে মোরে দেশৈর যে ভাব। 
সে দেশে সে ভাবে কৈলুম রছুল প্রকাঁশ | 
যতেক রমুল নবী পয়গন্থর হৈছে। 
উম্মতের যে ভাষ! সে ভায়ে হ্জিয়াছে ॥ 


সং সং সং 


৫০ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


কত দেশে কত ভাষে কোরাণের কথা ৷ 
দীন মোহামুদী বুঝি দেঅন্ত ব্যবস্থা ॥ 
রং সং 
যারে /যই ভাষে প্রভু করিল স্থজন। 
সেই ভাষ তাহার অমূল্য সেই ধন ॥ 
পাপী সবে পেলে ছিদ্রি আল্লার প্রচারি | 
চৈয়দ সোলতানে সব দিল ব্যক্ত করি ॥ 
কবির করনায় ঈতিচা্িক সত্য কিছুটা বিকৃত ও কিছুটা অতিরঞিত 
তয়; নববংশে ও শবেমেধেরাজে সৈয়দ সুলতান তার কবি প্রতিভার 
সুযোগ কিছু পরিমাণে নিয়েছিলেন | শরীয়াং পন্থী ও গৌডা সম্প্রদায় 
তাতেই- আল্লাহ 'ও রম্থলের অবমানন। (ছিদ্র) দেখে কবির্‌ প্রতি কষ্ট হয়| 
করব তার জওয়াবে বলেন-__ 
মতিমা "স আল্লার দিলুম প্রচারিয়া | 
মহিমার ছিদ্রি বে।লে মনে না ভাবিআ | 
পয়গন্ধর সবের মহিমা প্রচারিলুম | 
পাপমতি ইব্রিছের অযশ ঘোঁধিলুম ॥ 
সুতর।ং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের উপকার বৈ অপকার তিনি করেননি, 
তার সে সাস্বন! আছে; লোকে যেন তীকে হিতকারী বলেই মানে-__- 
তোন্দার সবের মোঞ্জি জান হিতকারি | 
ইমা ইসলামের কথ! দিলাম প্রচারি ॥ 
যেরূপে স্জন হৈল স্ুরাস.র গণ | 
যেরূপে কজন চৈল এ তিন ভুবন ॥ 
যেরূপে আদম হাওয়া সৃজন হইল | 
যেরূপে যথেক পয়গম্বর উপজিল ॥ 
বডেতে এসব কথ। কেহনা জানিল। 
নবীবংশ পাচালতে সকলে গুনিল ॥ 
(শবেমেয়েরাজ) 


কবি সৈরদ স.লত|ন ৫১ 


[শ্বজাতি ও ন্বধর্মী মানুষের ক্রোধভাজন হলে তার উতর এই ভাবে 
দেওয়া যায় কিন্তু “ভাষ।র” খোদা ও রুলের মহিমা! প্রচার করতে গিয়ে 
কিংবা তাদেরকে নিয়ে জাব্য হষ্টি করতে গিয়ে যদি তাদের কাছে অপরাধী 
হ'য়ে থাকেন তা হ'লে (তা সেখানে তিনি অসহায়; সেখানে তখন নিজের 
অন্তরকে যাচাই করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা তাই আমাদের 
কবিও সে অবস্থায় খোর্দার কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন-_ 

মোহোর মনের ভাব জানে করতারে। 
জথেক মনের কথা কহিমু কাহারে ॥ 
সৈয়দ সুলতান কালের দিক থেকেই যে শুধু প্রথম মুসলমান কবি ত। 
নন, বাউলা ভাষাতে স্থায়ীভাবে ইসলামের সেবা'রও সার্থক অগ্রণী তিনিই। 
একাল পর্যস্ত বাঙলায় ইসলামী আদর্শমূলক যিনি যা কিছু রচনা করেছেন 
পথিকৃৎ হিসাবে তিনিই সকলের পুণ্যেরও হকদ্দার হবেন ! 

প্রঞুদশ ও যোড়শ শতার্ধীতে ভারতবধে বিবদমান হিন্দু ও মুসলিম ও 
মুসলিম সংস্কৃতির নানাদিকে ও নানাভাবে সমন্বয় সাধিত হয়| ভারতবর্ষের 
বিভিন্ন প্রদেশে এ সময়ে বহু উদ্দার মত। বলম্বী মান্ুষেরও জম্ম হয়| বর্ণ 
শ্রমের ভিছিতে রচিত ভারতবধষের জাতীয় জীবনে ইসলামের সুস্থ, সহজ 
ও আকর্ষণীয় সমাজ-বুদ্ধি যে আলোড়ন তোলে তাতে বহু হিন্দু ধর্মাস্তর 
গ্রহণ ক'রে মুসলমান হ'য়ে যেতে থাকে ; ফলে একদিকে রক্ষণশীল উচ্চ- 
বর্ণের ছিন্দু সমাজ যেমন মুসলমানদের অবজ্ঞা করে অন্যদিকে তেমনি ইস- 
লামের এই সাংস্কৃতিক বিজয়ের হাত থেকে হিন্দু ভারতকে বাচানোর জন্যই 
এই শতাবী।গুলোতেই উদার পন্থী হিন্দুর জন্ম হয়। কবীর, নানক, দা, 
মীরা ও চৈতন্ট এ যুগের এই সংঘ।তেরই মহৎ সৃষ্টি (এ রা যেমন ইসলামের 
সার্বজনীন মানবতাকে বুঝতে চেয়েছেন তেমনি সেই ছুষ্টিভংগী থেকেই 
হিন্ুধ্মেরও শ্রেঠ অংশকে স।ধারণের সহজ বোধ্য করে হৃদয় দিয়েই পরিবে- 
শন করতে চেয়েছেন । ভাব ও সাংস্ক.তিক মিলনের এ সধু প্রয়াস শান্তর- 


৫২ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


গত ধর্মের রূপ কিছুটা বিকৃত যে হয়নি তা নর, তবু তার মধ্যেই সেকালে 
ঢুই বিভিন্নমুখী ধর্ম সমাজ জীবনের অদ্ভুত মিলনে বছু সঙ্কর স্থ্টি সন্সব 
ইয়েছে। | ভারতবর্ষে মুসলমানের তাসাতওফ ও হিন্দ,র যোগসাধনা পার- 
ম্পরিক প্রভাব স্ব।কার ক'রে নিরেই বেড়ে উঠেছে । তা ছাড়া সংগীতে 
শিল্পকলায়, স্থাপত্য, ভাস্কষে ও সাহিত্যেও এ সমণ্বয় কম দেখিনা । চৈতৃগ্ 
পরবর্তী বাঙলার বৈষ্গবসাহিত্যেও যে এমনি মিলন সাধনের প্ররামজাত 
ভাব রাজ্যের সৃষ্টি তাও স্বীকার করতে হয়| এপর্যাপ়ে ঘুসলমান কবির! 
বৈষ্ণবগান লিখেছেন তাও যেমন সত্য তেমনি ইসলামের সার্বজন।ন ভাতৃত্থ 
ও উদারবোধের দ্বারা হিন্দ, মানসেও পরিবতর্ন সুস্পষ্ট | রাধ।কুষ্জচ তো 
রূপক মাত্র। সেই রূপকের আবরণ ভেদ করতে পারলে দেখা যাবে পার- 
শ্তের র স্ফী . কবিদের মতো ভক্ত  বৈষণবেরাও প্রেমের পেয়ালা! হাতে করে 
খোদারই সান্িধ্য পাবার আশায় আপন মানসবনে অভিপার করে মরছে ) 
যে কালে এদেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে এ বৈঃৰিক রূপান্তর সাধিত হয়েছে; 
সৈরদ সুলতান সেকালেরই কবি। তার কাব্য জ্জান প্রদীপই” 'নৰীবংশ” 
ও 'শবে মেয়েরাজে” তাই এ ধরণের এক সমন্বয় সাধনের প্রবাস তিনি 
করেছেন। ব্রহ্ধা, বিষ মহেম্বর এনং শ্রীষ্ষঞ্চ প্রমূখ দেবতাদেরও যেমন 
তিনি নবা ব'লে স্বীকার করছেন, তেমন আমাদের লবীজ।র প্রতিও অব- 
তাত্বের আরোপ করতে চেয়েছেন । শরীয়ৎ-পন্থী ম.সলযানেরা এ কারণেই 
তার প্রতি হ্ষুধ হ'য়ে থাকবেন। স্বীকার করি তার দৃষ্টিভংগীতে ক্রি দ্বা্ধে 


তথাপি তিনিই যে ইসলামের মধ্নকথাকে বাগুল।ভাবায় প্রবান্িত করে দিয়ে 
সাধারণ মুসলমানকে স্বীয়, ধর্েু প্রতি আকৃষ্ট করেছিলেন আজ এতকাল 
পরে সে কথা স্মরণ করার সময় এসেছে। তার দুরদূশিতাঃ ইসলাম গ্রীতি 
এবং সমাজ ও স্বধর্মের সেবার জন তিনি বাঙলাভাষান্ভার্ী মুসলমানদের 
অশেষ শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র হরে থাকবেন |) 


মানে-নও, 
আবণ, ১৩৫৭ | 


কবিগুরু আলাওল 


আলাওল নামটাই যেন কি ধরণের ; মুসলমানের নাম হিপাবে তা 
শুদ্ধ কি অশুদ্ধ এ নিয়ে হয়ত অজ আমরা তর্ক করতে পারি কিন্তু এ নামটি 
মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্য আপনক।তির মহিমায় ভাস্কর হয়ে আছে; এ 
নামধারী ব্যক্তিটি ঘুসলমানের চির আদরের, চির গৌরবের পাত্র। (স 
সুগের বাঙলা সাহিত্যে ব্যক্তি স্বাতগ্ত্রেরে লক্ষণ ছিল না, সে জন্তেই খুব 
সম্ভব তখনকার লেখকেরা নিজে নম ধাম ও আত্মপরিচয় দিতে কুষ্ঠা বোধ 
করেছেন । তাদের রচিত সাহিত্য বেচে থাক, তাদের কথা কেউ জান্থক 
বা না জানুক সেদিকে তার খেয়!ল ছিল না। তা ছাড়া তখনকার দিনে 
আধুনিক যন্ত্র সভ্যতার ফল ছাপাখানা ইত্যাদি না থাকার জন্ট হাতের লেখা 
পুথি তেমনি থেকে যেত। একেতো আমাদের সযাত সেতে দেশ তাতে 
আবার উই আর ইঢরের উৎপাত । ফলে হাতের লেখা পথি প্রায় নষ্ট 
হয়ে যায়। বহু কষ্টে বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে পুরানো দিনের যে সব 
প.থির উদ্ধার হবেছে তাতে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাস নবঘটিত 
হলো | কিন্তু লেকালের সাহিত্যিক মনীষিদের জীবনী ও কবি কীঁতির 
কথা যখাবখভাকে নিষ্থারিত হওয়ার আজ আর কোন সন্তাবনাই নাই। 
তাদের রচনার মধ্য থেকে যতটুকু ছিটে ফোটা পরিচয় পাওয়া! যায় ত। 
নিজেই এ যুগের অনুসন্ধিংস্থ মনেরও সন্তুষ্ট থাকতে হয়। 

আমাদে+ আলে।চ্য কবি আলাওলের যথধ৫ নাম, তাঁর জীবংকাল, 
পিতৃপিস্তামহের পরিচন্ধ, তার জম্মতৃমি এ"সবই আজ অনুমানের বিষয়। 
তার কাব্যগুলো থেকে এ সব বিষয়ে যে ইংগিত পাওয়া যায় তা গিয়ে তার 
সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলেও, পরিপূর্ণ জ্ঞান আমাদের হয না। 

পঞ্ডিতেরা অনুমান করেন তার জম্ম ১৬০৭ খষ্টাবকে আর মৃত্যু ১৬৮০ 


৫৪ সাহিত) ও সংস্কৃতি 


তে। তিনি যে সপ্তদশ শতাবীর লোক তা অবগ্ঠ অবধারিত সত্য। 
তার জন্মস্থান ফরিদপুরের ফতেয়াবাদ পরগণায়, না চট্টগ্রামের জোবরা 
গ্রামে সে বিষয়ে তর্ক আছে। ফতেয়!বাদ পরগণ! বতমানে ফরিদপুর 
জেলার অন্তর্গত। কবির পিতা ফতেয়াব!দে শাসনকত' মজলিস কৃতুবের 
অমাত্য ছিলেন | 

কবির নিজের কথায় তার পরিচঞ্জ পাই-- 

মন্তলিস কুতুব এই রাজ্যের ঈশ্বর । +(ফতেঝাবাদের) 

তাহান অমাত্যনুত মুই সে পামর | (সয়ফল মুপলুক বদিউজ্জাম।ল) 

কিংবা 

রাজ্যেশ্বর মহারাজ কতুব-মহাশয় 
মুঞ্ি ক্ষুদ্রমতি তান অমাত্য তনয় ॥ 

এ থেকে প্রমাণিত হয় না যে তিনি ফতেয়াবাদেই জন্মগ্রহণ করেছেন । 
কবির কবর আছে চট্টগ্রামে এবং বংশধরেরাও চট্টগ্রামে বাস করছেন) 
ত| থেকেও অবশ্থ জোর করে বল! যায় না যে তিনি চট্রগ্রামেই জন্মগ্রহণ 
করেছিলেন | 

আলাওল যেখানেই জন্মগ্রহণ করুন না কেন তার প্রথম প্রকৃত পরিচয় 
পাই আরকান রাজ সভায় ! কবি ও কবিপিত৷ জলপথে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন । 
পথে পতুর্গীজ জলদন্থ্যদের দ্বারা আক্রান্ত হন। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে 
কবিপিতা শহীদ হন। ভাগ্য বিডদ্বিত হয়ে আলাওল চট্টগ্রামে না গিয়ে 
একেবারে আরাকান রোসাঙ্গ রাজদরবারে পৌছেন এবং সেখানে অশ্বারোহী 
সৈনিক নিযুক্ত হন) কিছুদিনের মধ্যে আপন পাগ্ডিত্য ও কবি প্রতিভার 
পরিচয় দির়ে রাজ অমাত্য মুসলমান মাগন ঠাকুরের শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র 
হয়ে ওঠেন | মাগন ঠাকুর নিজেই কবি ও গুণীলোক ছিলেন ; সুতরাং 
তিনি আলাওলের মতো গুণীব্যক্তির গুণের সমাদর করলেন। অবিমিশ্র 
সুখভোগ আলাওলের ভাগ্যে ঘটেনি ; নানা প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে সংগ্রাম 


কবিগ্তর আলাওল ৫৫. 


করে তাকে কাব্যসাধন! ও জীবনের পথে এগোতে হরেছে। 

আরাকানের রোসাঙ্গ রাজদরবারে তখন মগত্দর শাসন অথচ বাঙলার 
বাইরে সেধানে বাঙলা সাহিত্যের চর্চ। দেখে বিস্মিত হয়ে যাই। বৃহতরর 
বাঙলার অন্তর্গত বলেই হোক কিংবা বাঙউল!দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগস্থৃত্র 
থাক!র জন্তই স্বোক বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাসে রোসাঙ্গ রাজদরবারে স্থায়ী 
দান রয়ে গেছে। বাঙল' সাহিত্যে ধর্মনিরপেক্ষ কাহিনী কাব্যের স্থৃত্রপাত 
হয় এই রাজসভায়। কবি কাজি দৌলত, আলাওল ও মাগনঠাকুর বাঙল৷ 
কাব্য সাহিতে) এ শাখার ধুগ প্রবর্তক । 

(বাঙলা দেশে তখন মুসলিম শাসন চলছে | এ দেশের রাজভাষা 
ফারস। | শাসকের জাতির সাংস্ক'তিক ভাষ৷ ফারসী, আ'রবা এবং তার 
সমস্থৃত্রে উদ্দও | আরবী, ফারসী সাহিত্য বর্ণবহুল £০785710 গালগলের 
বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ | মুসলমান কবির! তাদের প্রেরণার উতস আরবী ফারসী 
ও উর্দু সাহিত্য থেকে অনুবাদ করে বাঙলা সাহিত্যে বৈচিজ্রের সমাবেশ 
করলন। এতদিনের ধশ্ননিঞর বাউলা সাহিত্যে নৃতন বিষয়বস্তর 
আমদানীতে মানুষের জীবনরস, তাক্চের ভাষনা কল্পনা, এবং মনঃজগতের 
দ্বিধাহীন অভিসারের রাজ্য উদঘাটিত হয়ে গেল। নব নব বিষয়বস্তর 
ভাবের আমদানীতে বাঙলা! সাহিত্যের দিগ দেশ প্লাবিত হয়ে উঠলো । 9 

বাঙল৷ সাহিত্যে এ নূতনত্বের আমদ্ানীর জন্য আলাওলের কৃতিত্ব তার 
যুগের কোন কবির চেয়ে কম নয়, বরং সমধিক | তিনি আরকানরাজ থডো 
মিস্তারের রাজ্যকালে খুব সম্ভব ১৬৫১ খুষ্টান্ধে পন্ম/বতী। কাব্য রচনা করেন। 
স.ফী কৰি মালিক মহম্মদ জৈসীর হিন্দী কাব্য “পছুমাবং এর ভাবাত্মক 
অনুবাদ আলাওলের পর়/বতী। সাধারণত অগ্বাদ বলতে আমরা যা বুঝি 
পদ্ম/ব্তী ঠিক ত| নয়। আলাওলের প্রতিভার ছাপ এ অন্ুবাদেও সং্পষ্ট। 
কাব্য সৌধ স্থির জন্য প্রয়োজনের তাগিদে যেমন তিনি মূলের বহু কিছু 
বর্জন করেছেন তেমনি তার অলোকসামান্ধ গ্রাতিভায় বহু কিছু সংযোজনও 


€$ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


করেছেন । অনুবাদ হওয়া সত্বেও তাতেই এ কাব্য হয়েছে রসোড়ীর্ণ | 
পঞ্লাবতী-আলাওলের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা, তার 778550016০6. এ থেকে মনে 
ইনু এ কাব্যই-ঙ্ার সর্বপ্রথম রচনা নয়, এর আগেও তিনি কাব্য চর্চ৷ করে 
হাত পাকিয়ে থাকবেন তাঁর নিজের উক্তি 'রচিলু পুস্তক বু নানা আলা 
ঝাঙ্গা, থেকে ধারণা করা অসঙ্গত নয় ষে তিনি পদ্মাবতী লিখবার পূর্বে 
(কিংব। তাঁর নামে প্রচলিত রচনা গুলো ছাড়াও) আরও.কোন কাব্য লিখে 
থাককেন ) সেগুলো হয়ত কালের কুক্ষীগত হয়েছে, আন আর সেগুলোর 
উদ্ধারেরও উপায় নাই | নইলে ও।র শ্রেষ্ঠ কাব্য পপ্লাবতীকে প্রথম রচন। 
বলে মেনে নিতে সাধ|রণ বুদ্ধিতে খটকা লাগে 

পল্ল/বত।র আধ্যান ভাগ প্রেম ধমীঁ। আ'লাউন্দীন খিলজ।র পদ্নিনী 
হরণ কাহিঙ্গী এর অঙ্গীভূত। তাই বলে এখানে ইতিহাসের সত্য সন্ধান 
কর! উচিত.হবে না; ইত্তিহাসের দুই. একটি নাম নিয়ে কবি বর্ণবন্থল 
গল্পের সাহায্যে মানব জী।বনের নানা রসের সন্ধান দিয়েছেন! বিবাহ, 
মিলন ও বিরহ, অভিযান ও অভিসার এই কাব্যের মধ্যরস স্ষ্টি কয্পেছে। 
মান্তষের হৃদয় রাজ্যের সংবাদ রসাত্মক বাক্যে আমর! তার এ কাব্যে ফখধষথ 
ভাবে পাই। কাব্যের বিষয় বন্ততে যে যুগে দেখ দেবীছের ছড়াছড়ি, সে 
যুগে আলাওলের কাব্যে মাুষের জীবন রহস্তের সংবাদে আমর! কম বিশ্মিত 
হই নাই। 

পল্পাবতরি আখ্যানভাগ এ রকম | চিতোর রাজ রত্বুসেন নাগমতীকে 
বিবাহ করেছেন ) সুখস্বচ্ছনে তাদের দিন ষাচ্ছে,. এমন সময় একদিন তিনি: 
এক শুকপাখী কিনলেন। শুকপাখীর মুখে সিংহল রা'জকন্া পদ্মা তীর. 
অভ্ভুবাণীরপগ্জণের কাহিণী শুনে তিমি মুদ্ধ হয়ে গেলেম 1. প্রেমিকা শ্ী 
নাগক্ন্তী, রাজ্য, রাজধানী, জীবনের লুধ সবকিছু বিসর্জন ছিয়ে- যোগ্ীঘেশে 
তিন্নি সিংহলের পথে বেরিয়ে পড়লেন; পথে অনেক চংখ কষ্ট” তাকে- 
সইজে-হলো | শেষ প্যন্তসংহলে পৌঁছে নানা অস্বাধ্য সাধন”করে তিল 


কবিগুরু আলাওল ৫৭ 


লাভ করলেন বাঞ্তিত পদ্মাবতীকে । শ্বজ্গর বাড়ীতে মহাস্থখে তার দিন 
কার্টতে লাগলো | 

এমন সময় এক পাখীর মুখে তাঁর পূর্ব স্ত্রী নাগমত'র মরনস্তদ বিরহ দ্ুঃখ- 
ঘশার কাহিনী স্জনতে পেয়ে রত্বসেন পগ্মাব্তীকে নিয়ে স্বাদশ যাত্রা কর- 
শেন । পথের হেখ এবারেও বাদ গেলনা । অবশেষে পল্লাবতীসহ স্বীয় 
রাজধার্ন;তে পৌঁছলেন | 

এবারে আর এক অঘটন ঘটলে ৷ রত্্রসেনের সভায় এক জ্ঞানবান 
ব্রাহ্মণ ছিলেন । একবার কে'ন কাজের ক্তন্ত বিরাগভাজন হলে রাজা! তাঁকে 
কার রাজ্য থেকে বের করে দেন | তাঁর যাবার সময় পঞ্মাবত, তাঁকে তাঁর 
একগাচ্চি ক্ষণ উপহার দেন | এই কম্কণই পর্াবতী'র কাল হয়ে ছাড়ায় । 

ব্রাঙ্গণ দিলী।তে গিয়ে বাদশাহকে সেই কঙ্কণথানা দেখিয়ে পদ্াবতীর রূপ 
ও গুণের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। আ'লাউদ্দীনকে রূপের (নেশা পেয়ে 
বসলো | তিনি দূত পাঠালেন টিতোরে. রতুসেনকে হুকুম ছিলেন পল্মাবতীকে 
দির্লীতে পাঠিয়ে দিতে | রত্বসেন ক্রোধে ও দ্বণায় এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান 
করলেন । (ক্রোধে বাদশাহ আল'উদ্দীনেব মেজাজ বিগড়ে গেল | তিনি 
চিতোর আক্রমণ করলেন | স্থদ্ঘ বার বছর ধরে যুদ্ধ চল্লো। অবশেষে 
রত্রসেন পরাজিত ও বন্দী হলেন । 

গোর! বাদল নামে ই ভক্ত অসুচরের কুট-কৌশলে রত্রসেন কারামুক্ত 
হলেন | রাজ্যে প্রত্যাবতন করে পন্লাবতীকে নিয়ে পরম স.খে দিন কাটাতে 
লাগলেন | এমন সমর দেবপাল নামে এক রাজার সঙ্গে রত্বুসেনের যুদ্ধ 
বাধলো। এই যুদ্ধে রত্বুসেন আহত হয়ে কিছুদিন পরে প্রাণত্যাগ করলেন । 
নাগমতী ও পদ্মাবতী ছুই রাণীই সহ্মৃতা'হলেন। এগ্দিকে আলাউদদী'ন আবার 
চিতোর আক্রমণ করলেন | নগরে প্রবেশ করেই দেখলেন যাঁর জন্ত উম্মত 
হয়ে এত লোকের প্রাণ সংহার করলেন তিনি আর ইহ জগতে নাই, তার 
চিতাধূম আকাশে উড়ছ্থে। চিতাধুমে সালাম জানিতে আল!উদ্গীন ভগ্ন মনে 


৫৮ সাহিত্য ও সংস্কতি 


দিল্লীর পথে ফিরে গেলেন । 

এ কাব্যে অদ্ভুত রূপকের সমাবেশ হয়েছে । আধখ্যানবস্তর অন্তরালে 
মহনীয় 'নৈতিক শিক্ষা প্রচ্ছন্ন রয়েছে । পর্পাবৃতী হুলেন চির সংন্দরের 
প্রতীক ; রত্ুসেন ও আলাউদ্টীন এরা সকলেই লোভ বা লালসার নামান্তর | 
স.ন্দরের আসন মনের পবিত্র মন্দিরে, লালসার মধ্যে সে সন্দর ধরা 
দেয়না । হাই রত্ুসেন সেই সং্দরকে ভোগের মধ্যদিয়ে পতে গিষে 
হারালেন, আর আলাউদ্দীন তার দ্বার প্রান্ত পর্যস্ত এসেই ভগ্ন মনোরথ হয়ে 
ফিরলেন । রেখে গেলেন সেই মহনীয় সন্দরের উদ্দেশে তার অন্তরের 
অবুঠ প্রণতি | জৈসী এবং আলাওল উভয়েই রঙ্গ'ন গল্পের সরতার অন্ত- 
রালে এ রূপককে রূপ দিয়েছেন । 

আলাওলের এ কব্যে নারীচরিবগুলে! বাঙালী নারীর স্নেহকোমলতায় 
ও দোবগুণের সমাবেশে এবং বাঙালী মনের রসসিঞ্চনে সৌন্দর্য স.শোভিত 
হয়েছে । পন্মাবত: সিংহল ছেড়ে যখন শ্বশুর বাড়ী চিতোর রওয়ানা হচ্ছেন 
তখনকার বর্ণনায় হিন্দু মুসলিম বাঙালী মেয়ের শ্বশুর বাড়। যাবার চিত্রই 
ফুটে উঠেছে। সখীদের গলাধরে পল্সাবতীকে ক্রননমুখর অবস্থায় বলতে 
শুনি-_ 

শুন প্রাণ সধী আমি চলি যাব যথা 
তথা গেলে পুনি ফিরি না আসিব এথা । 
যেই দিন লাগি সখী মনে ছিল ভীত 
সেই দন আসি আজি হৈল উপস্থিত | 
ঞঃ সঃ গং 
পরদেশী হৈল বলি দয়া না ছাড়িও 
অবণ্ত বারেক মোরে স্মরণ করিও । 
তুমি সব ভাগ্যবতী রহিল! স্বদেশে 
মোর মনে রহিলেক এ জনম র্লেশে। 


কবিগুরু আলাওল ৫৯ 


সং সং সঃ 
যেই কিছু ধিকাধিক বলিল যখনে 
ঢঃখিনীরে ক্ষমা কর ন। রাখিও মনে | 
তঃখিনী করিতে মনে হইল বিকল 
পদ্ম বতী কান্দনে কান্দেন সখীগণ। 
জ।বনের বাস্তব চিত্রের সাহায্যে এ হেন করুণ রসের সৃষ্টি সে ফুগে 
বিস্ময়কর । আলাওলের প্রতিভায় তাও সম্ভব হয়েছে | 
তাঁর দ্বিতীয় কাব্য সায়ুল মুলুক বদিউজ্জামাল রচিত হুয় অনুমানিক 
১৬৫৯ থুষ্টাবে ; প্রথমাধ”মাগন ঠাকুরের আদেশে £ দ্বিতীয়ার্ধ রাজ 'মমাত্য 
সৈয়দ মুসার আদেশে | আলাওল এ কাব্যের আখ্যান ভাগ সংগ্রহ করেছেন 
সম্ভবতঃ ১৬২৪ খ ষ্টা্ধে রচিত কবি গহবাছির এ নামের উর্ডপুস্তক থেকে । 
গহবাছী ফারসী আরব]-উপন্টাস থেকে এ গল্প উঠতে এনেছেন। 
সয়ফুল মুন্লুক বদিউজ্ঞামাল একখ।না প্রেমকাব্য | কবির নিজের কথায় 
''প্রেমের পুস্তক এই সয়ফূল মুন্লুক 1” এ কাব্যের নায়ক মানুষ, নায়িকা 
পরী। পর।কথাটা বদ দিয়ে রেখে মানব ম!নবীর প্রেম ও প্রণয়জনিত 
কাব্য হিসাবে ইহা সহজবোধ্য ও সখপাঠ্য। কাবের নায়ক মিশরের 
বাদশাহ সিফুয়ান পুত্র সয়ফুল মুলক পরীবালা বদ্দিউচ্জামালের চিত্র দেখে 
তাকে পাওয়ার জন্তে আত্মহারা ও হত্চতন্ হয়ে পড়েন । তার বন্ধুর কাছে 
বাদশাহ একথ। অবগত হয়ে পরীবালার সন্ধানে দেশে দেশে লোক পাঠা- 
লেন; রাজার কোন চেষ্টাই যখন সফল হলো ন।! তখন বদিউজ্জাম।ল তার 
প্রেমিক নাগরকে স্বপ্নে দেখা দিলেন । সায়ফুল ও তার বন্ধু পরীরাজ্যের 
উদ্গেস্তে অভিসার করলেন । পথে নান। অঘটন ঘটে । "শষ পর্বস্ত (প্রমের 
সাধনা ফুল হয়ে তাদের জীবনে ফুটে উঠে | সায়ফল পরীবাল! বদি- 
উজ্জামালকে আর তার বন্ধু মল্লিকাকে বিবাহ করেন । 
হগ্তুপয়কর আলাওলের আর একথান! রসরচনা। পারস্তের মহ।কৰি 


৬৪ সাহিত্য এ সংস্কৃতি ক 


নেজামী গঞ্জাবীর রচিত এ নামের কাব্যের ভাবানুবাদ, রচিত হয় ১৬৬০ 
খ্টাবে। ইহা সাতটি “পয়কর' বা গল্পের সমস্ঠি | হগুপয়করের আখ্যানভাগ 
এরূপ £- 

“আরব ও আজমের অধিপতি নোমানের পুত্র বাহর।ম এক জ্যোতিষীর 
উপদেশে ফ্যামান দেশে আপণ মঙ্গল কামনায় বাস করছিলেন; তার সাথী 
ছিলেন এক শিল্পা, তিনি এক গৃহের যধ্যে এক রঙ্গের একটি করিয়া সাতটি 
টঙ্গী তৈরী করেন। মুগায় আর বিলাসে রাজপুত্রের দিন কাটে | ওদিকে 
তার পিতা গেলেন মার!। পুত্র রাজ্যের বাহিরে এই স.যে।গে মন্ত্রী সমস্ত 
দখল করে রাজা হয়ে বসেন | রাজ্য জয় করে সাত রাজ্যের অনিন্দ সুন্দরী। 
সাত কন্তাকে তিনি বিবাহ করেন ও প্রত্যেককে এক একটি টঙ্গীতে 
রাখেন। এই সাতরাণী থেকেই হপ্ত পয়করের উত্ব। রাজার সাতরাণী 
সাত রাত্রিতে রাজাকে তাদের নিজ প্র/মাদে গর্পগুলি শেখায় ।” এ প্রসঙ্গে 
কবির এ উক্তি স্মরণীয়-_ 

আনন্দ উৎসবে (য দিন যে গৃহে যায় 
সবে পরে সেই বর্ণবাস ॥ 
নৃত্যগীতে অবশেষে গোৌয়।ইলা কেলিরসে 
শন সমধ ব।হরাম। 
কহে রাজকন্তা প্রতি শুন শুন গুণবত্তী। 
ক এক প্রসঙ্গ উপাম। 

এই মতে সপ্তরাতি সগ্তবিজ্ঞ কলাবততী 

কহিলেক সপ্ত হুও্ুসঙ্গ | 

এই পুস্তকের হ্ৃত্র শুন শুন সাধুপুত্র 

রসসিন্ধু অমিয় তরঙ্গ ॥ 

আল|ওলের চতুর্থকাব্য তে|হফ।, রচিত হয় ১৬৬৪ খ ুষ্টাবে | তোহুফায় 
ইসলাম ধন সঘন্ধে নান। তন্ুকথ। কবি তর সরস ল্খনীর সাহায্যে হদয়- 


কবিগুরু আলাওল ৬১ 


গ্রান্থী করে তুলেছেন। গ্রন্থধানিতে ধমত্তত্ধ সংক্রান্ত এবং মুসলিম 
জীবনে পালনীয় অনেক ইঙ্গিত রবেছে। ইহাও ফারসী কবি ইউন্ুফ 
গাদার চরিত এ নামী়ু পুস্তকের ভাবাছুবাদ | 

আলাওলের অপর গ্রন্থ 'সেকেন্দার নামা” কবি নেজামীর ফারসী 
সিকেন্দার নামা অবলম্বনে ১৬৭৬ খৃ্টাবে রচিত হয়! এই গ্রন্থে গ্রীক 
বীর আলেকজাগ্ারের দিগ্বিজয় কাহিণী ও করুণ পরিণাম দেখানো হয়েছে । 
ভাবান্রবাদ হলেও এ গ্রন্থে আলা €লের পাগ্তিত্য ও খন্ভীর জ্ঞানের সুস্পষ্ট 
পরিচর পাই। 

সম্ভবত তিনি আরও কিছু কাব্য পিখেছিলেন ৷ সে সবের নাম আমর! 
জানিনা । জানার সম্ভাবনাও নাই। কাক্যগ্রন্থগুলো ছাড়াও সে যুগের 
সাহিত্যিক রেওয়াজ অগ্গসারে তিনি বহু ইবঞ্জব খগুগীতি বা পদাবলী রচনা 
করেছিলেন। তার রচিত পদাবল। অধিকাংশই মধুর রলের | 

আলাওল আরবী, ফারসী, উদ বাঞ্চলা ও জংস্ক ভে নুপ্ডিত ছিলেন । 
এতগুলো ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন সে যুগে সহজ কথা নয়। তার রচিত 
গ্রন্থগুলোর মধ্যেই তার যথার্থ পাগ্ডিত্য এবং হিন্দুুললিম জীবন সম্বন্ধে 
ন্লগভ,র জ্ঞানের পরিচয় আছে। কবি জীরিক্া অক্রনের জন্তে রোসাঙ্গ 
রাজদরবারে নৈনিকের চাকুরী নিয়েছিলেন । 

বৃতি হিসাবে অসির ৮ করলেও প্রাণমনের ক্ষুধা মিটাতে এবং স্কট 
আবেগে তীকে জ্ঞান ও ভাবের রাজ্যে (প্রমষিকের মতো বিচরণ করতে 
দেখি। তার সাধনা আমাদের খুগের শিক্ষিত মুললমান সাহিত্যিকদের 
আদর্শ হওয়া উচিত | সাহিত্যিক জীবনের ছুল'ভ সাধনায় স্িলে ভিলে 
নিন্ধেকে নিঃশেষ রুরে দিয়ে £০৪:০$র জন্ট কবি অনস্ত মধুচক্র রচনা 
করে গেছেন | আমাছের কালের বিক্ঞোহী নজরুলের মতো৷ তিনিও সৈনিক 
করি। বাগজা সাহিত্যের ইতিহালে সেদিক থেকে আলাওলই প্রথম এই 
সম্মানের অধিকার 


৬২ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


আলাওলের কাব্যের আখ্যান বস্ততে মৌলিকতার অভাব আছে, 
(কমন সেকালের কোন কাব্যেই. আখ্যান বস্ত মৌলিক নয় কিন্তু ভাব- 
প্রকাশে, রূপ বর্ণনায়, ভাষা ও ছন্দ নিমানে' এবং অলঙ্কার নিরূপণে 
কবিবরের অপরূপ প্রতিভার ও অনুপম স্বক।য়তার ছাপ সুস্পষ্ট | তার রচিত 
একটি রূপের বর্ণনা এরূপ-_ 

সুন্দরী কামিনী কাম বিমোহে। 

খঞ্জন গগন নয়ন চাহে ॥ 

মদন ধনুক ভূরু বিভঙ্গে । 

অপাঙ্গ ইঙ্গিতে বান তরঙ্গে ॥ 

নাসা খগপতি নহে সমতুল। 

স্ুরঙ্গ অধর বীধুলি ফুল ॥ 

দশন মুকুত! বিজলী হ।সি। 

অমিয় বরিষে আধার নাশি ॥ 

উরজ কঠিন হেম কটোর 

হেরি মুনি মন বিভোর । 

হরিশ্হরিকুণ্ত কটিনিতন্ব | 

রাজহংস জিনি গতি বিলম্ব ॥ (পল্প।বতী) 
তার ছন্দ রচনায় দক্ষতার নমুনা-_ 

অনঙ্গ সঞ্চার অঙ্গে রঙ্গ ভঙ্গ সঙ্গে 

আমোদিত পদ্লপগন্ধ পগ্লিনীর অঙ্গে ॥ 

এ সব পড়লে তার ছন্দ নৈপুণ্যে বিন্ময়াবিষ্ট হতে হয়। ভাষা ও 
ছন্দের দিক থেকে বিচার করলে আলাওল শুধু মধ্যযুগের নন, সর্বকালের 
বাঙল! সাহিত্যে এক মহ।বিস্ময়কর প্রতিভা | 

ঢর্ভাগ্য এ দেশের যে এত বড় মহাকবিকেও তার শেষ জীবনে চরম 
দ্বারিদ্র ও ?ঃখের কষাঘাত সহ করতে হয়েছে ! তার কাব্যে তাই সেদিন 


কবিগুরু আলাওপল ৬৩ 


এমনি এক বুক ফাট৷ হাহাকার ধ্বনিত হয়েছিল । 
মন্দকৃতি ভিক্ষা বৃত্বি জীবন কর্কশ | 
পৃত্রহার| সঙ্গে অঙ্গ হৈল পরবশ ॥ 
এখানেই প্রশ্থ জাগে খোদা বাঙলার কবিদের উপরে একি অভিশাপ 
দিয়ে রেখেছেন? আলাওলের শেষ দিনগুলোর কথা ম্মরণ করলে বাঙলার 
মধুস্থদ্ন, হেমচন্দ্র আর নজরুলের কথা মনে পড়ে। 


ইমরোজ, 


মাঘ, ১৩৫৭। 


মানুষের প্রেম ও কবি আলাওল 


মুসলমানদের ঘরেই বাঙল! সাহিত্যের জন্ম, তার লালন পালন ও 
বদ্ধি। বাঙালী মুঙ্গলমানের অর্থাং এদেশের মাটার মানুষের সাহিত্য 
সাধনার একটা যে বিরাট ধারা ছিল ই শতাবী।র ব্যবধানে আমরা 
আমাদের সেই সাহিত্যের সঙ্গে আজ যোগবিচ্ছিন্ন! (নুতন আলোকে আমা- 
দের অতীত এঁতিহের মূল্য নিকপিত হওয়া উচিত এবং তার সঙ্গে যোগন্ুত্র 
স্কাপন করে ভবিযাং চলার পথ ট্তর; করার ক্ষমা স.সংবন্ধ পরিকল্পনাও 
রচিত হওয়া উচিত, কিন্ আজ পর্যন্ত অ।ম!দের তরফ থেকে তেমন কোন 
প্রয়াস হল ন'। মুসলিম গণমানসের ধারক ও বাহকরূপে যে বিরাট 
সাহিত্য আমাদের ছিল বুটিশ আমলের সাহিত্যিকদের কৃপাকটাক্ষে তা 
বটতলায় নির্বাসিত হয়ে গেছে | আধুনিক কালের হিন্দু সাহিত্যিক ও 
সমালোচকদের বদৌলতে মধ্যযুগের ষে বাঙালী কবিদের পরিচয় আমরা 
পাচ্ছি তার! অধিকাংশই হিন্দু । (সে ষ.গের হিন্দু সাহিত্য সাধকদের খেঁঁজ 
করতে গিয়ে যে সব ঘূসলমান কবির নাম তাদের চোখের সামনে পড়েছে 
তারা তাদের তালিকাভুক্ত করেছেন স্বাকার করি; ক্ষেত্র বিশেষে তাদের 
গুণ গ্রহণ ও করতে দেখি এমন কি মুসলমান নবাব বাদশাহ, আমীর 
ওমরাহদের ব'ঙলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার ব্যাপার নিয়ে তাদের সকৃতজ্ঞ 
প্রশংসাও করতে শুনি কিন্ত যে অন্ুসন্ধিংসা ও গবেষণামূলক দৃষ্টি ভঙ্গীর 
সাহাযে। তাদের প্রাচীন গৌরবজনক কীতি কথা উদ্ধার করে বাঙালী হিন্দু 
উনবিংশ শতাব্দীর বাঙলাদেশে তার জাতীয়তাবাদের তত্ব দাড় করাতে 
চেয়েছেন, তার অবচেতন মনে তা*ই তাকে (প্ররণা দিয়েছে মুসলিম 
গৌরবগাথার কথা পারত পক্ষে,চেপে যেতে | সুসলমানেরাও উক্ত সময়ে 
শিক্ষ! দীক্ষা এবং সাহিত্যিক রস ও রুচিবোধের অদ্ভাবে গবেষণার পথে 


মানুষের প্রেম ও কবি আলাওল ৬৫ 


এগোতে চাননি । এ কারণে মধ্যযগের বাঙাঁলী সাহিত্যিকদের সন্বন্থে। 
আমরা যা কিছু জানি তা প্রধানতঃ হিন্দুদের কাছ থেকেই | তাঁরাই আমা- 
দের জানালেন আলাওল নামে একজন বড় কবি ছিলেন। অবনত একথা 
সত্য যে অধুনা আব্দ,ল করিম সাহিত্য বিশারদ ও ডরর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
প্রমুখ কয়েকজন বাউলা সাহিত্য দরদী মুসলিম মনিষী কবি আলওল সন্ধে 
অনেক মূল্যবান তথ্য পরিবেশন করেছেন । কিন্তু তার সমগ্র কৰি কীর্তির 
যথাষধ সমালোচনা ও মূল্য নিরূপণ এখনও হলো না। 

আলাওল সপ্তদশ শতাব।র দ্বিতীয়ার্দে আরাকান রাজ স্ভায় বাঙলার 
চর্চা করেছিলেন । আরাকান তখন বৃহত্তর বাঙলা দেশেরই অংশ। এ 
দেশেও সাহিত্যের তখন মধ্যযগ | (সেকালের হিন্দু গণমনস রাজ?নতিক 
পরাজয় বরণ করে সেখান থেকে মুক্তির জন্যই হোক কিংবা তার শক্তির 
উদ্বোধন করার জন্যই হোক শক্কিশালী লৌকিক দেবতাদের পুজা অর্চনাই 
করেছে । তখনকার ছিনের বাঙল৷ সাহিত্যে তাই দেখি স্বেচ্ছাচারী দ্বব- 
দেবীদের প্রাধান্ত, রাধা-কৃষ্ণের লীলা বর্ণনার মধ্যদিয়ে আত্মনিবেদন ও 
আত্মরতির কাহিণী। হিন্দু কবিদের রচিত সাহিত্যে কল্পনা ও ভাবনা চিন্তার 
দৈন্ দেখি আর দেখি ধর্মাধনের চর্চা করে নিতান্ত অবান্তবতার ভেতর দিয়ে 
বাঙালীকে জীবন কাটাতে । যার! যুগকে স্বকার করেও যুগ।তাত মহিমা- 
ভিবিক্ত হন কবি বা! অষ্টা হিসেবে শিল্প জগতে তারা নিশ্চয় বড়। আলাওল 
যুগের প্রভাব অস্বীকার করলেন না। মুসলমানরা ততদিনে পারসী কাবোর 
সাধনার ভেতর দিয়ে বাঙল৷ সাহিত্যে কাহিনী বা গাথা রচনার স্ৃত্রপাত 
করেন। পরীর কাহিন, আপেল রাঙ্গা ঠেট ও গোলাপী গালের উপর 
ক্লটলো তিলের খবর এ দেশের মাটিতে ছড়িয়ে তারা এ দ্বেশের মনকেও 
উতলা করে দিলেন। আলাওল দেশের রুচির সঙ্গে ধাপ খাইয়ে কাব্য চর্চা 
করতে গিয়ে তুর কাব্যের কাঠামো হিসেবে হিন্দু ও মুসলিম সাধনার বাই- 
স্রের দিকটাকে বাদ দিতে পারলেন না| পরাবতী নাম দিয়ে মালিক মুত্মর 


৬৬ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


'জৈসীর পড্তসাবং কাব্যের তিনি অনুবাদ করিলেন, দৌলত কাজীর লোর- 
চন্দ্রানীর অবশিষ্টাংশ রচনা করে দ্িলেন। তাঁর হাতে পারসী কাব্যের 
সুখপাঠ্য কাহিনী সাইফুল মুল্লুক বদি-উজ্জামাল বাঙলারূপ ধারন করলো, 
তিনি রচন! করলেন সপ্তপয়কর ও ইদ্‌্কানদারনামা! পরিচিত পথেই প্রায় 
দীর্ঘ চল্লিশ বংসরব্যাপী তাঁকে সাহিত্য সাধক শিল্পীর জীবন যাপন করতে 
দেখি অথচ ভাবলে বিস্রিত হয়ে যাই মধ্যযুগের বৈচিত্রহীন গতান্গগতিকতার 
মধ্যে মানুষের জীবন রহস্য সম্বন্ধে কাল ও যুগজয্নী এত গভ.র চিরস্তন সত্যের 
সন্ধান তিনি পেলেন কোথা থেকে ? 

সে য.গের সাহিত্যে দেখছি মান্তষ নেই আছে শুধু ধরন ও দেবতার 
কাহিনী কিন্তু তিনি ধর্মাবেগ গ্রাবিত দেশে মানৰ জীবনের জন্মমূত্যু সুখ ছঃখ 
বিবাহাদি উত্সব ও মিলন বিরহ জনিত আনন্দ বেদনার কথা অসাধারণ 
কবি দৃষ্টিতে তার কাব্যে ধরে দিযে গেছেন | হতে পারে ষ্‌গ প্রভাবের 
বশে বাহতঃ তিনি নিজের দেশের বর্ণনা করছেন না কিন্ত মিলন বিরহের যে 
ছবি তিনি ফোটাচ্ছেন তা যে সম্পূর্ণ বাঙউলাদেশ থেকেই সংগ্রহ করেছেন 
একথা অস্বীকার করার যো নেই । তার শ্রেষ্ঠ কাব্য পন্লাবতীীতে দেখতে 
পাই রত্বসেন পন্মাবত.কে বিবাহ করে সন্ত্রক তার নিজের দেশ চিতোর 
প্রত্যাবত'ন করছেন । সিংহল রাজকন্তা৷ পন্স।বতী কোন দিন স্বদেশ, স্ীয় 
পরিবেশ, আত্মীয় স্বজন ও সখীদের ছেড়ে কোথাও পা বাড়নি নি; স্বামী 
সঙ্গে এই তার 'প্রথম বিদেশ যাত্রা । বিবাহ নার। জীবনের ধর্ধ। মনোমতো 
বিবাহে এবং বিবাহের পর স্বামী গৃহ গমনে নারী মন ভেতরে ভেতরে নেচে 
উঠে না সুস্থ নারী জীবনে এমন দেখা যায় না; তবু বিবাহের পর পরই 
বাবার বাড়ীর অতি পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে শ্বশুরবাড়ী যাবার সঙগন্ব 
অনিশ্চিত আশঙ্কার মেয়েদের প্রাণ কেঁপে উঠে, এমন কি মা বোন এবং 
স্থীরা মিলে তাকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে নিজেরাও অশ্রু সংবরণ করতে 
পারেন না| বাঙল' দেশের এতো নিত্য কালের ছবি ! পুর্ব বাঙলার কৰি 


মানুষের প্রেম ও কবি আলা ওল ৬৭ 


আলাওল সিংহল। পল্মাবতীকে পতিসঙ্গে চিতোরে শ্বশুরালয়ে পাঠাতে গিয়ে 
নিজেও কেঁদেছেন, আঙ্ম।র স্বজন ও মঙ্গলাকাজ্জী সকলের চোখেই অশ্রুর 
বন্যা বইয়েছেন £- 
গমনের কাল যদি নিকট হইল 
পন্মাবতী৷ সব সখীগণ আনাইল 
কন্তা ঘরে সিংহলের রমণী আসিয়। 
কাদিতে লাগিল সব শোকাকুলী হৈয়া। 
" একে একে গলা ধরে কান্দে বরবাল। 
সকল ছাড়িয়া! আমি যাইব একেলা । 
রং ১ সং 
ছাড়িয়৷ নাইয়র ঘর বান্ধব সমাজ 
একসরী হইয়া চলিলে। ভিন্নরাজ | 
তোমর! সবেরে কোনমতে পাসরিব 
স্মরণ হইলে মনে জলিয়। মরিব। 
সা সং ১ 
(যেই দিন ল!গিয়্! সখী মনে ছিল ভ'ত 
সেই দিন আসি আজি হৈল উপস্থিত 
সং সু সং 
পরদেশী হৈল বলি দয়া ন! ছাড়িও 
'অবশ্ঠ বারেক মোরে স্মরণ করিও । 
ঠা সং সং 
তুমি সব ভাগ্যবত। রহিলা স্বদেশে 
মোর মনে রহিলেক এজনম ক্লেশ। 
আশীর্বাদ আমারে করিও একমনে 
সদ্দত পীরিতি যেন থাকে শ্বামী সনে | 


৬৮ সাহিত) ও সংস্কৃতি 


যেই কিছু ধিকাধিক বলিল যখনে 
দখন।রে ক্ষমা কর না রাখিও মলে । 
এ থেকে সহজেই বোঝা য।ঝ কত বড সমবেদনবীল হদর দিয়ে কবি 
এ করুণ দূত একেছেন। জীবনমুখী এ বাস্তব দুষ্টি মধ্য যগের বাঙল৷ কাব্য 
আল;ওলের অ৷গে কি পরে আর দেখি না। 

( শ$যের জন্ত কাহিন। রচনা করতে গিয়ে মানব জীবনের বুহতম বৃত্তি 
ডেমকে আলাওল তর কাব) থেকে বাধ দিতে পারেন নি) এমন অনেক 
রক্ষণণীল ম[নুষ অ.ছেন ধারা (ভত্তরে ভতরে প্রেমের প্রভাব স্বীকার করে 
ও প্রেমঘটিত আলাপ আলোচনায় 'রস কথা গুনিতে বিরস হ'য়ে যান, 
আলাওল তাদের কথা ভাবেন নি। তিনি ছিলেন অসাধারণ (প্রমিক ও 
রসিক কৰি । এ আমরা বুঝতে পার তার ক।ব্য থেকে; কারণ এতো 
জান! কথা “কাবরে পাইবে কবির জ।বন বাণীতে ।” তার শ্রে& প্রেম গাথা 
স্থন্ধে তার নিজের উীক্ত ১ 

“প্রেমের পুস্তক এই সরফুল ঘুন্তুক 
নানা অপরূপ কথ। বিধির (কাতুক। 
সং সং সং 
কিংবা প্রেম বিনে ভাব নাহি ভব বিনে রস 
ত্রিভুবনে যত দেখ (প্রেম হস্তে বশ। 
সায়ফল মুগ্তুক মিশ্র (সম্ভবতঃ) মিশর দেশের বাদশাহ শাহা সিফুয়ানের 
ছেলে। সৌভাগ্যক্রমে ইরম বোস্তানের পরারাজা শাহাপালের মেয়ের 
রূপ সে দেখে ছবিতে । প্রেমের গতি ও প্রভাব অনিবাধ; প্রেমেতে 
মজিলে মন মানুষ আর পরীতেই বা কি পার্থক্য। সুতরাং চিত্র পটে তক! 
ললিত মধুর রূপলাবণ্য দেখে সায়যূল মুন্তুক মোহ গেল। কিন্তু কোথায় 
পাওয়! যায় সে কন্তাকে ? সেষে তার ম।নস সরোবরের অগম্য তীরে বাস 
করছে? রাজপুরর অভিযান করলোঃ মানসিক অভিসার নয়; শারীরিক 


মান্গষের প্রেম ও কবি আলাওল ৬৯ 


অভিযান | কত নদ-নদী, নগর গ্রাম, বন উপবন, পাহাড় পর্বত 
ডিডিয়ে, সঙ্গের সার্থী (লাকলঙ্কর ; বন্ধ বান্ধবদের হারিঝে কত বিপদ 
বরণ করে, রাজপুত্র উপস্থিত হলো কুলস্থম পরার দেশে--অজানা এক 
সাগর দ্বীপে | দেখানে দেখলো সরন্দপে সামন্ত-কন্তা মল্লিকা কুলন্ম 
পরার ছেলের হাতে বনিনী। কুলস্থম পরীর ছেলেকে মেরে সে মল্লিকাকে 
উদ্ধার করলে! আর তার কাছ থেকে সংবাদ পেলে! তার মানসী-গ্রতিম' 
বছদিউজ্জামালের | মল্লিকাদের বাড়ীতে ঘটনাচক্রে বদিউজ্জামালের আস 
যাওয়া হয়। একথা শুনে বন্থ কষ্ট সয়ে অবশেষে সয়ফুল মুন্ুক মল্লিকাকে 
সঙ্গে নিরে সরন্দ্বীপে এসে উঠলো । ক'দিন পর বদিউজ্জামাল মল্লিকাদের 
বাড়ীতে এলো | মল্লিকা নিভৃতে বদিউজ্জামালকে ডেকে নিষ্জে তার রূপের 
পূজারী সওফুলের অভিযান কাহিণী খ.টিয়ে কর্পনা করলো । নারী যদি 
জানতে পারে য সে উপযুক্ত কোন পুরুষ বরের মানসী, উপরে অস্বীকার 
করলেও মনের গভার তলায় তার দোলা ল!গে। বদিজ্ষামালকে আলাওল 
পরী বলে বর্ণনা করলেন গুধু যুগের দাবী মেটাতে কিন্তু তাকে আ্ৰাকলেন 
সে চিরন্তনী ন।র। করে। 

--আদি অন্ত কুমারের যত বিবরণ 

শুনিল মল্লিক মুখে হই একমন 

ব্দিউজ্জামালে শুনি হইল মুহিত 

তথাপিও লাজে হেতু বলে বিপরিত। 

প্রত্যয় ন৷ হয় ভগ্মি এসব কথন 

এতো দক্ষ মন্ুষ্ের রহিছে জাবন | 

এসব কথার কিছুক্ষণ পর মানবী বোনের চোখ এড়িয়ে পরা বদি- 

উজ্জ্বামাল তার ন।গর সুপুরুষ সয়ফুলপকে এক নজর দেখে নিলো৷ অত্যন্ত 
সংগোপনে-_সন্তর্পণে | দেখে দেখে তার চোখ দুড়িয়ে গেলো, মন ভ'রে 
“উঠলো” ফিরে যাবার সময় ধর! পড়লো তার প্রেমিক বর সায়ফুলের 


৭৩ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


কাছে; সয়ফুলের জ।বনে মানস প্রিয়ার অতকিত আবি9্ভাবে তার “তন মন 
ধন জীবন যৌবন' সব অবশ হ'য়ে গেলো । প্রেমের আগুনে যে এতদিন 
সিদ্ধ হয়েছে বাছিতাকে পোয় মুগ্ধ ভক্তের মতে! সেই সয়ফুল তার বন্দনা 
আস্ত করলো ১ 
চক্ষের পুতলী মোর জ।বের জীবন 
ক্দাচিত তুমি বিনে না দেখিয়ে আন | 
তুমি 'স জীবন সত্য আমি তোমা কায়৷ 
তুমি সে শর।র অঙ্গ আমি তোমা ছায়া 
স্মরণ করহো' আছ্ে তুমি আমি এক। 
অঙ্গ ভিন্ন হয় মাত্র প্রাণ সত্য এক । 
জ্ঞান দুষ্ট আপনা জদয় ভাবি চাও 
যদি ভিন্ন ভাব হয় বদন লুকাও | 
নারী প্রেম মুগ্ধ অসহার পুরুষের একি অদ্ভুত আরতি! মনে হচ্ছে 
আলাওলের লেখন, মুখে-যেন একালের বাঙলার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের 
সুরদ|সের প্রার্থন। শুনতে পাণ্চি। মুগ্ধ ভক্ত স্ুরদাসকেও প্রেয্সীকে লক্ষ্য 
কাব বলতে শুনি *-- 
পবিত্র তুমি নিল তুমি, তুমি দেবী তুমি সতী, 
অধম পামর কুৎসিত দীন পস্থিল আমি অতি। 
প্রেমের পরশ মানুষকে কালে ক]লে এমনি সমৃদ্ধ করেছে ; আলা'ওলের 
কাবে। প্রেমে পরিপুষ্ট এমন মানুষেরই ছবি পাই। 
আলাওল কীচা বা সন্তা প্রেমের কবি নন, তিনি বিরহেরও কবি। 
মানুষের জীবনে বিরহ প্রেমেরই নামান্তর | বিরহের আগুনে সিদ্ধ ও শুদ্ধ 
হঞ্জে ষে প্রেমিক ও প্রেমিকার মিলন হয় তারাই বোঝে প্রাণের বেদনা 
জীবনকে; আরও বোঝে মহৎ প্রেম ভোগে নয়, ত্যাগে। সংসারে 
আমর! তাই দেখি বড় প্রেম গুবু কাছে টানে না, দুরেও ঠেলে ফেলে । 


মানুষের প্রেম ও কবি আলাওল ধ৯ 


আলাওলের নায়ক নায়িক! সয়ফুলও বদিউক্জামালের জীবনে আরম্ভ হ'লো 
অশেষ বিরহের পালা; দিন যায় ম|স যায়, মাসে মাসে বছরও ফিরে 
আসে তবু উভয়ের মিলনের শুভ লগ্ন আর ঘন না। 
বনু যুদ্ধের পর প্রতিশোধ পরায়ন কুলম্থম পরীর হাত থকে যখন 
সয়ফুলকে উদ্ধার করা হলো! বিরহিণী বদদিউজ্জামালের সখীর কাছ থেকে 
তখন সফফুল শুনলে! তার প্রিয়ার শোক বিগলিত অবস্থার কথা -- 
তবে সখী করজোড়ে লাগিল কহিতে 
তোমার লাগিয়া বালা অনেক চিন্তিতে, 
তেজিল তাম্বল তৈল ভোজন শয়ন 
শয়ন হইলে বলা নিদ্রায় জাগন 
অবিরত দহে চিত মাংস নাহি যাস 
অন্ন মাত্র আছয় ঘুষিতে দুক্ষ দসা। 
এরই সঙ্গে তুলনা করুন রবীল্জরনাথের মেঘদুত কবিতায় বিরহিনী 
বক্ষবধূর কথা £--- 
মনিহন্দ্ে অসীম সম্পদে নিমগনা 
কাদিতেছে একাকিনী বিরহ বেদনা । 
মুস্ত বাঁতায়ণ হ'তে যায় তারে দেখ। 
শষয। 'প্রান্তে ল ন-তন্চ ক্ষীন শশী রেখা 
পূর্ব গগনের মুলে যেন অন্ত প্রায় । 
মনে হয় নাকি এখন থেকে তিনশ বছর আগে আলাওদুলর মধ্যে 
রবীন্দ্রনাথের কঠধ্বনি শুনতে পাচ্ছি? আলাওল শুধু পুর্ব বাঙলার নন 
তিনি মুসলমান কবি | (ইসলাম ধর্ম মানুষের জগতে সাম্য মৈত্রীর সন্ধান 
দিয়েছে আর মানুষ-হিসেবেই মান্নষের জীবনের দিকে সহজ দৃষ্টি তুলে 
ধরতে মানুষকে দিয়েছে অুরস্ত প্রেরণা 1)( মধ্যযুগের সভ্যতার ইতিহাসে 
পৃথিবীর বুকে ইসলামের এ দান কালজরী। ইসলাম ধর্মাবলম্বী আলাওলের 


নং সাহিত্য ও সংক্তি 

হাতেই দেবদেবীর লীলাভিনয় পুষ্ট বাঙলা সাহিত্যে সর্যপ্রথম শুনতে 
পেল|ম মানব-ভা?গ্যর শাশ্বত সত্য কাহিণী ;₹--এ সংসারে শোক আছে, 
দুঃখ আছে, আর আছে অনন্ত প্রেম এবং অশেষ বিরহ । এজন্তই মধ্য- 


যুগের বাঙলা ক!ব্য সাহিত্যে 
হীন '্মালাওল বাণী, স.রস পয়ার খানি ; পদে পদে অমৃত সিঞ্চন। 


ঢাক! প্রকাশ, 
৮৯ বর্ষ ৯৯শ সংখ্যা, ১৩৫৩৬। 


বীন্দ্র-কাব্যে মানবতা 


ধবীজানাধ প্রধান্ত,কবি ) কাব্যের মধ্যেই তাঁর মনের (অআ্ অংশের 
প্রকাশ ) অন্ঠাস্ঠ। রচনা তার কারব্যর পরিপূরক | ক্ুতরাং গুধু *তার কাব্য 
বিশ্লেষণ ঝ্রনশই তীর কৰি অনের মূল ধারাটির পরিচয় পাওয়া আমাদের 
পক্ষে লহজ-হুত্বে 
কববীজনাথের কাব্য-প্রতিভার প্রধান ধর্ম তাঁর মানবমুধিতা | প্রাক্‌- 
পাকিস্তান যুগের সমগ্র ভারতবর্ষে কাপিদাসের পরে রবীন্দ্রনাথের মাতা 
এত্ত বড়ো'মানবমুখী”কবি-প্রতিভা আর জন্মেছে বলে মনে হয় না। কিন্ত 
মানবমুখিতা তার গ্রাতিভার প্রধান ধর্ম হ'লেও সেখানে একটা ত্রুটি বা 
চর্বলতা আছে যার জন্টে তিনি সুখ-দুঃখ বিরহ-মিলনপুর্ণ, খ ক্ুদ্র দোষ- 
রুটিবছল মানবের অন্তঃপুরে প্রবেশ লাভ করতে পারেননি ! মত্ত মাগষের 
ছেটি 'প্রাণ, ছোট ব্যথা, এবং নিতান্তই সহজ সরল ছোট ছোট ঘঃখ-কথার 
যধ্যে ডবরির মতে! ড,ব দ্ষিবার তিনি আপ্রাণ চেষ্টা ক'রেছেন, অবিরাম 
ইন্জ পোর্ষণ.করেছেন কিন্তু শক্তির সক্রিঘত! ধুলোবালিমযু পৃথিবীতে যেখানে 
(সাধারণ মান্য বসবাস করছে সেই দব্জার কাছে এসে থেমে গেছে! 
শা্বজ! খুলে তিনি ঢুকে ' পড়েন নি, বাইরে থেকে অগ্টমান ও কল্পনার 
সাহায্যে আভামে ও ইংগিতে যতটুকু পেয়েছেন তাই দিয়ে ভিতরের জীবন- 
যাত্রার চিত্র একেছেন গশার মানকতার গান গাইবার ঢেষ্টা ক'রে গেছেন। 
বান খুলে মানুষের সংসারের অতি ছুঙ্ছ'ও ভগ্ন অংশের মধ্যে প্রবেশের 
বিফলতাজনিত রে?নাময় প্রয়াস ষ্টার সারা কবি-জী'বনের ইতিহাস ॥ তার 
এ ব্যর্থতায় দীর্ঘশ্বাস ফেন্লেও তিনি মুসড়ে পড়েননি; সুদুরের পিয়াসী ও 
13৩৭1197-এর "পুল্জ।রা রবীলানাথ তার এ বার্ঘতায় সৌন্দর্য-সষ্টির মায়া- 
প্রলেপ দিয়ে "সানা পেতে চেয়েছেন | £৩এ1 ও 1092] এর ছন্দ তিনি 


৭১ গাহিত্য ও সংস্কৃতি 


প্রকৃতিকে মানুষের বিকল্পরূপে দাড় করিয়ে, প্রকৃতির মধ্য দিয়েই তিনি 
মানবসতাকে জেনেছেন এবং প্রক্কৃতি-প্রীতির ভেতর দিয়ে শেষটায় মানব- 
প্রীতির স্বাদ পেতে চেয়েছেন | তার দেশের সাধারণ মানুষ, কি ব্যক্তি- 
বিশেষ অতি সাধারণ মহিমার বিকশিত হয়নি, মানুষ ও ুকৃতি, খণ্ড ও 
অখণ্ড, সীম ও অসম এক অভাবন।য় সংগীতশ্রে!তে একাকার হ'য়ে গিয়ে 
তার অতল-গভ।র গ্শান্ত হদয়ে সমগ্রতায় উগ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। তার 
কবি-জীবনের এহেন পরিণতিতেই তিনি শান্তি পেয়েছেন সত্য; কিন্তু এমন- 
ভাবে জীবন ও জগৎকে যেন তিনি পেতে চাননি | তার দীথ কবি-জ।বনে 
তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তির অনুসন্ধান করেছেন, কিন্তু তঁ।র দ্রভাগ্য, নিবিশেষ মানুষ" 
কে পেয়েছেন ; চেবেছেন প্রেষিককে; পেয়েছেন নিগুণ প্রেমকে, কামন: 
করেছেন প্রেরসী, সচিব, সখী ও প্রিয় শিষ্যা'র মতে স্্ীর, পেয়েছেন ভাব- 
মূ শাশ্বত নারীকে, চিরস্তনকে | চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যেক!র এই অসা- 
মঞ্চম্তজনিত অতৃপ্তি ও আকাঙ্ষা, আন্দোলন ও অশান্তির বেদনায় শেষ পর্যন্ত 
দেখি সমগ্র মানবতাবোধের এক অখণ্ ও পূর্ণ স্বা্দরূপে ত!র কবি-জী।বনের 
সোনার ফসল তার কাব্য মর্ত/ম!নব সাধারণকে তিনি উপহার দিসে “যতে 
পেরেছেন । তার ভাবজীবনের পরিণতির এই ইতিহাসের সমর্থনে তায় 
বিভিন্ন কাব্যের সাহাষ্য নিতে হচ্ছে। 
প্রথম বসের কাব্য “কডি ও কোমলে' দেখি মানুষের এই পৃথিবী তার 

অত্যন্ত ভালো! লাগছে £ 

মরিতে চাহিন1 আমি সুন্দর ভুবনে 

ম।নবের মাঝে আমি বাচিবারে চাই, 

এই হৃর্ণকরে এই পুষ্পিত কাননে 

জীবন্ত জয় মাঝে যদি স্থান পাই | 

“মাম্ষের মন চায়, মানুষেরি মন” তাই কবি পৃথিবী'র জীবস্ত হদয়ে 

আশ্রয় লাভ ক'রেই ধাচতে চাইছেন | “বধূ, কবিতাটিতে দেখি জ্বদয়হীান 


রবীন্দ্র-কাবে। মানবতা ৭৫ - 


শহরের কঠিন নিম্পেষণে নীরব পল্লীর স্থকোমল এক বালিকার অন্তরের 
€ঃখ কবি আপন হৃদয় 'দয়ে অনুভব করে তার মৃত্যুতেই তার মহিমাময় 
শান্তির কথা ভেবেছেন । বৈষ্ব কবিতাতে মানব সমাজের প্রতি প্রীতি 
কবির চিচ্ে উদ্বেল হ'রে উঠেছে ! কবির মতে ভক্ত ও ভগবান সংসারকে 
অতিক্রম করে নেই ; নৈঞ্ব কবিদের গানগুলোর এমনি মোহ যে এতে 
ভক্ত ভগবান ও মানব সমাজ এক ভূত হ'য়ে ওঠে । ধরা এত বড়ো প্রেমে 
এহেন প্রকাশকে মান্রষের জগং থেকে নির্বাসিত ক'রে রাখতে চান আম।- 
দের কবি ত।দের দলে নন, তারা তার কপার পান্র-_ 
এই প্রেম গীতিভার 
গাথা হয় নরনারী মিলন মেলার, 
কেহ দেয় তারে, কেহ বধূর গলায় । 
দেবতারে যাহ! দিতে পারি, দিই তাই 
প্রিয়জনে. প্রিষজনে যাহা দিতে পাই 
তাই দিই দেবতারে, আর পাবে! কোথা 
দেবত।রে প্রিয় করি, প্রিয়েরে দেবতা | 
“যেতে নাহি দিব" কবিতার মূলভাব, জীবনের প্রতি গভীর আসক্তি । 
দে আসক্তি আবার বয়ঃপ্রাণ্ধেরও নয় ; কবির কাছে কবির শিশুকন্থা যেমন 
পথিবীর কাছে মানুষও তেমন শিশু । প্রিয় বিচ্ছেদের এই যে তথ ত| ধু 
কবির শিশ্ুকন্তার 'ষেতে আমি দ্িবন! তোমায়” ধবনিতেই পর্যবসিত থাকেন ; 
“এ অনন্ত চরাচরে স্বর্গমতর্য ছেয়ে 
সবচেয়ে পুরাতন কথা, সবচেয়ে 
গভীর ক্রন্দন 'যেতে নাহি দিব |” হায় 
তবু যেতে দিতে হয় তবু চ'লে যায়। 
জীবজগতের জনর্ন। বনুন্ধরাও নিয়ত সন্তানের 'এ বিয়োগ বাথায় উদাস 
করুণ ও জর্জরিত, তাকেও এলোচুলে বসে থাকতে দেখা যায় । 


৭৬ সনভিত, ও অংস্ক্টিত 


দুরব্যাপী শম্তক্ষেত্রে জা্বীয় কুলে 
একধানি রৌদ্রপীত.হিরণ) অঞ্চল 
বক্ষে টানি ,দিয়।”__ 
“বন্ুন্ধরা” কবিতাতে" 'দখি জীব ও জগ কবির চেতনায়, এধ অধণ্ড 
আম্তম্ীয়তায় অভিন্ন হ'য়ে ধরা দিয়েছে, তাই তিনি চাইছেন- 
নিথিলের সেই' 
'বচিত্র আনন্দ মত এক মুহুরতেই 
একত্রে কবির আস্বাদন, এক-হয়ে 
সকলের-সনে | 
€ নুখ-ঃথ বিরহ-মিলনে ভরা মানুষের এই অপূর্ণ জগংই কবির অত্যন্ত 
প্রিয় |) স্বর্গের নিরবচ্ছিন্ন সুখ ও অনাবিল শান্তি-কবির কাম্য নয়, ভূতের 
স্বর্গধগুগুলি কবির অত্যন্ত-আপনার ; কারণ এখানে-আ.জ্মীয় অ|ছে, মানুষের 
জন্য মন্নষের দরদ ভর! হৃদয় আছে.| এখানকার. দীনমতর্যবাস।র ঘরের 
মেরেই কবির বধু হ'য়ে আসে । তার হুদয়্ের আকুতি” আবেগ, সোহাগ 
ও প্রেম স্বর্গের মেনকা, রম্ত। ও উর্বশীদের নেই । তাই কবির মনে হয়, এ 
ধুলির-ধরনীতে-“লুখ অতি সহজ-সরল |, 
দেশের জনসাধারণের প্রতি অসীম মমতাবোধ থেকে “এবার ফিরাও 
মোরে” কবিতাটির জন্ম । মানুষের কবি তার দেশের মাহুষের অপরিসীম 
£খ দরদরশা, অস্বাস্থ্য ও বেদন।জজ্জর অবস্থা. দেখে. পীড়িত হয়েছেন! 
দেশের মান্তষের যে চভোগ, তা যতটা তদের অভাবজনিত নয়, তার বেনী 
আত্মবিস্বাতিজনিত। এই সব মুদ্ন!ন মুকদের নানাবিধ দৈন্তের মধ্যে 
কৰি যদি একটা বারের জন্যও “স্বর্গ হ'তে আত্মবিশ্বাস উদ্বোধিত ক'রে দিতে 
পারেন তা হ'লে তাদের দৈষ্ঠ তারাই বুচিয়ে নিতে-পরবে. সেই জগ কাব 
কল্পনার মায়াপুরী থেকে তার দেশের জনসাধারণের বথাদীর্ণ সংসারের 
মাঝখানে নেমে যেতে চাইলেন, কিন্ত তার ছর্ভাগ। এমনি, যে এখানেও শুধু 


রবীন্দ্রকাব্য মানবতা ৭৭ 


তার জাতির কল্যাণেই'নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারলেন না মনুষ্যাআর: 
সর্ববিধ কল্যানের জন্য বহং জীবনের জয়গানই-তাকে করতে' হলো । 
চিত্রা পর্যন্ত দেখি, মানষের' সংসারকে ধরাছে1য়ার মধ্যে পাবার আকুতি 
কবির মধ্) তীব্র কিন্তু সেখানে মানুষ নেই, মানবতাবোথ' ম্পষ্ট হয়ে 
উঠেছে । চৈতালিতেই প্রথম বারের জন্ত ভূতলের স্বঙ্গখণ্গুলির প্রতি 
শুধু আকাঙ্খা নয়, তাদের সঙ্গে কবিয়'পরিচয় ঘনিষ্ঠ হ'য়ে উঠেছে। তাঁর 
কাব্য ও জীবন এখানে নিতান্ত নিকটতম প্রতিবেশীর মতে! পাশাপাশি এসে 
দাড়িয়েছে, তাদের তনকট্য এত বেশী যে কাব্য অনেক সময়ে দৈনন্দিন 
ঘটন।র 'সামান্ত পরিবত্ন মাত্র । তাই তিনি মনে করতে" পেরেছেম এ 
মন্ননা জন্ম তার দুলভ”, এ জনমে ৷ পাওয়া গেলো। তার তুলনা নেই, তাই 
তার কাছে 
'€লভ এ ধরণীর শেষতম স্থান 
দর্লভ এ জগতের ব্যর্থতম প্রাণ । 
সুতয়াং যা পাইনি তাগু' থাক, যা পেয়েছি তাও 
তুঙ্ছণব'লে 'যা চাইনি তাই'মোরে দাও 
ক্ষণিক। কাব্যেই-কবি'একটি 'বারের 'জন্ত মানুষের লোকালয়ে প্রবেশ 
করবার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন । জীবনের' বিচিত্র ক্ষণের মালিকাই 
এই ক্ষনিকা। সুখ-ঃখ, আশা-নৈরাষ্ত, গভীর নিম্ষলতা ও পরম পরিতৃষ্ি, 
দীর্ঘ বিরহ ও ক্ষণিক মিলন এই কাব্যে একত্রে বির।জিত | 
রবীন্দ্র কাব্য প্রবাহে এমন অভিজ্ঞতা বিস্ম্রজনক | জীবনকে এখানে 
(তিনি আদশারিত করেন নি-;) যেমন আছ তেমনি এসো আর কোরোনা 
সাজ" কিংবা 'সত্যরে লও সহজে" এই'ই”্বাণীর মধ্যে জীবনকে উপলব্ধি 
করার সার্থক প্রয়াস তার এই কাব্যে বর্তমান। চাওয়া ও পাওয়ার 
সামঞ্জনের মধ্যে যে সহজ দুধ ও শান্তি' আছে যার ফলে মানবের" জীবন 
এক অনন্থতূতপূর্ব শ্মিতহান্তে দ্বিগ্ধতর হ'য়ে আসে ক্ষণিকার কবি-জীবনের' 


ণ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


সেই আনন্দ. উজ্জল হয়ে রয়েছে | “সেকাল' কবিতাটিতে কালিদাসের 
কালের নায়িকাদের চিত্র একে তাদের অভাবে এক্সালের কৰি হিসেবে 
তিনি মোটেই ঢঃখিত নন, বতর্মানের আধুনিকাদের মধ্যেই তাদের 
আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করেছেন । তাই তাকে বলতে শুনি-_ 
মরবে ন: ভাই নিপুনিকা 
চতুরিকার শোকে, 
তারা সবাই অন্ত নামে 
আছেন মতলোকে । 
তবে কাল-মাহাজ্মে কিছু পরিবর্তন হয়েছে, এই যা; বর্তমানে তারা 
পরেন বটে জুতো মোজা 
চলেন বটে সোজা সোজা, 
বলেন বটে কথাবাত 
অন্াদেশীর চালে । 

কিন্তু তাদের চোখের ভাষাই প্রকাশ ক'রে দেয় 'যে এরাই নামাস্তরে 
সেকালে ও ছিলেন । এখানেই কবি ক্ষান্ত হননি । বত'মানকে পুরো দাম 
দেবার জন্তে কালিদাসকেও তিনি ডিঙ্গিয়ে গিয়ে বল্ছেন- 

াপাতত এই আনন্দে 
গর্বে বেডাই নেচে 
কালিদাস তো নামেই আছেন 
আমি আছি বেচে। 
নামে থাকার চেয়ে বেচে থাকার মূল্য অনেক (বশী । 

এ আনন্দ পাওয়ার অধিকার বর্তমানের কৰির জীবনে থুব স্বাভাবিক 
কারণ বতমানের স্বাদ-গন্ধ উজান বেয়ে অতীতে কিছুতেই যেতে পারেনা 
কিন্ত অতীতের আস্মাদ পাওয়া নেচে আছেন বলেই কবির পক্ষে সম্ভব, 
কিন্তু 


রবীন্দ্র-কাব্যে মানবতা শী 


আম|র কালের বিনোদিনী 

মহাকবির কল্পনাতে, 

ছিলন। তার ছবি। 

অত্যন্ত কৌশলে বর্তমানের এবিনোদিনী”কে কালিদাসের রমণীদের সঙ্গে 
যুক্ত ক'রে দিয়ে তার জয় ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে অতীতের উপরে 
বতমানেরই জয় ; কাব্যের উপরে জীবনের জয় | 
এর পরে কল্পনা” “নৈবেগ্ব' প্রভৃতি কাব্য । এগুলোতে ইতিহাস 

রসের ভেতর দিয়ে কবি অত।তের দিকে মুখ ফিরিয্েছেন | (এবং অততীত- 
কালের ভারতবর্ষের মানবতার ঘা কিছু সারবস্ত পেয়েছেন, তার সৌন্দর্য- 
সাধনা ও আধ্যাম্মিকতা'-প্রীতি ইত্যাদি থেকে রস ছেকে নিয়ে এসে একালের 
মানুষকে তারই সাথে যুক্ত ক'রে মহনীয়তা ও পূর্ণতা দান করতে 
চেয়েছেন |] মানুষের জীবন রবজ্রনাথের সাধনার বিষয় কিন্তু সম্পূর্ণভাবে 
কে'থাও তার কাব্যে তা সিদ্বি-বিমণ্তিত হয়ে ওঠেনি । কিন্তু মানুষের 
জীবন রঙ্গমঞ্চে প্রবেশের জন্ত কবি যে কত প্রয়াসই না বরেছেন তার 
ইরতা নেই। কখনো বতমানের সিংহদ্বার দিয়ে, কখনে! ইতিহাসের 
পরিখা উত্বীণ হ'য়ে আবার কখনো বা ভগবৎ প্রেমের আকাশ-পথে । 
আত্মজীবনের জ.বনন্দেবতার উপলব্ধিতে ম'মুষের জীবনে প্রবেশের প্রয়াস, 
বিশ্বদেবতার সার্বজন'ন অনুভূতিতে ও সেই একই কথা। নারীর জীবন, 
শিঞ্ছর জ বন, প্রকৃতির জ।বন সকল প্রবাসে তার সেই ৫র্গমতম রহস্ত- 
লোকে প্রবেশের এই নিষ্ষল প্রচেষ্টা। জীবনকে তিনি জাগতিক রীতি 
অনুসারে যথাযথ না দেখে সোন্দর্যে 'আদরশায়িত ক'রে দেখেছেন, তার 
রহস্ত এই প্রবেশের ব্যর্থতায় । এ দিক থেকে উত্র্গ' কাব্যখা!ন কৰি 
মনের এক অপরূপ স্থষ্টি | মানুষের পরিপূর্ণ পরিচয় না পাওয়ায় বেদনা 
এবং পরিচয় পাওয়া গেল না বলেই সারা জীবন সেই মরীচিকার 
পশ্চান্ধাবন এ দুইয়ের ছবি উৎসর্গ কাব্যে অত্যন্ত সুপরিক্ষট | কবিকে 


৮৩ 'সাহিত্য ও সংঙ্ক তি 


যখন বলতে গশুনি__ 
_ যাহ! চাই তাহা হুল ক'রে চাই 
হা পাই তাহা চাইন!, 
কিংবা পগল্স ভ্ইয়! বনে বনে ফিরি 
আপন গন্ধে মম 
কম্তরী ঘগ সম। 


তখন বুঝিতে ববাক্ষা থাকেনা কর-প্রাণের কিসের এ আবেগ । 
এর পরে কবির গকাব্য “বলাকা” | বলাকা রচনার পূর্বে কবি 
ইউরোপ আমেরিকা পরিভ্রমন করে এসেছেন । প্রথম স্যাযুদ্ধের জন্য 
ইউরে।প তখন তৈরী হচ্ছে। সেখানে তিনি (দখেছেন.মা্ষ কি কর্গ- 
ন্বযন্তত।র ভেতর দিবে ঘন কালো! মেঘের মতো! কোন অজানার দিকে ক্রুত 
ছুটে চলেছে। মঙ্গযা-জ।বনের এই ব্যস্ততা ও-গতি তাকে মুগ্ধও বিস্মিত 
করেছে । ফরাসী দার্শনিক ঝেো্র গণ্িবাহ্দর শিষ। "ইউরোপ; কিন্ত 
প্রাচ্যের কবি গতিবাছে মুগ্ধ 'হ'লেও শুধু গতিকেই মুখ্য ব'লে গ্রহণ 
করতে পারেননি | বিরাট বিশ্বের মান্ষ এভাবে যে অবির'ম "হেথা নয়, 
হেথা নয়, অন্ত 'কাথ' অন্য কোন খানে, ছুটে চলেচ্চে তাদের এ চলা 
একদিন বিশ্বনাথের সঙ্গে গভীর প্রেম ও পরিপর্ণ মিলনে সার্থফ হ'য়ে 
উঠবে; মানবন্সোতের এই ১ 
হে বিরাট নদী 
অদৃশ্য নিঃশব্দ তব জল 
অবিচ্িয় অবিরল, চলে নিরবধি | 
এর 'অকারণ' 'অধারণ চলা একদিন কোন (প্রেমমক়ের ম্পশে বিশাক্ম- 
বোধের পরিপুর্ণতায় উদ্ভাপিত হ'য়ে উঠবে | সেখানে মানুষ ও জগৎ, 
মনধ্যাত্তা '9 বিশ্বাত্ম। একাকার হ'য়ে বাবে । 'বলাকা কাব্য ব্রধীন্্রনাথের 
ক্ষবিক্জীবনের পরিণত ফল, তার কাব্য-সাধম' ও কাব্যান্ভূতির পরিণাম : 


রবীন্দর-কাব্যে মানবতা ৮১ 


জীবন ও জগ:তর সমগ্র সংগীতক্জেত ; মানবতা-বোধের পরিপুর্ণতার অমৃত 
রস। 
এর পরের কাব্যগুলোতে আর নৃতনত্ব দেখি না। পূর্বের অনুভূতির 
'ইংগিতে আর ভংগীতে” নান|বিধ প্রকাশ | জন্মদিনে, আরোগ্য, গল্পসল্প 
প্রভৃতি শেষ জীবনের কাব্যগুলোতে মনবতবোধের এ প্রকাশ অবপ্ত 
অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর । জ'বন-মধ্যাহ্নে কবি উপলব্ধি করেছিলেন কেবল 
মানুষ হিসেবেই ষে মান্তষের চিরন্তণ মহিখা, উত্ম-অধম নিবিশেষে যে 
কাহিনী, তার জ।বনের সত্যক।র ইতিহাস ;সই প্রতিদিনের হাসিকান্ন!, 
সুখঃখই ধরণীকে চিরগ্ঠ।মল ক'রে রেখেছে, তারই যে গান তাই শাশ্বত, 
ত।/ই অমর নইলে যখন-- 
কুর পাগুব মুছে গেছে সব, 
(স রণরজ হ'বেছে নীরব, 
সে চিতা বনি অতি ভৈরব 
ভস্মও নাহি তার। 
যে ভূমি লইয়া এত ভানাহ|নি, 
সে আজি কাহার তাহাও না জানি, 
(কোথ। ছিল রাজা, কোথ। রাজধানী 
চিহ্ন নাহিক আর। 
তখনও শুধু যে টুকু আছে তা-_ 
যুগে গে লোক গিস্সেছে এসেছে, 
ছর্বীর৷ কেদেছে, স্খ।র! হেসেছে, 
' প্রেমিক ষে জন ভাল সে বেসেছে, 
আজি আমাদেরি মত ) 
তারা গেছে, শুধু তাহাদের গান__ 
হতে ছড়ায়ে করে গেছে দান; 


৮২ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


দেশে দেশে তার নাহি পরিমাণ 
ভেসে ভেসে যায় কত! 
এর সঙ্গে তার শেষ জীবনের কাব্যগুলো মিলিয়ে পড়লে সেখানে তার 
জীবন-শেষের অন্তরভর! হ্কাহাকারই শুন্তে পাই-__ 
বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি 
দেশে দেশে কত না! নগর রাজধান।-__ 
মানুষের কত কি, কত নদী গির সিন্ধু মর, 
কত না অজানা জীব, কত না অপরিচিত তরু, 
রয়ে গেল অগোচরে ।, 
মানুষের বিশাল বিশ্বের, আয়োজন সর্ণম্পুরূপে জানা গেল না, তবে 
কবির সাত্বনা এই "ভবে যে যেখানে-- 
চাষি খেতে চালাইছে হ।ল, 

তাতি বসে তাত বোনে, জেলে ফেলে জাল,_ 
বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কণ্নভার, 
তরি পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার । 

সু ধু - 
মাটির পৃথিবী-পানে খ্রীথি মেলি যবে 
দেখি সেথা কলকল রবে 
বিপুল জনতা চলে 
নানা পথে নানা দলে দলে 
যুগান্তর হ'তে মানুষের নিত্য প্রয়োজনে 

জীবনে মরণে। 
ওরা চিরকাল 

টানে দাড় ধরে থাকে হাল; 


ওর! মাঠে মাঠে 
বীজ বোনে, পাকা ধান কাটে । 


রবীল্দ্র-কাব্যে মানবতা ৮৩ 


ওর! কাজ করে 
নগরে প্রান্তরে । 

(এ পথ ধরেই শেষ পর্যস্ত দেখতে পাচ্ছি রবীন্দ্রনাথের মানবতাবোধ 
'নার।য়নী ধরণীর ধুলো*য় মানব সাধারণের মধ্যে এসে দাড়িয়েছে 1) বিশেষ 
ম।নুষ, কি ব্যক্তি বিশিষের গান নাইবা পেলাম তার কাছ থেকে ; কিন্তু গণ- 
তান্থিক আধুনিক জগতে এককালের অবহেলিত লাঞ্ছিত মানুষ যে জেগে 
উঠছে. আপন আপন তুচ্ছ পরিচিত গণ্ডার অতি তু কাজকনের ভেতর 
দিয়েই যে তার! সমগ্রভাবে পৃথিবীতে বেচে আছে ও ভবিষ্যতে থাকবে এ 
আশ্বাস ও এহেন শাস্তি পেয়ে কবি মত্ঠালোককে প্রণাম করে গেছেন । 


তাহজীব, 
১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা । 


নজরুল প্রতি ভার বৈশিষ্ট্য 


(অেডুত এই বাংলা দেশ। তার চেয়ে বেশী অদ্ভুত এ দেশের প্রকৃতি । 
ভারতবর্ষের অন্ঠান্ট প্রদেশগুলোর তুলনায় বাংলার বিচার করলে এদেশের 
মাটি আর আবহাওয়ার যেমন বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে তেমন আর কেন 
প্রদেশের নাই। নদীমাতৃক পূর্ববাংলার নদী-নাল! খাল-বিল যেমন তাকে 
রমণীয়তা দান করেছে তার চেয়ে বেণী করেছে সে অঞ্চলের মাটি ও 
আলোবাতাসকে সিক্ত । সেখানকার সিক্ত পরিবেশে এমন একট! শ্লিগ্ধ 
জড়িম।জড়িত ভাব রয়েছে যে সাধারণ মানুষও সেখানে ভাবমন্কর হোয়ে 
ওঠে | নদীর বাক, তার আকাধীকা গতি, (আতের টান, পক্মার চর, 
চরেব বালু কাশবন, তার ধবধবে শাদা ফল, চরের মাঝে এখানে সেখানে 
মানুষের বাড়ী-ঘর, আর সবার উপার গোরুর গাড়ীর গতিতে চল! মাছষের 
জিবন এ-সবই ভক্তির ও কাব্যের উপাদান জুগিয়ে এসেছে আর পশ্চিম 
বাংলার ফাকা মাঠ, তাল আর খেঙ্ুর গাছের সারি তার কিছুটা শুকনো 
পরিবেশ. আয়াসে লাভ করা জ।বনের ফসল, [মঠে! স্থর--তাও মানুষের 
মনে তরঙ্গ তুলেছে । এ শুধু,আজকের কথা নয়; বনুকালের দেশ এই 
বাংলা, সেকালেরই এই বৈশিষ্ট্য । বাংলার এক প্রান্ত তুলেছে হালকা 
ছন্দে বয়ে যাওয়৷ জ।বনের ভাটিয়ালী স্থুর; সে টান জীবনকে নামাতেই 
জানে, বীধাবাধি কোন নিয়মে ঢোকাতে জানে না কারণ সেখানে আছে 
কষ্ট, আছে নানা প্রশ্নের সামনে গীড়িয়ে জীবনকে বোঝার তাগিদ । আর 


অন্ঠ প্রান্ত তুলেছে মেঠোম্থরের উদাস করা-_আকুল করা ভাব যা ল(বনকে 
করে বিবাগী পথচারী | 


দেশের এই প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্বিতীষ মহাযুদ্ধের পূর্ব পর্যস্ত জীবন ও 
সাহিত্যের যে রূপ প্রকাশ পেয়েছে, দেখতে পাই তা আজকের রাজনৈতিক 


নজরুল গ্রতিভাব বৈশিষ্ট্য ৮৫ 


ও অর্থ নতিক জবনের প্রতিস্তরের জাগরণ ও দর কষাকধির দিনে মোটেই 
আশাপ্রদ নয়। কিন্তু এতক/লের আউল বাউল, ভাবুক ও সন্ন।সীপ্রাবিত 
বাংলাদেশের নরম কোমল ভাব-শাসিত জীবনের যথার্থ রূপ ও ছবিই 
অ!মরা দেখেছি, দেশের সাহিত্যে ধূত হোয়েছে। পলিমাটির দেশ এই 
বাংল! এবং তার প্রকৃতি এ-দেশের অধিবাসীদেরকে জ।বন সম্বন্ধে জিজ্ঞাু 
মোটেই করেনি, করেছে পরকাল সম্বন্ধে ভাবতে উদ্মুখ 1) তাই কর্মবাদ, 
অনৃষ্ট, দোজখ ও বেহেম্তের ভাবনায় অধীর হোয়েছে এ-দেশের লোক । 
মোটামুটি জীবন ছিল সহজলভ্য তাই ধর্ধের দোহাই দিয়ে ইহকাল ডিডিয়ে 
যাবার চেষ্টা হোয়েছে | সংঘাত য! এসেছে ত' বিরোধ ধমবিশ্বাসী বিভিন্ন 
দলের মধ্যে নিজেদের প্রাধান্ট বিস্তার কর।র জন্ট, রুটির 'ও অস্তিত্ব টিকিয়ে 
রাখার প্রশ্ন নিয়ে মারামারি করার জন্ত নয় | (এরই ফলে দেখা য'য 
বাঙালী জীবনের সাহিত্যের প্রথম ফসল তাদের চিন্তা ও ভাবনার প্রথম 
উৎকর্ষ বর্প্য ধন ও সংস্কার বারোধা বোছদের ছারাই সম্ভব হলো |)(তন্- 
ধর্মের পুনরুখানের সঙ্গে নির্যাতিত বৌদ্ধরা বাংলার শেষ প্রান্তে এসে মাথা 
গুজেছে। তাতে তাদের ধর্ম ও সংস্কার তথা জীবন সংকটাপন্ন | এমন 
অবস্থায় সবলের বিরুদ্ধে দুর্বলের এ ছেশের চিরাচরিত করনীয় প্রথানযায়ী 
তারা যে আকুতি ও ফরিয়াদ জানিয়েছে সেই ফরিয়াদই অস্পষ্ট আলো- 
স্াধারী ভাষাতে নিক্ষল অথচ সাহিত্যের প্রথম ধারার স্থষ্টি করেছে । সে 
ধার! ধর্মের, আত্ম-অবিশ্বাসের অথচ আত্মার যুক্তির । 

বৌদ্ধরা গিয়েছে নিঃশেষ হোয়ে এদেশ থেকে | নিরঞ্চন তার্ধের রক্ষা 
করেনি। তারপর ব্রদ্ধণ্য ধের শাসন ধশ্ানুশাসন দৃট হোতে না হোতে 
এদেশে এসেছে বাণ্তববাদ। | তাদের আগমনে দেশের রাজ- 
নৈতিক, সাংক্কংতিক ও সামাজিক জীবনে যে পরিবতন দেখা দিল তার ফলে 
এদেশের জনসাধারণের আত্মবিশ্বাসহীন চিরাচরিত চলার পথ আরও 'নুগম 
প্মারও মন্থণ হোয়ে গেল। তারা নির্ভর করলো বিধির বিধানের উপরে । 


৮৬ সাহিত্য ও সংস্ক তি 


সেই পরনিওরতা ও পরমুখাপেক্ষিতা একই ধর্মবিশ্বাসের দুই বিশিষ্ট ও বিভিন্ন 
ধারায় আপনাকে প্রকশ করলো। (এদেশের সমাজ-জীবনের ভিত 
বহিরাগত যে প্রচণ্ড শক্তির আঘাতে কেঁপে উঠলো সেই শক্তিকেই মুক্তির 
একান্ত পথ ভেবে নিয়ে তারই কাছে সেকালের বাঙাল।রা অ'পনার যথা- 
সর্বস্ব সমর্পন করে দিয়ে সান্তনা পাব।র জন্ত শক্তির দেবতার রূপ কল্পন। 
কোরে অন্তজ্ঞীবনে তারই আসন করলো স্ুুট | সেই শক্তি-দেবতার 
সেবায় সেদিনের ঘাঙাল।র৷ যে ভাবে আত্মনিয়োগ কোরেছিল এবং বিষয়- 
বুদ্ধি ও বিবেকহীন লৌকিক শক্তির দেবতাদের হাতে তারা যে ভাবের 
নির্যাতন ও নিপীড়ন নিবিবাদে হজম কোরেছিল মানুষের ইতিহাসে 
তার দৃষ্টান্ত মেলা ভার। বাউলার মঙ্গলক।ব্যগুলোই এই উক্তির সত্যাসত্য 
প্রমাণ করবে | কিন্ত বহিরাগত শক্তির নিকট পরাজয়ের গ্লানি ঢাকবার 
জন্ট। তারা অন্তজ্জীবনের ষে কর্ষণ চালিয়েছিল তার সোনার ফসল ফলেছিল 
বৈষ্ণব ক।ব্যশাখায়। বাহিরের ঘনখটা, বিষয় বভবের আড়খঘর, ক্ষণস্থায়ী 
প|খিব জাবন, সেই জীবনে সাত্রাজ্যশ।সনের না ক্ষমতালাভের প্রীতি-__ 
সংসারের এই বিষয়বুদ্ধিনিরত মনই তাদেরকে প্রেরণা দিয়েছিল অনস্তকাশ 
প্রবাহের কাছে আত্মসমর্পণ করতে | তই তাদের সেদিনের ব্যবহারিক 
জীবনের এতবড় পরাজঞজেও কুা বোধ করেনি বরং সেই পরাজয়ের ছুতোই 
তার্দের অজ্ঞাতে বড হোয়ে উঠে, অনন্ত শক্তির সঙ্গে তাদের দেহ ও মনের 
লীলাবিলাসের পথকে আরও 'স্ুপ্রশস্ত কেরে দিয়েছে । তাই তাদের 
সাহিত্যে দেখি আধ্]/খ্র অনুভুতির, আত্মরতির, প্রেমগ্রীতির ও মানা- 
ভিমানের এত কোমল মধুর প্রাধান্ত, জগৎ ও জীবন সম্বন্ধে এত নিরাশার 
ভাব এবং পরলোক ও পরকালের চিন্ত/ভাবনায় এমন অকুঠ আত্মসমর্পণ 1) 

দেশের প্র।কৃতিক পরিবেশে এ পর্যন্ত তার আত্মবিকাশের যে ধারা 
আমর লক্ষ্য করি ত৷ দেশের নাড়ির স্পন্দনের সঙ্গে যোগ রেখেই এগিয়ে 
এসেছে । ব্যবহারিক জীবনের প্রতি এত গুঁদাসীন্ক, এমন নিম্পৃহ, অনাসজ্ 


নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট্য ৮৭ 


ও তন্দ্রাকাতর ভাব জাতি হিসাবে বাঙাল।কে মেরে ফেলে এবং তার মেরু- 
দণ্ডও যায় ভেঙে ) (এই ভাঙা মেরুদণ্ডের স্থযোগ নিয়ে এ দেশে আসে 
ইংরেক্ষ বেনেরা- যুগে যুগে যেমন সাংসারিক বিষয়-বুদ্ধিসম্পন্ন বলিষ্ট জাতি- 
গুলো এসেছে এদেশের বুকে জোরের দাবী প্রতিপন্ন কোরে শাসন কে'রতে 
এ দেশকে । সমগ্র দেশ যখন ইংরেজ-রানুগ্রস্ত তখন এ দেশবাসীর অন্ুতঃ 
এক সম্প্রদায়েরও তন্দ্রাঘোর অনেকটা কেটে ওঠে, কিন্তু উপায় নাই তাদের 
সে রাহুমুক্ত হবার | ততদিনে ইংরেজ শাসনের ভেতর দিয়ে পাশ্চাত্য 
প্রভাব প্রবল ভাবে এদেশে আসতে আরম্ভ কোরেছে, তাদের স!হিত্য 
ইতিহাস ও জীবনের প্রবল দাঁপটে বাঙালী তখন দিশাহারা । দেশব্যাগী 
সেই আলোড়নের দিনে, ইংরেজের দৃপ্ত জ'বন ও যৌবনের সেই প্রকাশের 
দিনে উনবিংশ শতাবী।তে বিদেশী জীবনের যে ঘর্বার শত্তি, বাঙলাদেশের 
এতকালের ন্ুপ্সিকে নাড়া দিয়ে গেল সেই মোতমুক্তির তথা জীবনের সার্থক 
কৰি হলেন ম! ইকেল মধুস্থদন 1) তারই কা'ব্য ব্যক্তি মাগ্ষের শক্তির প্রচণ্ড 
স্ক'রণ দেখা গেল ৷ ধর্ম ও গতান্ুগতিকতায় বিদ্রোহী ও আত্মবিশ্বাসে বলি 
মধুন্দন জীবন ও সাহিত্যে শক্তির অপূর্ব সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন, 
কিন্ত পরক্তন সংস্কারমুত্ত চোতে পারলেন না বলে, আপনার অঞ্ঞতসারে 
বিধি ও নিয়তিরই অপ্রত্যক্ষ জয় ঘোষণা করলেন | তবু একথা সত্য তারই 
কাব্যে দেবদ্ধিজে বিশ্বাসী দর্বল মানুষের চেয়ে শক্তিপৃপ্ত মানুষের সাহস ও 
জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া! গেল। তাঁরই অসার্থক অনুকারী হলেন হেম- 
নব! ও কায়কোবাদ | এদের ক!রুর কাব্যেই বলিষ্ঠ জীবনের পরিপুর্ণ রূপ 
ফুটে উঠলোনা. শক্তিমান জ।বনের খোলস বিশেষের আড়ম্বর ও তাশ্ফালন 
দেখা গেল প্রচুর । ৩৮ 

দেশ কিন্তু তার জীবন ও সাহিত্যে এ আকম্মিক পরিবতর্নের জঙ্ট 
মোটেই প্রস্তুত ছিলনা! । (পশ্চিমের জীবনের আঘাতে সুপ্তোখিত বাঙালী 
হঠাং মাথ! নাড়া দিয়ে আবার চিরকালের (সই বীধাধরা নুপ্ডির দিকে 


৮৮ সাহিত্য ও সংদ্বতি 


ডুব দিতে গেল ।) কিন্তু এর ভেতর দিয়ে জীবনের যে ম্বাদ তার! গ্রহণ 
করলো! তার ফলে এত কালের ধর্মবিশ্বাস পরকালমুখ। দৃষ্টির ও প্রাকৃতিক 
পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হলো তার নগণ্য গৃহ,- প্রেমময়ী নার। আর তর 
নিজের সুখ-দুঃখের সংবাঞ্গ, ভক্তি শাসিত আশা, ও আননের সুখ ঃখের 
পান,__ আত্মবিশ্বাসের না হোলেও বিশ্বাসের ও আত্মনির্ভর-শীলতার অবস্ত 
নয় ত৷ সত্য; কিন্তু প্রকাশভঙ্গীনায় 'ও প্রকাশকের নিতান্ত অন্তমু্খী তার তা 
অত্যন্ত শ্ৃতিস্থখকর ও মধুর ! বিহারীলালে এই ভাবালুতার আরম্ভ ও 
রবী দ্রনাথে তার চরম পরিণতি । 'ব্রবীন্দ্রকাব্যে জবন ও জগতের প্রতি 
গভীর অনুভূতির নুল্মাতিনুস্্ প্রকাশ ও বিশ্বাত্বীয়তাবোধের যে একান্ত 
আরতি দেখা যায় বাঙলা সাহিত্যে তা তুলনাহীন, তবু বৈদাস্তিক ভাবসাধ- 
নার ও বৈষ্ণবীয় অনুস্ভূতির দড়ান্ত প্রকাশ রবীন্রনাথেই ভোয়েছে একথা 
নিঃসন্দেহে । মতজীবনের সকল সম্বন্ধ, সকল পরিবেশের বন্ধনজাল ছিন্ন 
কোরে ভাবের তুর।য় লোকে অনন্ত সত্তার সঙ্গে লিলা বিলাসে ও আত্মত্বপ্তি- 
তে যে লুখ রবীন্দ্রনথ তারই উপাসক। সেক্ুক্ম অনুভূতির চর্চায় মান্য 
এমন রহস্ত-রসিক, সুফী ভাবাপন্ন ও নিশ্প্রাণ হোরে ওঠে যে জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী 
থেকে, সেখানে বাচবার কোন অধিকারই তার থাকে না । সেখানে তৃপ্তির 
ও আনন্দান্ুভূতির চরমক্ষণে মৃত্যুই হয় মানুষের চরমকাম্য, সেই মিলনই 
তার চরম নির্বান ও পরম মুক্তির একমাত্র সোপান |) 

(অবশ্ত রবন্দর-প্রতিভা হচ্ছে বন্ধমুখী এবং বহু দেশ ও বহু জাতির জীবন' 
দর্শ তার প্রতিভায় এসে মিশেছে । তাই দেখা যায় তিনি শেষ পর্যস্ত একান্ত 
আত্মান্ছগ সৌন্দর্য সাধনা থেকে নিজেকে অনেকটা মুক্ত যে না করতে 
পেরেছেন তা নয় এবং দেশের সাধারণ জীবনের অতি নিকটে এসে 
উম্মত দৃষ্টি নিয়ে দাড়িয়েছেনও কিন্তু দেশের শিক্ষিত সাঁধারণেরা দেশের 
অলস আবহাওয়ার ও রবীন্দ্রক|ব্যের সুষ্ধাতিহুপ্মরস ও ক্গিদ্ধ মনোহর সৌন্দর্য- 
চার নেশায় মেক্দগু-হীন হোয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক চেতনার ' কলে 


নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট্য ৮৪ 


তবু নাঙালার মধ্যে কিছুট। প্রাণ-চাঞ্চল্য এ স্বদেশী আন্দোলনের সফলত' 
দেখা গেছে ; নইলে এ জাতির স্থান যে কোথায় হোতে৷ তা সহজেই 
অন্মান করা যায়, পরিষ্কার বলতে হয় না। (পৃথিবীব্যাপী তখন প্রথম 
মহাযুদ্ধের হ্ুত্রপাত, পরেই যুদ্ধে সভ্যতার ভিত্মুল পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে, 
জীবনবুদ্ধে যারা মোটেই শক্ষিত নর তারা জীবন-মৃত্যুর সামনে দড়িতে 
আতঙ্কিত ও শিহরিত হচ্ছে, তারই প্রচণ্ড আলোডন এ মৃত বাঙালী 
।তিকেও ভঁত ও অন্স্ত কোরে তুলেছে । সেই দিনে অদ্ধরদ্ধ রবীন্দরনাথই 
অবগ্ তার বাণপ্রস্থের আবাসভূমির মারা কাটিয়ে চির অথর্ব এ বাঙালী- 
জাতির তরুণদের অছ্বান করলেন») 

ওরে নব'ন, ওরে আমার কীচ। 

ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, 
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাচা । 


সং ৫ সঃ 
শিকল দেবর & ঘে পুজাবেদী 
চিরকাল কি রইবে খাড়া! 


পাগলামী তুই আয়রে ছয়ার ভেদি”। 
ঝড়ের মাতন বিজয় কেতন নেডে 
অট্টহান্তে আকাশ খান! ফেডে, 
ভোলানাথের ঝোলাঝুলি ঝেড়ে 
ভুলগুলো সব আনরে বাছা-বাছা৷ | 

আর প্রমত, আয়রে আমার কাচ: ॥ 

(বীজরনাথের এই আহ্বানে আবেগ আছে প্রচুর, ৰাঙালীর চিরকালের 
টর্বলতা ও সংস্কার-গ্রীতির শিকল দেবর এ যে পৃজবেদীা” ভাবার 
দুঃসাহসিকতা ও আছে যথেষ্ট কিন্ত তার এ ৰাণীর মধ্যে বিদ্রোহ করার 
প্রতি রইলেও সোহাগের ও জেহের টানে তা অনেকখানি দুর্বল হোরে 


৯০ সাহিত্য ও সংস্কতি 


পড়েছে । জীবনধুদ্ধে বাপিয়ে পড়ার আহ্বান এ নয় 1) 

(তং সেই দিন বাঙালীদের য'রা “ঘরছাড়া লক্ষ্মী ছাডা' হোয়ে প্রাণের 
মায় ত্যাগ কোরে বেরুতে পেরেছিল তাঁরা দেখেছিল তাদের পত্ুী'চালিত, 
মাতৃলালিত, অঞ্চল-আশ্রিত এবং ধুতিচাদরপরিহিত বাতাসে হেলেছলে চলা 
জীবনের সঙ্গে ষথার্থ বলিষ্ঠ জীবনের পার্থক্য কোথায় । এ তন্দ্র'কাতর 
ভাবশাসিত জীবনের সোন্দ্য আছে তা শুধু কমমর জীবন-বিচ্ছিন্ন শিল্প-চর্চাষ, 
কিংব! শ্বশুর বাড়।তে, নইলে বাপিগঞ্জের কিংবা অনুরূপ কোন লেকের 
পাড়ে কিংব। নঞ্ঈীর ধারে ; কিন্তু জীবনের অস্তিত্বেরই যেখানে কোন স্থিরত 
নাই, অনবরত যেখানে বোমা ফাটছে, বিগ্ঠৎ চমকাচ্ছে, ঘন খন 
অশনিপা'তত হচ্ছে, এরে!প্লেনের শে] শে। এ ঘর ধ্বনি, কামানের গঞ্জন, 
এয়ার ক্ুয/ফটের কর্ণ-বিদারক আওয়াক্ত, লোহায় লোহায় ঘর্ষণ, তরবারির 
বান্‌ ঝন্‌, ভূমিকম্পের গুম্‌ গুম্‌ শব্ধ, মেঘের ডমরুধবনি, স!ইরেনের ক্যাক্যা 
বনুধার মৃত্যষক্তুন!র কাতরানি, মানুষের পৈশাচিক মৃত্যু, তার আকুল 
ম্বা্তনাদ যেখানে াচবার কোন উপায় অবলম্বনই নাই- প্রাসাদের 
আরাম বিলশের উপকরণ, মমতাময় নার,র শ্লেভের কোন কথা যেখানে 
মনে পড়েন'--মাটি শুকনা, ভেজা, বারুদের গন্ধভর! কালে! মাটি যা 
একেবারে নিরাভরণ অথচ মাধষের সবচেয়ে প্রিয় আশ্রয়, যে মাটিকে 
তকছে ধরে প্রাণের মমতার কামড়ে পড়ে থাকবার অন্তিম পিপাসা জাগে, 
যে মাটিকে বুকের আলিঙ্গনে বেঁধে নীচে--আরও নীচে চলে' যেতে ইচ্ছে 
করে__সে খ্ধু প্রাণে বাচবার জন্ট, পৃথিব।র শেষ নিঃশ্বাসটুকু নেবার জন্ত-_ 
জিবনের এই যঘ বিভাধিকার বি এরও ওক ভয়াবহ বীভংস সৌন্দর্য 
আছে। দে সৌন্দর্যকে মুখোমুখী সাক্ষাৎ করতে হর, প্রাণের পেয়!লা উজ্াড 
কোরে দিয়ে মৃত্যুর মধ্যে বাস কোরেই মৃত্যুঙয় হোতে হয়। তবেই আসে 
শক্জি সাহস আত্ম'প্রত্যর, বিজোন্ধের ভাব এবং মানুষের জীবনে অসম্ভব 
সম্ভাবনার ইংগিত | 


নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট) ৯৯ 


(মহাযুদ্ধের এই ওয়াবহ জীবন সৌন্দর্যের পৃজারী কবি হলেন হাবিলদার 
কাজি নজরুল-ইসলাম [) নজক্ুলের সঙ্গে বাঙালির এর পুর্বে কোন পরিচয় 
হয়নি । বুদ্ধক্ষেত্রের কোন্‌ বিরাট প্রাঙ্গনে কবি একান্ত গোপনে তর সাধনায় 
সফলত৷ ল!ভ করেছেন তা৷ বাঙালী জানবাঁরও অবসর পাঁঞ্জনি। হঠ।৫ এক- 
দিন শোন। গেলে গতানুগতিক বীণার স্থর ছেড়ে কে এক বাঙালী কৰি 
ড্রানের ধ্বনি-নিঘোষে বাঙালীদের আহ্বান করছেন, 

ওরে আয় ! 
এ মহাসিম্ধুর পার ভোতে ঘন রনভেরী 
শোনা যায়” 
ওরে আয় ! 
এ ইসলাম ডুবে যায় 
যত শয়তান 
সারা ময়দান 
জুড়ি' খুন তার নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে 
জয়গ|ন শে।ন গায়। 


সং চু ০ 
ওরে আয়। 
এ ঝন ঝন ঝন রণ ঝন ঝন ঝাঞ্ধনা 
শোনা যার ! 
কিৎব। 
৬ ক্ষেপেছে পাগলী মায়ের দ্বাম!ল ছেলে 
রী কামাল ভাই, 
অস্ুরপুরে শে।র উঠেছে জোরসে সমাল 
স|ম।ল তাই! 


কামাল তুনে : কাম।ল কিয়া ভাই ! 


সাহিত্য ও সংস্কাত 


91 
লিড 


হো হো ক।মাল তুনে কামাল কিয়া ভাই! 
মু সণ 
দ্রাম। দ্রাম! ড্রাম! 
(লফট | রাইট! লেফট। 
লেফট। বাইট ! লেফট। 
দাম! ড্রাম! ভ্রম! 

এ যেন বুদ্ধন্ষেত্রে।খিত যুদ্ধেরই ধ্বনি | এতে ভীত ভোলেও জীবন ও 
যৌবনের কাছে এর আবেদন কখনই অগ্রাহ হয় না । তাই বাঙালী সেদিন 
জ।তিধগরনিবিশেষে মুসলমান কবি নজরুলকে অকুগ্টচিতে বরণ কোরে 
নিয়েছে | এবং একদিনেই তিনি আব।ল-বুদ্ধ বণিতার কৰি হোবঝে উঠে- 
ছেন | ্‌ 

(অনে রাখতে হবে মুসলমান ঘরে নক্তরুলের জন্ম | মুসলম।নের জীবন:- 
দশ কোমলে কোমল কিন্ত ভীষণতায় ভয়ঙ্কর 1)(নীতির সৌন্দ্ধ এবং ব্যব- 
হরিক জীবনের সহজ স্বাভাবিকত্বই এককালে নি/ংগতিতে গুথিব।ময় 
ইসলামের জধয।ন্র! ঘোষিত কোরেছিল কিন্তু তারও সঙ্গে মিশেছিল 
অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার দর্বার সংগ্র/মের সাপন।, পুধিবীর প্রচলিত ও জড়ত্ব- 
5.|প্ত ন।তির বিরুদ্ধে বিঞবের গ্পুভা | মুসলমান জ।বনের এই শিক্ষা ও 
সেনিকের আদশ মনো বুদ্ধি ভাবগ্লানিত ভারতভুমিতে পড়ে কিছুকালের 
মধ্যেই ভাব|লুতায় ৬রে' ওঠে । (ইসলামিক ও ভরত এই ঢুই সংস্কৃতির 
সংখাত উত্তর পশ্চিম ভারতেই সংঘটিত হয়েছিল |) সেখান থেকেই ঘুসল- 
মানের কৃষ্টি সমঞ ভারতে বিস্তৃত ভোয়েছিল। সেখানকার প্রারৃতিক পরি- 
বেশও মান্ষকে অনেকট| কমঠ কোরে তোলে, তাই দেখ। যায় আজ 
পর্স্ত সেধানে ইসলামের বলিষ্ঠ জীবনসাধন! ভাত্বতীয় ভাবধ।রার আফিংএর 
নেশার ঘোর ক|টিয়ে অনেকটা অক্ষুন থাকতে পেরেছে এবং ইকবালের মত 
ঈসল/মেব কবির জন্ম (সেখানেই সম্ভব ভোয়েছে কিন্তু রাজধানী দির্লী তথা 


নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট্য ৯ 


ইসল।মের আদর ও সংস্কতি-স:ধন।র প্রচার নেত্র উন্র-পশ্চিম ভারত থেকে 
বাঙল!দেশ বরাবরই একরকম বিচ্ছিন্ন ররে গেছিল | এদেশে ইসল'ম য! 
€চারিত ভোযেছে তা আনে কট। অধ্যাজ্মবাদ। আউলিয়া ব। সাধকদের দ্বারা । 
পলিম।টির এই বাঙল[দেশের মুসলম।নদের জীবন গোড়া থেকেই এদেখায় 
প্রাকৃতিক পরিবেশের দগ্ধ আবহাওয়ার প্রাবিত ভোয়েছে ৷ তাদের জীবনের 
'আদশ বির্নব সাপনার ভেতর দিয়ে তেমনভাবে অঞসর হয়নি | তবু ভাতি- 
স্মর কবি নক্তক্লকে অবলম্বন কোরে ইসলামের উদগ্র জীবন-সাপন' যেমন 
এক'দকে একালের ঘনীভূত জঞ্াল কেড়ে ফেলে মাথ' নাডা দিযে উঠবার 
প্রয়াস পেয়েছে তেমনি বাঙলার অংদিম হন্দ্রখোরও হনেক্টট! কেটে 
উঠেছে। ) 
দরিদ্র ঘরে নজরুলের জন্ম । দারিদ্যের কঠোরতা মাধামমত।শুন বন্ধনভীন 

জ।বন, যুদ্ধের ভিংল 9 ৈশ।চিক পরিবেশ, সেখানে টিকে থাকার হ..পাস্ত 
প্রয়াস এবং সর্বে পরি ইসলামের বলি& জ।বনবোধ নজরুলকে ঈ।বন সঙন্ে 
এক অভিনন্‌ গ্রকাশভঙ্গী দান কোরেছে, কোরে লেছে আ.ম্বশক্কির 
উপ|সক এবং ভুঁগয়েছে এদেশের চিরাচরত শিস্িয় নিলিগুভাব ৪ আছ ও 
ক্গনাদের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষণা করার তত্র প্রবাহ্তি। তাই তিনি এত 
কালের নিধিনিধেধের শিকল ভেঙে জুখ্ি থেকে দেশকে হকি দিবার জন্য 
চারণ কবির মত গান গেয়ে বেড়িয়েছেন, 

ভমি--জানি জানি এ আষ্টার কীকি 

_ শগির এ চার: 

ই বিধি ও নিয়মে লাথি মেরে, 

.ঠঁকি বিধাণ্ভার বুকে ভাতুড়ি। 

আমি-_জানি জানি এ হয়ো ঈশ্বর 

দিয়ে যা হয়নি তবে তাও, 
তাই--বিপব জানি বিদ্রোহ করি, 


৪ সাহিত) ও সংস্কতি 


নেচে নেচে দিই গোফে তাও | 
কিংবা, 
মম ধূর্জটি শিখা করল পুচ্ছে 
দশঅবতারে বেঁধে ব্যাটা করে, 
থুরাই উচ্চে, ঘুরাই-- 
আমি অগ্নি কেতন উড়াই! 
কিংবা, 
শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর 
সাথে পঞ্জা 
আমি উন্মদ, আমি বঞ্জা, 
চর স সং 
আমি মুন্ময়,। আমি চিন্ময় 
আমি অজর অমর অক্ষয় আমি অব্যয় ! 
আমি মানব দানব দেবতার ভয়, 
বিশ্বের আমি চির দুর্জয়, 
জগদীশ্বর ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য, 
আমি তাথিয়! তাখিয়! মথিয! ফিরি - 
এ স্বর্গপাতাল মত ! 
এই পৃষ্টিভঙ্গী এবং দুর্বার প্রাণ-শক্তিই নজরুলকে ভববুবে কোরেছে 
এবং শেষ পর্যন্ত এই শক্তিই তাকে (কোরে তুলেছে বিদ্রেহী | (বাঙলাদেশের 
গতান্গগতিক দৃষ্টিভঙ্গী, তার বিধি ও বিধানপ্রীতি এবং সর্বোপরি আত্মশক্তির 
প্রতি যে অবিশ্বাস বাঙাল।কে তিলে তিলে নিজৰ কোরে তুলেছে যার 
ফলে বাঙালা দৈন্) ও দারিপ্যের মধ্যে বসবাস কোরেও, এমনকি প্রবল 
অত্যাচারী ও জমিদার শ্রেণী করুক শাসিত ও শোবিত হোয়েও আপন 
অনুষ্টকে ধিক্কারও দিতে শেখেনি বরং সেই দৈন্কেই আপন অৃষ্টের একান্ত 


নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট ৯৫ 


নিদান বলে মেনে নিয়েছে, এই মৃতপ্রায় প্রাণ-্পন্দনহীন জাতিকে তার 
নুযুস্তি থেকে জাগিয়ে তোলার জন্ট তিনি আত্মবিশ্বাসের ও বিদ্রোহের জয়- 
গান কোবলেন, তাকে ভাবতে শেখালেন-_-মানগষ ছোট নয়, মান।ষর আত্ম' 
শুধু ভয়েই সন্কচিত হোয়ে ওঠে, ভয়ের ধাধন ছিড়ে ফেলতে পারলে সে 
দেখবে দারিত্্য তাকে ভিধার। করে ন', মান্ধষের চোখে তাকে হেয় ও হীন 
করে না_দদেয় উদ্ধত উলঙ্গ দুষ্টি' আর “অসঙ্কোচ প্রকাশের ঢরম্ত সাহস 1”) 
বাঙাল:র প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার কন্ঠ তাই তিনি বলতে বাধ্য 
হোলেন, 
বল বীর, 
চির উন্নত মমশির ! 
শির নেহারি আমারি, নত শির 
ওই শিখর হিমাড্রির ! 
বল বীর, 
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি, 
চক্র সুর্য গ্রহতারা ছাড়ি” 
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া, 
খোদার আসন “আরশ' ছেদিয়া 
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাত্রীর 
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জলে 
রাজ রাজটাকা দীপ্ত জয়শ্রীর ! 


বল বীর 
আমি চির উন্নত শির ! 
সং সং সং 


(মান্য আত্মশক্তিতে স্বপ্রতি্ হোলে দেখতে পায় সে কত বড়, বিধির 
কাছে তাকে যেতে হয় না বরং বিধিই তার কাছে এসে ধরাদেয়; সে 


রি সাতিত্য ও সংহতি 


তোতে পারে তিমালয়ের মত যার লগাট চুম্বন কোরতে শাকাশ নেমে আসে 
অথচ তাকে আকাশের দিকে অধর উতকঠা নিরে চেবে খাকতে হর না? 
ধার সত্য আমর! ইকবালের কাব্যেও দেখতে পাই 

অ|র হিম লা" আয় ফাসিলে কেশ ওরে 


হিন্দৃস্ত 
চুমতাভার, তেরি পেশানিকো ঝুঁক 
ক'র আসর 11, 


এই সম্পূর্ণ নুতন দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙাল।র জন্ত বীবরসের ভিঞ্জান চডিফে 
এজরুল বল্লেন, 
আজ হৃষ্টি নুখের উল্লাসে 
মে'র চেখ হাসে মোর মুখ হাসে 
আর টগবগিরে খুন হাসে 
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে 
(ক্রাৰনের সাপনাই হুলো যৌবনের সাধনা । জীবনের তেঞ্জ, তর দুর্জয় 
পাহস, অনুষ্ঠিত মনে!ভাব, সাহসবিস্তৃত বক্ষপট, রক্কের সঙ্ঈ।ননহ', প্রাণের 
ঢাঞ্চলা, ঈ।বন-যুদ্ধে স্বিধাহীনভাবে ঝঁপিয়ে পড়ার আগ্রহ যৌৰনেই সম্ভব! 
“» বন জ'বনের মধ্যমণি | সেই যৌবনে জীবনের সমস্ত শ্লাধন আল্গ! 
কোরে দিয়ে জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করার মধ্যে যে ভীষণ মাদকত! 
আছে বাঙালীর কাছে তা একেবারেই অজ্ঞাত 9) আুজরুল এই দিক দিনে 
তার পূর্বলারী, ত।র অগ্রজ, ইসলামের প্রাণ-সাধনার কবি ইকবালের ভাব- 
শিষা। দৃপ্ত যে'বনের গুণগান কোরতে গিয়ে ইকবাল বলেন--যৌবনের 
ঈনত্তাস এক উন্মাদকর, বৈচিত্র্যময় হঃসাহসিকতার ইন্তিহাস, গুতিরাত্রে 
_তন স্ব দেপ!র, নৃতন রং রেখার স্ষ্টির ইতিহাস, রক্জের উগুসাধনার 
ইতিভাস--কারণ তিনি জানেন, 
'তায় শাবাব আপনে লঙ্থকি আগমে 


নজরুল প্রতিভ!র বৈশিষ্ট্য ৯৭ 


জালনেক' নাম | 
শাখতে কে।শিসে হায় তাল্খে 
যেন্দেগানী আন্গবি 
'আপন রক্তের আগুনে জলার নামই হলো যৌবন, জীবনের কষ্ট এই 
যৌবনের সাধনায় অপূর্ব মধুরতায় ভরে ওঠে 1 
এও সত্যি, কেন জাতীয় জীবনে যৌবনের আগুন যদি এমনিভাবে 
জলে ওঠে তা হোলে পৃথিবীর বুকে এমন জাতি নাই যে তাকে দ|বিরে 
রেখে শোষণ কোরতে পারে । নজরুল এই সত্য ভালো কোরে 
বুঝেছিলেন | তাই তার “টগবগিষে খুন হাসার” সংবাদ আপন দেশে 
এমনভ'বে পগুচার কেরে আশার ও অংশ্বাসের বাণী ছড়িয়েছিলেন, 
তোরা সব জয়ধ্বনি কর, 
তের: সব জয়ধ্বনি কর, 
এ&ঁ নৃতনের কেতন ওড়ে কল বৈশেখীর ঝড় 
তোর; সব জয়ধ্বনি কর, 
তোর! সব জরধ্বান কর । 
সেদিনের বাঙালীর নজরুলের এই ঘিধাহীন প্রাণচাঞ্চল্য ও ভর্বার 
শক্তি-স।ধন।কে এত সশ্রদ্ধ চোখে দেখেছিল যে খেল।ফত আন্দোলনের 
কৰি হিসাবে তাকে বরণ (কোরে নিতে তাদের সঙ্কোচ হয়নি । আর 
বাঙলার সন্ত্রাসব!দীর দলও এই কবিকেই দিয়েছিল তাদের জয়মাল্য। 
রাজ'নতিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি তর সমস্ত শক্তি নিয়েই ঝাপিয়ে 
পড়েছিলেন । তার জণ্ত অনেক নির্যাতন ও খারাভোগ পর্যস্ত তাকে সহ 
করতে হয়। তিনি তা ভ্রক্ষেপ করেননি । তাই দেখি বাঙলার বুকে যে 
ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছিল এবং অসহযোগ আন্দোলনে ও যা সার্থক ভাবে জলে 
উঠলোনা বাঙলার যৌবনে সেই অভিমান বাঙালী কবি নজরুলের 
লেখনীতে রূপায়িত হচ্ছে, 


৪৮ সাহিত্য ও সংগতি 


আমি ভেঙে কর সব ঢুরমার, 
আমি অনিয়ম উচ্চৃঙ্খল 
আমি দলে যাই যন্ত বন্ধন, 
যত নিয়ম কান্তন শৃঙ্গল। 
জীবন সধন্ধে তার এই চেতনার মম গর ভোতে মা হাতেই 
বাল ওকপিন দেখতে '.পলো। কবির হাতের তলোর'র (কন আঘাত 
একেন|রে গ্রামের লাশরাতে পরিণত হোয়ে গেছে | ত। আর মাথ ভাঙদে- 
॥", গলা? কাটছেন!, মধুর সুন্দর ঈূর তুলেছে, 
নাগিচায় বূলবৃলি তুই কল শাখাতে 
দিমৃনে আজি দোল 
আক্ষে। তোব কলকলিদের তুম টোটেনি 
তত্্রাতি বিলোল 1" 
সঙ্গঈতের এই মধুর সর ঝঙ্কার আমাদের দুঃখিত কোরেছে যতটুকু তারও 
চেরে নেশা কোরেছে মুগ্ধ | কারণ উন্মাদনা হয়ত এতে চিলন। সত্যি, কিন্ত 
এ সর নৃতন ছন্দে ও ভ!নমাধুর্ধে বাঙালীকে এমনভাবে মুগ্ধ করলো! যে চির- 
কালের ক্রন্দন প্রিয় বাঙা!ল' অবশেষে এবও কাছে আস্মসমর্পন করলো 
নজরুলের আকম্মিক শ্ই পরিবত'নে ছঃখ করার আমাদের অনেক কিছু 
আছে কিন্ত বিশ্মিত হবার তেমন কিছু 'নই। (করণ পূর্বেই বলেছি এদেশের 
প্রকৃতিতে করুণ রসেঃই প্রাধান্ট । এদেশের হাড়ে মাংস, অস্থি মজ্জায় 
কারুণোর এবং কায়ার ছড়াছড়ি, কোমল মূল আবভাওয়রিই বাড় ; বীররস 
এদেশের ভেক্তা মাটিতে বিশেধ ফলেনি | তাই গেথি মধ্ল্দনও গলে 
গেলেন, অন্ুকার, হেম-নবী'ন ও কায়কোবাদ ভোলেন নাস্তানাবুদ আর 
রৰ ক্রনাথ এদেশের খাত বুঝে ওপথে পা বাড়ালেন না 1) নজরুলের 
সত্যিকার ঘা ষ্ট এবং ঘ' তার ভাবদুষ্টিতে গভ.রতা লাভ কোরেছে তা 


নজরণ্ল প্রতিভার বৈশিষ্ট্য ৯৯ 


তার এই প্ত|মাসঙ্গীত, বৈষ্ণব গান ও গজল গানে । এই বিশেষ বিশেষ, 
সঙ্গীতের সাহায্েই তিনি দেশের ধুলে! মার্টির অন্তরে প্রবেশ পথ 
পেয়েছেন | তবে একথা সত্য যে এখানে তিনি একলা নন, এখানে 
তার বৈশিষ্ট হয়ত থাকবে চিরদিন কিন্তু নজরুল যেখানে ব!ঙলা 
সাহিত্যে অমর এবং যেপানে তর জুড়ি কোন কালে খুঁজে পাওষা যাবে 
কিনা সন্দতে তা তার পুর্বার আমর সাধনা, অত আন্মবিশ্বাম ও 
বেদন।লাঞ্চিত মানবতার অবুষ্ঠিত জঞ়গ।ন করার জন্ঃ এই বিদ্রোহের ভাব 
য| ভরত কৃষ্টি হিসেবে খুন বঙ নয়, হত তির অনেকখনিই উচ্ভ্বাস, 
অনেকটাই ধ্বনি ও শবের ব্যঞ্নাতে ভত্তি তবু একথ: অবিসংব।দিত সত্য 
যে নজরুল চিন্তালেশহান ভাম্বর লপলাট চ্দ চি ত।রুণে,র কবি, যে'বমের 
কবি এবং বুদ্ধের কাব।) নজক্ষল-প্রুতিভার এই টুবশষ্ট) সেকালের 
ব।ডালীকে যেমন বিশ্মিত ও মুগ্ধ কোরেছে চিরক!ণের তঞ্চণ-তিন শী ক ফুস- 
সমাজকে প্রাণের অপরিস,ম শক্তিন আবেদনের জথ তেমন ভাবেই এুগ্ধ 
কোরবে। নঞরল প্রতিভা তাই একটা বিস্মখ, ধমক্ঠের মতই তার 
আবিঠাব ; ৯কিত ঝলকে সে প্রতিভা হঠাৎ তার পক্ষ*:ট' বিস্ত/র (কারে 
ব1ঙল!র আকাশের দিগদেশ উঠ্/সিত কোরে পরক্ষণেই অন্থভিত ভোরে 
গেল। তার প্রতিভার এই যে বিদ্যন্দপ্তি 5৯০৪ 0০, এর সঙ্গে বাঙলা 
কৰি মাইকেল ম্হুদনের প্রতিভার তুলনা হএ। উত্তর ক্বিই তাছের 
কাবে)র উতকষের দিনে ঝড়ের বেগে ৮লেছিলেন | ত.ই দেখা যায় 
উভয়েই সেই ঝড়ের তাগুব গৃত্যে আত্মধবংসকারী প্রতিভার দেব; করতে 
গিয়ে ধ্বংস ও হৃষ্টির মাঝখানে বসে য| কিছু দেওয়ার তা এক নিশ্বাসে দান 
(কারে দিয়ে উধাও ভোয়ে গেছেন । 

(বিশবব্যাগা ছিতীয় মহাযুদ্ধের পর জীবন নিখে এই টানা হেচড়ার দিনে 
জীবন সম্বন্ধে নিজীব মৃত বাীলীরও যখন দুষ্টিভঙ্গা বদলাচ্ছে এবং তার 
সাহিত্যও (যখ।নে গতানুগতিকতার পথ ছেড়ে স্বতন্ত্র আলোর পথের 


৯০৩ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 

"সন্ধানে ছুটে চলেছে তখন প্রশ্ন জাগে এ পথে শেষ পর্যন্ত কোন্‌ দৃষ্টিভঙ্গী 
জয়। হবে? এতে নজরুলের প্রদশিত পথ কোনো সহায়তা কোরবে কি? 
তাঁর প্রতিভার যে বৈশিষ্ট্য বাঙালীকে হয় ত. বাচিয়েই দিয়ে গেল সে 
প্রতিভ! কি বাঙাল।র কাব্যে কোন স্থায়ী জ্বাচড়ই কাটবে না। কৰি বেচে 
আছেন । আমাদের বড় ভাগ্য তিনি জীবিত (থেকেও বাঙলার বিক্ষুব্ধ 
পরিবেশে কোন সহায়ত1 কোরতে পারবেন না। যে “আগ্েয়াদ্রি _বাড়ব- 
বহ্নিকালানল-কবি তার অগ্নিগঞ্ থেকে এত লাভানিঃদরণ কোরে এককালে 
বাঙলার আকাশ অতুযুজ্জল (কোরে তুলেছিলেন-_-ঞ£খ হয়, তিনি কি তার 
এই যোগ-প্রভাব মুক্ত হবেন না? তী।র ঘুম কি আর ভাঙবেনা ? 


মিল্লাত, 


ঈদ সংখ্য', ১৩৫৩ | 


বাঙল। কাব্যের নতুন ধার! ও নজরুল 


সাভিত্য বন্ত ও আদর্শবাদ সন্ধে একটা তর্ক চলে আসছে । এ তক 
আজকের নয়, বহুদিনের | অত্যাধুনিক কৰি সাহিত্যিকদের অনেকে বস্তু 
বদের নামে বস্তুর প্রান ছেড়ে খোলস নিযে টান! হ্েঁচড়া করে থাকেন। 
তাদের বোঝা উচিত যে সাহিত্য বস্তর হুবহু প্রতিলিপি নয়, ক্য|মেরায় 
তোলা ফটে|গ্রাকও নয় | আ|দশবাদের কথ। বাদ দলেও অতিবড় বস্ত- 
তাগ্ঠিক সাহিত্যও শিল্প,মনের পরিচয় থাকে । জদয়ের জারক বসে বাঙিয়ে 
স।হিত্যিক তার অনুস্ভতি লন্ধ সত) ও সম্ভার প্রকাশ করেন। 

[কিতরাং সাহিত! জীবন নয়, জীবনও সাহিত্য নয়। সাহিত্য ও জীবন 
পরম্পর পরস্পরের পরিপুরক। জ'বন ও সাহিত্যের মধ্যে অথর কিংবা 
বিরোধকে কেন্দ্র করেই সাহিত্যের সৌধ নিধান কর! হয় | যে কবি কিংবা 
সাহিত্যিক জীবন ও সাহিতের ব্যবধান ঘুচিয়ে, তাদের মধ্যে নিকটতম 
সেতু যে'জনা করতে পারেন, মনে হয়, (তিনিই আদর্শ বস্তবাদী সাহিত্যিক |/ 

(সুতরাং যুগ ও জ।তির প্রানম্পন্দনকে বাদ দিয়ে যে সাহিত্য, সমালোচনার 
আদশ মাপকাঠিতে সে সাহিত্য যত বড়ই (হাকন! কেন, “স সাহিত্যকে 
নিষে মানুষের মনে দ্বিধ। দ্বন্দের অবকাশ থাকে | 

সর্বহর কালের নিম কবলে, নজরুল সাহিত্য কালজয়ী হবে কিনা সে 
প্রশ্থের মীমাংস। কালই করবে | আমাদের দিক থেকে তার বিধান দেওয়ার 
ুষ্টত| ন। থাকাই ভালো । 

[তিবু এ কথা অবিসংবাদিত সত্য যে বততমান বিংশ শতান্দীর দ্বিতীয় ও 
চতুর্থ দশকের মধ্যে পাক ভারত উপমহাদেশের বুকের উপর দিয়ে যেসব 
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্তা জটিল আকারে দেখা দেয়, তাতে অগণিত 


১০২ সাভত) এ সংস্কৃতি 


মানুষের জীবন ছুবিষহ হয়ে ওঠে । বাউলাদেশই জঅমূহ সমস্ত/র বিষে 
বিশেষভাবে জর্জরিত হয়|) 

(শতাবীর প্রথম দশকে বঙ্গভঙ্গ, দ্বিতীয় দশকের সুরুতে বঙ্গভগ রদ ও 
শেষে খেলাফত আন্দেলন এবং এরই সমস'মফিক ফুগে গাঙ্গীজীর অসহযোগ 
আন্দোলন, এবং দেশের রাজ'নতিক মুক্তির ন্ট যুবশক্তির জন্ত্রসবাদ । 
এসব বহুবিধ সমস্তা ও আন্লোলনে বাঙলা দেশ তুমুল ভাবে আলোড়িত 
হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নজরলের শৈশব, কৈশোর 'ও যৌবন অতিবাহিত 
হয়। তার কবি মানস দেশের এই অশান্ত পরিবেশ বছিত এবং পুষ্ট ভে 
ওঠে এবং তার স্পশকাতর প্রানে এ অভিনব সমস্তাগুলি অ|লোড়ন তোল 
যুগ ও জাতির এ সমস্ত, গুরুত্ব যে কত গভার 'এব. সুদূর প্রসারা, ত৷ 
চিগ্তাশাল মানুষ মাত্রই উপলব্ধি করতে পারেন | জ।তায় জ।বনের এঠেন 
পটভূমিতে ইংল্যাণ্, ফ.ন্দ 4 রাশির প্রভা ত (শে মভ। বিশ্ব সাধিত ভয়ে 
গেছে । ছাত,য় জীবনের ড্াঁদনে কাগ্ডারা সেজেছেন, সে সব দেশের কবি 
সাহিত্যিকেরা | ) 

বিদেনা রাজশক্তি কিংব। স্বরর্থসংঠিই দেখা প্রতিক্রিয়াপনীদের কান 
নিম্পেষনই কোনদিনই জ1ঙত জাতি ও মান্ভাবর কঠকে রোধ করতে 
পরেনি | ঠিক এবং এতিঞিধার স্বাভাবিক নিয়মে বলে হলেও গন- 
শক্তিরই জর হঝেছে অবধ।ত | দেশের রাজ'নতিণ ও অর্থসনাতিক পট- 
ভূমিতে থুগ ও জাতীয় মনের সংগে নজরুল যেভাবে নিজকে জড়িত করে- 
ছিলেন, 5। সত্যই বিস্মরকও | দেশের নাড়া নক্ষত্রেব সঙ্গে কবির আত্মিক 
যোগ স্তাপিই ন। হলে কোন কবির পক্ষে "দশের সমস্ত[বলকে কাব্যের 
রসায়নে সিশ্ কর সত্যকার কাব) সাভিত্য গ্ষ্ট করা সম্ভব হয়না। 

এধিণ থেকে বিচ।র করণেই স্ব।ক।র করতে হয় যে নজরুল সাহিত্য 
বাঙলা সাঠি/ত্য একটি নতুন যুগের স্বত্রপাত করেছে এবং নতুন আশার 
সন্ধান দিয়েছে । 


বাঙলা কাব্যের নতুন ধার ও নজরুল ১০৩ 


বিংশ শত'ব,র তৃতয় ও চতর্থ দশকে বাঙলা দেশে মার্নস'র চিন্তাধারাকে 
স্রন্নপরন করে সাভিত্য শ্ঈি করার একটা হ্িডিক পড়ে যায় ।(যুগের সমস্ার 
সুষ্ট সমাধান সাহিত্যিকের! দিন বা ন' দিন, সেই সমস্তা সম্বন্ধে সগ্তেন 
5ওরা এবং ত!কেউ সাহিত্যের প্রান “কন্দ্র ক'রে তোল।র মধ্যেই ফটে ওঠে 
কর্ব মনের সজীবতার লক্ষণ | দেশের অধিকাংশ জমন্ত!ই দেশের সম্পদ 
বণ্টনের ৈষম্যজ!ত | অর্থনীতির এই সাধারণ প্রশ্নই যুগে যুগে দেশকে 
নানা সমশ্ত।র স্চখীন করেছে । আমাদের দেশের অর্থন।তি কৃষি'নিন্ভর | 
মাটীই এ দেশর কড সম্পদ | “সই মাটীরই সুষ্ঠ চাষ এবং তার সুষ্ঠ বন্টনই 
এদেশের অর্থন তিকে দৃঢ ভিভ্িকি করতে পারে | নজরল যে এ বিষয় 
সম্পর্কে সম্পূর্ন অচেতন ছিলেন তর কাব্য থেকেই সে ইংগিত আমর' 
পাই £-_ 
মাঝিরে ত!র নাৎ ভ'সিয়ে 
মাটীর বুকে চল । 
শান্ত মাটীর ঘায়ে হউক রক্ত পদতল | 
প্রলয় পথিক চলবি ফি'র 
দলৰি পাহাড ক'নন গিরি । 
ই]কছে বাদল ঘিরি থিরি 
নাচছে সিন্ধু জশ 
চলরে জলের যা! এবার 
মাটীর বৃক্ষ প | 
প্রাক পাকিস্তান য্‌গের হিন্দু মুসলিম সংগ্রাম ৭ সংঘর্ষে দেশের প্রান- 
শন্তির অপচয়ে কবি বেদনা বোধ করেছেন £ 
অসহায় জাতি মরেছে ডুবিয়' জানেন! 
সম্ভতরন 
কাগারী ! অল দেখিব তোমার 


১০৪ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


ম।তু মুক্তি পণ। 
হিন্দু না ওর! মুসলিম 'এ জিজ্ঞ।সে 
কোন জন। 
কাগারী বল ডুবিছে মানুষ অন্তান 
মোর মার। 
মানুষকে মানুষ হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে । দরিদ্র অশিক্ষিত ব'লে, 
সমাঞ্জের নিষ্মশ্রেলীতে জন্ম বলে, মানুষকে দূরে সরিয়ে রেখে সুবিধাব।ঁ।র' 
যে সুবিধা ভোগ করছে তাদের বিরুদ্ধে নজরুলের অভিযান | এ অন্যান 
অত্যাচারী সুবিধাবাদী দের আমু (শষ হ'রে এসেছে, সে বিষয়ে তার 
সিদ্ধান্ত স্থির £- 
এদিকে দিকে বেজেছে ডঙ্ক! শঙ্কা 
নাহিক আর! 
মরিধার মুখে মারনের বানী 
উঠিতেছে মার মার ! 
রক্ত য! ছিল করেছে (শ।ষন, 
নীরক্ত দেহে হাড় দিরে রণঃ 
শতশ তান্দী ভাঙে নি যে হাড়, সেই 
হ|ড়ে ওঠে গন 
জর নিপীড়িত জনগণ জয় ! 
জয় নব উত্থান! 
জয় জয় ভগবান । 
টদ €র্বার যৌবনের কবি নজরুল মহা বিপ্লবে দেশের শক্তিকে উদ্ব্ধ, 
করে গেছেন । দেশের যগ য.গান্তের যব শক্তির ও নিপাড়িত মজলুমের 
অভিনন্দন নজরুল চিরদিনই পাবেন | য.গের শ্রদ্ধা যিনি পেয়েছেন, দেশের 
ইতিহাসে তার আস্ন স্ডায়ী। 


নজরুল প্রতিভার বৈশিষ্ট্য ১০৫ 


মুসলিম এঁতিহ ও সংস্কৃতি নজরুলের হাতেই বাঙলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম 
জবস্তরপ পান । মুসলিম জীবনের আশা আকাঙ্খার বূপ|য়নেও বাঙলা 
সাহিত্যে তিনি কারুর অনুসারী নন বরং অভিযাত্রী'কবি। সেখানেও তিনি 
মবয,গের প্রবর্তক | 

যুগ ও জাতির সমন্তা সম্বন্ধে সচেতন হ'য়ে বাঙলা কাব্য সাহিত্যের 
নৃতন ধারার হ্ৃত্রপাত করেছেন নজরুল | তার পরবর্তা কয় বছরের বাঙলা 
কাব্য সাহিত্যের খতিয়ান নিলেই মনে হবে যে সেই পথ ধরেই বাওল৷ 
কাব্য সাহিত্য এগুচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও রগুবে | 


মাহেনও 
মে, ১৯৫৪। 


কবি শাহাদাৎ হোসেন । 


শাহাদাৎ হোসেন ১৩০০ সালে (১৮৭৩ খ্‌ ষ্টাবে) ৯৪ পরগনার বারাসাত 
মহকুমার পণ্ডিতপোল এামে জন্মগ্রণ করেন। তিনি মধ্যবিত্ত ঘরের 
সম্তান। আমাদের এ শতাব্বীর প্রথম কয়েক দশকের মুসলম।ন 
সাহিত্যিকদের মতো৷ কলেজী শিক্ষার সৌভাগ্য তারও হয়নি । 

১৯১৫ স'লে বণীর হাটের কৰি ভূক্তঙ্গ ধরদের “বাণী সন্মিলনী' নামক 
এক দাহিতা চক্রের এক অপিবেশনে কবিতা পড়ে তিনি সর্ষপ্রথম 
স!হিত্াযর আসরে প্রবেশ লাভ করেন! নজরল আসেন তারও বছর 
পাচেক পরে! সাহিত্যের ইতিহাসের দিক (থকে শাহাদাত হোসেন 
নজরুলের বরোজ্যোষ্ট | 

শাহাদাৎ ভোত্সন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন! তিন 
একধারে ধপন্টাসিক' কবি, নাট্যকার ও ছোট গল্প লেখক । এদিক থেকে 
বাঙালী মুসলমান জাঠিতািকদের মধ্যে মীর মশার হোসেনেরই 
তাকে উত্তর সাধক বলা য'্। সাহিত্য সষ্টির আনন্দ বেদনায় অধীর মীর 
মশারফি ক্রোসেনের মানস :প্রকৃতির সঙ্গে শাহাদাত হোসেনেরই আশ্চর্য 
সাদৃগ্ঠ লক্ষ্য করা যায়! মীর সাহেবও রচন। করেছিলেন নাটক, উপন্যাস 
প্রশ্ুসন, রচনা ও কবিতা | তবে মীর সাহেব গগ্য লেখক হিসেব সমধিক 
পরিচিত | আর শাহ!দাৎ তোসেনের প্রতিভা শ্মরিত হয়েছে তার 
কবিতায় । 

শাতাদাং হোসেন ছোটবডোতে গোটা তিরিশেক গ্রন্ত রচনা করেন। 
তার রচিত গ্রন্থগুলির নাম £-- 

উপন্যাস £--১1 মরুর কুদ্ম। ২। হিরণ রেখা! ৩। পারের 
পথে। ৪1 স্বামীর ভুল। ৫।| ঘরের লক্ষী | (েয়াতরী। 


কবি শাহাদৎ হে।সেন ১০৭ 


৭। সেনার কাকন। ৮। রিক্তা। ৯।| যুগের আলো। ১০। 
পথের দেখা । ১১1 কাটাফুল। ১২। শিরি করহাধ। ১৩] 
লায়লী মজনু । ১৪ ইউণ্ফ জুলায়াথা | 

নাটক ১--১। সরফরাজ বা। ২। আনার কলি| ও | মস- 
নদের মোহ। 

কবিত! £--৯। মুঙ্গ। ২। কমলেখা। ৩। বপচ্ছন্দা | 
মধুচ্ছন্দা | 

শিশু পাঠ্য পুস্তক ৮--১। মোহন ভোগ। ২। ছেলেদের গল্প । 
৩| গুলবদন। 8৪ জাহান।রা। 

এ ছ।ড়াও তার রচিত বু কবিতা ও কিছু গণ্ন মাসিক (মোহান্ম্দী, 
সওগাত প্রভৃতি মাসিক পত্র পত্রিকায় ছড়িয়ে রঝেছে। 

শাহাদং হোসেনকে [বচার করতে হবে তার হট্টির সাহায্েই। 
সাহিত্/ক্ষে৫তরে তিনি নজরুলের বঝেজেষ্ট হলেও মুসালম চিত্ত জাগরণে 
কিংবা সমসাময়িক কাপের বিভিন্ন আন্দোলনে নজরুলের মতে। তিনি 
খক্রিয় অংশ গ্রহণ 'করেননি । ১৯৩১ সালে আইন অমান্ত আন্দোলন 
উপলক্ষে কলক।তার মির্জাপুর পার্কে একটি বক্তৃতা করার জন্তে তাকে মাস 
তিনেক সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। তথাপি ১৯২০ স/ল থেকে 
খেলাফত আন্দেলন, আইন অমান্ড, কি অসহষেগ আন্দোলন এবং 
সন্ত্সবাদ প্রভৃতি রাজনৈতিক মানসচাঞ্চল্য ও চিত্ত বিক্ষোভ তার সাহিত্যে 
কোন স্থায়ী আ্বাচড় কাটতে পারেনি। তিনি যুগের কবি ছিলেন ন|। 
ঘুগের রাক্বনৈতিক পরিস্থিতিতে যতট,কু সাড়া তিনি দিম্সেছেন তা নিতান্তই 
যুগের আর পাজন সাধ|রণ মানুষের মতোই । 
মুসলিম এঁতিহথ ও মুসলিম ভারতের ইতিহাসের কতকগুলো অংশ তাঁর কবি- 
প্রতিভাকে চমংকৃত করেছে এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর আর পীচজন খাটি 
মুসলমানের মতে! মনে প্রানে তিনি উল্লসিতও হয়েছেন, নিখিল মুসলিম 


১০৮ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


জাহানে পাকিস্তান যে বিশ্বমুন্লিম ত্রাতৃত্বেরই পূর্ণবিকাশ হৃচনা করেছে এ 
আশা ও আশ্বাসে তার জদয়ও উদ্বেলিত হয়েছে, তবু শাহাদং হোসেনের 
মানস প্রকৃতির বহিরাবরণ হিসেবেই এগুলে। বিরাজ করছে । তাঁর কবি 
প্রকৃতির যথার্থ বৈশিষ্ট্য এ নয় । 

শাহাদং সংখ্যা এলানে "আমি যখন ছাত্র ছিলাম" শীর্ষক তার যে 
জীবন স্মতিটুকু বেরিয়েছে তার একজায়গায় আছে “কবিতা লেখা এবং 
আবৃত্তি কর! তখন যেন আমার একটা ম্যানিয় হয়ে গিয়েছিল । তখনকার 
বুগের পারিপাশ্বিক অবস্থা এর অনুকূলে ছিল বোলেই বোধ হয় এটা সম্ভব 
হয়েছিল। মা ইকেলের দুন্দুভিনাদে প্রতিধ্বনিত বাঙলার মধ্যগগণে তখন 
রবীন্দ্রনাথ ভাস্বর কিরণে প্রোজ্ছল আর. তাঁর চারপাশ ঘিরে ্যাতিত্মান 
গ্রহগণের অপূর্ব সুন্দর সমাবেশ, কাজেই দে পারিপাশ্থিকতার মধ্যে 
কাব্যের অগ্ুপ্রেরণা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোলেই মনে হয় 1” এ কথাগুলোর 
ষযধ্যেই শাহাদাং হোসেনের কবি প্রকৃতির একটা আশ্চর্য বৈশিষ্ট) লক্ষ্য 
করা যায়| ূ 
শৈশব ও যৌবনে তিনি চর্দান্ত প্রকৃতির থাকলেও যে পারিপাশ্থিক তায় 
তার কবি মন তৈরী হয়েছে তা অনেকটা শাস্ত। বঙ্গভঙ্গ রদ এবং খেলাফ 
আন্দোলনের মধ্যবর্তী সময়ই তার মানস গঠনের কাল । বাঙলার অপেক্ষা- 
কৃত এ শান্ত পরিবেশে বহুকাল বিগত মাইকেল মধুহুদনের গুণগ্রাহী 
ভক্তরা' একে একে নিঃশেধিত হয়ে আন্ছে, হেমদব।নের ডম্র ধ্বনিও 
বাঙলার কাব্গ্কানে আর শোনা যায় না। রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার 
পেয়ে জগং সভার স্বাকৃতি লাভ করছেম। তখন বাঙলাদেশেও রবীন 
প্রশস্তি চলেছে । 

এ পারিপাশ্বিকতায় অলক্ষ্যে শাহাদাত হোসেনের যে মন গড়ে উঠেছিল 
তা" সম্পূর্ণভাবেই “রবিদীপ্ত | ( জীবন ও জগৎকে রবীন্দ্রনাথ দেখেছেন 
আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে, তাতে মায়াঞ্জন লাগিয়ে । সংসারের 'সাধারণ 


কবি শাহাদত হোসেন ১৯ 


মানুষের ব্যথা ছন্দ, ঘত গ্রতিঘ|ত, শখ ৫ঃখ সংসারের আর পাচ জন 
মানুষের মতোই তাদের একজন হরে রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করতে চেয়েছেন 
কিন্তু তার ভাগ্য, তিনি মানুষের সংসার রঙ্গমঞ্চের বহিদ্বরে দাড়িয়ে তাদেরই 
আনন্দ বেদনার সংগীত সার্বজনীন অনুভূতিতে সিক্ত করে পরিবেশন করে 
গেলেন। সংসার রঙ্গমঞ্চের একেবারে মধ্যস্থলে প্রবেশ করে সাধারণ 
মানুষের সঙ্গে সংস।র জীবন[ভিনয়ে অংশ গ্রহন করে তার হৃষ্ট মানুষকে 
তিনি আপনা থেকেই বিকশিত হতে দিতে পারেননি । এই ব্যর্থতায় 
তিনি ব্যথাক।তর হয়েছেন এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন- 

হে রাজন ভুমি আমারে 

নাশী বাজাবার দিয়াছ যে ভর, 

তোমার সিংহ দুয়ারে ! 


অন্তরের ত্রন্দনে তাকে করেছে রোমার্টিক | যেখানেই তার এ-রোম।ন্টিক 
মনের ছোয়া লেগেছে তাই অপকপ সৌন্দয সঈ্বমাষধ এবং অপরিসীম 
লাৰণ্যে উদ্ভাসিত হয়েছে । নইলে মগ্তজীবনে মাধুরী পান করানোর জনে) 
তার এমন 15710 05 বা অন্তবিদ্দারণ শান] যতন] 
গ্ামলা বিপুলা এ ধর।র পানে 
চেয়ে দেখি আমি মুগ্ধ নয়ানে 
সমস্ত প্রানে কেন ষেকে জ'নে 
ভরে আসে স্বাখি জল। 
বহু মানবের প্রেম দিয়ে ঢাকা 
বু দিবসের সুখে খে আকা 
লক্ষ যুগের সংগীতে মাথা 
স্থদর ধরাতল। 
কিংবাঁ 
সখ ভাসি হবে আরও উজ্জল 


১১৪ " সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


শুন্দর হবে নয়নের জল, 
স্নেহ সুধা মাথা বাস গৃহতল 
আরও আপনার হবে । 
গেযুসী নারীর নয়,ন অধরে 
আর একটু মধু দিযে যাব ভরে 
তার একটু নে শিশ্দ মুখপরে 
শিশিরের মত রবে । 


শাহাদং হোসেনের কবি প্রকৃতি এবং তার মনের কাঠামো (যে খটা 
রোমান্টিক এবঃ তিনি যে কবি হিসেবে রবন্দ্রনথেরই (প্রেরণা-পুষ্ট এ দৃষ্টি 
ভংগী থেকে বিচার করলে তা অত্যন্ত সহজবোধ্য ভয়ে ওঠে । রবীন্দ্র 
ন!থের মতোই তিনি সত্য ও সুন্দরের সাধনায় নিজেকে নিয়োক্তিত কণ্র- 
ছিলেন । তিনি নি্ধেকে কল্পলে।ক বিহারী বলে অভিহিত করেছেন । “ধরণীর 
কেন্দ্রকুপ্ত তার কাছে প্রব/সভূমি । জীবন এ জগতকে এ মাযাঞন দিয়ে 
দেখলে এ ফেখার আর "শষ থাকেন! | খন “যেন রূপ লাগি আখি ঝুরে।' 
শাত|দং হেসেনেরও তাই 2 
“মত দখি বাড়ে সাধ, 
কি অর্বপু প্রান বসে 
হয়ে খাকি ভোর । 
অনুভূতি জেগে ওঠে, 
শুদ আখি ভিল্জ যায, 
গলে যায় হিয়াখানি মোর |” 
এ দেখাতে তে। তৃপ্ডি নেই £_জী'বনকে দেখবার এ নেশা যাকে এক- 
বার পেয়ে বসে টুবঞ্চব কবির মতোই-_ 
ভাকেও বলতে হয় 


কবি শাহাদৎ হোসেন ১১১ 


জনম অবধি হাম রূপ নেহারন্ু 
নয়ন ন'তিরপিত ভেল। 


শাহ।দং হাসেনেও তর কোন বাতিক্রম দেখিন। 1 তিনিও বলেন 


আজো সে রয়েছে বস গ্তামল মায়ায় 
রূপছবি আআকিতেছে কল্প তুলিকায়ু। 
( অবতরণিকা| ) 

এ রোমার্টিক মনো বৃতির জন্তেই শাহাদং হোসেন নজরুলের মতো যুগের 
চারণ কবি হ'তে পারেননি | মুন্সী মেতেরুল্প', শেখ আনছুর রহিম মোজা- 
শ্ষেলহক, ইসমাইল হোসেন শিবাক্ত', ইয়াকুব শালী চৌধুরী এবং লুত্ফর 
রহুম/নের মতো এ যুগের বাঙালী মুসলমানের উদ্ভব যুগের ইসলামী! সাহিত্য 
রচনা করতে পারেন নি, স্ষ্টির বেদন!য় আধুনিক মুসলমানদের সাহিত্য গুরু 
মীর মেংশরফ হোসেন এবং কায়কে'বাদের মতোই মুসলিম ইাতহাসের যে 
অংশটুকৃতে আকৃষ্ট হয়েছেন মুগ্ধ ভৃঙ্গের মতোই সেরস আহরণ করে 
কাব্যরস পিপানস্থদের জন্ঠ বিতরন করে গেছেন । 

শহাদং হোসেনের কাব্যে ভাষায় ও ছন্দে একটা অভিজাত মনের 
পরিচয় আছে । তাঁর কবিতার ভাষায় যে শব্দ চয়ন ও শব যোজনা দেখি 
তার গান্তীর্য ও ধবনিব্য ন! মধুহ্ছদনের 12351098] ভংগীর কথা ম্মরণ করিয়ে 
দেয়। মধুল্ছদনের মতো তার ভাষা কবি-ভামা নয়, তাই বলে তার শব 
গ্রস্থনের দু বলিষ্ঠ নৈপৃন্ঠ তর কাবোর নিতান্ত বতিরাবরণ হিসেবেই বিরাজ 
করছেনা । তিনি তার অন্ুধ্যেয় এবং ধ্যানলন্ধ জগৎকে যুক্তাক্ষর বহুল 
তংসম শবের অনুরূপ ধ্বনি স্যৎনার মাধ্যমে আশ্চর্য শিল্প কুশলতার সঙ্গে 
সংগীত মুখর করে ভূলেছেন | রবীন্দ্র নাথের 17971200 মন এবং দেহ 
গঠনের দিক থেকে মাইকেলের ০1৪5৪1০ পদ্ধতিই ত।র অনুকরণীয় ও অ.দর্শ 
ভিল। রবন্জ্ প্রভাবাধিত কবিদের মধ্যে শাহাদৎ হোসেনের বৈশিষ্টও 
সেখানেই । 


১১২ পাহিত্য এ ঈস্কতি 


বিংশ শতাবঈ'র দ্বিতীয় দশক থেকে চতুর্থ দশক পর্যন্ত রবীন্ত্র এবং 
নজরুলের ষ.গেও তার এ বৈশিষ্ট্য ছিল অগ্গুঞঠ । তিনি যতবড়ো শব্দ 
কুশলী কবি ছিলেন, তার হৃষ্ট সাচিত্যে ততটা বা]ন্তি ও গভীরত।. দেখ। 
যায়না । বাঙলা সহিত্যে তিনি কতকাল টিকে থাকবেন ভাবী কালই তার 
বিচার করবে। বাঙালী মুসলমানের নিজস্ব সাহিত্য সুষ্টির জ্ উনবিংশ 
শতাবীর শেষ দিক থেকে আমাদের ভবিব্যং বংশাবলীর জন্যে এ যাব যার। 
নিজেদের উৎসর্গ করে আসছেন অবিসংবাদিত ভাবেই শাহাদৎ হোসেন 
তাদের একজন | আমর শাহ।দং হোসেনের যথার্থ মর্যাদ। দিতে ন। পারলেও 
সে ইতিহাসে শাহাদং হোসেনের নাম আক্লান হয়ে থাকবে । এ কালের 
আমরা শাহ|দং হোসেনের কঠ আর *্নবে! না, তা চিরদিনের জন্ত নীরব 
হয়ে গেছে । যে প্রাণ সদালাপ ও মিষ্ট ভাষণে, নম্র ব্যবহার ও ভদ্রতায়, 
শালীনরুচি ও গুণগ্রাহিতায় উন্ুখ ছিল সে প্রাণের লাড়া অর পাওয়া 
যাবেনা । আত্মার বন্ধুদের এ-বেদনার সাত্বনা কোথায়? 


বাঙলা সনেটের পটভূমি - 
( ক) 


সাল ভাবার ব& সনেট রচিত তইরাছে, কিন্ত সনে সন্তু আলোচনা 
খুব বেণা এ শাউ, সুতরাং আমাদের সনেট স্ম্পকীর আলোচনা নিতাঙ্গ 
মপ্াসাঞ্গক তইবে শ! বলিয়! আশ' করি । 

(সনেট ক ভাষ!র কি সাহতো। ইটালি হইতে উদ্ভূত! সম্ভবতঃ ইটা- 
লারান *১০7০0০* (11006 5০০7৭, “ছাট্ট মৃধবনি) শান্দ ভইাতি সনেটের 
উত্পতি | সনেট স্বান্মভনাত্মক গীতি কবিতারই অঙ্গীভূত। আদি গীতি 
কবিতা যেমন বীণ' সংযোগে গীত হইত, আদি সনেট ও “তেমনি মূলতঃ 
সঙ্গীতকপে আবহ হইত ! গীতি কবিতার অন্র্গত হইলেও সনেট ভাবে ও 
গঠন প্রণালীতে সাধারণ গীতি কবিতা হইতে স্বতন্ত্র! গীতি কবিতায় একটি 
শব নানাপ্রকার বর্ণবচিত্রা লাভ করিতে পারে এবং কল্পনার গাস্তীর্য ও 
বৈশ্চন্র। থাকা সন্ধেও প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত সেখানে একটা অখণ্ড ধ্বনি- 
স্রোত প্রবাতিত হইতে পারে কিন্ত সনেটের ভাবের বৈচত্রোব প্রযোজন 
নাই, একটা অর্মনরদ্ধ গভীর ভাব, আস্তর প্রেরণ।র পুষ্ট হইয়া অথণ্ড সঙ্গীত- 
ধ্বনি সৃষ্টি করিতে পারিলে্ হইল | পথিপাশ্সের অযত্তববিস্তস্ত শ্বভাবক্ত পুষ্প- 
গন্ধের সভিত গীতি করিতার তুলনা করা যায় কিন্ত সুদক্ষ-তন্তের সযত্ববিন্তস্ত 
মালঞ্চের পুষ্পন্থুরভিই সনেটের উপমান | ) 

| সনেটের গঠন অন্ঠান্ত যে কোন কবিতা হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ধ ধরণের | 
চতুর্দশ চরণের নিশিষ্ট মিলযুক্ত কাঠামোই সনেটের দেহ-ভাগ গঠন করিয়া 
থাকে | দেভ এনং আত্মার সার্থক মিলনেই একট: পরিপূর্ণ জীবন | সনেটের 
চতুদ্বশ চরণের নিগণ্জ-বন্ধন শুধু তাভার দেহের বাহিক রূপ নভে ) এ বন্ধন 


১১৫ পতিতা এ সবস্ক তত 


তাহার আম্মরও। সনেটের শ্াম্মা কাবর মনোগত ভাব! ভব যত 
ভর, জমাটি এস প্বিপক হইবে সনেটের পাহিক আববণ'ও ততই ছুসম্বদধ 
5ইয়া উঠবে | আগ্রার ক্ষতি যত অধিক, প্রাণশক্তি যত বেখা, তাহার 


শ্সমি 


ন 
ধু 


[হাক শ্রণ্বপনেণ কঙ্গিন-পাডনের দ্বীপ্তিও ততই উজ্জ্বল | 'একট! অন্তি 
গভীর ভাবণ: বা জদয়াবেগকে ক্ষদ আকারে প্রকাশ করিতে হইলে তাহার 
ক্ষুদ্র হইলে চটির না, স্ভিতিস্াপক পলরখেধ মত তাভকে যত চাপিয়' ছোট 
করা হইবে ততই কেন হাভ'র সেই সতত শক্তি আরও বদ্ধি পাউতেছে 
বালিয়' মনে হএ ! এই জগ্টহ সনেটের নাগপাশের পষ্ট |" অন্থর অগ্ুভৃত্তির 
একটি প্রিপুণ ক্ষণনুহূন্তকে চিরস্ারী করিতে গিধ: যে শাগপাশের চষ্টি করিতে 
হ্ এবং তাভাতে “য একটা! অথণ্ড নঙ্গীতলোত শি ভইঝ! থকে হইতে 
পার আপি ঘনেট পচখি তার ইহাই ছিপ পরম লোঙনীয় বন্ত | ) 

আদ কাব শ্ব্প ছন্দ ভংসমিগনের একটির বিঝোগ ব্যথ।য় কাবপরের 
শদ্$ 'বগলিত ক'বয়, “যমন করণ।র উত্সপারাষধ নিত ভইর়াছিল তেমনি 
এাপি চানেট€ স্বতঃশ্,৬ প্রমপ|রাত নিষিন্ত হহধা ইটাল,য় কবি দান্তের 

"লেপনীমুগে সংক্রামিত € উৎসারিত ভইয়াছিল। দীন্তের (১১ ১৫-১৩৯১ 
শ) 4১11210007৮ 05 ঠাভার পির! বিরাত্রিচের জন্ তিনি তাহার হদয়ের 
“ন প্রেমগাথ' রটন: করিয়াছেন সেখানে ১১ টি গীতি কবিতার মধ্য ১৫ টিউ 
সনেট । 

1 গুদর মথিত কবিরা প্রেমের যে নুদমধুর গুপ্ন উ্িত ভয়, যে সুক্ষ বাথ: 
ও দীর্ঘ অন্রণন পবনিত ভইয়! উঠে এবং যাভার ফলে প্রাণের নিত তত্্ীটি 
গভর ভাবে আলোড়িত হইয়া মার, প্রতিভাশালী কবি ঈধরের সেই সিদ্ধ 
গল্ঠার ন্যগ[ বিহ্বল মধুর ভাবটিকে বাধাই,ন ভাম' « ছন্দে ব্যাপ্পু করিয়া ন। 
দয়! সনেটেব ক্ষুদ্ধ পবিসার চাপিয' পরিবা রাখিতে াভেন | এই জন্যই 
বোধ ভয়, গ্রাতভাশালা বপিরা নিজের অন্তি গোপন* নিড়ত নিঃসঙ্গ বাসনা, 
ক্তি গভীর ? শাস্থুবিক ভাবান্ুডুতে প্রকাশের পক্ষে ঘনেটকেই  বাতিনকাপে 


ব।ঙল। সনেতের স্টক্থুমি ১৯ 
গন্ভণ শাররাছিলেন 1 
 অবগ্ত প্রেমহ সনেচের একমত বিষববন্ত শত | ইউরোপাষ কাবা" 
সাতে প্র ছডা অন্টান্। বিষয়বস্তুর উপরে€ নেট বত ৯ইরাছে। 


তবে সেখানেও একটা বেশিষ্্য এই “য সবএ একটা গভ!র আবেগ, 
+1১55801) লু 15120076100 উ সহ সপেচেব প্রাণ তি করিখাতিচ | 


স্ল্ 


1). (৪. (২০১5০) ভাঠার 417167১6৫91 110 এর নুখবন্ধ স্বরূপ “য সনেট 
।লাখরা চলেন তাভাতে দেখি 

/& 50101760175 15 17001006108 1801)1)10175671( 

২1100175211 90) 056 5011৯ ভা 086৮ 

10 0150 ৫20 058,0116১5 1)01)1- ১7০ 

৬ ১011106101৯ 2 0051), 10১ 1806 1৬915 


[76 ১০৭]], 
সনেট আন্ঠর অন্ুভাতর 41701075105 10001001001 ভ বূটে। 1 
[ সনেট প্রসঙ্গে আর একটি কথা আম!দিগকে ম্মবণ রাখিতে ভইবে | 
সুধু ভাবগণ্ভীরতা এবং আবেগ থাকিলেই সনেট ভইবে না, তাভাতে ডে 
কোন উৎকৃষ্ট গতি কৰি হ।রও জন্ম ভইতে পারে । ভ।লর চি সন্চ 
তাহা এমন পুষ্ট ভওধা চাই যে তাহা ঘেন আপন প্রযোজনবশে ক্ষ কাল- 
ধরের মনেটের আকার অনুসন্ধান করে । ১151661" 'এবং 10017665170" এর 
মধ্যে এমন একটা 'আসঙ্গলিঞ্চা, এমন একটা জঙ্গাত থাক! চাহ এয তাভ। 
(যন (দত ও আজ্মার মিলন কামনা করে । ভাবের সঙ্গে পের এমন একট' 
সুসম্বপ্ধ। সঙ্গতিই একাশ লাভের জনক সনেটের কঠিন বন্ধনাগ।র খুজি লব । 
এই জনই সনেট লেখকের বিশিষ্ট প্রতিভার প্রয়োজন | এই সঙ্গে 
ইংরাজ সমালোচক ১717৮ 1.০ এর মন্ত্না বেশ উল্লেখযোগ্য | শ্তিতি। 
বলেন- 
“00670506501 15010001076 21030110000] 1017171৯001 


1০০0১, 0115 005 1011651 00170120200 01 (০ 10717017105 01 


১১৬ সাহিত্য এ সংস্কাঁত 


1811504156 210 1076 111১5500901 01 0115 201 0081700001762- 
(101) €1)১২015 51300085৮61 016 076৮11৬0101) 1011) 01), 
১170516175৯ 01 06: 1004. ৮1010] 811 105 0013507000101) ৯৫৫0৯ 0০ 
ঢো৭৮, 811001118965 (06 0618510)10801615 688৮ 01 700017- 
[0191)116171,৮ 


[ উক্ত মন্তব্যের শেষা্শটুকু দেশীয় এবং বিদেলার অপিকাংশ সনেট লেখ- 
কের পক্ষেই প্রযোজ) হইতে পারে । কিন্ক যাহ। বলিতেছিল!ম-_ 
দ্াস্তের পরে ইটালীয় সাহিত্য 40710) (১৩০৪-১৩৭৪ থ্‌হ। সনেট 
রচন। করেন । দান্তের সনেট হইতে পেটরাকের সনেটেব আ'ক্রতি ও 
প্রকৃতিতে নেশা পার্থক্য না থাকিলেও পেটরার্ক ভাভার পুবপত। কৰিব 
দান্তের খ্যাতি অনেকখানি ম্লান করিয়। দিরা আদি সনেট লেখক হুসালে 
বিপুল ধশ অর্জন করিয়! বান | আজ পর্যন্ত অনেকে তাহ।কেই আদি এ 
মূল সনেট রচয়িতা বলিষা জ|নেন | তানার সনেটে প্রধানতঃ ঢইটি বিভাগ 
দেখা যাষ | প্রথমভাগ প্রত্যেকটি চারি চরণের করিয়া আট ৮রণের ঘইটি 
শ্রোকে গঠিত 1 ইহাকে বল। হর ০০৪৮ ব! অষ্টক | ইহার মিল ৪177) ৭3 
৪04, প্রধম চারি চরণের পরে একটু বিরাম এবং আট ঢরণেধ পরে 
পর্ণচ্ছেদ | দ্বিতায়ভাগ “১6561. বট. ক" নামে পাঁরচিত! ইভ। ছয় 
চরণে গঠিত | ইভার মধ্যেও ঢইটি ভাগ আছে, প্রাত্যেকটির নাম র্রিপর্দিক। 
বা “৩০০1, ইভার মিল বিহ্টাসে কিছু স্বাধনতা থাকিলেও প্রধানত: 
৫০, 00৭ বা০এ ০৩, 00০ বা০৫, ০৫, ০৫ এই মিলে গঠিত 
হইয়া থাকে | আদি 41১61410107)" সনেটের মিলনিস্থাসে কিছু রপভেদ 
থ[কিলেও প্রাগুক্ত ব্ূপই বহু প্রচলিত এবং সমথিত | অষ্টক এবং মটকের 
ঢই ভাগের প্রথম ০০৪৮৫ বা অষ্টকের মধ্যে একটা অঠভুতি ব| ভাবের 
উদ্বোধন হইবে এবং বট.কের মধ্যে সেই ডাবই ক্রমশঃ ব্যাখ্যাত ব। 
বিবর্তিত ভইবে | (9৮৪ এ মোটামুটি ভাবের উত্থান এবং ৯৫৯৪: 
“সে ভাবেরই খনবিস্তস্ত পতন থাকিবে । আর ৮0৪1০1৮। জনেটের 


বাঙলা সনেটের পটন্ুমি ১১৭ 


মূল বৈশিষ্ট্য এইখানেই । 

[ ছটালীঃ সনেটের অনুকরণে যোডশ শতাব্ীতে ইংরাজি সাভিঠে) 
সর্বপ্রথম সনেট রচিত হর | 10)017775 ৮৮৮ (১৫০২--১৫৯২) এবং 
১017৫ ইংরাজি সাহিত্যে সনেটের প্রথম উদ্বোধক | তাভাদের সমহৃতে। 
আরও বনু কবি উংর।জিতে সনেট রচনা করেন | ১7৫১র পরিত্যন্ড 
সনেট-তস্থাতে শেক্সপারার গর যোজনা করেন এবং তাহ।র ভবনজর: 
প্রাতডার সাহায্যে ইংরাজি সাভিত্যে সনেটের স্থান সুপ্রতিঠিত করির। 
যান। শেক্সপীধারের এই সনেটগুলিতে তাভার একান্ত ভাবানভূতিমুণক 
বাক্তিনিষ্ট পরিচয় পাওয়া যার ।  শেকসপায়ারের সনেট সব্ঘন্গে ৬০-৭$- 
৬0101) বলিয়াছেন, “৮7010 005 56৬176 8010016৫ 101৯ 16405 
'পট.রার্কের সনেট হইতে শেক্সপীর|রের ইংরজৌ সনেটের মৃলবিইাস স্বতনগ 
পরণের 'ছল। তাভার সনেটে প্রধানতঃ চারি ৮রণের করিয়! তিনটি 
00980210৯ বা শ্রোক থাকিত এবং পরার ছন্দের মত পরস্পর মিলযুক্ত 
ঢইটি চরণে শেষ ধারণা নিবন্ধ হইত | তাভার সনেটের ০0০৮1৮। এর 
মিলবিষ্তাম হইত ৪. 0৪ 1, ০৫ 0 0, এবং ১০১৮৮৮এ ৩ 65৪ 2 
৪ 5. ইংরাক্ষি সাহিত্যে শেক্সপিয়ারের সনেট 75181 বা ১112106১- 
[১6757৮75012 নাখে প:রচিত | মিলটন পেটরাক এবং শেকপার।রের 
মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করিয়াছিলেন কিন্তু পেট পাকের দিকেই তাহার লক্ষ্য 
ছিল বণ । পরবর্তীকালে ৬৮০:৫১৮০7। এবং 1২০১৪০৮। প্রামুখ বহু 
রোমান্টিক কবি সনেট রচনা! করেন |] ৮৬৮০7৫১৮০7৮ এর আদর্শ চিল 
খাঁটি *1১507101781) 50101761, ড৮০7:১৮০]। এর প'রাটি অনু 
হইয়! তাহার ও তাভার পরবর্তী যুগে অনেক উত্কষ্ট সনেট ইংরাজি 
সাভিত্যে রচিত হয । | 

€ খ ) 
প্রথমদিকে ব! উল। সাহিতে) সনেট ছিল ন;: পয়!র, |এপষ্গী পাচালী, 


রা 


১১৮ সভিত্য ও সংস্কাতি 


লাচাড়ী ইত্যাদি ছনই প্রচলিত |ছুল। ১177728 দা ম্তবক নিভ1গণও 
বাঙল। পছ্ধে পাওয়া যায় গাই । বাউলা পছ্যে স্তবক “বভাগ কখন ভইতে 
আরম্ভ ভর তাহ ও নিশ্চিত বল। যায় 
সর্বপ্রথম স্তবক বিভাগ "দখি | কবিতায় ৬!ন থম ভইতে শেষ পরন্ত 
একটা পণ দেভ প্রাপ্ত হইলে সেই ৬বেরও আবার দেহ |নভাগের 
প্রয্ণোজন হয় | সই ভাব দেহের এক একট।| ভাগের শামহই ১7728 ন! 
স্তবক | গ্রত্যেকট। স্তবকে যেমন এক একট। ছোট ডন ক্ষণরিত য় 
“মান একটা পুর্ণ সঙ্গত-রাগিন। ধ্বনি ত ভইরা] উঠে | 81৮1১১1১৪ কি ব। 
তদপ্ধক চরণের এক একট! স্তবুক গঠিত হইয়া থাকে | এই ১৬ গ্রণের 
একট। পুর্ণ স্তবককেই সাধারণভাবে সনেট বল। য'ইতে পাবে । 

+উনাবংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সাঙালার প্রাণে এ তাভার সাভিতে) 
নব্-জ।বন সঞ্চারিত হয় | পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং জাভিত্যের ভাব্প!রা অল্প 
কয়েকজন বাঙাল'র জাবনে 5ষ& ভবে প্রতিফলিহ ভইখ উঠে | এই 
সমর বাঙাল:র কাব্য সাহিত্যে মাইকেল মবস্থদন পাশ্চাত্য ভাবাদশে 
দীক্ষিত ভইরা মভাকাব), শীত্তিকবিতা ই হা।দি এবৃভিন্ গ্রুক!রের নল নব 
অধ্যায় যোজন। করিতে থ/কেন | এই হে তিনিহ সাঙল। সাহিত্যে 


ন।।' যাঁদ9 ঈঘর ওই অ'মর 


সনেটের প্রবত্ন করেন | মেখন।দনপ কাব) বচনার প্রায় সমসামায়ক 
কালেই ধধুন্রদনের মনে ন।ঙল। ভাষার চতুদ্দশপধা] ক।ধতা প্রবতিত 
করিবার অভিপাষ জন্মে কিন্ত তাভার চতদ্দশপদ্দা কপিভাবল'র অধিক![ংশই 
ফরাসী দেশে অবন্থ!ন কালের রচনা এবং এই চতুরশপদ্] কবিতাবলাই 
নাঙল৷ সহিতে) তাহার শেষ অধ্য। সে কাপর সন্ধার ছিল বাঙলা ভাখা 
বর্বরের ভাষা সেই কবিরই উত্বরকালে বাঙলা ভাষায় এমন অধিকার 
জন্মির়াছিল যে তিনি বাঙলা স।হিতঃকে নব নন রহই-সন্তঃরে সম্দ্ধ কাররা 
গিয়াছেন | ৬ 

মধুস্ন সনেট রচয়িতা ভিস।:ব কতটুকু কৃতকার্ম ভষ্ইথাছেন সে প্রশ্জ 


বাডল' সেটের পটগুঁমি ১১৯ 


|নরর্থক কারণ প্রত্যেক জিনি।ষরই প্রবর্তকের মধ্যে অনেক ক্রটি [বিচ্যুতি 
থ।কে। সেই দিক দয়া মধুহ্দনের সনেটেও যে অনেক ক্রটি রহিয়াছে 
ত'হা নিশ্চিত কিন্তু তিনি ধেখন বাঙল' সাহিত্যে সনেটে একটা! “মোটামুটি 
বাহক পের প্রণতন করেন, বিষণ বস্ততেও তেমনি একট। সুস্পষ্ট সহধেত 
বখির। গির।ছেন | 

সনেট ঞ্জাতীয় কাবতা কবির ন্যাক্তগত ধ্যানধারণ।, আশা-অ!ক!জ্।, 
বিরহ-মপন এবং (েমগাথার বশিষ্টতম আভব্যক্তির বাহন | মধুস্দনের 
“তুর্দশপদা কাবত' তাভারই সাক্ষ্য দিতেছে | বিদ্রোহা কলি সমাজ ও ধম 
ত্যাগ কারিগাঙলেন কিন্তু তীহ।র জন্মগত সংস্কার, পিতাপিতামহের ইতিকথা 
(তাণ ভালতে পারেন নাই । তাই ধমাগ্কর এহুণ করিখাও জাতিম্মরভাবে 
তন সই হাতনতেব “মরণ করিরাছিলেন এবং কাব জদরের গুতম খাঁটি 
আভন্যান্ত এক একটি চকুর্দশপদী ক'বতার ক্ষ কলেবরে ধরিঝ। রাখির।- 
ছেণ | এই দিক দর 'শাহন।মার' কবি ফেরদৌসীর সঙ্গে তাহ।র তুলনা 
কর! যাইতে পারে । ফেরদৌলীর গবিপ্র।ণ প্র/গমূলামিক যুগের তাহার 
পূর্বপুরুষদের বার কঠি ও বর গাথ। সসম্মনে স্মরণ করিয়াছে এবং 
প্রাচীণ ইর]ণের ৬াব ও সংস্কাতগত বৈশিষ্ট্যই অনেকখানি ব্যক্ত করিবাছে | 
মধুন্থদন স্বধম ও সমাজ ছাড়ির? জননা জন্মভূমি ছাডিয় গ্দুর প্রবাসে 
ফ ন্দের ভাসাই নগরে চঠ্্দশপাদী কবিতা রচনা কৰিরাছেন। তীহার 
অন্যান সকল কান্যেই তিনি আম্মগেপন ঞ্রির|ছেন, কিন্ধ এই চতুর্দশপদী 
কাঁবতাবল.তে তান অনেকট। শেক্সপায়ারের মতই নিজের শদয়কে খুলিয়। 
পরিধু।ছেন | বাঙলার প্জাপার্ষণ, গ্রাম! জন্মভূমি, ঘশে!রের কপোতাক্ষনদ, 
বউ কথ কউ পাখীর ডাক, শ্রামন্তের টোপর, কমলে কামিনী, অব্রপর্ণার 
ঝ'[প, এ্রীপঞ্চমীঃ আশিন মাস. বসন্তের একটি পাখা, বজস্া দশমা, '.কাজাগর 
পশ্ষমী পূজ। ইত্যাদ যান বাঙালী হিন্দুর একেবারে প্রাণের (জ্নিষ তাহাই 
কার 'পখন।তে রূপ পাইয়া মনোভর হ্যা উঠিয়াছে | বাঙলার কবি 


১২০ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


জয়দেব ও ঈখরগুপ্ত, ব|$লার মনীষী সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকব ও ঈশ্বরচন্জর বিছ্বা- 
সাগরের কথ প্রবাসে তাহার কবিতার বিষয়বন্ত হইরাছে। বাঙালী কবির 
কবিও্াণ এই চতুর্দশপদ্া কনিতাবলীতে ' একাম্ত নাঙাল'ভাবেই উনুক্ত 
হইবাছে | 

মধুস্দনের চতুর্দশপদ্দী কবিতা সনেটের আকারেই চতুর্দশ চরণে রূপ 
পরিঞ্হ করিয়াচ্ে কিন্ত মিলবিন্তাসে এবং বর ও কপের স্ুসন্বন্ধ। গাঢ় সন্নি- 
পেশে-_সনেটের উৎকুষ্ট লক্ষণ অন্ুযায়! তেমন সনেট হইব! উঠে নাই । 
সনেট সম্বন্ধে 111509001৩ ৬৭5 1)111)001 এর বিখ্যাত সনেট হইতে 
সেই কথ।টি__ 

*4৯১০0175115 ক ০৮৮ ০0117191905 
উ1011109৬ 01 (10251 77015100116 21705511016, 

মধু্দনের সনেটে দেখিতে পাওয় ষার ন। সনেটের বিপিবদ্ধ শিমে 
মধুন্দনের চতুরশপদী কবিতাকে-_অবশ্ঠ অল্পসংপ্যক করেকটিকে বার্দ দিয়, 
-_সনেট বল' যার না। ত্ীভর 'কাণারাম দাস” নামক চতুর্দশপদ' 
কবিত!টি গঠনে ও ভাবে খাটি সনেটের অনেকটা কাছাকাছি গিষ্াছে | 
এমন আরও &ই চারিটি-কবিতার কথ। ছাডিবা দিলে মধুহদনের অধিকাংশ 
নতুদ্রশপদী কবিতাই কবিহৃদয়ের ব/ক্তিগত প্যান ধারণার স্বান্ুভাবাত্মক 
প্রকাশ হিসাবে উৎকৃঈ কবিত' হইয়াছে কিন্ত বিধিবদ্ধ নিয়মে সনেট হয় 
শাই। অবশ্য সনেটের বাহক রূপের প্রবর্তক হিসাবে মধুহ্দনের কৃতিত 
দথেষ্টই ছিল এবং থাকিবে | মধুস্দনের এই চতুরর্শপদ্দী কবিতাতেই তিনি 
উহার ব্যক্তিগত কবিহৃদবের যে দিকটি খুলিধ। ধরিয়াছিলেন পরবর্তীকালের 
বাঙলা কাব্য সাভিতের জন্ত সেখানেই যেন একটা মনময়তা বা 5016০- 
+1 র গতিপ্রকৃতির স্পষ্ট নিদ্শন ছিল, তাহ স্বাকার করিতে হয়। 

মধুন্দনের পরে বাউল।সাহিত্যে সনেট রচনা করেন দেবেন্দ্রন।থ, অঙ্ষয়- 


বাঙলা সনেটের পটভূমি ১২১ 


বুমার, রবীন্দ্রনাথ এবং মোভিতলাল মজুমদার । সনেটে যে নিষমগ্ডুলির 
কথ' আমর। উল্লেখ করিষাছি সেইদিকে দেবেন্দ্রনাথ, অক্ষয়কুমার এবং 
রনীন্দ্রন।থের কাহারও তেমন বিশেব লক্ষ্য ছিল না। তাহাদের চতুরর্শপদী 
কবিতাগুলি সুন্দর 45710, ভইর!ছে কিস্ু খাটি সনেট ভয় নাই | দেবেন্দ্র 
শ।থের অধিকাংশ সনেটেই অষ্টক ও ষ কর একটা স্পষ্ট ভাব রহিয়াছে এবং 
ভাবের এমন গভার অক্করিম উদ্্বীস আছে যে গঠনের পরিপট্য ন! থাকি- 
লেও সেপ্তুালকে আমর শেঝসপীয়ারর 'রামার্টিক সনেটের শ্রেণীতে ফেলিতে 
পারি। এই যুগে দেবেন্রনাথই সনেটের আক্ুতগত বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরণ 
রাখিরাভিলেন। তাই তিনি সনেটের নিগডবন্ধনে তাভার কর্বপ্রতিভার 
পরিচয় দিতে পারির|চেন | তাভার 'অদ্ুত অভিসার" নার্ক কবিতার 
একটা উৎরুষ্ট সনেট হইরাছে, পঙিলেই বুঝা! ষায়। 

মাধবের মন্তসিদ্ধ মোভন মুরলী 

ধবনিল রাপ'র চিন নিকুঙ্চ মোহনে, 

অমনি রাধার আম্মা দ্রুত গেল চলি 

হ্ামতর্থে গ্রামা্গিনী যমুনা সদনে | 

গেল রাধা, তবে এ মন্থর গমনে 

মধল বকুল কুঙ্গে কে যায় গো চলি ? 

আকুল হুকুল, শ্ন/ন কুন্তন কাচলি, 

ঘুম ষেন "লগে আছে নিঝুম লোচনে । 

নাভি জ্ঞান, নাহি সাডা ! টানে তরুদল 

লুহিত অঞ্চল ধরি" | মুখপপ্নপরি 

উড়িয়া! বসিছে অলি গুঞরি গুঞ্তরি' 

বিহ্বলা মেখল। চুম্বে চরণের তল ! 

আগে আত্মা পিছে দেহ যাইছে তুহার 

বাধিকারে ৷ বলিহারি তোর অভিসার ৷ 


১২২ সাঠিত্য ও সংস্কতি 
সনেটের (নখতত গঠন পরিপাট্য না খাকিলেও এই সনেটটিতে রাধি- 
কার অভিস'র 'ষ ভাবে চিত্রিত হইয়াছে তাভাতে অ।বেশ বিহবলা রাধিকার 
একট' অতি নিখ,ত বি আমরা প্রত্যক্ষ করিরা থাকি। এই কারণেই 
দেবন্দরনাখর সনেটকে বাঙলা সাহিত্যে সনেট হি্স'বে বরণ করিয়া লইতে 
পার' যায় । 
অন্গরকুম'র “য কয়টি সনট লিখির'ছিলেন সেগুলি পড়িলে মনে ভয় 
বাঙলা সাহিত্য সনেটের গঠন প্রকাত সম্বন্ধে তিনিই সর্বপ্রথম বিশেষ 
সতর্কত' 'অন্লম্বন করিয়াছিলেন, কিন্চ সেই সঙ্গে ইভা? স্বকার করিত ভয় 
'য নিষষবন্ত এবং ভাবে গভ।র। তাহার সনেটে তেমনভাবে ফটিয়। উঠে 
শাই। তই তাতার সনেট আকারে সনেট হইলেও ভাবের দিক দিয়' 
উত্কুঈ সনেট ভয় নাই । শথাপি ভাভার নিয়লিগিত এই সনেটটি কাহাব« 
মতে ভাল্লুব দিক কিয়া 6 40976 870. ৮17010 ভইয়াছে 5 
ঈশ[নচন্দর 
নথিয়' কবিহসিক্ষ বঙ্গকবিগণ 
লই নাটিরা স্পা অমরাবিভব্‌ | 
বঙ্গল!ল নল শনা নিল কিবণ 
নিল এইরাবদ্ত মণু দ্বিতষ বাসব। 
(হম নিল উ চশ্শ্রপ। গতি অতুলন , 
নবীন পরিল বক্ষে কৌন্তভ পল্লভি | 
বিহার করণালগ্জা করুণ (লে! চন, 
₹বি নিল পারিজাত দিরদিব সৌরভ | 
তুমি মগ্তনের শেষে আঙসিলে যোগেশ 
উঠিল তে!মার ভাগ্যে ভীষণ গরল। 
কাপকূট, কটু গন্ধে সৃষ্টি হর শেষ 
স্থর নর ষক্ষঃ বক্ষ আতঙ্ক বিহ্বল ! 


বাল! সনেটের পট$ুঁমি 


প্রজাপ।ত যুক্তকর রক্ষ বিশ্ব প্রাণ, 
মৃতিমান £প্রমমন্ধ সাক্ষাৎ ঈশান | 

রবীন্দ্রন।থ অজআ্র সনেট র৮ন। করিগাছেন | তাহ।র 'ক।৬ “৫ কোমল", 
“চৈতালি” ও 'নৈবেছ্ভ' সনেটের সম্ষ্ট | ববীশ্রনাথ সনেট বর্ন! করিতে 
গিয়া সনেটের বধাধর! নিরম কোন স্থ।ুনই মানেন নাই । তিনি নিক্গের 
ইসচক্সায়া চতুর্দশপদা কবিতা রচন। করিয়াছেন । (সনেটের যে নিয়ম 
আমরা পূর্বে উল্লেখ কারয়ান্ি সেই নিরম ন' থ!:কলে যাদ .কান কনিতাকে 
গুটতব অর্থে সনেট পদবাঢা বলিয়া স্বাকার কথিয়া লইতে আমরা ব্ধা পাই, 
তাহা হইলে ববক্দ্রনাথের সনেট এ প্রকৃত সনেট হখ নাই |) তবে তাভার 
ব্যক্তিগত প্র!ণের আন্তবধিক অগ্ঠভু তি, 15770 আবেগমণ্তিত উহ 
ও গভীর উচ্ছু।স তাহার অ।বকাংশ চতরর্শপদী কবিহাতেই নিবদ্ধ বহিয়াছে | 
(সইদিক দিয় তাহার অধিকাংশ সনেটই উৎকই্ গীাঙকবিতা হইরাছে। 
কিন্ত গঠনেব পবৃত্ব, ভাবের ঢাপা। ধন্ধনহীন তা এব আষ্টক ও ধটকের মধ্যে 
একটি মাও এ|বের উদ্দান পতনের নানপ্রকী!র বাপ।য় সেগুলি যথার্থ 
সনেট হইতে পারে নাই | ববীন্্রনাথের অধিকাংশ চতুর্দশপা। কবিতাই 
মিলযুক্ত পর।র হন্দনিবদ্ধ ৭টি প্লেেক। কোথা! 9 দই একটি শ্লেক ছুটিয়া 
গেলেও তাহার ব্যক্তভাবের অঙ্গহান হইবে ন।1 সাশট বশিততি যদি 
কতকগুলি ।নরমবদ্ধ কাবতার কথাই আমদের মনে আত তা হইল এ 
নয়মগ্ডলি আমব। (যখানেই পাইব সেই কবিতাকেই আমবা দন বলব 
অন্তথায় চতুর্দশ লাইনে লিখিত হইলেও আমরা সেঞ্ুলিকে চতুর্দশণদ। 
কনিতাই বলিব, সনেট বলিব না। সুজাত রবীন্দ্রনাথের চহুদশিপদী। 
কবিতা সন্বন্ধে সনেটের বাহিক আক।র থা!কলেও সনেটের গুগছুই উঠে ন। 

মোহিতলাল মক্জম্।র কবি । কবি হইলে তিন অকভন এুদীজন- 
স্বাকৃত সমালোচক | কবিত| লিখার কালে বোদ হস উতর সমল 
মন তাভার কাবপ্র।ণক খিরিযা রাখে । তাই কাবতার বা সাভিতষ্টর 


১২৪ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


তি 


যেরূপটি যেখানে যেমন হওয়া উদিত, তাহার শষ্টিধমী স!ভিত্যের অভিবাক্তির 
মধ্যেও আমরা সেখানে সেইবপটিই যথাযথ প্রত্যক্ষ ক'রষা থাকি । অবপ্ত 
অনেকে মনে করিতে পারেন যে কাব্যলঙ্গমীর সঙ্গে কবিজদয়ের গাঢ় 
মিলনকালে কবির সমালোচক মন আসিষা বাধা দিলে সেখানে আর যানাই 
হউক উৎকৃষ্ট কাব্য কৃষ্টি হর ন| | কিন্ত অ!মাদের মনে ভয় উৎকুষ্টু কবি- 
প্রত্তিভার যে হৃদয় সেই হদয়ের সঙ্গে উংকৃষ্ট রসগ্রামাতা (07110) আসিয়া 
যোগ দিলে স্ষ্টির পথে বাপা কা অন্তরায় উপন্িত হয় না| বসপ্রমাতা ও 
কবিহৃদয়ের মিলনরূপপুষ্ট পাকে তরলোচ্চল ভাবনাষ্প সুসংযত ও সুসম্বনধ 
হইরা অপৰূপ কাব্যরসের স্পষ্ট করে ডিজিজ মক্তমদার 'এই শ্রেণীর 
কবি। বাউল সাহিত্যে শাটি+1১৩/727004৮” আদশে একমান্র তিনিই সনেট 
লিখিয়াছেন | তাহার সনেটগুলি ভাববস্তুর গাস্ত।ধে এবং গঠনের পরিপ|টেয 
বাঙলাসাহিত্যে আদশ সনেটের দাক বাখে। এই প্রসঙ্গে তাভার পরার 
পীর্ক সনেটটি উল্লেখযোগ 2 
পঞ্জাব 

ম্গীর খুঁলিয়। রাখ অয়ি ভাষ। ছন্দ বিলাসিন। 

কতকল নৃত্য কার, ভলাইনে মধুমত জনে 

দালাইয়া ফলতন, তুরন্ত দাকায়ে সঘনে 

পলা ৮রণ-ভঙ্গে মজাইবে যুবুত৷ হাসিনা ? 

আন বাণ। সপ্তম্বরা স্বর্ণতগ্তা তন্দ্র! বিনাশিনী, 

উদ্দার উদ্া'্ছগীতি গাও বসি হৃদপস্াসনে 

যে বাণী আকাশে উঠে, শিখ। যার ভে!মহুতাশনেঃ 

পশে পুন রস!তলে মানুষের মন্নিবাসনা | 

করি উচ্চ শঙ্খধবনি এনেছিল শ্রীমধুস্থদন 

পয়ারের মুক্তধারা এ বঙ্গের কপিল আশ্রমে, 

“বলাকা”র ঘুক্তপক্ষ গতিভঙ্গী ধরিয়ানু তন 


ব1ঙল। নেটের পটস্ুমি ১১€ 


পশ্িল সে মহাহবে সঙ্ঈতের সাগর সঙ্গমে ! 
এখনো শুনিব শুধু নিঝরের নূপুর নিক্কন ? 
কোথ'র জানবাধারা কুলে যার দেবতার! জমে ? 

এখানে ভ;ব। ও ছন্দকে তথাযুবতীর নৃত্য-চপল গতিভঞ্গার জঙ্গে তুলন। 
করিয়া উপমার সাহায্যে প্রথম চ1রি লাইনে কবি যে চিত্র অঙ্কিত করি- 
যাছেন, ভাবা ও ছন্দের অন্্পম অলঙ্কারে পররের স্নিগ্ধ গন্ত'র উদার উদাত 
গীতি শ্রবণ মানসে, “অষ্টকের' সেই নিগড় বন্ধনেই একটা মহীয়ান ভাৰ 
কল্পনার উদ্বোধন করিয়াছেন | মান্তষের মমানবদ্ধ বনী গগন স্পশ করিবার 
জন্য তোলপাড করিয়া ফিরিতেডে। 

“ফটকের” মধ্যে অতি কৌশলে এবং ইহ একটি কথার সাহায্যে সগর 
বংশ ধংস এবং তাহার উদ্ধারের জন্ভ ৬গীরথের গঙ্গ। অনয়নের পৌরাণিক 
আখ্যানঙাগ ঢুকাইয়া দেওখ| হইয়াছে । অথচ সই একই ভাঁব পরিণতি 
লাভের জন্ত দ্রুত অগ্রসর হইয়া চণিয়াছে | পয়ারের চটুল গৃত) ভাডিয় 
মধুস্দন গঙ্গার ঘুক্তধারা প্রবাহিত করিয়াছিলেন, রবীন্দ্রনাথ তাহার 'বলাক" 
কাবে; পয়ারের সাহায্যেই সাগর গজনের অপুর্ব সত ধ্বনি স্াষ্টু করি' 
যাছেন। কৰি তাই রগ করিতেছেন 'এখনও শুনিব ৩ধু নিঝরের নুপুর 
[নক্কন ? তাহা হইতে পারে না, কারণ পয়ারের সেই বুণিকা বস 
অনেকদিন উত্তীণ হইয়া গিয়াছে । এখন (প্রাচত্জ/নত গাস্তায আগ।ইয়া 
আসিতেছে ; তাই এখন চাই |দগস্তাবস্তৃত জাহ্খার গুলে শান্ত সমাভিত 
সৌন্দর্য) | 

ইহারই নাম আদি “পেট্রারকান' অ।দশে র!চত খাটী সনেট | ভাব 
কনার প্রশ্বর্য ভাষা ও ছন্দের গার্তী।ষের মধ্যে ব্যাগ হইয়। যায় নই, সজে!রে 
ধৃত হইয়াছে । ভাবের উছগ্তন ও নিবতন 'অষ্টক” ও "বট.কের” মধ) 
যথাক্রমে যথাযথ রূপ পাইয়াছে। আবার সবটা মিশিয়া প্রথম হইতে শৈেধ 
পর্যন্ত একটা অখণ্ড ধ্বনি ও সঙ্গীত-জেত উাখত হইতেছে । 


১২৬ সাহিত্য ও সংস্কাতি 

মধুহ্দন, দেবেন্দ্রনাথ, অক্ষরবুমার, রবীন্দ্রনাথ এবং £মাভিতলালের 
সাধনার বাঙলার সনেট-সাচিত' ক্রম পরিণতি ল!ভ করিরাছে। তাহাদের 
পরম্পরের মাঝখানে এবং ইদান?ংকালে, বহু কবি সনেট রচনা করিয়াছেন 
ও করিতেছেন। তাহাদের সনেট ক্তটুবু সার্থকতা লাভ করিয়াছে তাহ৷ 
উপরিউক্ত আলোচনা হইতে সহজেই অন্থমেয় | উক্ত গুরসঙ্গে সনেট 
সম্বন্ধে সমালোচক মোহিতল।ল মভুমদারের একটি মত উদ্ধতিযোগ) | তিনি 
বলেন £সনেটের গঠনের র'তিমত আদর্শের অক্ষরে অক্ষরে পালন ণুব 
বেশা দেখিতে পাওয। যায় না ?কন্ত তথাপি এবিবষে কষেকটি প্রধান নিরম 
ন! মিলিলে সনেটকে চতুদ্শপর্দ। কবিত। বলিব, সনেট বলিব না| (১) 
অষ্টক' ও টক” এই ই ।ব এগ ভাবে ও রূপে স্পষ্ট হওয়! চাই। (২) 
সমগ্র কবিতাটি 4970 ৪70 1710 ভওয়া চাই। (৩) ভাবের মধ্যে 
9157 ও 1[€1১০5০ থাকিবে এবং সেই কন্ই ইংরাজি ভষার মত বাঙলা 
ভাষাতেও ছৈমাত্রিক বা যুক্ত'ক্ষর মুলক মিপ ব্যবজত হইবে না। ইংরাজিতে 
যাহাকে ০1০১৪ 1২1)৮7)৩ সলে সেরূপ 'মলও থাকিবে না।  প্রথমেক্ত 
মিলের উদাহরণ যথা গন্ক, বন্ধ, কন্ঠার। বন্তায়। (শেষোক্ত মিলের 
উদ্দাহরণ, উপাদান উপাধ।ন--এইরুপ মিলকে 0105০ [২1,526 বলে। 
সনেটের মিলগুলি খুব স্পষ্ট ভওর। চ|ই | (৮) সনেটের ভাবও গভীর 
হইবে, তাহাতে অর্থগৌরব থাঁকিনে কিন্ত ভেয়।লী ব| ধেঁণক। থাকিবে না। 


মাসিক “মাহাম্মদী, 
অগ্রহায়ণ, ১৯৫১ | 


এতিহাসিক উপন্যাস 

এঁতিহাসিক উপন্াম কথাটাই যেন একটু খাপচাঙা গে|ছের । করণ 
আমরা বাহ্যুষ্টিতে দেখি যাহা উপন্যাস তাহা ইতিহাস নহে এবং যা 
ইতিভাস তাহা উপন্থাস নহে : অথচ এঁতিভাসিক উপন্াস নামক অদ্চুত 
একপ্রকারেব উপন্টাস সাভিত্যজ্গতে স্থান পাইয়া | কেমন করিয়' 
সেনূপ সম্ভব হর আমর। তাভাই বলব । 

বিভিন্ন প্রক্ক।রের উপন্তাস রহিয়াচ্ছে কিন্তু প্রত্্যিক গকারের উপন্তাসেই 
মূল বিষরে একটা সাদৃণ্ত দেখা ষায় তাহা মানব জ্:বন ও জগতের বিচিত্র 
হস্ত উদঘাটন এবং তজ্জবনিত রসস্সষ্টি | ইন্তিহাসের প্রধান উদ্দেগ্ত কাতিন; 
বর্ণনা, অত'ত ৫ বর্তমানকে এক সত্যতথ্যের উপরে গিয়া তোলা। 
নিরবস্চি্প কালশোতের মধ্যে পুর্বাপর সামঞ্ষস্ত রাখিরা মানব জাতির 
উথানপত্:নর কাহিন'কে এক শৃঙ্ঘলে গ্রথিত করাই ইতিহাসের কাজ। 
সেখানে কলনাব কোন স্কান খাকিবে ন'প্পন্তাসিকের কোন ব্যক্তিগত 
অগ্ুভূতির প্রকাশ থাকিবে ন। কিন্তু কোন ব্হতম ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সঙ্গে 
জড়িত হইর। একটা জাতির ভাগ্য উদ্দিত ও অন্তমিত হইবে । এই 
প্রকারের বন্ত ও তথ্য সত্যের সঙ্গে ব্যজিবিশেষের জায় ধুন্ত ভইয়া যে 
কাহিন। গডির| তোলে তাভ।ই এঁতিভাসিক উপন্যাস । বস্ত ও ঘটনা- 
সত্যের গতিকে সম্পূর্ণ অব্যাহত রাখিয়া উল্ত বস্ত 'ও ঘটনার ধ(কে ফাকে ষে 
অসঙ্গতি ও অসামঞ্ম্ত থাকে তাহাকে যথোপযোগী কল্পনার দ্বারা পুরণ করিয়া 
মানব জীবনের যে কাব্য গডিয়। তোল৷ হয় তাহাকেই এঁতিহাসিক উপন্টাস 
বল! যাইত পারে । 

ইহ্থা ষে সম্পূর্ণকপে কল্পনা হইতে সৃষ্টি করা যাঁয় না এমন নহে | মানুষ 
শুধু কল্পনা! লইয়া বাচিতে পারে না, সেও স্বভাবতই সত্যাশ্রয'। অতীতের 


১২৮ সাহিত্য এ সংস্কৃ্ঠি 


কোন জনগশ।বদি ত ঘটন'শ্োতের সঙ্গে কল্পনাকে যদি গ্ুকৌশলে জুডিয়া 
দিতে পর! ঘায় তাতাতে ঘটনাও যেমন মূর্ত ভইরা উঠে কল্পনাও তেমনি 
শ্কুন্ভি লাভ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনেও্ড তাহা সত্যকার বিশ্বাস ও 
বিম্মর উত্পাদন করে| এমনি ভাবে রসের স্টজনই হয় লেখকের উদ্দে্ঠ, 
সেইজন্য এঁতিহাসিক উপকরণ যে পরিমাণে লেখকের রস সষ্টির সহায়ক 
ভয়, লেখক তাহা অকুঠিত চিনে লইতে পারেন । 
মহাকালক্রোতর মুক্ত ধারার কত মান্ষ তাভার মন্তষ্যত্ব ও দৌর্বল্য 
লইয়া -9ঠ।-পড়! কবিতচ্ছে কেই বা তাহার অনসন্ধান করে ! কিন্তু এই 
জাতের মধ্যে সমরে সময়ে এমন মান্ষ জন্মগ্রহণ করে এবং আহার সঙ্গে 
এমন ঘটনাক্সোত আসিরাই যুক্ত হর যে" বহু মানবের ভাগ্য তাহার সহিত 
সংশিষ্ট ও জঙিত হইয়া! থাকে । তাহার শ্ুখগঃখ জগতের বুভ ব্যাপরের 
সহিত আবদ্ধ ভইয়। থাকে । তেমন ব্যক্তব বা তাহার পারিপাশ্সিক আব- 
হাওয়ার মধ্য হইতে কোন ন্যক্তির চরিত্র বা তাভার ভাগ্য লইর়। কন লেখক 
যদ্দি মানবীর মভিম।মণ্ডিত করিয়? উক্ত জীবনের সর্ববিধ সঙ্গীত রচনা করেন 
তাহা হইলে পাঠকের কাছে তাহা অতীান আদরণীয় হয় এবং এরূপ সঙ্কর 
স্্টি সচজেই পাঠকের জর হরণ করে । এই জন্তই এককালে লেখক ও 
পাঠক উভয়ের নিকটেই এতিহাসিক উপশ্/াসের অতিমাত্রায় সমাদর ছিল । 
(অতাত যুগকে ভ!?পাবাসা এবং অতীতের প্রতি মোহ ও আগ্রহ, এই 
রোমান্টিক মনোনুক্চি হইতেই এঁতিভাপিক উপস্ুঃসের সৃষ্টি ]. শুফ নীরস 
ঘটনাজালে “য অতীত ছিল জমাকীর্ণ তাহাকেই আপন মনের মাধুরী 
মিশাইয়।, হৃদথের জারকরসে রীন করিরা দেখিবার যে আকাঙ্া তাহারই 
ফলে ইতিহাসের অনুর্বর ভূমিতে উপন্ঠাসের জীবনরহন্তের ভাব জমাগম 1) 
তাই এঁতিহ।সিক উপন্তাসে ইতিহাস এবং উগন্তাসের ভাগ পরম্পরের 
বিরোধী নহে, অধিকন্ক পরস্পরের পরিপূরক । যুদ্ধ বিগ্রহে, বিপদ সন্ধুল 
ঘটনার উপলশণ্ডে ইতিহাসে জাবনের ভিতরের যে দ্বন্দ ও অস্যবিক্ষোভ 


হতিতাসিক উপন্যাজ ৮৪ 


'আমর] দোসিতে পাত না, ভাতিভালের পুজার যে জ।বন শুধু কমের তাড়ন।র ও 
বহিমূপী ঘটশার প্রাধান্ডে চটি: -লিতে দেখি, শক্তিশ।লী লেখক সেই 
খটনাক্সোতের অভ্র।শে উল্ত জ'বানের আশা আকাজ্ফা, মুথণহখ, ছোট গান 
5 ছোট ব্যথ' ইত্যাদ মানবের যাহা শাধত এ চিরন্থন বৃষ্ভি ত'তাকেই বপ 

দিয়: একট' পরিপণ অথচ অসাধারণ মানষ-ৃতি আমাদের সখখণে প্রতিভাত 
করি: তোলেন । কাব্য সাভিন্তার ভন্টান্ 5ষ্টি হইতে এঁিভাসিক উদ- 
াসের রী শ্রেঙ্গত্ব। মাগধের কঠোরহম নিডরতা, অনাবিল জি 
মধুর মহত 9 তা ভাতার ভাগ্যের জটিসতম বিকাশ এবং তাহার 


কোন একট। | 
লেখক বা কনি নিষ! 
(এঁতিতাসিক চরিন ও বনানীর লর সঙ্চে সাধারণ মানুষের ইদনশিন জ.বনের 
মাননতার এইট মিলমই আশ এতিভাসক উপন্যাসের বিধর়নত্ত 1) এন্তি- 
হাসিক উপগ্াসের বাভিরের ঘটনসমৃনের রণভূমি জলাগস্তর বজ, নিঘোব, 
আগ্নেয়গিবির অগ্র্ংপাতত, নাত্যাতািত, বন্ষাবিক্ষক্ধ প্রবল তবঙ্গাভিঘাত 
অ|র তাভারই অন্তর্লে মানবজীবনের মধুরতম বতি-মানস্ধর জাবন- 
নাট্যের এই "য কঠোরে « কঠোবে, কঠোরে ও কোমলে এবং কোমলে « 
কোমলে মিলন ইনার কথ! উল্লেখ করিয়া গীতিহাসিক উপন্ট/সকে সম'- 
লোঢক বাটারফিল্ড মানব লনের মভাকাব্য মাথা। দিঝাছেন | সন্ধ্যক।রর 
শ্রে্ঠ কবি প্রতিভার পৌরোভিত্ যদি উপ5স ও ইতিহাস পরম্পব তেমন: 


০০ 


'অসাধারণ মানব চ। যাতা অন্তজাম্র সাধারণ মানবের মধ্যে এখ ধায়ন, 
বিশ 
শিষতির এই অভুহ শা 5 চগ্লির আবিগ্গার কর্ধিতে পারেন। 


ঈ খুগের হাহিভাসিক “কান টবিপ্রেব মপ্যে প্রাতিভ 'বান 
জর 


ভাবেস্পরিণয়াবদ্ধ 5ইত পারে এবং 21070017158 অর রিতো 01) 706100), 
ইতিহাসে যদি এই বাক্যের অবকাশ থানক তাহ। হইলে এতভাসিক উপ- 
হাসের “51০ 01 21010110 হইব!র পক্ষে কোন অন্তরায় দেখি মা | 
এর্তিভাসিক উপন্তাস 'প্রধানতঃ ই প্রকারের হইয়' খাকে। প্রথম 
প্রকার সেখানে ধঈঁত্তিহ'সিক কোন চরন্ত্রের উল্লেখ নাই, বা উন্নেখ গাকি- 


১৩০ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


লেও উপস্টাসের প্রধান চরিব্রন্ূপে নয় | শুধু মান একটা যুঙগকে চিত্রিত 

করা এই প্রকার এঁতিহ্াসিক উপন্তাসের প্রধান উদ্দেন্ঠ । কোন এক বিশিষ্ট 

যুগের আচার ব্যবহার, রীতিনাতি, পোষাক পরিচ্ছদ, হ।বভাব, কণথাবার্ত। 

ইত্যাদিতে ভূষিত করিয়া! উক্ত যুগের জীবনের একটা ক্ষট স্পন্দন ধ্বনিত 
করিয়া তোলাই এই প্রকারের এ্রাতহাসিক উপন্যাসের ক।জ--তাহ। ইতি- 

হালের সত্যকে বিক্ষত ও বিকৃত করির। নর, যতদুর সম্ভব সেই সত্যকে 

অক্ষত রাখিয়া । ইতিহাস এখানে প্রধান অংশ নর, যুগচিত্রনের জন্ত গল্পের 
সঙ্গে ইতিহ।স উপলক্ষ্যভাবে যুক্ত হইয়া খ।কে। অবণ্ত এমন ওপন্তাসিকের 

গতিপ্রকৃতিতে ইতিহাস অনেকট। ভার সধূশ (. ১41৫১) হইয়া! দাড়ার 

দ্বিত।র প্রকার, বিশিষ্ট যুগের বিশিষ্ট এতিহাপিক চরিত্র বা ঘটনার উপরেই 
উপস্তাস এষ্টি কর'। ইতিহাস এবং উপন্তাস এখানে এমন ওতপ্রোত ভাবে 
জড়িত “ষ, হাতহাস অস্শকে বাদ দিয়া তাহ। হইতে উপন্ঞাস অংশকে 
বিচ্চি্ন করিয়া লওয়া যায না। এরূপ উপস্থ/সে গুপন্তাসিককে অনেক 
দীমাবন্ধ গণ্ডির মধ্যে কাক্ত করিতে হয় এবং সেই জন্য তাহার কল্পনাও 

অনেকাংশে বাধাপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু যদি ইতিহাসের মধ্যে তেমন উপন্টাস- 
ষোগ্য ঘটনার অবকাশ থ।কে তাহা হইলে সত্য ও কল্পনার পরস্পর পরিপুরক 
সংমিশ্রণের পুষ্ট পাকে অগর্ব এঁতি।সিক উপন্থাস গড়িয়া উঠিতে পারে। 
ইতিহাসের যুদ্ধ বিগ্রহ, বিদ্রোহ, উপদ্রব ও অরাজজকতার সময়কে উপন্াসের 
প্রচ্ছদপট তিসাবে ব্যবহার করিলে এই প্রকারের উৎকৃষ্ট এতিহাসিক উপ- 
হ্।সের শ্রষ্টি হইতে পারে | « 

এত্তম্্যতিরেকে আরও অনেক প্রকার এঁতিহাসিক উপন্তাস দেখা 

যায়--যেমন (কাথাও শুধু উপস্টাসের কল্পনার ভাগই বেনা, কিন্তু মানুষের 

মনে প্রত্যঙ্গ বিশ্ব! উৎপাদন করিবার জন্ত ইতিহাসের একটু গল্পের সঙ্গে 
তাহার মিশ্রণ ; আবার কোথাও ইতিহাসই প্রধান কিন্তু ঘটনার বিবিধ 

রঞ্জ। পুরণ করিকার জন্য কল্পনারও যথাবিধি সহায়তা গ্রহণ করা হইতেছে । 


উতিহাসিক উপস্তাস ১৩১ 


এগুলি সত্যকারের এতিহাদিক উপন্যাস নতে, রোমার্টিক মনোবৃত্ি-সম্পন্ন 
সুলভ রসঘন এক প্রকারের অপরিণত সৃষ্টি | 

প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা বলা বাঞ্ছনীয় | এঁতিহাসিক উপন্তাস বে 
শ্রেণীরই হউক না কেন ইতিহাসের সর্বজন বিদিত সত্য উপহ্টাসে কিছুতেই 
বিকৃত হইতে পারিবে না, সেই সত্যের এখানে-সেখানে হয়ত কিছু রং 
লাগিতে পারে কিন্তু রামচন্দ্র বি পাষর হইয়া দাড়ান এবং রাক্ষল রাবণকে 
যদ্দি দেবতা কল্পনা করা হয় তবে আর ষাহাই হউক তাহা এঁতিহাসিক উপ- 
যাস হইবে না। অর্বজনবিদিত সত্যের বিরুদ্ধে লেখকের এই দোষের জন 
তাহার স্থষ্টির মধ্যে শুধুই ঘে রসভঙ্গ হর তাহা নহে, পাঠকের মাথায় যেন 
'অকল্াং বাড়ি পড়ে; তাহার আঘাত (সে কিছুতেই সামলাইতে পারে ন|। 
তখন রস গ্রহণ কর! দূরে থাকৃক রসভঙ্গের জন্ লেখকের প্রতি পাঠকের 
মন বিষাইয়া উঠে | তথাপি জহান্ভুতিশীল বিরাট প্রতিভায় এমন কৃষ্টিও 
সম্ভব হয়, কিন্তু তখন পাঠক কি করিবে £ সে উগন্তাস পঙিবে, না ইতিহাস 
পড়িবে? রবীন্দ্রনাথ ইহার উন্ধর দিয়াছেন--"'ছুই-ই পড়ো; সত্যের জন 
ইতিহাস পড়ো, আনন্দের জন্য উপন্যাস পড়ো, কেননা উপন্যাস বা কাব্যে 
ভুল শিখিলে ইতিহাসে সেই ভুলের সংশোধন হইবে । কিন্তুষে বাক্তি 
ইতিহাস পড়িবার স্থযোগ পাইবে না, কাব্যই পড়িবে সে হতভাগ্য। কিন্তু 
যে বাক্তি কাব্য পড়িবার অবসর পাইবে না, ইতিহাস পড়িবে, অন্তবতঃ 
তাহার ভাগ্য আরও মন্দ |” 


মাসিক মোহাম্মদী, 
আবণ, ১৩৫২ । 


ইসলামের বৈপ্লবিক ভুমিকা 
তত ইসলাম পনের যেনপ গ্রার সাডে তেশ বন্ধর 
ধরে পথিব'তে প্রচলিত ররেছছ, উ.জভসের গু'বাজনেই তাব দত প্রতিষ্ঠা 
সম্তব হয়েছিল | তখন পযন্থ ভন্দুঃ বৌদ্ধ ও ধষ্টান প্রঙ্গাতি বে কটি ধন 
পুথবাতে নাম করোটল তাদের অ'দি বাসভূমিতে উক্ত পম ও পান্বসারী- 
দের অবস্থ। ভগে পড়েছিল অত্যন্ত শোচনর। পধিব; থেকে ধর্মীয় 
অধ্যাত্ববাল পোপ পেতে বসেছিল, সেকালের মানুষের বাবহারিক ও 
সাংসার জীবনের ক্াাহন।ও আশাপ্রদ ছিলন।| এক, রোম, মিসর, 
পার5, ভাবতব্ধ ও চীন প্রভৃতি দেশেব অগণিত জনসাধারণের ছর্শার 
সামা চিলনা | মানুষের কল্যাণের জন্ভই ধমের উত্পতি অথচ এতিদেশেই 
তখন প্ধ ছিল ছবিধাপাদ, সষ্ভিমেষ শান্ত্রাপিকারব ভাতে । পের নাম 
51ডিয়ে তাবা 'নঙ্গেদের চরম শুবিধা করে শিরেছিল নিপাডিত মানবতা 
পমাধিকাব।দের ক্রিয়াকলাপ সম্বন্ধে কোন গ্রহ করতো না তাদের 
একচেটিয়া সুখ-নুনিধা সেোগের বিঞুদ্ধে কোন প্রকার প্রতিকারের আওর!জ 
2$লতৈ। না।  তাদেরসে সাহস নুপ্ধ ভবে গেছিল । অভ্যাসের দাস 
ভিসেবেই প্রত্যেক দেশের আধাঁরণ মান্য পতনশালতার দিকে দ্রুত এগিয়ে 
বচ্চল ' লাঞ্চিত, অবভেলিত পঞ্জজ বন য!পনের মধ্যে এবং পৈশাচিক 
আনন উপভোগ করতে পারার মপ্যেই ছিল বিল জনসাধারণের জাবনের 
সার্থকতা । পুধিনর মপ্য-গণ্ড মপ্য এশিরার আরব ভূমিতেই নিরন্ধ, 
ন্ধক!র বিরাজ করছিল | পর্মীর শাসনের সার উদ্দেকঠেবাদ সেখানে নষ্ট 
ভরে গেছিল; মংসর জীবনে মাশবতার আদনের ক্গাণ রশিট্ুক প্যশ্থ 
স্তিমিত হয়ে এসেছিল । 

দ্চ। ও কান। ঘরকে ক করে স্মরণ ইত কাল থেকে আরব দেশে 


ঈসল!মের বৈলবিক হুমিক। ১৩১ 


€€ 


রত, পার, আ|সারিয়া, (সংরযা, জেক্জ।লেম, শসর, এংলিসিনিরা 
এবং চীনের বাবস। বংণিজ্য মণতো | এর ফলে, আরবের সঙ্গে পৃথ্থিবীব 
এক নভহর 'অংশেব যোগন্থ্ প্র তয়িত ভয়োডল।। স্তরাং আরবে সভ্যতান 
আলোক শখ! জলে উঠলে তা যে সমএ পুথিবাতে সহজে ছডিরে পড়নে 
ত| একরকম অবপারিত ছিল যুগের প্রর়েজনে কাই দেশি জনবি”ল, 
বিরাট প্রাস্থর ও বিশাল মরুর দে" আরব ভূমিতেই হলে! কালোপযে!গ৷ 
ইঈসপামের নবজন্ম। মানব সমাজকে একাভূত কপার জগ নিক্ষলুষ 
উভিদনদ ইসলা?মর এ কঠোর নিনাদ দোষিত হলো “আর।হ এক 
্াডা ভই নাই | সমস্ত মানুষত সেই এক আলার সঙ্গান। সুতরাং 
মান্তযে মাগষে কোন ভেদ নাই ২ মানুষ মান্রহ ।ডত ই | শুধু নাতির 
দিক ,থকেই নয়, সামাজিক জ বনে” হযরতের নেতৃতে ইসলাম অনুসারার। 
যগন জগতের কাছে এ দুষ্টান্থ তুলে পরলে তখন ভেদডেদ পাত পাখবীর 
মাধ প্র।গের এ নবীন বিশ্বাস বলিঈ নতুন সভ্যতার পক অবাক বিস্মাে 
চেখে রইলো এবং ঘুক্ফিশিমী মাষের দল সমভবে এ নতুন পম তকে 
সদরে বরণ করে নিতে লাগলে! । মারব ছুঁমি ছিল এ বিশ্গসের ল'লন 'ঙ্গত্র: 
পৃথিবীর মধ্য ডূঁভাগে এর গুতি্া বালে অত্যদ মমহের মধ্যে অথানগ।ব 
নবৃলন্ধ মননতাবাদ উচ্তা 'শখর মতো ৮'রিদিকে উত্ক্ছপু হরে গেলো । 
ইতিহাসের প্রয়োজনেই ইসলামের উদ্ধদ আর সামাহান ৫হথ ধায় 
ভগতের মানবতা আকুল ফরিরার গ্াযক্গম কদতে পারত অপ)হ 
মহামানব ভষরত মুহম্মদের মভানুভবত। । জগতে যত অলোক ঘটন , 
এটছে, ইসল!মের প্রসার তার মধ্যে সবর! একথা ভ!খলে সত্যি 
বন্মিত ভয়ে যাই যে, অগাষ্টাসের রে।মক লজ) সার উাজানের সাহায্যে 
পরবতী যুগে আরও ব৬ ভথ্েছিল, সাতশ বর ধরে বিরাট 2 “বখ্যাত 
জয়ের উপরেই তার ভিত গডে উঠেছিল, ত৫ুত। একশ বছরেরও কম 
সময়ে আরন্‌ সাআ্াজ্য যে জানে ফেঁপে উঠ্েছল' তর সমকক্ষত। লাভ 


১৩৪ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


করতে পারেনি । প্রার এক হাজার বর পারগ্সাআজ্য রোমের আক্রমণের 
বিরুদ্ধে টিকেছিল ; কিন্তু দশ বহরেরও কম সময়ে ইসলামের তরবারির 
কাছে তাকে হার মানতে হয় । এ-কথাও সত্য যেকোন বিজিত জাতির 
সক্রিয় সহাভূতি কি মৌন উদাস।নতা ছাড়া! কোন বিজয়ী জাতিই দীর্ঘকালের 
ন্ট প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। তাই, যখন দেখি ইসলাম যে দেশে 
যাচ্ছে সেখানেই পাচ্ছে সদর সম্ভাষণ তখন তার অন্তনিহিত শক্তির প্রতি 
শরদ্ধানত হই। মনে মনে প্রশ্ন করি, ইসলামের সে শক্তি কি ছিল? 
উত্তর পাই সার্বজনীন মানবতা । এই সার্বজনীন মন্ুতাত্বের উপরে 
প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই সেদিন 4115 50116 06 1১127) 01526 
1153,৮610-1)1517 11017) 51011) 0 07181)2.09 

ইসলামের গোডার দিনগুলো! থেকেই দেখি মান্ধষের জন টো পথ 
রচিত হচ্ছে। একটা পারমাথিক আব একটি [লৌকিক | স্বতন্ভাবে যে 
এ দুটোর রচনা তা নয়* সম্পূর্ণ অঙ্গাঙ্গিজডিত এ দুই পথ ; তবু স্বাভাবিক 
দিক থেকে স্বতগ্থভাবেই এর নুদ্ধি। ধ্ঈ-জীবনের সাধন পালনের জন্ যে 
06৮০91101) না গাগা অন্থরাগের ওরোজন, “দীনের (ধনের) প্রকুষ্ট 
পরিচধার জন্ট ইসলাম তার যথাযথ স্বারৃতি দিয়েছে | স্বরং হযরতের কথ। 
বাদই দিলাম; কিন্তু খোলাফায়ে রাশেদিনের যে-কারুর ধম জীবন থেকেই 
'তার প্রচুর নজীর পাওয়। যাবে | রহ্ছলের বাণী_-যখন দীনই আমল 
হাজেল করবে তখন মনে করো আল্লাহকে তুমি দেখছো, আর তা যদি 
'না হয়, তা ভ'লে মনে করো আল্লাহ্‌ তোম।কে দেখছেন; কিন্তু ছনিয়ার 
কাজ করতে গিয়ে মনে করে৷ তুমি জর অমর | হযরত _আলীর জীবন 
থেকেই এর চড়ান্ত উদাহরণ পাওয়া যাঁয়। কোন এক যুদ্ধে তার পাবে 
ভীর গেথে যায় | তান যন্নায় কাতর ভয়ে পড়েন। বের করতে গেলে 
কিছুতেই তিনি তা বেব করতে দেন না । অন্তান্ত সাাবীরা পরামর্শ করে 
স্তির করলেন যখন তিনি নামাযে ঠাডাবেন তধন সেট! টেনে ফেলতে 


ইসলামের বৈপ্লাবিক ভুমিকা ১৩৫ 


হবে। ধেই পরামশ সেই কাজ | হযরত আলী নামাজ পডছেন--জজগৎ 
তুলে গিয়ে তিনি আল্লার নঙ্লে একাম্ত্তা উপলব্ধি করছেন । তার পা 
থেকে তার টেনে বের করে নেওয়া হলো | তিনি বিন্দৃবিসর্গ কিছু জানতে 
পারলেন না। নামাজের মধ্যে তথা দ'নই আমলে কি অবিচলিত নি, 
কি একাগ্রতা, আল্লাহ্‌তে মশগুল হয়ে এশ্বরিক শক্তি ও প্রেরণা সঞ্চরের 
কি অপূর্ব আদর্শবাদ ! অথচ ইনি ছিলেন “শেরে খোদা" সাংসারিক কুট- 
বুদ্ধিতে, বীর্যবন্ধায়, শরীর রক্ষার, শীর্ষে ও বীর্ষে ইসলামের ইতিহাসে তাঁর 
তুলন। তিনি নিজেই | ইহ ও পরকালের সাধন-পদ্ধতির যে-রূপ ইসলাম 
জগৎবাসীর কাছে তুলে ধরেছে হযরতের সমকালীন এহেন যে-কোন 
সাহাবীর জীবনই তার উল দৃষ্টান্ত । 

হজের মর্মস্পশী বাণাতেও দ'ন-এনিয়ার সমন্ধর সাধনের অপরূপ নির্দেশ 
দেখা যায়। জীবনের শেষ প্রান্তে দাডিরে কি সুন্দর আবেগপ্রবণ ও 
মমম্পশী ভাষায় মুসলিম জামায়াত তথা মানব সমাজকে লক্ষ্য করে মানুষ- 
মাত্রেরই জান, মাল ও ইজ্জত রক্ষা কর:র জন্ তাকে আকুল ফরিয়াদ করতে 
শুনি। জাতিভেদপীডিত এক কা,লর বাঙলার কৰি মানবত!র প্রতি 
ইসলামের এমন সম্মান দেখেই হয়ত গেয়েছিলেন “সবার উপরে মানুষ 
সত্য তাহার উপরে নাই।” জান, মাল ও ইচ্জত রক্ষার থে নিশি হযরত 
সেদিন দিরেছিলেন, আধুনিক জগতের ব্যক্তি-স্বাতক্ট্যেরে আদশ তার চেয়ে 
থে বড়ো তা! মনে হয় না। 

সোদন হযরতের দ্বিতীয় নির্দেশ ছিল নারীরপ্রতি সদর ব্যবহার করার. 
জন্)। তার পূর্বে হষ্টির উৎস-ূপিনী শারী জাতির উপরে ষে অবিচার 
হয়ে এসেছিল তিনি অপেক্ষাকৃত সৌভাগ্যবান পুরুধ সমাজকে লক্ষ্য করে 
তাই সেদিন বলেছিলেন, 'পুরুষের অধীনস্থ আল্লার কষ্ট নারাজাতির প্রতি 
সংস!র জীবনের নানা সম্বন্ধে ও ব্যবহারে ক্ষমা স্থন্দর, প্রীতিঙদগ্ধ দৃষ্টি তুলে 
ধরতে।' এমশি করে দেখতে পাই কোরান প্রবতিত পথে লাঞ্ছিত! নারী 


১৩৬ দাতিত্য এ সঞ্ক'ত 
টি 


স্াতির আপ্কার গুতিঙার ইতগিতি দিকে হান মনন পমাজের বিপুল 
মংশকে সাচিবে টি? “গঞ্চিলেন | 
সাখাজিক প্ল্য/ণের আদএ পেবিন ভাব ৮ঠি এডারাথ | ঠই তান 
যেমন সেদিন সঞ্জোরে ঘোঝণ করে গেলন ভদ দেদ্য়। নেএক়াৰ নিরুদ্ধে 
ত কঠিনতষ মাভনজ, তেমনি প্র'কৃতিলল!মিক যুগের ছিপক দ, জিলহ জ 
মভরম ও রঙ্গবেন মাস গুলে তে যুদ্ধ বিওত বগ্ধা রাখার আ ববজগতের চিরা- 
চরপত প্রগ[ণক প্মাশ্তজ| তক আইনের মঘ।দ' দাঝে ইল মোহর যুদগ4 তার 
"ব 9ধাজ অগু'তভত রাখবার বাসন। পোষণ করগেন । সর্বাপের মনু 
ধের মহক্ম কল্যান্বে পথ মভাখাশনের অশ্থরের আগে,ত,  বাস্তববুদি 
ইীক্ষতম মন,যাখ অনবিল ভাখ।্গোতে সেদিন এমনিভাস অতো ংস।রিত 
হরেছিল। : সংসার « সমাজ জিবনে লুষ্তভাবে চলর বিপান ও করটি কথা, 
তেই গুকষ্টএ০ রদ দিয়েছিস শান্তির ধম ইসলামে? মহানৰ, সংসার 
জ.বশে ধ।নবতার 5ল:ব পথে এমনিভাবে বাস্তবতা'প উতগিত বেছে 
গেলেন ৷ বিভ্িন “দাশের মাতুধ হাতত ভবেটিল। আই । বৃদ্ধি এ 
চেতনার ক্রগতে তাতেই এসেছিল আললোছন । 
ইসলাম কোনাদনই সন্যাসবদের সমর্থন করেনি ! আবকন্থ পুত 
দনের পঙ্লাচার পালনজনি 5 কঠোর নিধনালশাসনের মপ্েই দিন ও দনিয়ার 
শৃঙ্খল জিপ! ও পণ্য সঞ্চখের অশেষ ইংগিত বেশে গেছে । সরা জুম- 
আ|র মাদ্য জুমার ধিনে নামাষের আজান শুনে বেচাকেনা তথা! দনিয়ং- 
'দার; ফেণে উদ্বা|সে মসজিদের দিকে ছুটে চল'র নির্দেশ কোর!নে আছে 
আবার ন|মাজ শোষে সংপথে জ'বিক। অঙ্গন বা সংসার-্ধম পালনের জন্য 
পংপারে চ্চাডধে পডার ইংগিত'ও কোরান মানধকে দিয়েছে । সংসারে থেকে 
স্রন্তবৃদ্দির সাহায্য জ।বনধম প্রত্তিপালন এ পারালীকিক পাখেয়-সঞ্চয়ের 
এমন বিপি-নাস্তা পৃথিবীতে ইসলাম মানুষকে এনে দিলে। যে এরই ফলে 
ত'র ইাতিভাতসব জম দিকে যুসলম!তনর। হেলার করলে জগত জর | 


ইসলামের নৈপ্রবিক ভূমিক' ১৩৭ 


নামাধাস্থে সুসলঙগান খাদ কাছে প্রার্থন করে রাব্বান। আছেন ফি 
নিয়! হাসানাতী ও ওয়াফল আখেরাতে হাসানাতাও'_ ইভলোক এ পরলো 
কের সারাংশ হে খোদা, আমাদের উপভোগ করতে দা'ও। শুধু প্রার্থনামা র 
নয় ইসলামের প্রথম দিকের ইতিহাসে দেখি নীরভোগ্য বহুন্ধর'র সারাত্সার 
পাওয়!র ন্ট নিজেদের সর্ববিষয়ে তৈর' করেছে নৃষলমানরা | সত্পথে 
দুনিয়াকে উপভোগ করে গেলে গরলোকের বেহেস্তের মেওয়া ও হুর- 
"গলেমান তাও যে তাদের কপালে জুটবে এ অব অবধারিঠ | তাই 
দেশি, সেকালের মুসলমানেরা অবাপে দনিয়ায় বাদশাহ" করলে। লৌহশাসন 
চালিয়ে নয়_ শাসনাপান মংনষের চিত জয় করে। 

প্রথম দিকে ইসলাম তার সমাক্ত ও রাজনীতিসম্মত সুন্থ বিচারগ্রাহ্থ 
তৌহিদ্বাদের সাভাষ্যে এবং সামা-্মবীর ব।ণী প্রঢারজনিক তার অন্তনি- 
িন্ত মৌলিক শক্তির জন্যই অন্সলিম জগতসাস'র চিত আকৃষ্ট করে তৃললে: । 
£মনিভাবে নিজের ভিত শক্ত করে জগন্তের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্থৃতির 
বাজ্য করায় করার জন্য আতঃপব উসল!মের জমা রা শুরু হলো । আববা- 
সাধ, ফাতেমীয় এবং 'ইমাইর! বংশীর শ্লতানদের গৌরবোজল শাসন 
ব্যবস্থায় এশিয়া, উদর আফি ক" 'এব* 'স্পনে মথাক্রমে শিক্ষা ও সংগ্কাতির 
সঙুল প্রসার দেখা যায় । সমর্পণ ও বোখারা থেকে ফেজ এবং কড়োভা 
'যন্থ এ বিস্তুত ভূখণ্ডে অগণিত পণ্ডিতবাক্তি, (জাতিবিদ্ঞা, গণিতবিজ্ঞান, 
পদার্থ বগ্যা, রসায়নশাস্ত্, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সংগীতবিগ্যান় অপ্যযুন ও 
অধ্যাপনা করতেন । প্রাচান গ্রীসের সাধকের জ্ঞানের যে আলোকবতিকা 
"ছলে রেখে গিয়েছিল, হা ইসলাম অনুসারীদের হাতে নতুন প্রাণ পেয়ে 
নেচে উঠলো । টো এ্যারিষ্টটল, হিপারকাস, হিপোকে টস, গ্যালেন, 
ইউক্লিড, এযাপোলোনিয়াস এবং টলেমি প্রমুখ গ্র“ক মন।ধীদের এঞ্রাজি 
আরবীতে অনুদিত ভলো এবং ঘূঘলিম জগাত, দশনশাস্্, চিকিংসাশাস্ত্র ও 
্গান-বিজ্ঞানের রীতিযতচর্চা হত্ত লাগলে' । আল্কানিদ, আলহামান, 


১৩৮ সাহিত্য এ সং্ক তি 


আলফ'রাম, ইবনেসনা, অ!লগা জালী, আবুবকর. ইবনে বাজী, 
অ।লবিত্তরক্ী, ইবনে খলদ্রন এ ইবনে রুশ প্রমুখ মনীষীগণ মন্ুলা ভ্য- 
হার বিভিন্ন সাংস্তিক শাখায় যে সাপনা করে গেলেন "আধুনিক ইয়োরে!প 
উত্তরাধিকার শ্বত্রে তাদের সধনালন্ধ মে অমৃতের সাক্ষাৎ পেয়ে ক্ষগতের 
উপরে করত করে যাচ্ছে। খষ্টার় অষ্টম থেকে পঞ্চদশ শতনী পর্যন্ত ইস- 
লামের উপরোক্ত মনীধীগণ ম'নব সভ্যত।কে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছিলেন । 
পৃথিবীর ইতিহাসে তীদের দান অবিস্মরণীয় হযে থাকবে। জাগতিক 
নিধমানষারী জাতির উত্থান ও পণ্নন হয় কি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতির উন্ন- 
তির দিনে ষেদান সেকরেযেতে পারে, তা দিরে পরথিবীর সভ্যতার 
মধ্যযুগে ইসলাম উক্ত মনীষীদের সাহ'য্যে দর্শনে, বিজ্ঞানে, সাহিত্যে, 
ভাবূর্ষে, সঙ্গীত ও চারুশিল্পে পৃথিবীকে দান করেছে, বরতমানকালের সমগ্র 
ম'নবতা “দ পথ ধরেই উন্নতিব শিখরে শনৈঃ শনৈঃ অগ্রসর হয়ে যাচ্ছে। 
ইসলামের বৈপ্রবিকতার মূলে ছিল সুন্থ মানবতা বোধ? ঘুক্তবুদ্ধি নৈতিক 
চষ্টিভংগী, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংক্কারহীনত্তা, আত্ম-জিজ্জাসার তাগিদ, বিচারসহ- 
মান, বৈজ্ঞাকি অন্তসন্গি সা ও পরীক্ষা পদ্ধত্তি এবং যুক্তিবাদের অবতারণ! | 
নুক্তকণ্ে সার্বজনীন মানবতার জয় ঘোষণা করার জন্য পৃথিবীর যে-কোন 
সভ্যতাই গর্ববোধ করচত পারে ; কিন্তু জগবব্যাপী আদর্শ বিচ্যুতির যুগে 
ইসলাম মানব সভ্যতাকে দ্রুত এগিয়ে দেবার জন্ত যে এতগুলো বৈজ্ঞানিক 
মীমাংসাবাগের অবতারণা করলে" সর্বোপরি ম।নুষকে মান্য হিসেবেই তার 
»অর্বনিয় অধিকার সম্বন্ধে যে ভাবে সচেতন করে দিয়ে গেলে তারই মধ্যে 
নিহিত রয়েছে ইসলামের ইৈগ্রবিকতার বীজ | গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন 
আজ জগংজোডা অভিযান গুরু হয়েছে | স্বাধীনতা, সাম্য ও ম্বানবতার 
মুক্তি প্রৃতিষ্ঠা করার জগ্ত একদিন ফরাসী বিপ্লবও সাধিত হৃয়েছিল। তার 
মলে, সমগ্র ইর়োরোপ কেঁপে যায় ; এমনকি রুশ বিশ্লবও সেই মানবতা- 
বাদের প্রতিষ্ঠার জন্যই সংঘটিত হয়ে গেলো । আজও দেখি বর্ধিত মানবতা 


ইসলামের বৈপ্রবিক ভূমিকা ১৩৪ 


পজিবাদী সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আঙ,ল উচিরে ররেছে। এ সবের 
মূলে যে চিন্ত/ধারা ও আত্ম জিজ্ঞাসা রয়েছে তার উৎস ইপলামের সেই 
আদিম জ।বনবাদের মধ্যেই সুগ্রথিত ছিল। পুথিবাতে বিপ্লব অনুষ্ঠিত 
হতেই থাকবে, মানবত৷র প্রাণ্চ্চল সজীবত।র লক্ষণই বিপ্লবাত্বক স্পৃা ও 
আগ্রগতির মধ্যে । কিন্তু একথ। সত) অত।ত. বত'ম।ন ও অনাগত কালের 
সকল বিগুবের সের। বিএবই হলে। ইসলামের এঁতিহাসিক উত্থান ও প্রসার, 
তার মধ্যেই চিরকালীন বিপ্লবের অত্যন্ভুত ইংগিত রষে গেছে। 

(রাজশক্তি অবলম্বন করে ইসলাম যখন ঙারতবধে আসে তখন অনগ্ 
ইসলামের আদি উত্তাপ ও জৌলুস অনেকখানি শ্রীভরষ্ট হয়ে যায । শুবু 
বরাহ্মণ্যব।দের উৎপীড়ন ও গুব্িধাব|দী উচ্চবর্ণেব হিন্দুদের নিযাতনে জাতি- 
ভেদ জজরিত ভারতীয় সমাজ-জীবন ইসলামের উদার নতিক ও সাম্য-বন্ধন 
শাসিত নিয়ম-নিষ্।র প্রতি আকৃষ্ট না খে পারেনি । ইসলামের প্রতিষ্ঠার 
জন) ভারতই ছিল উপযুক্ত কষণক্ষেত্র ; কিন্তু রাজশক্তির দিক থেকে ভারতে 
ইসলাম প্রচারের কোন ব্যবস্থাই হয়নি | সংস্কারমুক্ত মন নিয়ে ইতিহাস 
পড়লে ও ুনর্বক্তিকভ।বে চিন্তা করলে এ কথা স্বীকার না করে উপায় নেই। 
'ভার বড়ো নজীরই হলো যুক্তপ্রদেশ | দিল্লী আগ্রা মুসলিম রাজশক্তির 
স।তশ” বছরের লীল।ভূমি অথচ সেখানেও মুসলমানরা সংখযালবুই রয়ে 
গেছে । এতংসব্বেও যে ভারতবষে ইসলামের এত অধিক গুণগ্রাহী ও 
অনুসারী দেখা যায়, তার কারণ ইসলামের বৈপ্লবিকতা, মানুষকে মানুষের 
মর্যদ। ও স্বীকৃতি দান। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র গুভতি শ্রেণীবিভাগ 
ভারতীয় সমাজ জীবনকে জীণ করে ফেলেছিল। সেকালে মন্ধ্যতের 
গ্গীণতম অধিকার বঞ্চিত অগণিত ভারতবাসী তাই দেখি দলে দলে ইসলা'- 
মের ছায়!শীতল পতাকার নীচে সমবেত হলো ; সমাজ জীবনে পেলো মুক্তি 
ও মানুষ হিসেনে মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠা । 

আর যাই হোক ভারতের একটা প্রাচীন সভ্যতা ছিল। তার মূল 


৯৪০ সা/হত্য ও সংস্কাতি 


অত্যন্ত গভ।র। সেজন্তেই ইসল।মের পুর্বে এ মাতীতে |বদেশ থেকে 
বাপাই প। দয়েছে তারাই কালক্রমে ভারতের ধশনন্নাত সম্যতার মধ্যে 
অ।৬-পরিচর বজন করে মিশে গেছে । গ্রীক ও শক হনদের ইতিহাস 
ভলো এই | ধন ভিসাবে জড়ব।দের অত্ত অগ্ুকুল হলে। ইসলাম । তার 
গতি ।নরামক পাবিত্র এস কোরান, এক আল্লা ও নাদ্দষ্ট রন্থল এবং তার 
সুস্থ সমাজ চেতনার প্রাঞ্জল রূপের জন্$ই ৬।রতবধষ ইসলাম অনুসারীপ্ণেরকে 
নজের ধে) টেনে নতে পারেনি বরং ইসলামই ভ'রত'য় সামা।জক জীবন 
পদ্ধাতর চর্বলতার জন্/ হারহ ডিন্মূল ক্ষর করে দিরেছে | ইসলামের এত 
বও বঃ.ব।আ্রক গতিধ সামনে পরে ভারতও তার উগ্রতা কিছু পরিম'ণে 
পণ্তার করতে বাধ্য ভখেছে | ইলমের সাংস্কাতক পার বিজয়ের হত 
(খকে হিন্দুদের বাচানোর জন্তাই ভারতীয় দশনের ছসণ।মের অনুকূল ব্যাথ)। 
[দরেছেন শঙ্ঈরাচাষ | সাম্যমত্র।র প্রত ও মাগষের আপকাবে জাতিবয 
নাবিশেষে মানুষকে গুতিষ্ঞাদানের জন্তই ারতের মধ্যযুগে উদ্ভন ভঞ্েছে 
রামানন্দ, কবীর, মারা, নানক, দাঢ় ও শ্রীচতন্তের ! উনবিংশ শতাবীতে 
রামমোহনের যে ভিন পম সংস্কার আন্দোলন, 'কশব চন্দ্রের নবব্ধানের 
পররকল্পণ।, দয়ানন্দের আঘ সমাজের প্রতিষ্ঠা, রাধঞ্ধ 1ববেকানন্দের 
সর্ববনসমশখযের প্রয়াস এবং বিংশ শতাব।র মহাআ গাঞঙ্ধার ভরিজন “তাষণ 
ও শুদির আন্দেশন_এ সবের মুণেই ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরো পৈত 
বেক প্রভ।ব দেখতে পাই )) 

(৬!রতনর্ষ তার অগ্ঞ। হসারে ইসলামিক সংস্কৃতির বু কিছু আনম্মসাং 
করেছে এবং পারম্পরিক সাংস্কৃতিক সর্ণমশ্রন ও নানা দিকে নান। ভাবে 
ধটেছে তবু একথ। সত্য যে, ইসলামের সভ্যতার গৌরব বুকে ধারণ করেই 
ইয়োরে।প জ্ঞ।ন-বিজ্ঞ।নের ক্ষেত্রে পৃথিবীর দিশ|রী হয়ে উঠলো। অথচ 
উত্তর1ধকার ম্তত্রে মানব সঙ্ঃতার এ আশীষ হাতে পাওয়া সত্েও ইসপামিক 
সংস্কতির ওত দ্বণা ও অসহিকত। বশতঃ সঙ্ঞানে ভারতবর্ষ তাকে বর্জন 


ইসলামের বৈপ্লবিক ভূমিকা ১৪১ 


করেছে এনং ভারঙ ভূমি থেকে তাকে চিরতরে উৎখাত করবার যডযঙ্গে 
লিপ্ত হরেছে। ইংরেজ আমলের শেষ একশ বছরের নিছক ভারতীয় তথ 
হিন্দু সংস্কতির পুনরুজীবন প্রয়াসের মধ্যেই আমাদের এ উক্তির সত্যত্ 
যথার্থ অন্তুধাবন করা যাবে । ভারতের পক্ষে তার ফল শুভ হয়নি | রাজ্য- 
ভার! উৎপাড়িত ভারতায় মুসলমান ভারত ভূমিতেই ইসলাম/ক বীচিবে 
রাখার এঁকান্সিক দাবী! তুলে ক”রে নিয়েছে আপন আবাসক্রমি পাকিস্তানের 
প্রতিষ্ঠা । 

যে শক্তিতে ইসলাম একদিন পুথিব,তে বি্গতিতে বিস্তারিত 
হভরেছিল, পাকিস্তানের মুদলমানের' সেই শক্তিতেই পাকিস্তানের সত্যক!র 
দারুল ইসলামে পরিণত করুক। জানি, অত।ত তার পুরোদত্তর রূপ নিযে 
বর্তমানে কোন দিনই ফিরে আসে না; কিন্ত এও জত্য /য, শভীতের 
গেপিন পদসঞ্চারণের পথ পরেই বতমান তার ইতিভাস রচনা করে। 
পাকিস্ত।নে খাটি ইসলাম গ্রাতিষ্ঠিত ভোক | তার ইৈবিক রূপ ফিরে 
'আস্ুক । তাহলে দেখবো হিন্দুস্থানে যে হতভাগ্য মুসলমানেরা রয়ে গেছে 
তাদের এবং সেখানকার ভিন্দ্দের কল্যাণ ভবে, পার্বতী পাকিস্তান রাষ্ট্রের 
মানবতাবাদের ছোয়া লেগে হিন্দস্ত। নও শুচি-বায়-গ্রস্ত অন্দার পন মান- 
সিকতা থকে মুক্তিল।ভ করবে | পাকিস্তান থেকে ইসলামের বিলম্বিত 
রেনেসর শুরু হোক ! যদ্ধ-্চজরিত পৃথিবীতে মজলুম মানবতা ইসলামের 
আদি স্বরূপে অবগহন করে শান্ত ভয়ে উঠক । 


মাতেনও, 
নভেম্বর, ১৭৫০ | 


ইসলামে শাসন-সংহুতি 


ইসলম ধমের প্রত্যেক অন্ুষ্ঠের বিষয়কমের মধ্যে এমন একটি মৌন 
গাভী ও সুসংঘত পুল! রহিয়াছে যে, বভিদুষ্টিতে প্রথমতঃ তাহা উক্ত 
ধরনের তখাকথিত অন্ুশীলনকারীর চোখে এবং অন্ঠান্ত ধর্মাবলম্বীদের কাছে 
বিসদূশ ঠেকিলেও জ্ঞানী ও প্রকৃত মুসলিমের নিকট শৃঙ্খলার উক্ত নিগড- 
ন্ধনই মন্ুম্য-জীবনকে সুট্ট ও সুন্দর ভাবে চালিত করিবার জন্ত প্রেরণার 
একমাত্র উতসরূপে প্রতিভাত হইয়া থাকে | প্রাতদিনের ওল ও নামাজের 
মধ্যে যে স্বল্প শৃঙ্খল রহিয়াছে, তাহাই মান্তষকে যেমন বৃহত্তর শূঙ্ছল পরিবাব 
ন্ট প্রস্তুত করিয়া তোলে, তেমনই বুহ্তৎ পৃঙ্খলের মধ্যে বৃহত্তর মুক্তির 
সন্ধানও দিয়া থাকে | শিল্প বা আটের পটভূমিতে যে কয়েকটি লিষয়- 
বস্তুকে অবলম্বন করিরা ব্যক্তির সৌন্দরযানভূতি ও অ্মার মুক্তি আজ্মপ্রকাশ 
করিয়া থাকে_ সেই সঙ্গীত, সাহিত্য, চিত্রবিষ্তা, স্থাপত্য 3 ভাঙ্ষম প্রভৃতির 
মধ্যেও আমরা নিয়মেরই সুসঞ্গতি দেখি | নিরম যেখানে যত নুন্দররূপে 
ধরা দিয়েছে, দভের ছাদ ও লীলা নপুণ) বত বঙ্ছিম ভঙ্গিমায় ফুটিয়া 
উঠিরাছে, রূপের তারণা যেখানে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিরাছে, সেখানে (সেই 
শিল্প-আত্মাও উন্ুক্ত ও প্রসারিত হইবে, একথা অবধ'রিত। গঠন-সৌন্দ্য 
ব্যতিরেকে কোন বড় জিনিষ দাড়াইতে পারে না, আত্মার সৌন্র্ধ যখন 
শতরূপে উদ্ভাসিত, তখন সেই আত্মাব আধার দেহ যে কার্য হইবে, ত। 
কেহু কল্পনা করিতে পারেন না। নিয়ম শৃঙ্খল ব। নিরম হুষম! সেই দেহকে 
অংব্মার লাবণ্য কুটাইয়া তুলিবার জন্ত পাহিক (সৌন্দর্য দান করিয়৷ থাকে, 
শিল্পের ক্ষেত্রে এমনতর বিকাশই স।ধারণতঃ আমরা দেখিয়া থাকি। 
[ধর্ম ও শিল্পের সামন্ত সাধারণের কাছে বিসনৃশ ঠেকিতে পারে সন্দেহ 
নাই, কিন্তু শিল্পের মধে) যে সংযত-শক্তি শিল্পকে বড় করিয়া তোলে, ধর্ধের 


ইসলামে শাসন-সংততি ১৪৩ 


মধ্যেও সেই কঠিন সংহত নিষম সংযম ল' কঠিন চরণ-নিগডই ধর্জের প্রাণ- 
শক্তিকে স্থারী ও অটুট রাখিতে এবং ঘুগাতীত করিয়া তুলিতে সহায়তা 
করে। ইসলামের দৈনন্দিন অন্ুগ্রেয় ক্রিয়া-কর্ম এবং বুইৎ পরবাদির মধ্যে 
আমরা কোথায় কি শৃঙ্খল নৌন্র্য অবলোকন করি. আপাততঃ তাহাই 
বালিতেছি |) 

প্রভাতে শয্যাত্যাগ করিয়া সংসারে লিপ্ত হইবার পুর্বে খোদার নিকট 
প্রার্থনা! করিরা লইলাম। দেই প্রার্থনার জন্ঠ নিজেকে প্রস্তুত করিয়! 
লইল[ম বিধি-সংগতি ভাবে হস্তপদাি প্রক্ষালন করিয়া । খোদাওন্দের 
নিকট আমার আত্মাকে সমর্পন করিবার পূর্বে দেহকে পবিত্র করিয়া লইব, 
তাহাতে বিচিত্র কি? ওজু বা ইসলামের বিধি-সংহত হন্তমুখ প্রক্ষালন "৫ 
পদদ্বয় ধৌতকরণ আত্মার পবিব্রতার বহিবিকাশ | অতঃপর ফজরের 
নামাজ বা উষাকালীন প্রার্থনা । সারাদিন সংসারে নানা কাজে ব্যাপৃত 
থাকিতে গিয়া মানবাত্বার যে শক্তির প্ররোজন, সেই শক্তি লাভের জন্য 
দিবা সমাগমের প্রথম মাহেন্দ্রক্ষণে মত'শক্তিশালী পরমাত্বার মিলন কামনায় 
মানবাত্মার অভিসাব-যান্রী। ইহাঁরই নাম £ প্রাতঃকালী'ন প্রার্থন।। এই 
প্রার্থনা বা আত্মসমাহিত ভাবের ভিতর দ্দিয়' মান্তষ পরমাজ্মার নিকট 
হইতে যে শক্তি অঞ্চয় করে, তাহাই ত'হাকে সারাদিনের সকল ক্রিয়!কমের 
মধ্যে প্রেরণা ষোগাইয়া খাকে | তুমি মুসলিম. তোমাকে প্রতিদিনের 
জীবন-প্রভাতে প্রার্থনা! করিতে হইবে 1 এই নিয়মে ধর! দিয়, নিয়মা- 
ততের--যোগাতীতের সন্ধান লাভ করিতে হইবে । ৃ 

দিবসে জীবন-বৃদ্ধের তাড়নায় মানুষ যখন সারাক্ষণ মানাকর্মে রত 
রহিরাছে--সংসার ধখন তাহাকে চিন্তাজালে জজরিত 'করিয়া ফেলিয়!ছে, 
বিষয়বুদ্ধির সৌগ্জন্ে, লাভক্ষতির চরম মীমাংসা ঘপন সে দিকভ্াস্ত 
দিশাহারা হইয়া! সংসারকে ভীষণভাবে কামড়াইয়া ধরিতেছে, তখন ধুর 
মসজিদ হইতে পর্যাতক্রমে মধ্যাহ ও অপরাক্কের মধুর আজানধ্মি ভালিবা 


১৪৪ সহিত্য ৫ স.সুত 


গাসিততছে £ তিনি শ্রেগ, এতনিই শ্রে ! এস মানুষ! যাভ।র 
মামাংসা তুমি এতক্ষণ করিতে পারিলে ন» যে সংসার তোমাকে পদে পদ্দে 
দিক্‌ ভুলাইল, তাতাকেই আবার নিক্ষম্পচিতে গ্রহণ করিবার জন অরূপ- 
রতনের সহিত সাক্ষাৎ করিঝ! ল€। সই মহাশক্তির মধ্যে আত্মনিমজ্ডিত 
কর? প্রশান্ত ক্যোতিতে তোমার আমাকে উদ্ভাসিত করিয়: তোল, ছ্ষিনে 
অবশিষ্টাংশটুব নিউরে কাটাইতে পারিবে । তৃযি মুদ্লিম. তৃষি এই ডাকে 
পাঙা দিবে না? নিয়মের এই শুঙ্ছল পবিবে না % 

এদনান্ে দিগ দিগন্ত মীন অবগুগনে ঢাকির। আসিতেছে, অন্তিম রাগ- 
রঞিত রবি এপার হইতে ওপারে পাড়ি দিবার আয়োজন করিতেছে, সন্ধ্যার 
আবনমত আলগ্তুজডিত অন্ধক'রে পাথিব প্রতি ধুলিকণা /কান মোহন 
মপ্ভাঙ্লবের মভা উল্লামে কাহার প্রতীক্ষায় রহিয়াছে | ভে মানব, তরা 
কর, শ্র্যান্তের সঙ্গে “তাম'ব আজম কও একবার “মই শক্তির সঙ্গে মিলত 
করিয়: লও, পর্ণ মিলনানন্দে দেখ সেখানে কতো শান্তি কতে। তৃপ্তি।' 

রানি প্রশ্থরাত।ত ভইরা হাসিতেছে, প্রকৃতি বহুক্ষণ শন ভালপ!রণ 
করিয়াছে । চারিদিকে চিরয!'মিন; নীরব নখর হইবার জন্য উদগীব 
হইব রহিয়াছে । তুমি একই অবসরে আপন প্রার্থনা সারিয়া লও খে 
পূর্ণানন্দে প্রভাত হইতে এ পর্যন্ত কাটাইলে, তাশ্ারই কুতজ্ঞতা প্রকাশ 
কর। নিদ্রার ক্রোডে ঢলির! পড়িবার পুর্বে অজ্ঞাত অবস্থায় কৃমিকীট 
বিশিষ্ট দে্ভেকে সমর্পণ করিবার পপ্রাক্কালে__এ জীবনে যে বপরস পান করিষ' 
গেলে, ভ্তাহার আনন্দ প্রকাশকল্পে সেই আনন্দদ|তার গুণগান কর ; কারণ 
তুমি জানন। তোমার জিবনে আগামীকাল আসিবে কিন। ! এই জীবনের 
স্থখতঃখ আনন্দ ও বেদনাদাতার প্কাণ পরিশোধ করিবার জন্ঠ রাত্রির ঘনান্ধ- 
কারে সেই পরমপূরুষের নিকট আত্মসমর্পণ কর--একবার কাদিয়া বলো £ 
“সংসারের বাধা-বন্ধন”_মারা-মমত| হইতে অসম্প-ক্ত রাখিয়া" যে ভাবে 
আমার জীবন কাটাইয়া দির' অ|জিকে আবার (তোমার সন্ধে লই 


আই 


ইস্লণমে শ!সন-সতাতি ৯৪৫ 


আঁিবাচ, তাভারই জন তোমার কাছে আমর এই নতি স্ব 1- জীবনের 
সবঠঃখ, সবশ্ন রা তাতেই সধপণ করিবার জগ মর এঠ আশেষ 
কাতরত। 1 

পরমূ'্ার সি মানবাস্মার সে'গ' গঞ্চপন মানলে প্রাতদিসপের “পীল২- 
পুনিক এই মভ।সুযোগ, ইহাকে নিতান্থ সাপাধর! নিরুম-শৃঙ্খল বলিব।, 
সংসারের নাহিক বিবরমল্ে মত্ত থাকির। ভশাষ হারাবে » তুমি 
বুসপিম, তুমি তাভা পার না । সংসারে খাকির' সংসারাতী'তকে পাইনার 
জন্য স্বযোগের শুঙ্খল পরিধান কর--উভয় কূল বজায় পারিবে : 

প্রাতদিনের পাঢ 'ওয়াপ্ক্রর এই ন'মাজে যে শৃঙ্গলা দেখি, ভাত যেমন 
সংস!র ক্মনিরত মান্ষকে আত্মোঘুর্ভ্রর প্রধোগ দেয়, তেমনই সার 
'যমন তাহাদের অনক্সাবে মাটি ভইর! না যায়, ভাতা "পাত বিশেষ লক্ষ্য 
রাখে । ইসলামের এই বিধান সংসারত হা কারতে বলেন", সংসারের 
সত মুপোষুখি সাক্ষাৎ করিয়। সংসারাত্ঠীতের সহিত যোগ স্থাপন করিতে 
রলে-__-সকপ মান্তষের সভিত একন ও একাত্ম হইয়া 1 ক্ষণকের জন 
[মাছের যিলন হইল, শাপ'ততং সংসার ভাভাতেই চলিবে, ইনার 
অধিক হইলে সংসার নষ্ট ভইনে । তাই তাহার "আহ্বান যই শুনিলে, 
সাংসারিক বিষয়কম চাঙিযা তাহাকে ম্মরণ কারবার জন্য টিয়া জ্ঘাসিবে ২ 
স্মরণ শেষ হইয়া গেলে ম্মাবার সমাবারণ্যে প্রবেশের জলা পাবিত 5৪ 
ক্লুতকার্য হইনে 1” 

'গ্ধর্মীবলন্বী এবং ত্ি-আধুনিক-ভাকশ্বিত মুসলমান ইসলামে , 
যেখানে অতিরিক্ত কঠোরতা লক্ষ্য করেন এবং মানুষের দেত ০ আহা 
খানে অহেতুক পীড়িত 4 বলিবা অন্ডিষোগ করিরা থাকেন, ভাত" এই 
রোক্কা বা উপবাস ব্রতের মধ্যে! 'সর্দন কথোপকথনচছলে আমার এক 
অমুসলিম বন্ধু বাঁললেন $₹ মনে কর'ন, আপনি চা পানে এ/তরিজ্ঞ 
গভ্যন্ত | সারাদিন চ। না বয়ে, কম্বা এক আধটু ধুমপান না কোরে 


১৪৬ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


কেমন .কোরে কাট।বেন £ আম ননে মনে হাসিলাম।  প্রকান্ঠে' 
বলিলাম £ কিন্ত তেমন কোন নিধান ত' নাই! ভদ্রলে'ক অপ্রাতিভ 
ইরা গেলন | 

বাতির হইতে রোজাকে ফাভার। গধু উপবাস তত বলিয়্: জানেন, 
উ'হারা ভাসিবেন, চা পনের কোন বপন না থাকলে অবশ্য অগ্রতি 
হইবেন সন্দেহ ন|ই : কিজু পোজ'র মাহাম্্াও শুধু হুর্যোদয় তইতে সুযাস্ত 
পধন্ত কিছু ন'খাওয়ার মধ্যে নষ |; কঠিন পীডন, কচ্ছ্ুসাধন ও নিয়ম- 
সংযমে মান্গধের শরার যেমন সুস্থ, সতজ্জ ও সবল হর, “তমনি (রাজার 
অতিরিক্ত কি জজজারত কষাখাতে মাচবের আত্মা সুস্থ ও সবল ভয়! 
পরমপুরুষের এঁণাশক্তিলাভে শনব। আ্র। স্বতঃই উন্ুখ হইব উঠে। বং্সবের 
সুদীথ এগারমাসব্য।পা দেভমনের মধ্যে যডরিপুর তাডনাধ যে রেদ ঘনীভূত 
ভইযা উঠিয়াছিল, বিধর কমনিরতমানুধ টৈনশিন প্রার্থন। সব্দেও যে চিত 
চাঞ্চল্যের , অশান্থর ও মোভমুগ্ধবৎ অবস্থার পরিচয় দিতেছিল, তাভারই 
দমন কল্পে বরিপুর বিরুদ্ধে অভিযান এই রোজ | রজঃ এ সন্ধগুণের 
উপরে মনষ্যলদমের তমোগুণের প্রাধান্ত এত অধিক দে ভযে'গ পাহলেই যে 
কোন অবন্তায় মানুষকে পথ লান্য করতে ইভা দ্বিধাবোধ করেন! | অদধের 
তমোগুণ বা 'ন।ফ সে আন্মারা কে কর!যত করিরা, কামক্তোধ “প1ভ-মাত 
মদ 'ও ম!তর্ম প্রতি আঘটনপ্টিরসী ধড়রিপুকে বশীভূত করির। বংসরের 
পরবর্তী 'এগারটি মাস শান্ত « সংযতভাবে কাটানোর উদ্দেগ্তেই যমন 
একদিকে “দহশক্তিদকে ভীন করার জলন্ত পেটের রোজ! করা হইতেছে, 
* অন্যদিকে তেমনই মুখের দ্বার! ক1হ।কেও কটু কথ! না বলিয়া, পীড়িত ন। 
করিয়া মুখের রোক্তা কর! হইতেছে | হাতত; কহাকেও আখাত ন। 
করিয়া, কাহারও অনিষ্ট না করিয়া, ভ!তের রোজা কর! হইতেছে |. চোগ 
তুলিন়্া কোন কামিনী- কাঞ্চনের দিকে না তাক ইয়া, কোন আকর্ষণীয় 
ন্ষ্তর দিক না চাহির। চোখের ও মনের লোভ- তৃপ্চির রোজা কর 


ইসলামে শ।সন-সংহতি ১৪৭ 


হঠতেছে | জিগ্বার দ্বারার তরল কিংবা শক্ত, স্ুস্থাত কিংবা বিশ্বাধ কিছু 
এ্রভণ না করিয়া ক্গতেব স্বাদ হইতে নিক্ষের জিহ্বাকে একটি দিনের জন্য 
ধর্ষিত রাখিরা জিহ্বার “র!জ্ঞা কর; হইতেছে যেখানে কটবাঞ্চ পরনিন্দা, 
পরচচা ভইতেছে, সেখান হইতে সরিরা পর, নহিলে তোমার কান তাত। 
শুনিবে, কানের রোজ: হইবে না| রোজ! রাপির। সুগন্ধি কিছ শুকিও 
লা, হয়ত বা তাহাতে চিভঞঞ্চল্য ঘটিতে পারে । যেখানে মন্দ অনুষ্ঠিত 
হর, মানুষ ঘ!তার ছ।র; মনত করে, (মশানে আসক্তি ও আকষণ রহির|ছে, 
[যখ|নে মাগুব নিজের চিতকে দমন স্রিতে অসমর্থ,সপানেই মনগয্য 
অনুগ্র প্রতি কণ-উপকণ!র রোজ|, সেখানে সেই অঙ্গের উপবাস করাও, 
আ।পনি ডাহা শান্ত হইবে | একদিকে ষেমন বিভিন্ন নিষম শৃঙ্খলের দ্বারা 
আন্তষের প্রতি মঙ্গেন রোজ কর! হইতেছে, মগ্ঘছিকে তখনই সারাটি মাস- 
ন্যাপ দিবারাত্র উপাপণ।, পবিত্র ধ্গ্রন্থ ক 'রাণ পাও, দানধ্যান, দরিদ্র ও 
নসাফিরাকে অন্নভোজন করাইয়' চিতের প্রসারতা বাড়াইয়া তালা 
হইতেছে | যথার্থ নুন্ঃলমের কাছে এই মাসের যে পবিত্রতা তাহা এই 
করণে । এই জঙ্ত রে|জাকে উপব!স ব্রত বাউপোস করা বলিলে ভুল 
হ5ই(ব : কারণ পবিন্ধ রমজান মাসের রোক্তা বলিতে মুসলম।নের প্রাণে 
হেব ও অনুষ্ঠেষকমাদি ভি করিব! দা ছয়, তাভা যানি অনুসলমান তিশি 
€কমন করিয়! বুঝিনেন ! 

(প্রথমেই বলিয়াছি, আর্ট বা শিন্ের ক্ষেতে যেখানে যত সধ্যত নিরম 
শাসনে শিল্পের অবরব শির অঙ্গ না ১৮7)1৩৫৮ গড়িয়া উঠিঘাছে, অথচ* 
(সই বতির্বন্ধনহই একমাত্র লক্ষা হইয়া নাই, দেহের বাহিক সোন্্যকে ছাড়া- 
হয়া, আত্মার সৌন্দর্স ভাবলে।কে অসীমের সন্ধণনে ছুটিরাছে. সেখানেই 
জাভা হইয়াছে, অতি উচুদরের শিল্প--4900 700 ৩7০2৫ 5৮ 9) পবিত্র 
রমজান ম|সের মধ্যে ইসল1ম ধর্মে নিমের যে কঠোর 'বহিবন্ধন দেখি, 
তাহ|ই যেন আমাদিগকে অতি জন্দর, সুঙ্জ অথচ বৃহৎ শিল্পের কথা স্মরণ 


৯৪৮ সাভিতা] এ সংস্কৃতি 


করাইর দেয় | বাতির কি শৃঙ্খলা, কি শাসন, সই শাসন একটু অযান্থ' 
করিয়াছ আর অমনি তোমার রোজা নষ্ট ভইঘাছে, ছাখচ দেই শাসনের 
মধ্যে থাক, নিয়মের সেই কঠোর নিগড পরিধান কর, দীথ একটি ম:জ 
ভপন্তা ও কচ্ড্ু সাধন করঃ দেখিবে [তামার জাহ্মা শুভ সংযত হইয়া অ্সা- 
ঘের লীলানুরাগী ভইয়! উঠিরাছে ;) হলাম ৫ মীম, মানবাআ্ম! ও পরমান্' 
একন্বত্রে নীধ। পডিধাছে ! সাংসারিক ঘডরিপু এ উক্িরাদি টাবিতরস-- 
নিঞ্ধাশিত আশ্রার অসীমের সন্ধানে বধ হীন এই অভিসরমাত্র/ই রোঙ্গাকে 
যুগে যুগে ইসলাম ধম-আঙ্গে বর!ট 'অংটেরি মৌন গাস্তাধ ও সতত সুমা 
দান করিয়াছে । 

জীবনকে প্রধানতঃ নিভিন্ণে দেখিবার উদ্দেণ্তে কোন কোন পদে 
জীবনের কযেকটি বিভগ দোখতে পতি | গাহস্থাধষে তিষ্িত হইল 
জনা গুরস্টুতে বর্ণ পালন অপরিভ!ম ভষ্ট়। উঠে! জীবনের ব্রপচ্য ৭ 
গারইস্থ্য পরার শেষ ভইয় "গেলে বান প্রস্থ ও সন্যাস আসিয়া পধায়ক্রমে 
জীবনকে সংসার-বিমুখ কবিয়! ভালে | ইসলংমে হাবনপঠের কোন পুথৰ, 
পর্যা নাই | স্বীকার কার, হয়ত বা অধ্যয়ন পর্য। ক শরঙ্গচষের সঙ্গে কিছু 
সাঁদ্ঠ গ1কিতে পারে | সে সাম শধু সেইথানেই | ইসলাম মাহষের 
স'র।জাবনে রোজার "মধ) দির ব্রঙ্ছচধ বিস্তৃত করি] দিয়।ছে । শুধু তাহাই 
নভে, ব্রঙ্গচর্য ও গাইন্চ, বানপ্রস্থ ও সন্যাস রমজান মাসের ভি 
ছবিঃ সংসারের পাঠভুমিতে মানটষের সারজীবনে প্রতি বংসরান্থে এমন এক 
অ+নচ্ছেস্ত গ্রন্থিরূপে বাধা পঙিয়াছে যে, তাভাই মুসলমানকে সংসারাসক্তি ও 
স'স।র বিম্খতার, জ্ঞান ও কনের, ধোগ ও ধনের জালোক দন করিতেছে । 

দীর্ঘ তিরিশদিন রো রাখার পর প শ্চম গগনে ঈদের চাদ দেখা ছিল, 
মুসলমানের প্রাণে আবার আনন্দ ফর) আসিল, মুখে আবার ভাসি ফটিয়। 
উঠিল। আগার্মী কাল হইতে আবার এগার মাসের জবন্থ গতানুগতিক 
জীবনযাত্রা, আবার দিনের বেলা; অবাধ পানাভার, ধ্সনার কারামুি 


ইধলামে শ।সন-সংততি ৯৪৯ 


হ|ধি ত অিনেই। ভাই অপরোষ্ঠের প্রান্তভাগে পাণরশ্ি রেধ।| মনে 
হইল যেন স!র' 'বশ্বে ুসলিম প্রবল আনন্দের আ।তিশয্যে ভষণ কোলাহল 
হলিবে, প্রাণ!নন্দের মাতাম।তিতে ক্ণরোল উঠিনে | 

কিছু পরদিন প্র।তে মুসালম-ঞাভানে একি অপ্রীপ রূপ দেখতেছি ? 
প্রাতে নাহার সম্পন্ন কিয় পাব বসনভূঁধনে হারবুত হইয়া ঈগঞি 
ছ৬াইতে ছুড়াইতে আ।বালবুদ্ধবান ঠ মানব।আ।র একি অপুব ভাবস্মাগম ! 
পাখবার সকল ঞ)নে চাহিয়। 'দপঃ যখ।নে মসণমান আছে, (,সখানেই 
খও|হ!দের এই অসংখ্য সম।বেশ | (ছু সম্মিলনে বিশ্বব্যাপা আনন্দের 
বছাধবনি বাজিতেছে না, আননের বৃতিলিকানে 'প্রাণেতে আদলে হট 
গে।লও হইতেছেন।- সে অংণনে অতিরিক্ত উল্লাস পাস্ত নই, তাগুৰ নতি) 
নাই, বাহক চাকচিক্য ও সোন্দ্যের গুজ্জতশ। ত15। চক্ষ ঝলসাইঝা দিতেছে 
না| এই আনন্দে অসীম ও সসাম 'প্রাণে প্রাণে আপন।কে আপনিই উপ- 
ভোগ করিতেছে । এত শত মানুষের সঙখবদ্ধ আহ্বানে তাহার. রাজ; 
কম্পিত হইয়া উঠিঞঝছে। পরমাস্্রাওত আজ তহ।এ. প্রিরনের প্রার্থন। 
গ্রহণ করিতে আসিরী। বিশ্বজনে '৬।ক ছ।ডিয়। বলিতে ছেন-ওঠ০ জাগে, 
দধো, ভট্টগোল না করিয়া উল্লায় না ছডাইব্বা, কেমন কারয়া আস্ানন 
প্রার্থন। ও উপাসনার মধ্য (দিয়া প্রকাশ করা যায়__আতঙ্মানন্দ ভূমানন্দে লান 
করা যায় ৷" পবিভ্র ঈদ জগংসমক্ষে সেই আদশ ওুচ।র করিতেছে। 

ই»*লামের প্রতে)ক পার্বণ-পর্বে আমরা যে 'সৌন্দঘ, যে শৃঙ্খলা, শোভা, 
যে উজ্জল এত)ক্ষ করি, তাভ। বাঁহিক নিষ্ধম হৃঙখলকে আতক্রম করিয়। 
তাভার অভ্যন্তরীণ সৌন্দযকে এমনি শান্তভাবে একাশ করিয়া থাকে। সে 
আনন ও সৌন্দর্য বাহিরের নভে, তাহ। ভিতরের, বাহির হইতে দেখিতে 
(গলে ?সখানে বিশাল-নৈপুণ্য ও সহজ আননোএ তরলোচ্চল বহিবিকশি 
প।ওয়। যাইবেনা বলিধা। ত|ভ।কে ছোট করিয়া দেখ! হইবে । ইসলামকে 
জানিতে হইলে, তাহার প্রতেঃক পর্বের সেই আত্যগ্রীন প্রশাস্তজ্যোতি ও 
স্বর মৌন গান্তীষের ভিতর দিয়াই তাহাকে ঞ্।নিতে 5ইবে। 
শের কথা, 
ঈদসংখ্য।, অক্রোধর ১৯৪৩ | 


খুসলিম ভারতে শিক্ষাব্যবস্থা 


জগতের প্রত্যেক দেশের উন্নত ও অবনতি, উ্গান ও পত্তন সে 
দশের শিক্ষাব্যবস্থার উপরেই পির করে । দেশের যাবতীয় ছর্মতির মূলে 
থাকে শিক্ষার অব্যবন্ত' প্রয়ে'জনয় ও যথোপযুক্ত শিক্ষার অভাব । বুটিশ 
আমালে ভারতবষ শিক্ষার দিক দর' উন্নতি সপন করির।ছে কিনা তাহা 
নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা শক্ত! ইংরা্ রাক্তত্বের অবসানে ভাবীকালের 
ধতিভাসিকের' এবং শিক্ষাবিদের! তার বিচার করিবেন | আধুনিক কালে 
গণ-শিক্ষার কথ। ন।-ই বা বলিল! কিস্থ যে শিক্ষা ভাবতবর্ষের বিভিন্ন 
বিশ্ববিদ্ভালয়গুলিতে দেওয়ার বন্দোবস্ত হঈব|ছে এরও হইতেছে তাত এ- 
দেশের পক্ষে কতটা কালোপযোশী ও কার্ধকর' সে নিষরে যথার্থ শিক্ষ!- 
বিদদের যথেষ্ট সংশয় 'রহিরাছে | অন্তান্থ স্বাধীন দেশের তুলনার ভারতবর্ষ 
শিক্ষার দিক দিয়! অনেক: পশ্চাঞ্পদ : এমনকি এখনও অন্ধতার স'মারেখা 
এড়াইতে পারে নাই 1 ভারতবষের এই ছরবস্থ৷ কে করিল? স্বতঃই প্রশ্ন 
জাগে, দেশের শাসনভার ধাহাদের হাতে ছিপ তাভারা কি ইচ্ার প্রতিকার 
ও'সণ্ত/কার সুব্যবস্থ! করিতে পারিতেন ন!? 

পত্যেক যুগে প্রত্যেক দেশে (এখানে স্বাপীন দেশই বুঝিতে হইবে ) 
নিদিষ্ট একটা আদ ব' লক্ষ্যে পৌচিবার উপায় স্বরূপে শিক্ষাব্যবন্ত' নিয়হ্গিত 
জইর, থাকে | শেখ! গ্যাছে কোন দেশ একটা স্বাধীন ছ£সাহস। জাতি 
তৈরী করিসার জন্য, কে!নছেশে বা তাহার অপিবাস।দিগকে দেশভক্ত করিয়া 
তুগিব।র জন্ত তঢপযে গী শিক্ষাপদ্ধিত নি্চারিত করিয়াছে | উদাহরণ স্বরূপ, 
ফ্লাম্স 9 জার্মাণীর কথা ধরা যাইতে পাবে । ফ্রান্সে 'রিপাগ্রিক্যান গবর্ণমেন্টা 
প্রতষ্ঠিত 5এর'র পর হাত!রা তাহ!দের স্বজা তিবন্দকে স্বাধীন ব।পষ্ঠ মানব 
গড়িবার আশার তাত!দের শিক্ষাপদ্ধতিকেও 'শ্বরীনত৷ ও সাম্যমৈত্র'র' 


মুসলিম ভ'রতে শিক্ষাব্যবস্থা ১৫১ 


ভিত্তিতে পুনর্গঠত করিয়াছিণ। ১৮০২ হষ্টান্দে নেপোপশিখানের ভাতে জানা" 
নীর পরাজয়ের পব জাতীরজীবনের পায়েজনানুস।রে জাঞানা তাহার শিক্ষা- 
ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করিয়াছিল । অসাধারণ দেশপ্রাতি এবং তাভাদের 
পিতৃভূমির প্রতি একান্থিক অনুরাগহ তাভাদের শিক্ষা-পন্ধতির পুনগঠনে 
'দনুবপ ইন্ধন ষে।গাইরাছিল। গভবাং প্রান শিক্ষা-ব্যবস্থার পরিবত্ত 
ও যুগোপযোগী প্ররোজনানুসারে ভাতা? পুরর্ঠিন ডা ভাতার জ'বনের 
উন্নত কর্পনাত;ত, ইহ। ম্বতঃসিছ | 

এখানকার কথা না হয় বাদই পিলাম ! (প্রান ভারতবষ এমনকি 
মধ্যযুগের ঘুসপিম ভরত ধমণ্ানণ ছিল । তাই দেখা যার ঘসলিম 'ভার- 
তের শিক্ষা-প্রণ।লীও মূলতঃ ধর্মীর ভিদ্চিতে গঠিত ভইরাছিল। শিক্ষার্ড- 
নালনকারী ছান্তর্দের মানসিক বুদ্ধ ও শারারিক শাঞ্ত যাহাতে, সংযত হ& 
এবং চরিত্র গঠনের ছ্বার। নৈতিক ও আখিক জীবনের যাহাতে উন্নতি তরু 
মুসলিম ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার মূলে সেই দৃষ্টিই সঞ্রির ছিল। ইসলামের 
আদশের সঙ্গে মুসলিম ভারতের শিক্ষা-প্রণাল।র 3 যথেষ্ট সামন্ত ছিল । 
ইসলাম সংসারকে বাদ দিয়া শুধু মাত্র আধ্যাগ্রিকত। ও সংসারাতীতের 
সন্ধানে ব্যাপৃত থাক! কোনদিনই সমর্থন করে না । দিন ও গনির। যাভাতে 
বজায় থাকে ক্কোর্আনে সুুবা “জুমআর মধ্যে তাহার পরিচ্ছার নির্দোশ 
আছে | জুমআর দিনে নামান্ছের উদ আহ্বানে সংসারকে ভুলিয়া সংসার- 
ভীতের সন্ধানে সাড়া দ|ও তাহার সঙ্গে একাজ্মত!র পরে বিধিবদ্ধ জ'বিক। 
উপার্জনের জন্ট ঢুনিয়ার বিস্তৃত বুকে আবার ছড়াইয়া পড়ো । আধ্যজ্ঞবা- 
দের সঙ্গে ব্যবহারিক জীবনের এমন সুসামঝন্ত, এমন নিন্মবদ্ধ প্রণ।ল 
আর কোন ধনে আছে কিনা জানি না। ইদল[মের এই ভিতর উপরেই 
মুসলিম জগতের উন্নতির দিনে তার শিক্ষা-ব্যবস্থর ।বরাট সৌধ নিমিত 
হইয়ছিল। তাই আমর| ইসলামের বিত্যদ্দীপপ্রি ও ব্যাণ্তর দিনে একাধারে . 
অসংখ্য যোগী ও গৃহী, দরবেশ ও বাস্তব মান্ধধ, নৈরায়িক ও পণ্ডিত, বৈজ্ঞা- 


১৫২ সাত এ সংস্কৃতি 


নক ও হিসাব, পনশনিক ও বৃদ্দিজীল পয়াচি। (৬ ররহবর্মে মলম 
« “ভুত যপন প্রাবেশ ক্র এপ শায়ী আসন লং কলে তখন হউরোপ ও মধ্য 
এপিয়ার ইসলামের নপ্রবা তক ও বিশ্মাবকর "শক্তির প্রবাহ মন্থর হইয়া 
আজিরাছিল শু তপন ব্র্ণ্যশক্ভি “গীডিত ভারতবামীদের কাছে 
ইসলামের লাবহঠারিক জীবনের উল শর দন আল্নান দীপালোকের মনত 'প্রদীগ 
« ভাঙ্গর ছিল! ইসলামের 'সই লন অ'দ*তক শচাইধ রাগখিনার জন্য 
প্রথমদিকে পল্লীর সুলতানের কি পরের হিকক মোগল সম্রাটের উক্ত 
পদ্ধতিতে নৈক্ষেদ্র পরিনারের এন” দেশের জনসাধারণের শিক্ষা বাসার 
নিয়ন্ধণ করিয়াপ্ছিশেন : বুদ্ধ গত ও ভাঙাগড়ার £লুন মাঝে মানে সমগ্র 
ভারতবর্ষ লকর্পত ভওবার সঙ্গে জগ লালসার হরত ভাঙন ধ্যাছে, 
কত্ত সেই বিপুল দুধিবাত্ত্য।র ভ।রতব্যাপী গ'লোডনের মন্তিত গর কিশ্ষ- 
গাল তওরার পুর্বেই বিজন রাজ সা সম্বাট আংালাটিত ভার ওদষেল 
উপরিভাগে সুতার বিগ কমপন্তা নিন্ধারণ * প্রজ্গামন গঠন করিবার জগ 
আ[দশোক্জল শিক্ষার শান্পারা 'প্রব।তিন ক রর ছেন " দিল্লীর সুলতানদের, 
প্াদেশিক মুসলিম শ'সনকতাদের হব” মোগল ৬রতাদাপের ঈতিভাস 
অ'মাদর এই উল্ডির যাথার্থ প্রমাণ করিল | 

পাবেই বলিয়।ছি, মুসলিম ভাবাতর শিক্ষার প্রথম সোপন ছিল ধরন, 
কিন্ু পম কমর লক্ষ্য চিন না। ভিন্ মুসপমান নিবিশেষে ফারসার 
মপান্ততার শিক্ষ' পাত কেস নূললম।নদের ফগ্তা কোরআনের ভাবা! আরব 
সিল অনগ্পাঠ্য | শির তনট' স্তর পিল ' উচ্চ, মাশ্যমিক ও প্রাথমিক 
উক্ত “তন প্রকারের শিক্ষাই মক্তৰ মাদ্রাসা, খুল কলেজ, মসজ্জিদ এ গানকা 
এবং কোন কোন স্থলে স্যক্তিগণ্র বেপরকারী 'প্রতিঙগানের মধ্যদ্যি! দের" 
হইত: প্রাথমিক শিক্ষার স্তারে শক্ষর পারচর ও ছোট খাটো পুস্তক পড়িতে 
পর! এব, 'খ।দাতাধাপার প্লশংসান্থচক ছোট কবিতার্দি হাদয়গম ও মুখস্থ 
করাই ছিল প্রধান উদ্গেগ্য। এল্প সময়ের মধ্যে বহুদূর অগ্রসর হইতে 


ম.সলিম ভরতে শিক্ষাব্যবস্থা ১৫৩ 


পার।ই ছিল প্রাথমিক শিক্ষার অন্ততম বৈশিষ্ট্য | সআাট আকবরের সম 
তাহার স্বকীয় যত্ত ও চেষ্টার কলে এই প্রাথমিক শিক্ষার দ্রুত ও ঢরমোন্নতি 
হইয়াছিল। প্রাথমিক শিক্ষ! শেষ করিয়া ছাত্রের! মাধামিক ও উচ্চশিক্ষা 
প:ভের ভন্ত উপযুক্ত সিভিন্ন প্রকার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করিত। মাধ্যমিক 
ও উচ্চশিক্ষার পাঠ্য তিক ছিল এইবপ £-ন.তিশান্ত্র, ধমতত, জ্যোর্ত- 
বিদ্যা, শাসনতন্ত্র: গণিত, বীজ, জ্যামিতি, পদার্থবি্ চিকিংস! শান 
দর্শন, সাহিত্য, কাব্য, অলঙ্কার আইন, সামাজিক ও ধগ্ানশাসন জঙ্রিমা 
সংক্রণন্ত তিসান নিকাশ, কষিবিদ্ধা অর্থন।তি এবং ইত্িভাস। 

হিন্দুদের জগ্/ তাহাদের জাতীয় জীবন ও বিবিধ সংস্থুতি সংক্রান্ত, 
পুন্তকাদি পাঠ্যতালিকা ভুক্ত ছিল। মুসাঁণম ভারতের প্রত্যেক নিখবিগ্ভালয়ে 
ও মৃক্তব মাদ্র।সাঁর উপরিউক্ত বণিত বিষয়গুলির সবটিই অনন্ত পাঠ্য ছিল 
ন।; কিন্তু উত্ত প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশগুলিতেই উক্ত বিষয়গুলিব অধ্যয়ন 
ও অধ্যাপন। হইত | কোন বিশেষ বিষয় অধ্যয়নে কাহাকেও বাধ্য কর। হইত 
না, ছাত্রদের আপন কঢচর উপরেই নিষয়ের গচ্ইন্দাপহন্দের ভাব ছাভিয়া 
দেওয়া হইত | ,+নিজেদের জীবনের ভবিষং আশা আকাঙ্খার পুরক 
বিষর নির্বচন করিত। কিন্ত যুগোপযোগী শিক্ষার 
প্রয়োজনারঞূরী অনুসারে যে বিষএগুণি সন্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা অপরিহাং 












গরী'ব ছাত্রেণ সরকার! শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলতে বিনা খরচায় পেখাপড়া 
শিখিতে পারি'ত এবং সরকার: বেসরকারী সকল শিক্ষ! প্রতিষ্ঠানই ভা 
নিধিশেষে সকলের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত রাখিয়াছিল। 

কৌটিল্যের অর্থশান্ত্রের মধ্যে দেখা যাস, ভিন্দু ভারতে একমাত্র শাসক 
সম্রাটদের সন্তানদের ছাড়া আর কাহাকেও শ।সনতন্ধে দীক্ষা দেওয়া হইত 
না কিন্তু মুসলিম ভারতে রাজ। ও প্রজার সন্তান নিবিশেষে শাসনতন্ত্রে শিক্ষা 
পাইত। ইহা যেমন একদিকে মুসংলম অসত্রাটদের ব্যক্তিগত উদারতার 


১৫৩ সাভত্য ও সংস্কাতি 


পরিচয় বহন করে: অন্যদিকে তেমনি দেশের জনসাধারণের শাসন-পদ্ধতি 
সম্বন্ধে পরিস্ষ:ট ধারণা ছিল, এমনই আশ্বাস জাগাইয়। তোলে | 

বত্মান কালে ভারতবর্ষের বিভিন্ন বিশ্ববিগ্ভালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- 
গুলিতে যেমন আকম্মিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, অগ্ধবাংসরিক 
ও বাংসরিক প্রতি নানাবিধ পরীক্ষার প্রচলন রহিয়াছে, মুসলিম ভারতের 
শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে তেমন পরীক্ষা,ভীতির দ্বারা অসময়ে ছাত্রদের 
“আত্মারাম' শুকাইবা দেওয়ার অনুরূপ ব্যবস্থ! ছিল না! 'অধিকস্ত বত'মান 
কালের মন্ত অতিরিক্ত ডিগ্রি ও ডিঙ্লোমা প্রীতি "ও সেযুগে ছিল না। 
নঙ্গিষ্ঠ কতগুলি পরীক্ষা পাশের জুন নির্দিষ্ট সময়ও নিদ্ধীরিত হইত না । 
বর্তমান কালে যেমন একজন পড়ান, অন্ট একজ্ঞন প্র্থ করেন এবং 
তৃতাৰ ব্যক্তি যেমন ছাত্রদের প্রশ্নপত্রের উদর দেখার প্রহসন করেন সে-যুগে 
তেমন ছিল না। ছাত্র পরবর্তী উচ্চ শ্রেণীতে উন্ীত হইবার ধোগ্যতা 
অঞ্ন করিয়াছে কিনা যিনি শিক্ষা দিতেন সই শিক্ষক নিজেই তাহার 
পরীক্ষা লইতেন | পরীক্ষাশেষে ছ।ব্রদের সনদ ব। সার্টিফিকেট ছাড়া, 
ব্ভি ও পুরফ্কারশ্বরূপ পদক ইত্যাদিও দেওয়া হইত। ফলকথা, তখনকার 
পরীক্ষাপদ্ধতি ছিল সহজ. আড়ম্বরহান, কিন্ত অধিকতর ফলপ্রঙ্গ | 

নিয়মিত স্কুল কলেজ প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠ!নের সাহায্যে শিক্ষা বিস্তারের 
সুবিধা ত ছিলই, অধিকন্ত শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের মধ্যে সংযোগ সাধনের 
জন্ত (বর্তমানে যাহা শ্রাপ্য) অনেক সান নির্দিষ্ট থাকিত। সেখানে 
কেতাবী বা পু থিগত বিগ্যায় ষা্ারা পারদর্শ তাহারা তাহাদের পাজিপুথি 
লইয়া উপস্থিত হইতেন, বহুদশুনজাত অভিজ্ঞ ও জ্তানবদ্ধ ব্যক্তিরাও 
সেখানে হাজির থাকিতেন এবং অশিক্ষিত ব্যক্তিরাও সময় ও স্রযোগ 
বুঝিরা সেখানে আসিয়া জুটিতেন | শিক্ষিতের! উ+চচগ্বরে গ্রস্ঠাদি পড়িতেন' 
এবং জটিল স্থানগুলির 'ব্যাখ্যা করিতেন । /কতাববিস্তায় অজ্ঞ অথচ 
ভুয্লোদশনজাত অভিজ্ঞ ব্যক্তির! তানাদের সঙ্গে বিবিধ বিষয় লইয়া তর্ক ও 


ম.সলিম ভারতে শিক্ষাব্যব স্থা ১৫৫ 


আলোচনা করিতেন | সেই আলোচনায় শিক্ষিত অশিক্ষিত উপস্থিত 
সকলেই লাঙবান হইতেন ; তাহাদের অভিজ্ঞতা পুষ্ট হইত; জ্ঞান বুদ্ধি 
পাইত এবং সকলেই আত্মগ্রসন্নতা লাভ করিতেন । এরূপ অধিবেশন 
অধিক।ংশক্ষেত্রেই বিভিন্ন সাহিত্য সঙ্ঘবের মধ্য দিয়া অনুষ্ঠিত হইত । 
সাহিত্য সজ্ঘগুলি রাজপরিবারের লোকদের ছ্বার। এবং অধিকাংশ স্থলে 
সৌধীন ও সাহিত্যান্তরাগী যুবরাজদের ছারাই গঠিত ইইত। উদাহরণ 
স্বরূপ সম্রাট গিরাসউন্দীন বলবনের পুর যুবরাজ মহম্মদের সাহিত্য ও দশন 
প্রীতি এবং তদজনিত সাহিত্য সঙ্ঘ গঠনের উল্লেখ করা যাইতে পারে। 
এই সৌবধীনএবং সাহিত্য/নুরাগী যুবর।জের এাসাদেই সাহিত্যামোদীদের 
সভা বসিত। সেকালের শ্রেষ্ঠ কাৰ আমির খসরু সভাপতিরুপে তাহার 
সাহিত্য-সভা অলন্কত করিতেন | এতদ্য'তিরেকে পাঠান ও মোগল 
আমলের বহু সাহিত্যান্ুরাগী সম্রাট ও যুবরাজের নাম করা যাইতে পারে 
যাহারা শুধু নিজেরাই ভ্ঞানরাজ্যের অতলে প্রবেশ করির৷ অমৃত আহরণ 
করেন নাই, মধিকন্ত বহুলোককে সাহিত/মোদী করিয়। তুলিক়াছেন এবং 
সাহিত্য-সভার আসর জীকাইয়! জনসাধ।রণের মধ্যে সাহিত্যগ্রীতি, শিক্ষান্- 
রাগ এবং শিক্ষা সাধনার লালন-পালন করিয়া অমৃত রসলোকের বিস্তৃতি 
সাধন করিয়াছেন | রাজা ও রাজ পরিবারের শিক্ষা সাধনা ও আদর 
প্রতি এঁকাস্তিক অন্ুরাগই দেশকে সামরিক ও বিপুল ঝন্ধাবাত্যার মধে)ও 
এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত প্যস্ত আলোকোন্তাসিত করিয়া তুলিয়াছিল। 
মোহাম্মদ তোগলক্‌, ফিরোজ শাহ্‌, গিরাসউদ্দীন (২য়) হুসেন শাহ, , 
হুমাযুন, আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, দারা শেকো, জাহানারা, 
আওরঙজেব এবং জেব-উন্নিসা মুসলিম ভারতের শিক্ষা-সম্বন্ধে ভাবিতে 
গেলে নূযনপক্ষে তাহাদের নাম ও স্বতি শিক্ষা-দরদী মানুষকেই অশ্রসজল 
করিরা তোলে । তাহাদের ব্যক্তিগত জাবনে আশা ও আনন্দ, ভোগ .ও 
ত্যাগ, সাধন! ও সংগ্রাম, দুঃখ ও মৃত্যুর কথা না-ই-বা বলিলাম ! 


১৫৬ সাহিত্য ও সংস্কাতি 


উপারউক্ত এবং আরও অনেক রাঙ। ও রাজপু/বরা সমগ্র মুসলির্ম 
শাসনকাল দরিয়া ভাত্বর্ষের কত ক্বি ও সাহিত্যিকের, বৈজ্ঞানিক ও 
লাশনিকের পুঙ্গপোষকতা করিয়াছেন তাভার ইধত্বা নাই ! এক একক্ন 
সম্রাটের ল্রবারে কত কত স্থানের কাবচযোদীদের আমন্ত্রন হইত | 
রাজাঞ্ ল।ভ করিক:র জন্য বুদ্ধি ও রসঙ্গীব,দের মধ্যে কত রকমের 
উদ্বেজনার ষ্ট 5হইত। সভাপ্ৃহ কাবন্দর কপিতা-আবরতি-জনিত কলগুংনে 
নুখারত হইয়া উঠত | গুণীদের যথোপযুক্ত সমাদর হইত, কেহবা 
আশতিরিত্ পুরস্থত হইতেন | কেভব' অংশান্ুরূপ, কিন্ত কেহই র।জ- 
দরবার হইন্ত বিষ হইব! ফিরিততন না। এমাঁন ভাবেই মুসলিম শ।সন- 
কালে ভারতবর্ষে বু বক্তকঠোর ৭ এম কামল রস-সাহিত্যের শট 
ইইযাছে | অং রাজানুগ্রত ও প্রসাদ ল।৬ করিবার গন শুধু শিক্ষা! বাবস্থাই 
লু, সাধারণের মপো ও শিক্ষার চচ্চ! বীতিমত দীপ্তি পাইয়াছে। 

বর্গান বুগের শিক্ষাপদ্ধতির সভিত তপন/য মুসলমান আমলের "শিক্ষা 
পদ্ধতি নিকৃষ্ট এব অসম্পূণ ছিল, অনেকে 'এমন মত পোষণ করেশ। অধুনা 
মামর' যে শিক্ষা প1ইতেছি « দিতেছি তাহা বিগত পরশ বংসরেই এরূপ 
বিস্ৃষ্তি লাভ করিয়াছে কিন্তু তবুণ্ড :শকাগ৷ ও যুগে'পযোগী নহে সত্য, 
বটে, আমরা নিংশ শতন্দীর ঈবজ্ঞানক ভ/তার আলোকে এবং বিশ্বব্যাপা 
যুদ্ধের মারমুখো ভরাবভতার ম!বগানে বাস করির) অনেক কিছু দেখিয়াছি 
শশুনির!ছি_ পঙিতেছি এবং পচিবও (সই আলোকে এবং আণবিক শত 
৪ বোম।ঘটি ত লোমভর্ষক সংবাদে মুগ্মূহ আমাদের টক্ষুস্থির এ গৃতপিগ 
সম্কৃচিত 'ও কম্পিত হইতেছে, কিন্ত আমাদের এই পোড়াদেশে জনকযেক 
ধনী সন্তান 'ও ভাগ্যবানছড়া এপর্যন্ত যাহারা নিজেরে সর্বস্বান্ত করিয়া 
শিক্ষালাভ করিব'র স্যোগ প।ইল তাহ!র। কেরাণী ছাড়া আর হইল কি! 
মুসলমান আমলে এমন জকালো নিশ্ববিগ্ভলিয় ও শিক্ষা প্রতিগ্তান হরত 
ভিলন।, অল্প খরচে 'এমনকি বিনা খরচে লোকেএ। এবং তাহাদের অস্তান-- 


দ.সলম ভারত শিক্ষাব্যবস্ত: ১৫৭ 


ঈন্ত/ন লণ!পড়া শাপত্তে প্রত | অএপনক'র মত শিকার নামে সরকারী 
রি আশায় উপাবি মুখে করি শিক্ষায় তন হইতে হরত বাহির হইত 
না, কিন্তু মেটুকু লেখাপ চা শাখত, তাহাতে তাত।দের জীবনে সর্ববিধ উপ- 
+|র এ প্রয়োজন সাধিত হইত | দশ এ কালের জন্ত 'যেটুক প্ররোজ্ন 
হাতা শিক্ষার্থীপিগঞ্জ শিগিতেই হই হ " এমন পরীক্ষাও ছিল না এবং পরীক্ষা 
পাশের জগ ব্যাডের তত র মত নান কমের এনোট”, 'ডাইজেষ্ট, ডিও 
নএ০০০$৬ ও দুল পা, "সইন্দগ্ঠ শিক্ষ.থীদের ধর্মীর অন্ুশাসনে সুনতিক, 
মানসিক সাংস!রিক, আধিক ও বাবহ।রিক যাবতীয় উন্নতির জন্ত অন্থরূপ 
পাঠ্য 'তালক। « প্ঠন পাঠনের বিধান নিদ্ধারিত ছিল। 
শক্ষার বুল প্রচলন এবং উপবৃঞ্ণ ব্যবস্থা থাকিলেই শত সহম্স শিক্ষা- 
খ্বীর মধ) ভইতে বহু পণ্ডিত, জ্ঞনী ও গুণীর, অভ্যুদ্দর হইখা থকে । নুসল- 
মান অ।মলে পরমশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গেই আরতবর্ষে দেশোপযোগী সাংসারিক 
সকল ওক।র জ্ঞান-শম্প্রপারণের ব্যবন্ধ ভইয়।ছিল বলিগান্ট তোডরমলের 
মত অর্থ সচিব, আবুল ফঙ্ল ও ফৈঞ্।র মত জ্ঞানবদ্ধ পণ্ডিত ও এঁতিভাসিক, 
'মালবেরণীর মত ইবজ্ঞানিক ও বহু ভাবানিদ এবং "তানস্নের মত সুরজ্ঞ ও 
সঙ্গীতবিদের অভু/দয় সম্ভবপর হইখাছিল | জ্ঞানবিজ্ঞানে ধর্মী অন্শশাসন 
ও বৃদ্ধির্িতে পরিপুষ্ট সাধ।রণ শিক্ষার্থীদের উল্লেখ নাই-বা করা গেল। 
(মুমলিম ভারতে শিক্ষাব্যবন্ঠার সর্বাগেক্ষা উল্লেখযোগ্য :এবং স্থায়ী ফল 
ফলিয়া ছিল ৬ারতবধের সাংস্কৃতিক কয সংঘটনে। হিন্দু ও মুসলমান 
উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাই একই সরকারী ও বেসরকারী স্কুলে জাতিধর 
নিবিশেষে শিক্ষাপাভ করিত | সম্প্রদায় নিবিশেষে ফরসা ছিল অবগ্ 
পাঠ্য । কিন্দুরাও অনেকে আরব' পছিতেন, ফারস'ও আরবীতে সাহিত্য 
চর্চা করিতেন । সংস্কৃত ও হিন্দির চা হইত্ত | অনেক মুসলমান সংস্কৃত ও 
হিন্দিতে ব্যুৎপয় হইয়াছিলেন এবং উক্ত ভাঁধায় আহিত্যের শ্রীবদ্ধিসাধন 
করিয়াছিপেন । রামাধণ, মহাভারত, অধর্ধবেদ ও ভগবত-গীতা এবং 


১৫৮ সাভিত) ও সংখুতি 


রাজতরঙ্গিনী প্রভৃতি অনেক গ্রন্থই ফারসাতে অন্তদ্দিত হইযাছিল। উভড় 
সম্প্রদায়ের মধ্যে সংস্কতিগত ভাব ও বৈশিষ্ট্যের আদান প্রদান হইত। 
পরম্পর পরস্পরকে জানিত | উভয় জম্প্রদায়ের মপ্]েই স্বগ্ভতার সন্ু'ব 
বর্তমান ছিল। পারস্পারিক ভাবের আদান প্রদান এবং পরস্পরের সহ- 
যোগিতায় উর্দ,ভাষার উদ্তুব হইয়াছিল । 

ধম ও আচারগত পার্থক্য থাকিলেও উভর় সম্প্রদ!যের এক ভাবা ও 
সংস্কৃতিগত এঁক্যের আয়োজন নুষ্ঠানের জন্যই £স যুগে ভারতের এই ডুই 
প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে, সম্প্রীতি, মৈত্র! ও সৌহা'র্য বঙ্গায় ছিল । দুসলিম 
ভারতের শিক্ষা-ব্যবস্থ।র মধ্যে বদি কোন আদর্শ বা লক্ষ্য পৌছিবার উদ্দে 
থাকির| থাকে তাহা জাতীয় এক্য.এবং জাতিগঠনের ভিত্তিতেই অনন্য 
হইয়াছিল। দে যুগের শিক্ষব্যবস্থার ইহাই ছিল অন্যতম বৈশিষ্ট্য | 

কিন্ত আজ? মুসলমানদের রাজ) গেল। পলাসীর য.দ্ধে মুসলিম 
রাষ্ট্রের অবসান ও ইংরাজ-রাজ সরকারের ল্যান হইল। পরাজিত 
মুসলমানের! বিজয়ী৷ রাজ্শক্তির নিকট হইতে কোন সাহাধ্য পাইল না। 
অধিকন্ত সংশয় ও সন্দেহের (চাখে বুটিশ রাজশক্তি তাহাদিগকে দেখি | 
সরকারী চাকুরী হইতে তাহ|রা অপন্ঠত হইপ | '5গ%পরি ১৭৬৫ হইতে ১৮৩০ 
সাল পর্যন্ত একশালা, পাঁচশালা, দশশালা ও চিরস্থারী বন্দোবস্ত, তাহ|র পর 
হরধান্ত আইন ওং 'ওয়1কৃফ সম্পদ্ির বাজেযাপ্তি বা রিজাম্পসন্‌ আইন প্রভৃতি 
নানাপ্রকার রাজস্ব আইন দ্বারা অর্থবান শ্রেণী বিলুপ্ত হইল | একের প্রতি 
নিএহ এবং অন্তের প্রতি আগ্রহের জন্ত মুসলমান অর্থবাম শ্রেণীর স্থানে 
হিন্দু ভৃম্বামী 'ও জমিদারদের আবির্ভাব হইল । সরকারী সহযোগিতায় 
নবোখিত হিন্দু শক্তির প্রতিষ্ঠালাভের চেষ্টা এবং মুসপমানদের প্রতি সর- 
কারী অবজ্ঞার জন্ ধারে দীরে মুসলিম সংস্কৃতি ও শিক্ষা অন্ধকারে গা ঢাকা 
দিল। উনবিংশ শতার্থীর শেষভাগে এবং বিংশ শতান্দীর গোড়ার দিকে 
যখন বিভিন্ন ঘাতপ্রতিখাতে মুসলমানদের মধ্যে নবান আশার সঞ্চার হইল 


ম.সলিম ভারতে শিক্ষাব্যবস্থা ১৫5 


ও নুতন চেতন! দেখ! দিল, তখন দেখা গেপ পাখবতা হিন্দু সমাজ শিক্ষা- 
দংক্ষায় ও আর্থিক উন্নতিতে অনেক দূর অগ্রসর হইয়াছে । তখন তাহাদের 
মনে জাগিয়াছে মুসলমান পপ্রদ্দারের প্রতি অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য ও দ্বণা। 
এহেন অবস্থায় মুসলিম ভারতের শিক্ষা-ব্যবস্তার ফলে ষে সম্প্রাতি উভয় 
সম্পর্দাষের মধ্যে লর্তমান ছিল তা'ভা আর দেখ! গেল না। তখন হইতেই 
দেখা গেল পরস্পরের মধ্যে একট, সন্দ্কে এবং অবিশ্বাস । সেই অবিশ্বাস 
ক্রমে দৃঢ় হইল। ঘুললমান আমলের শিক্ষার সুব্যবন্থার জন্ট সংস্কৃতিগত যে 
মিল  এঁক্য সম্পাদিত ভইয্লাছিল তাহা আর পাওয়া! গেল না| সেখানে 
আসিল বিরোধ এবং বিদ্বেষ, তিংসা ও অন্য়া। আজিকার এই বিংশ 
শতাব.র 'প্রথুম!দ্ধ শেষ করিতে গিরা অতীতের দিকে দৃষ্টি তুলিয়া! ধরিলে 
স্বতঃই প্রশ্ন মনে আসে হিন্দু মুসলমানের সৌহাদ্রয ও সম্প্রীতিগত এঁক্যের 
এই শোচনীয় পরিণাতির জন্ঠ দ'য়ী কে? 

সাপ্তাহিক মোভাম্মদী, 

বিশেষ সংখ্য, মাঘ ১৫৩ 


মুসলম ভারতে স্ত্ীশিক্ষা 

স্ত্রী পুরুষের শুধু অন্ধা শী; নন, স্ত্ীপুরুষ অধ্যুষিত কুচহর সমাজের 
অদ্ধা্গও বটেন | একথা এত সত্য এবং এত মামার্ধসত যে, ভা এমনঙ|বে 
অকপটে বল| নিরাপদ নর, কারণ যিনি এমনভাবে নশতে মান সেকেলে 
ৃষ্টিভঙ্গীর লোক বলে' ুগতিব।দীদের কাছ থেকে নিন্দা গপিতে ভ। 
প্রগতিবাদ ব! গতিবাদ য.ই বলি না কেন তার অ!ওতাষ পাড়ে আমরা 
নাড়ী-পুরুষেরা এগিয়ে ৮লেছি ক্রুত পদলেপেতেকো!থায় ত. আবহ সকলের 
ঠিক জানা নেই কিন্তু পরি তের মধ্যে সেট্ুত জনা নং! খাকলেও বোকে 
অনেকেই | এই পরিবর্তনের ভণে প. ফেলে চলতে [গবে একদিন পুরুবের 
সাট-প।ঞাবার ঝুপ হা থেকে কোমরে উঠেছিল আবার কোমর থেকে 
হাটুর উপরে নেমে এসেছে : আর নারীর পোষ।ক পরিস্ছদের মাপ ও কত 
বিগতপ্য। তি ফি তারক।র শুষ্। ছেড়ে হালের খ্যাতনাম। তারকার পেছনে 
ছুটতে যাস্ছে। এই পরবত শমুখে! গতিনাদের ভেতরে পড়ে পারা সাং 
সারক ক্মক্ষেত্রে পুরুবের শুধু অদ্দানিনী ভিসেবই নেই, অনেক হলে এনা 
ভোরে উঠেছেন । এতটা অগ্রগতি ভালো ক মন সেকপ। বলাছি না' 
আসল কথা__আ'জকের দিনে পুরুষের অদ্ধাঞ্গিনী তার, ভেন বানা হোম 
সম|জের অদ্ধাঙ্গ তার নিশ্টঞই | মুসলিম ভ।রতে সম।জের সেই অন্ধাঙ্গের 
শিক্ষার কি প্রকারের বাবস্থা ছিল তই বলবো । 
_. শিক্ষাব্যতিরেকে মানুষের কল্যাপ নেই, এন্ধকার (থকে মুক্তিও নেই, 
স্বাধীনতার আম্ব। এ৬৭ কর' ত দূরের কথা তি, প.ঞ্ধার অধিকারও তাও 
নেই! ভারতবধষের বধ বদ্ধ পরগুলিতে আমর। যে শিক্ষ পেরেছি এবং 
দিছি তা কোনদিনই সমস্ীকে পুর্ণ ম|5ষ করে তে,শে।ন এবং এ শিক্ষা বাঁ 
এমনিভাবেই এদেশের পে।ককে দেওয়। হোতে থা গাহে।লে কোনদিনই 


মুসলিম ভরতে স্ত্রীশিক্ষ] ১৬১ 


ত। বনহুর কল্যাণে আসবে না| যেস্ব্সংখ্যক ধন। ও মধ্যবিত সন্তান এ 
শিক্ষা পেলো ত।র কয়জনই ব। সত্যকার জ্ঞানপুষ্ট মানুষ হাতে পারলে। ? 
এত বছরের শিক্ষার যে প্রবহমান ধারায় দেশের তথাকথিত শিক্ষা প্রাপ্ত 
পুরুষগুলোই মান্য হোতে পারলো ন" সেই শিক্ষাই যদি স্ত্রীজাতিকে দেওয়া 
হয় তাদের কোন কল্যাণে আসবে ? তবু তাদের যথোপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা 
যতদিন না হচ্ছে ততদিন যদি তারা প্রচলিত শিক্ষালাভ থেকে একেবারেই 
বঞ্চিত থাকেন তবে এ জাতির অন্ধকার অমানিশার ঘোর কোনদিনই 
কাটবে না। বাঙলাদেশে এ পর্যন্ত শিক্ষিত পুরুষের সংখ্যাই বা ক'জন ? 
সে পরিমাণে শিক্ষিত স্ত্রীলোকের সংখ্যা আরও নগণ্য । অনন্য কলকাতা 
সহরে বা অন্ঠান্ত মফঃম্বল সহরে আমর! যে কতগুলি আধুনিকাকে চল;ফের। 
করতে দেখি, তার্দের দেখে আনন্দ হধ বটে কিন্তু ক্তা/ত-গঠনের কথা 
ভাবলে তাদের সংখ]ার শ্বল্পতার দিকে চেয়ে আর ভরসা হঝ ন!। বাডউপা- 
দেশের সভ্যত। গ্র!মনি্রভর | অথচ গ্রামের হাজারকরা একটি রমণীও অন্ৃতঃ 
আজকের শিক্ষাতেও শিক্ষিতা নন | এ প্রশ্ন আজকের দিনের ভাবৃক ও চিন্তা- 
নালদের ভাবিয়ে তুলেছে । তাই তাদের জন্ সংখ্যায় অন হোলেও বালিক৷ 
বিদ্ভালয় হচ্ছে, স্কুল কলেজও হচ্ছে । আজকের দিনে মেক্গরো লেখ।পঙ। 
শিখবেন কিনা এট? প্র্থই নর, প্র হচ্ছে কি কোরে তাদের সুযেগ দে ওয়; 
খায় এবং কেমন কোরে রত'মান শিক্ষাকে তাদের শ।বীরিক, মানসিক ও 
সাংসারিক বহুবিধ কল্যাণের উগষেগী করা যায়। 

আজকের দিনে তাদের স্বাধীন সব! স্বীকৃত হে।বেছে তাই এখন নারীকে 
পুরুষের অগ্ধাক্গিনী বল্লে এমন কথায় সেকেলে গন্ধ বেরে।র, কিন্তু এমন একই 
দিন ছিল যেদিন নারীকে সমাজের অদ্জেফ বলা ত দূরের কথা পুরুষের 
অর্ধাক্ষিনীও অনেক দেশে বলতে চেতো ন।। নারী ছিলেন ভোগের পাস্রা, 
হাত পা ও বিশেষ অবয়ব-বিশিষ্টা! উষ্ণ মাংসপিও ছাড়া তাদের আর কিছু 
বলা ভোত না| তাদের জাত্ম আছে কিনা এতেই আধুনিক অতি সভ্য 


৯৬২ সাভিত্য ও স-ন্থৃতি 


ইউরে।প একদিন সন্দেত কোরেছে। (সেই অন্গকান যুগে ইসল!ম জগতের : 
বুকে নারীকে প্রতি দিল, সম্মান ধিল* অপ্রিকার দিল অন্ধকার যুগের 
কারাপ্রাচীর ০ঞে তাদের ক্ষন্ মালের দেশের বার্ড বঝে নিয়ে এলো। 
কোরআনে বল। হলে' “চার ( মেবের' 1 “তামাদের পরিচ্ছদ স্বরূপ, এবং 
তোমরাও ( পুরুষেরা ) তাদের পরিচ্ছদ স্বব্ধপ, অর্থাৎ সাখাক্ষি+ দাবীতে সতী 
এ পুকষ পরস্পরের পরিপুরক হিসেবে সম্মান ও 'আত্মমর্ধাদার এুতিষ্ঠিত 
থাকিবে, সেখানে স্ত্রকে ভোগের পাত্রারূপে ব!বভার করলে চলবে না। 

ক'উকে মধাদ। বা জন্ম'ন শুধু দিলেই ৮লে না» সেই সনের েগ্য যেন 
সে হোতে পারে তার বিপি ব্যবস্ত।ও করা ঢাই| জনে কোরআনের 
নির্দেশক্রমে হযরত মোভানাদ চার করলেন “প্রত্যেক নরন'রীর জন্ট 
'সগ্াাশিক্ষা অবগ্তক্তব্যি এবং নিল করতে বদি সুদুর চীনদেশে যেতে 
হয় তবুও তা স্বকর্য। তঘরচের যুগে শিক্ষালাভের জঙ্। সম্ভবতঃ কোন 
মহিলাকে চ'নদেশে যেতে হয়নি, তবু তার যুগেই ব্যবহ]রিক ও প্ীন জীব- 
নের উপযোগী অ'দশশিক্ষ। নত মহিলাই পেয়েছিলেন | মুসলিম সঞ্যতার 
সেই *শশবে হযরতের কন্ঠ; ক:তেমা, স্ত্রী আয়েব। এবং অন্তান্ত রমণ'রা যেন 
জয়ন[ব্‌, হামদ, ভাফস।, সাকির। ও মারিয়' প্রতি বংতিমত ম।জিত শিক্ষাই 
পেয়েছিলেন । অন্ধকার যু কেটে যাবার সময়ে ভঠ1ং আলে!র ঝলকানিতে 
সে যুগে যে কয়জন মঠিল! শিক্ষ। পেরেছিলেন ষ্ঠাদের মধ্যে ভযরত ফাতে- 
মাই ছিলেন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য | ভষরতের শৃত্ত্যুর পর খলিক্ষকা 
হবেন এমন কঠিন প্রাঞ্ের সমাধানকল্পে তাকেও অশ এহণ করতে দেখা 
গেছে। 

ইসলাম ভারতে এসেছিল তার বিস্ময়কর বিপ্রনের প্রভাব অনেকটা 
মর হোয়ে এলে । 'শক্ষার ও সাভিত্য সাধনায় ভারতের বাহিরে মুসলিম 
মহিলারা যে স্তরে পৌছেছিলেন ভারতীয় মুসলিম মহিলাদের সে স্তরে 
পোছার সৌভাগ্য ভয়ান, তবু তাঁরা যে শিক্ষ! 'একেনারে পাননি একথা বল: 


মুসলিম ভারতে স্ট্রীশিক্ষ! এড 


ঠক ভনেনা। আজকালের তুলনার মুসলিম আমলে ত্ত্রীশিক্ষার এত 
প্রচলন ছিল ন।, অবশ্য বত্মান যুগে মেবের ব! তাদের অধিকাংশ অভি- 
৬াবকের। শিক্ষাকে যে জীবনের অপরিহার্য অংশ বলে" মনে করেন ত' নয়, 
মেয়েদের শিক্ষা অনেকের কাছে এগন5ও আমাদের দেশে ফ্যাশান ব। সৌখা- 
নতার অঙ্গ হিসেবে রয়ে গেল কতকট, যথোপযুক্ত শিক্ষার অভাবে এবং 
অনেকটা বতমান স্ত্র-শিক্ষার পদ্ধতির “দ|ষে | তবু সেই মধ্যযুগে এই 
্রাহ্মণ্য শাস্ত্রশাসিত ভারতলতূর্ষ যখন সৈশ্য-শু্রের স্ত্রীপুরুষ তে। দুরের কথা__ 
উচ্চশ্রেণীর ব্র:গণদের মহিল!রাও শান্ত্র চা 'ও জ্ঞানলাভ থেকে সম্পূর্ণ বৃ্কিত 
ছিলেন তখন সাম্য মত্রীর নান্ত-বাভক মুসলিম সম্রাটের! মহিলাদের ক্তন্ত 
যথাসভ্তভব যগোপঘোগ এবং প্রয়োজনার শিক্ষার ব্যবস্থ। করেছিলেন । নারী 
জীনন-সঞ্চিনী বন্ধু, দালী নহেন ; ইসলামের এই মহান শিক্ষাই মুসলমান 
স্থলতানদের উদ্ধ দ্ধ কোরেছিল তাদের রমণীদের মানসিক এ চিত্রতির উৎ- 
কর্ষের ক্িকে | সম্্টদের হারেমে স্রী-শিক্ষ'র ষে আলোক জলে উঠেছিল 
সেই ভ্ঞানালোকের শিক্ষা! রাষ্ট্রের বহুধিক ও ধেশে বহুভাবে উচ্ছিত ভোরে 
সে যুগের বহু রমণীকে পথের সন্ধান ও আশ্বাস-দান কোরেছে |) 
মুসলমান আমলের শিক্ষাগার ভিসেবে স্কুল কলেজ? মক্তব মাদ্রাসা* বিশ্ব- 
বিদ্যালয় ও খানক। প্রতি প্রা.লিত ছল তেমনি মেয়েদের শিক্ষার জগ্গ 
অসংখ্য স্বতন্থ মক্তব-মাদ্রাসা গড়ে উঠেছিল। সহশিক্ষার ব্যবস্থা মুসলিম 
আমলে ছিল না, একথ; অবিসংবাদিত সত্য । একালের শিক্ষার্থীরা সে- 
কালের শিক্ষা-ব্যবশ্থার এই অনুদারতায় লে ষগের শিক্ষার্থীদের দুর্ভাগ্যের, 
কথা সকৌতুকে স্মরণ করডে পারেন এবং নিজেদের "সাভাগ্যে শ্মিতহান্তও 
হয়ত হাসতে পারেন । 'এঘ.গের শিক্ষার্থারা আরও আশ্চর্যবোধ করবেন যে 
মুসলিম আমলে মেরেদের স্বতন্ত্র মক্তব মাদ্রাসা থ।কা সত্বেও পর্দা-প্রথার 
জন) মেরের! সাধারণতঃ নিজেদের বাড়তে লেখাপড়া শিখতেন। এখনও 
অন্নেক ভদ্র ও প্রাচানপন্টা দুসলিম পরিবারে জেয়েদের লেখাপড়ার জন্ত 


১৬৪ সাভিত) ও সংস্কৃতি 


এব্যবস্থার, প্রচলন দেখা যায়। ও্ঞানবৃদ্ধ সর্মভীক ও বরম্ক শিক্ষকের অভি" 
ভ।বকত্বে মেয়েদের শিক্ষা দিবার এই ব্যবস্থা ক্ষীরমান হোলেও অনেক অন্্াস্ত 
গুসলিম পরিবারে এখনও চলে আসছে । এই ব্যবস্থায় ডিগ্রী পাওয়া! হযুতত 
সকল সমর সম্ভব হোয়ে ওঠে না কিন্তু যুগ-পরিবর্তনে বাহিরের দূষনীর 
আবহাওয়া-মুক্ত হোয়ে জ'বনোপধযোগী সাধারণ কার্যকর। শিক্ষালাভ এতে 
সহক্ত ভোরে 'ঞঠে। 

শিক্ষালাভের এ প্রণালা ব্যয়-সাধ] ব'লে এ যুগেও যেমন সকলের পক্ষে 
এ পথ গ্রহণ করা সম্ভবপর নয়, সে যুগেও তেমন ভো'ত না। তাই বহর 
কল্যাণে মক্জব মাদ্রাস' প্রতিষিত হোয়েছিল। সাধারণের মেরেছের মধ্যে 
উচ্চশিক্ষ।র প্রচলন “তমন ছিল-না। যংসাম।5 গাহস্বিজ্ঞান, বয়নশিল্প ও 
ঘর-সংসার বুঝে নেবার মত লেখাপড়াই অধিকাংশের জন্য যথেষ্ট ছিল। 
তবু মধ্যয,গের মুসলমানের কোরআনের আদশ এবং তাদের প্রির নবীর 
জীবন-সাধনার অনুপ্রেরণায় মেরেদের চিৎপ্রকর্ষের ও আত্মিক-কল্যাশের 
দকে বথাসাধ্য দৃষ্টি দিয়েছিল । 

মুসলিম আমলে রাক্তপরিবারের লোকদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক 
স[ভিত্য সঙ্ঘ গড়ে উঠেছিল, সেই সাহিত্য সঙ্ঘের ভেতর দরে শিক্ষিত 
মশিক্ষিত জনসাধারণের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ সাধিত [হাত এবং 
সাতিত্যসেবী ও সাহিত্য-সাধকদের সাধনার পথ স্ুপ্রশস্ত ভোরে উঠতো । 
রাজপরিবারের লোকদের দ্বারার় এরূপ সাহিত্য সঙ্ঘ গড়ে উঠতে: বলে" 
রাজপরিব|রের মেয়েদেরকেও সাহিত্য, সংস্থতি ও রাষ্র-সন্বন্ধীর় বিষষের 
আলে!চনায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যেত। 

দিশ্টীর স্থলতানেরা এবং তার্দের অধিনস্থ অনেকেই স্ত্রাশিক্ষার প্রসারের 
জন্য আপ্রাণ চেষ্টা কোরেছিলেন | ' তাদের অনেকেই আপনাপন রাজের 
মধ্যে বালিকা বিদ্ধালয় প্রতিষ্ঠিত কোরেছিলেন এবং স্ত্রীশিক্ষার যাতে 
প্রসার হয়” সে বিষষে লক্ষ্য রেখেছিলেন 1 ভীনওয়ার লুলতান আরঝ 


গুলশিম ভরতে স্ত্রীশিক্ষা ১৬৫ 


বংশে|উুত হওর। লব্তেও তার প্রজাদের মধ্যে স্ত্রীশিক্ষার জন্য ব্যস্ত 
থাকতেন । বিখাত পরিব্ৰাক্তক ইবনে বতুতা তার রাজধ!নী পরিদশন 
কোরে সেখানে ১৩টি বণিকা নিস্ভাল্য ছিল তার উল্লেখ কোরে গেছেন | 
পেখানকার মেরের। স্বাগ্যবতা, সুন্দরী ? উন্নত নৈতিক চরিত্রের এবং তাদের 
অধিকাংশই “কারআনের তাফেজ প্টিলেন একথাও তিনি বলে গেছেন । 
মালএযার সুলতান গিয়ানুষ্দীন পিলজীও স্ত্রীশিক্ষার প্রসারের জন্ত ব্যস্ত 
থাকতেন । তার হাবেমের হাজার পনর পূরনার।র মধ্যে অনেকে স্ক,লের 
শিক্ষযিত্র: ভিলেন, অনেকে ছিলেন গুগারিকা, অনেকেই নামাজ পড়াবার 
এমাম এবং অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য চাল!ব।র জন্য নিযুক্ত-_(971025 ঠা 
5196101) ০11177181)1-7751151)68, ৬০1 1৬, 0236) বাদশা হারেমে 
স্ক'ল শিক্ষমিজীদের অবস্থিতি এই প্রমাণ করে যে তার! অন্তপুরচারীকাদের 
লেখাপা শেখাতেন । সম্রাট আকববের সমরে হা'রেমের অধিবাসীদের 
রীতিমত শিক্ষা হোত । ফতেপুর সিকর তে তার প্রাসাদেই তিনি বালিকা! 
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত কোরেছিছলন 1 স্মিথ তার ফতেপুর" সিকরী'তে এবং 
হ্াভেল সাচেব তার 47770 9০০ 01 পাঞজা 18) নামক গ্রন্থে সম্রাট 
আকবরের বালিকা বিষ্ভালরের ছক একেছেন | সম্রাট আকবর স্ত্রাশিক্ষার 
অন্তগ্রাহ ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এ থকেই তা প্রমাণিত হয় । 

জাফর শরীফ সাতেব তার 'কাঞ্ন-ই-ইসলাম" নামক গ্রন্থে যুললিম 
ভারতে স্ত্রশিক্ষার বিবিধ নিয়ম-কানুনের উল্লেখ কোরেছেন ! তিনি 
বলেন, সে যুগে বালিকা বিদ্যালর তো ছিলই, এমন কি মেয়েদের 
বিগ্ভালয়ে ধাবার বয়স হোলে টা কোরে উৎসব করা হোত । 
"জারফেশানি' নামক একরকম রঙ্গীন কাগছে হাতেখড়ি উৎসব উপলক্ষ্য 
কবিতা লেখ হোত 1 আশ্বীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে ওস্তাফজ! মেয়ের পিতা- 
মাতার সামনে মেয়েক্স ছারা সেই কাগজের লিখিত করিত' আওড়ে নিতেন | 
খন কোন মেয়ে নোতুন বইএর নোতুন 'পড়! ধরতো৷ মেয়ের পিতামাতা 


১৬৬ সাহত্য ও সংস্কৃতি 


তার শিক্ষককে আনন্দভোজেই শুধু আপ্য।ধিত করতেন না, তীকে ধথাযোগা 
পুরস্কারও দিতেন । কোরআন পাঠ সেকালের নেরেদের প্রাথমিক শিক্ষ!র 
অবশ্য পাঠ্য তালিকাভুন্ত চিল। কোন মেয়ের কোরঅ!ন পতম ভোলে ঘট। 
কোরে উৎসব করা ভোত, ওস্তাদকে এনাম খেলাত দেওয়! ভোত এবং এত- 
?পলক্ষ্যে সমস্ত মঞ্তবেরই অর্ধেক দিনের ছুটি মন্ত্র হোত । উক্ত প্রথার 
কিছুটা এন ও নুসলমান সমাজে কে'পাণ?কাথাও ভাঙাচোরা অবস্তায় 
ঢলে আসছে | 

মেয়েদের জন্য ধমসংত্রান্ত প্রাথমিক শিক্ষার একপ বি'ধব্যবস্ত: শুধু দিল্লীর 
স্লতান কিংবা! মোগল রাজদরবারেই প্রচলিত ছিল না, প্রাদেশিক রাজ্য- 
গুলোতে'ও এর রীতিমত চল ছিল | দ্িধব' যুসলিম মহিলাদেব অনেকে 
মেরেছে পথ সন্বন্থে শিক্ষা এবং 'ক'রআন শিক্গ! দেওয়া তাদের জীবনের ব্রত 
বলে মনে করতেন আর সে মনে নিজেদের বাউ।তেই তার! বালিকা বিছ্যা- 
লরের প্রুতিষ্ট: করেন | মধ্যযুগের সুসলিম ভারতে এ প্রথা নানা বাধা 
বিপক্ি ও দৈবছবিপাকের ভেতর দিঝে এগন'ও মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত 
রয়েছে | 

মেয়েদের সকলের পক্ষে উচ্চশিক্ষ। বা শিরকলাস্ পাঁরদশিতা লাভ করা 
সম্ভবপব স্চিল ন| কিন্তু অধিকাংশই যেন প্রাথমিক শিক্ষা "পরতে পারে 
সেদিকে শিক্ষাব্যবস্থার পুষ্ঠঃপাযকদের লক্ষ্য ছিল। মধ্যঘ,গ ছিল ধর্মবিশ্বাস 
ও ভক্তিশাসিত। তাই স্্র-পুরুষ নিবিশেষে ধ্বোধবুদ্ধি যেন সুপুষ্ট হোধে 
ওঠে সকল শিক্ষা-তালিকায় সে বিবরে বিশেষ মনোযোগ দেও! হাত ; 
বিশেষ কোরে মেয়েদের নৈতিককজ্াবন ধাতে বলি ও সুগঠিত হর তাদের 
শিক্ষ-তালিক। নিদ্ধারণ করতে গিয়ে সেদিকেই ছিল সকলের তীব্র দৃষ্টি । 

এ প্তো গেলে' সাধারণের কথা । এ ছাড়া মুসলিম ভ।রতের অনেক 
মহিলা এবং বাদশাজাদী। শিক্ষা-দীক্ষায় এবং সাহিত্য ও শি্গ-সাধনায় উন্নত 
ও মাজিত রুচির পরিচয় দিয়ে গেছেন । মুসলিম ভারতের ইতিহাসের 


মুসলিম ভারতে স্ট্াশিক্ষা ১৬৭ 


পাত; তাদের জীবনের সাধনায় গৌরবদীপ্ত ভোরে ররেছে । আলাউদ্দীন 
জাহান সোজের দৌভিত্র। মাহমালিক ব! জালালু্দুনিয়ার ন'মই শিক্ষিত! 
বাদশ।জাদদ।দের মধ সর্বপ্রথম উল্লেখ করা যেতে পারে । স্থলতান নাসি- 
রজ্দানের রাজত্বকালের বিখ্যাত এঁতিভাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ মাহ মলি- 
কের পাণ্ডিত্যের ভূরস! প্রশংসা করেছেন । তীর ভাতের লেখা ছিল মুক্তার 
মণ্ত পরিগ্কার ও ঝকঝকে, তিনি ত।র উল্লেখ কোরে গেছেন । 

দলিণ্যাত্যের প্রধান। নায়িকা টাদসুলতানা অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন 
রমণী ছিলেন | তিনি শুধু যুদ্ধবিদ্যার পারদর্শা ছিলেন না, সঙ্গাত বিগ্যাতেও 
অন্ভুতভাবে সুনিপুণ ভিলেন এবং আরবা, কারস, তুরকা, কানাঙ৭, মারা$। 
এমনভ।বে আয়ত্ব করেছিলেন যে, উক্ত ভাষাগুলোতে অনর্গল কথ! বলে 
যেতে পারতেন | চিত্র-বিগ্ঠঠতেও তার ভাত চিল। মধ্যযুগের একজন 
মহিলার পক্ষে যুদ্ধবিছ্ধায় ও (শল্লকলার় এতটা সিদ্দিলাভ সত্যি বিশ্মরকর | 
টংদকুলতানার মধ্যে বজাদপি কঠোর ও কঙ্গমাদপি কোমলের অর্থাৎ আদশ 
পুরুষ ও আদশ নারীর সমধর হোগ্লেছিল। 

সম্রাট সবরের কন্ঠা গুলবদন বান বেগমের নাম মোগল আমলের 
মহিলাদের মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য । তার নিজের রচিত “হুমায়ুন নামায়" 
তার প19্তিত্য-প্রতিভার সম্যক পরিচ পা'ওর! যায়। এই অসাধারণ মহিল, 
স।হিত্য-চ্চার ও মুল্যবান এ্রগ্পাদির সঞ্চরনে কি ভাবে ব্যস্ত থাকতেন তার 
“হুমায়ন নামার" তারও স্পষ্ট ইন্িত আছে । হুমায়ূনের জীবনী ও রাজত্বের 
তথ্য সংগ্রভের জন্ তার 'হুমাুন নামাহ ইতিহাসের ছাত্রদের প্রামাণ্য ও 
নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হোয়ে থাকবে | সআট হুমাযুনের ত্রাতুপুত্র। সলিম৷ সুপ 
তানাও সুশিক্ষিত রমণী ছিলেন৷ ফারসী সাহিত্যে তিনি ছিলেন সুপগ্ডিত 
এবং ফারসীতে কবিতাও রচনা করতে পারতেন | “মাথফ/ এই ছন্মনামে 
তিনি কবিতাদি রচন। করতেন | দ'ওরানে-লালিমা ফারসী সাহিত্যান্ুরাগী- 
দের কাছে এখনও সমাদর পাঁয়। 


১৬৮ সাতভিত) ও সংস্কৃতি 


সম্রাট আকবরের ধ-মা মাহাম্‌ আনকাহ সুশিক্ষিতা ছিলেন | লেখাপড়া 
শুধু নিজেই যে ভালবাসতেন ত৷ নয়, বিগ্যার উৎসাহদাত্র।ও তিনি কম 
ছিলেন না। সত্যক।র শিক্ষা দেওয়ার চেরে মান্ষের সেবা আর হোতে 
পারে না তার এমন বিশ্বাস ছিল৷ তিনি তার আয়ের অধিকাংশ শিক্ষার 
উন্নতির জন্ত ব্যর করতেন এবং নিজ ব্যয়ে ১৫৬১ খুষ্টান্দে দিল্লীতে একটা 
কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন | তার কলেজের শিক্ষার্থা ও শিক্ষকদের ব্যয়ও 
তিনি নির্বাহ করতেন ৷ এই স্ত্ীশিক্ষাবিদের সাধু 'প্রচেষ্টার ফল তার সাধের 
কলেজটি কালের করাল এ।সে ধবংস তে|রে গেছে কিন্তু ন্ল্লীর প্রাচীন 
চরের পশ্চিম দরজার কাজে তার ধ্বংসাবশেষ এখনও এই মভিপার শিক্ষা- 
প্লীত্তির সাক্ষ্য দিচ্ছে 

সম্রাট জাত।ঙগীরের স্ত্রী নূরজাহান শ্মধু বুদ্ধি ও সৌন্দ্যেই খাাতনাম। 
ছিলেন না, অসম্ভব প্রতিভাশলিনীও ছিলেন । তার শ।রীরিক [সান্দ্যের 
সঙ্গে মানসিক উৎকর্ষের একটা সম্বর স|ধিত হোয়েছিল। তিনি আরনী 
ও ফারসী সাহিত্যে বুঃংপন্ন ভিলেন | মুখে মুখে কবিত। রচনা করে ছন্দ 
মাধুর্ষে 9 বাকচাতুর্ষে তিনি সম্রাট জভ!ঙঈগ।রকে মুগ্ধ ও বশাভূত করে রাখ- 
তেন । জাহাঙ্গীরের জীবন্দশারও তানই সাম্রাজেব কন এ জটিলতম 
সমন্তারও সুমীমাংসা করতেন | এতে ভর বুদ্ধিমকার ও বিচক্ষণতার পরিচয় 
পাওয়া যার | জম্াট সজাভানের প্রি্বতমা স্ত্রা মমতাজমহল শ|রীরিক ও 
মানসিক সৌন্্যে ইতিহাসে মহবম স্থান অধিকার কোরে রয়েছেন | তিনিও 
সাহিত্যান্রাগিনী ছিলেন এবং ফারসী ভাষায় মনোরম কবিতা রচনা করতে 
পারতেন । | 

ভারতবর্ষে ইসপামের বৃতিহাস সম্রাট শাজাহানের কন্তা জাহানারার 
ন।ম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ! সঙ্গীত ও শিঞ্প-স!ধনার, জীবনী ও ইতিহাস 
রচনায়, বিস্তায় বুদ্ধিতে ও বদ1ন্ততার মধ্যযুগে তর জুড়ি মেলা ভার । 
তার শিক্ষার গভীরত।র জন, ঠ'মে সাম্রাজ্যের সের। মহিলা আথ্য। 'দেওয। 


মুলিম ভারতে স্ত্রীশিক্ষা ১৬৪৯ 


কোরেছিল এবং তিনিও তার এই আস্যার মর্যাদা রক্ষা কোরেছিলেন | ভার 
অসাধারণ বিদ্ভানুয়াগেব জন) বাকশাহঁ। হারেমচারিনীকদের উপরে তিনি 
আধিপত্য করতে পারতেন । বাজদরবারের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও 
উৎসবাধির বিধান তিনিই ক্লিতেন এবং রাজধানীব মহিঙ্গা-মহফিলে অন্ঠিত 
বিবিধ সভায় তিনিই সভাপতিত্ব করিতেন । ফরাসীঁতে তার অগাধ পাপ্তিত্য 
ছিল এবং তিনি উক্ত ভাষায় অনুপম কবি'া বচন! কবতে পারতেন । এইই 
মহিয়সী মহিলার বিনয় ও সৌজন্তেব ভুলন। খ.জে পাওয়া যার না! তার 
সমাধিস্তত্তেব উপরে ত।ব নিজেব বচনায় লেখ! বরেছে-_“আমার কবরের 
উপরে “কউ যেন মাটি ও তৃণলতা ছাড। আব কিছু ন| দেয়, করণ দরিজ্রের 
কবরে সেগুলোই ভালে শোভা পায় | 

সম্জাট সাজান্তানের চতুর্থ! কন্ঠ! জাবিন্দা বেগমও শিক্ষিত। ছিলেন । 
তিনিও ফারসী'তে কবিত। বচনা করতেন । তার রচিত বন্ছ মবমী কবিতার 
সন্ধান পাওয়া যায় সেগুলি বহু প্রশংসিত। সাতিউন্নেসা নামক আর 
এক মহ্হিলাব নাম পাওয়' ঝায়। সুগভীর শিক্ষা ও সাহিত্য প্রীতির জন্ড তিনি 
সাজাহান কন্ঠ! জাহানারাব শিক্ষক নিযুক্ত! হোয়েছিলেন। কে'বআন, 
হাদিস ও ইসলামেব শরাশরিয়তে স্িনি দক্ষতা অর্জন কোরেছিলেন। 
ফরাসী সাহিত্যে তার গভীর জ্ঞান ছিল। 

সম্রাট আওরংজেবের কন্তারা সকলেই শিক্ষিতা ছিলেন | আওবংজেব 
স্তর অধ্যাপকদের কাছ থেকে মনোমত ও যথোপযুক্ত শিক্ষা পেন্সেছিলেন না 
বলে' এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ অভিযোগপত্র দেখা বায় | সেখানে 
তিন্নি শিক্ষা সন্ধে তার নিঙের ধারণা নিবন্ধ কবেন। উপঘুকত শিক্ষা-ব্যতি+ 
রেকে কোন মাহুযই পূর্ণতা লাভ করতে পারে ন! ! সভ্যফার পূর্ণ মানুষ 
ছোতে গেলে হে পেক্ষার প্রস্বোজন আওরংজেব সেই শিক্ষার উল্লেখ কোরে- 
ছন। শিক্ষা সবদধে আওরংজেখের নিজের ুচিততিত অভিযত ছিল, তাম্প 
জানা ধার । তিনি তীর পুক-ক্তাদের শিক্ষা তার নি মড ও আন 


১৭০ সাহিত্য ও সংস্কৃতি 


মতই দিদ্েঞেন 'উ! আমর। ধরে নিতে পারি । তীর শিক্ষার আদশ ভার 
প্রির কন্তা জেধুরেসার শিক্ষার সার্থকতালাভ কোরেছিল | তিনি অনেক 
সময় হগ্পনামে কবিতা রচনা কবতেন | “দেওয়ানে মাথকী” নামে তার এক 
কাব্য পাওয়। যার, তাছাড়া 'জেবুল মানুসাঅ।ত' নামেও তার এক কাব্য 
রয়েছে । তাব প্রেরণাতিই মোল্লা সাফিউনী'ন আগূদ্বেলী সর্ধপ্রথম কার 
স।তে পবিত্র কোরআনের নুবিস্তৃত 'জেবুততাঞসির' রচনা করেন। এই 
সাধবী রমনী সাহিতসেৰায়, শান্ত্রাদির চর্চার ও জ্ঞানেয় সাধনায় সাবা জীবন 
উতসর্থ কোরে গেছেন। 

একের ছাড। জার ও শরনেকেব নাম করা যেতে পারে ধারা সত্যহ মুসলিষ 
ভারতে বিদৃদী ছিলেন। এ থেকে প্রমাণ হবে ফে মুসলমানেরা ভারতে 
গাদের রাজত্বকালে স্বীশিক্ষার প্রতি মোটেই অশ্ুদার ছিলেন ন।। এখনকাৰ 
তলনার অবঞ্ত মুসলিম ভারতে স্ত্রীশিক্ষায় অগ্রসর ছিল না কিন্তু দেশ ও 
কালের বিচারে মুসলমানেবা ভারতবর্ষে সতী শিক্ষার প্রতি আগ্রহশাল হোয়ে 
উঠেছিলেন । তাদের গ্গেহছায়ায় মেয়েরা যথাসম্ভব যুগোপযোগী শিক্ষায় 
আলোকন্মাত হোয়েছিল এও সত্য । (তারপরেই মুসলমান রাঞ্জত্বের অব- 
সানের সঙ্গে যুদলমানের জাতীর জীবনে যে দুদিন নেমে এলো তাতে স্ত্রী" 
শিক্ষা (ত! দুরের কর্ধা, জাতীয়-জীবনের প্রতিপদে পতনশীলতার গতি বৃদ্ধি 
পেগ | ইং রাজসরকারের মুসলমানেব পাতি বিরোধিতা, মুসলমানের 
অহিতকর বিঘিখ আইন প্রণয্ধন এবং সরকারী চানুরী থেকে তাদেরকে 
কপসারণ করার জন্য ধীরে ধীরে সুসলমানের ভীবনে আথিক গতির ভষ- 
পত। ঘুনিয়ে এলো |, আধিক অবনতির সঙ্গে তাদের সাংস্থতিক বিষ্ঠা লোপ 
পেতে বসলো । £1৫৭,সাল খেকে সুসলমানদের এ পতনের সুরু , এবং 
উনি শৃতাকর, শেযুভাখে সে পতনের ূর্ণতালাত উনবিংশ 'শতাবীর' 


পা 


শ্য়ের টিকে সৃঙ্ানদের এ প্তন রোধ: করার জড় উদ 


[৮ ক + 
ভারতে সার সৈয়দ আহমদ ধেভাবে প্রাণপাত কবলেন, তাতে সেখানকার 


গুসলিষ ভাবতে সত্ীশিক্ষ ১৭১ 


দুঁসলমানদেপ্প কিছুক!ল পৰে চেতনা হলো, তারা ৰাঙলাদেশের মুসলমান- 
ছে বন্থ আগেই চেতনাল'ভ কবলে! , কিন্তু বাঙলাব অবস্থা ছিল স্বতগ্র। 
ব্াঙলাদেশ প্নেকেই যেমন মুসলমান বাজস্বেব পতন এবং ইংরাজ রাক্ষতবের 
বিজয়াভিমান, তেমনি পাশ্চত্য প্রঙাব ওই বাওলাদেশেই সর্বপ্রথম শিক 
গেডেছিল |) হাঙলাদেশেব বিজিত মুদ্ণমানেরা বিজয়ী ইংরেজদের সঙ্গে 
কোন বিষয়েই সহষোগিত" কবেনি ' ইংরেজদেব প্রতি তাদের ও তাদের 
প্রতি ইংরেজদের একট। পারস্পরিক সংশয় ও লন্দেহের ভাব রয়ে গেছিল । 
তাই বিবিধ আইন প্রণনন কোবে ব।ঙলাব মুসলমানদের ভ্বেমন তারা 
আধিক ও পাংলাস্িক দুঙগাতিব পথ প্রশস্ত কোরেছে 'তিমনি দেশের রা 
ব্যবস্থী চালানোর লহারতাব জন্য এদেশের হিন্দু সম্পরদ্দাপ্জের সহযোগিত।লাভ 
কবার ম/নসে সেই আইনে তাদের হুবিধা কোরেছে প্রচুর । এষনিভাবে 
ইংরে'জর রুপার মুসলমান কৃন্থামীফেব স্থলে হিন্দু অর্থবান ও জমীদার-শ্রেণীর 
অদ্ভঃদয় হোরেছে এবং অর্থপুষ্ট মখ্বিত্ঘ হিন্দু সঙ্গাঞ্জে পাশ্চাত্য প্রভাবের 
হাণ্ররা তাই ভালভাবে বই (পেবেছে | সারা উনবিংশ শতাবীতে ইংরে- 
জেব অনুগ্রহে ও পরশ্চাত্য প্রভাবে ফলে বাঙালী হিন্দু শিক্ষা ও ষংস্কৃতিতে, 
চিন্তার ও জ্লীধনের সাধনায় বহুদূর এগিয়ে যেতে খ্েরেছে। ঠিক দেই 
অহথগাতে উনবিংশ শতার্খার শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম জশপক পর্যন্ত 
বাঙালী'মুসলমানের অধনতির চূঢান্ত হোধেছে ট€রিংশ শতাকীর প্রথম 
গকে বাঙাগী নের ঘোরতজ্জা যখন , ভখন দেখা গেপো 
ক্োনদিক দিবেই বাঙাল) কিনব সৃঙ্গে দে আর লমকক্ষতা কবতে পারে না$ 
কাই জং তত্র তাঁতের কাটাতে টিরে বছছিন চললো আচার ব্যব- 
ভারে গোধাক পরিচ্ছদে, শিক্ষালীজা য় 'ও শিল্পর্সাহিতেট তাদের অন্ধ জানু 
করণ () স্কুল কলেজেই তাছগেরই প্রবতিত পাঠ্যতালিকা পড়ে জন তাদেরই 
পৌরাণিক কাঙ্ছিনরকে আপনার বলে” মেনে নিয়ে মুসলমান " গর্ব 'জ্ুভব 
করলো । মুসলমাত পুক্ষ সমাজের যখন এই অবস্তা ভখন' নারী সমান্থ 


২২ স্যহিত ও মস্তি 


একেবারে চেত্বনাহীন ও জ়ত্প্রাপ্ত। 

. কোন জাতিরই অনৃষ্টে এ অবস্থা বেশীদিন থাকতে পারে না। মেঘ 
কেটে ধায়, সেখানে আব।র রোঁদ্রের বলরু লাগে। (তাই দেখা গেলো, 
ধাল। দেশে মুসলমানেরা খেমন একদিন হিগুদের অন্ধ অধ্ুকরণ কায়োছে 
গেষগি চেতদা-প্রান্তির সঙ্গে তাদের হধ্যে তার প্রতিকিরা ফেখ! দিখেছে 
রস্ধল পরিমাণে । পুক্ষের এই আন্দোলনে যে রয় বৎসরের শিক্ষ ও 
সাধন! রয়েছে তারির ফলন্বর্ূপই বাঙাল। যুসলমান মহিলাদের একটা 
অংশের মধ্যেও এতকালের তন্জ্াঘোর ক]টানোর একটু আগা পাওয়া 
যাচ্ছে। পুরুষের! যেভাবে অর্কণের মোছে ভেসে গোছিল পর্দাপ্রথা ও 
সুলপমানরগৈর নারীর কবফ্-গ্রীতির জন্ত [স শিক্ষালাভও ওাদের ঘটে 
ওঠেনি £ তাই রাঙ্গালী মুসলমান নার।-সমাজের সামন্ত অংশটকুকে বদ 
দিলে কাদের হাজ|রকরা ন'শ নিরানববই জনই এখনও অন্ধকারের অস্ভলে 
রয়ে গেছে বলা যেত পাবে । মুসলমান নারা-সমাজেব মধ্যে বিধবা রমণীব 
অনেকেই মুসলমান মেয়েদের যে প্রাথমিক শিক্ষাদান কবতেন রাষ্ট্রে পরি- 
বগুনৈ ভাগ্যের কঠো বিভধনাক় নামীন অন্রধিধার মধ্যে ধাঙলাদেশে 
ভাগ একেবায়ে নিঃশেহিত হোখে গেষ্ছিল। আজন্গকের স্বাধনত-প্রতি্ার 
নিনে পুরুষের! রেমন '[ত্বসন্রমের দারংতে জীবনের সকলক্ষেত্রে এগিয়ে 
যাচ্ছেন তেমনি মিমেয় অর কয়েকজন অর্ধ-শিক্ষিতা ও শিক্ষিত! মসলিম 
মহিলাও তাদের শ্বয়-সম।জের বহর কল্যাণে আত্মনিয়স্্রণের দাবীতে এগিয়ে 
আসছেন | (তুবু ভালো- দের অলোধ*লাভৈব প্রথম যুগে অন্ধ অন্ঠ- 
কণীণের যোছে ভার! ভিলে যাননি । তাদের মথে) চেতনাত্ব গ্রুধম প্রভাতে 
াছ। দেখতে পাচ্ছেন সমগ্র মুসলিম সমাজ আজগ্রছিটার দাবী লিয়ে 
দগ্জায়মান | এ অবস্থায় মুসলিম মছিলার' বিপুল সংখ্যায় এতকাল শিক্ষা 
না পেলেও ঢঃখের বা! ক্ষোভের কারণ আজ আমাদের নই | কারণ, এখন 
ারা'ঘে পি্ষা পাধেন. ম.পলমানের জার্তর ছৃষ্টিভ্গী থেকে সে পিক্ষা হবে 
ধাটী লি্খা। ভীরাই হেন একাঞের বাঙালী ম.সঈমানের 'উপহুক্ত স্ত্রী 
জী ও ছাতা | লিশুর লালন-প।লনের)উস্াতি-এহধ ভার কাছের 
ইপরর, তার। জাগবে রি 

নমুয়িক (াহাদ্বী, 

টে ১৩৫২